ইন্নামাল মু’মিনূনাল্লাযীনা আ-মানূ বিল্লা-হি ওয়া রছূলিহী ওয়া ইযা-ক-নূ মা‘আহূ‘আলা আমরিন জামি‘ইল লাম ইয়াযহাবূহাত্তা-ইয়াছতা’যিনূহু ইন্নাল্লাযীনা ইয়াছতা’যিনূনাকা উলাইকাল্লাযীনা ইউ’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়া রছূলিহী ফাইযাছতা’যানূকা লিবা‘দি শা’নিহিম ফা’যাল লিমান শি’তা মিনহুম ওয়াছতাগফির লাহুমুল্লা-হা ইন্নাল্লা-হা গাফরুর রহীম।উচ্চারণ
মু’মিন ৯৭ তো আসলে তারাই যারা অন্তর থেকে আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে মানে এবং যখন কোন সামষ্টিক কাজে রসূলের সাথে থাকে তখন তার অনুমতি ছাড়া চলে যায় না। ৯৮ যারা তোমার কাছে অনুমতি চায় তারাই আল্লাহ ও তাঁর রসূলে বিশ্বাসী। কাজেই তারা যখন তাদের কোন কাজের জন্য তোমার কাছে অনুমতি চায় ৯৯ তখন যাকে চাও তুমি অনুমতি দিয়ে দাও ১০০ এবং এ ধরনের লোকদের জন্য আল্লাহর কাছে মাগফিরাতের দোয়া করো। ১০১ আল্লাহ অবশ্যই ক্ষমাশীল ও করুণাময়। তাফহীমুল কুরআন
মুমিন তো কেবল তারাই, যারা আল্লাহ ও তার রাসূলকে আন্তরিকভাবে মানে এবং যখন রাসূলের সাথে সমষ্টিগত কোন কাজে শরীক হয়, তখন তার অনুমতি ছাড়া কোথাও যায় না। #%৫০%# (হে নবী!) যারা তোমার অনুমতি নেয়, তারাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সত্যিকারভাবে মানে। সুতরাং তারা যখন তাদের কোন কাজের জন্য তোমার কাছে অনুমতি চায়, তখন তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হয় অনুমতি দিও এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে মাগফিরাতের দোয়া কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।মুফতী তাকী উসমানী
তারাই মু’মিন যারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনে এবং রাসূলের সঙ্গে সমষ্টিগত ব্যাপারে একত্র হলে তার অনুমতি ব্যতীত তারা সরে পড়েনা; যারা অনুমতি প্রার্থনা করে তারাই আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলে বিশ্বাসী; অতএব তারা তাদের কোন কাজে বাইরে যাবার জন্য তোমার অনুমতি চাইলে তাদের মধ্যে যাদেরকে ইচ্ছা তুমি অনুমতি দিবে এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে; আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।মুজিবুর রহমান
মুমিন তো তারাই; যারা আল্লাহর ও রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং রসূলের সাথে কোন সমষ্টিগত কাজে শরীক হলে তাঁর কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণ ব্যতীত চলে যায় না। যারা আপনার কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে, তারাই আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। অতএব তারা আপনার কাছে তাদের কোন কাজের জন্যে অনুমতি চাইলে আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুমতি দিন এবং তাদের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, মেহেরবান।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
মু’মিন তো তারাই যারা আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলে ঈমান আনে এবং রাসূলের সঙ্গে সমষ্টিগত ব্যাপারে একত্র হলে তারা অনুমতি ব্যতীত সরে পড়ে না; যারা তোমার অনুমতি প্রার্থনা করে তারাই আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলে বিশ্বাসী। অতএব তারা তাদের কোন কাজে বাহিরে যাবার জন্যে তোমার অনুমতি চাইলে তাদের মধ্যে যাদেরকে ইচ্ছা তুমি অনুমতি দিও এবং তাদের জন্যে আল্লাহ্ র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ্ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মুমিন শুধু তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনে এবং তাঁর সাথে কোন সমষ্টিগত কাজে থাকলে অনুমতি না নিয়ে চলে যায় না। নিশ্চয় তোমার কাছে যারা অনুমতি চায় তারাই কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনে; সুতরাং কোন প্রয়োজনে তারা তোমার কাছে বাইরে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তাদের মধ্যে তোমার যাকে ইচ্ছা তুমি অনুমতি দেবে এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।আল-বায়ান
ঈমানদার তো তারাই যারা ঈমান আনে আল্লাহর উপর ও তাঁর রসূলের উপর আর তারা যখন রসূলের সঙ্গে সমষ্টিগত কাজে মিলিত হয়, তখন তার অনুমতি না নিয়ে চলে যায় না। যারা তোমার কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে তারাই আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাসী। কাজেই তাদের কেউ তাদের কোন কাজে যাওয়ার জন্য তোমার কাছে অনুমতি চাইলে তুমি তাদের যাকে ইচ্ছে অনুমতি দিবে আর তাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।তাইসিরুল
তারাই কেবল মুমিন যারা আল্লাহ্তে ও তাঁর রসূলে ঈমান আনে, আর যখন তারা কোনো সমষ্টিগত ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে থাকে তখন তারা চলে যায় না যতক্ষণ না তারা তাঁর থেকে অনুমতি নিয়েছে। নিঃসন্দেহ যারা তোমার অনুমতি প্রার্থনা করে তারাই হচ্ছে ওরা যারা আল্লাহ্তে ও তাঁর রসূলে ঈমান এনেছে, সুতরাং তারা যখন তাদের কোনো ব্যাপারের জন্য তোমার অনুমতি প্রার্থনা করে তখন অনুমতি দাও তাদের মধ্যের যাকে তুমি ইচ্ছা কর, আর তাদের জন্য আল্লাহ্র ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।মাওলানা জহুরুল হক
৯৭
মুসলমানদের জামায়াতের নিয়ম-শৃংখলা আগের তুলনায় আরো বেশী শক্ত করে দেবার জন্য শেষ নির্দেশাবলী দেয়া হচ্ছে।
৯৮
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরে তাঁর স্থলাভিষিক্তগণ এবং ইসলামী জামায়াত ব্যবস্থার আমীরগণের জন্যও এ একই বিধান। কোন সামগ্রীক উদ্দেশ্যে যুদ্ধ বা শান্তি যে কোন সময় মুসলমানদের যখন একত্র করা হয় তখন আমীরের অনুমতি ছাড়া তাদের ফিরে যাওয়া বা ছড়িয়ে পড়া কোনক্রমেই জায়েয নয়।
৯৯
এর মধ্যে এ সতর্কবাণী রয়েছে যে, কোন যথার্থ প্রয়োজন ছাড়া অনুমতি চাওয়া তো আদতেই অবৈধ। বৈধতা কেবল তখনই সৃষ্টি হয় যখন যাবার জন্য কোন প্রকৃত প্রয়োজন দেখা দেয়।
১০০
অর্থাৎ প্রয়োজন বর্ণনা করার পরও অনুমতি দেয়া বা না দেয়া রসূলের এবং রসূলের পর জামায়াতের আমীরের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। যদি তিনি মনে করেন সামগ্রিক প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত প্রয়োজনের তুলনায় বেশী গুরুত্বপূর্ণ তাহলে অনুমতি না দেবার পূর্ণ অধিকার তিনি রাখেন। এ অবস্থায় একজন মু’মিনের এর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকা উচিত নয়।
১০১
এখানে আবার সতর্ক করে দেয়া হয়েছে যে, অনুমতি চাওয়ার মধ্যে যদি সামান্যতম বাহানাবাজীরও দখল থাকে অথবা সামগ্রিক প্রয়োজনের ওপর ব্যক্তিগত প্রয়োজনকে প্রাধান্য দেবার প্রবণতা সক্রিয় থাকে, তাহলে এ হবে একটি গোনাহ। কাজেই রসূল ও তাঁর স্থলাভিষিক্তের শুধুমাত্র অনুমতি দিয়েই ক্ষান্ত হলে চলবে না বরং যাকেই অনুমতি দেবেন সঙ্গে সঙ্গে একথাও বলে দেবেন যে, আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন।
এ আয়াত নাযিল হয়েছিল খন্দক যুদ্ধের প্রাক্কালে। এ যুদ্ধে আরবের বেশ কয়েকটি গোত্র একাট্টা হয়ে মদীনা মুনাওয়ারায় হামলা করতে এসেছিল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মদীনা মুনাওয়ারার পাশে পরিখা খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি মুমিনদেরকে একত্র করে খননকার্য বণ্টন করে দিলেন। তারা সকলে কাজ করে যাচ্ছিলেন। কারও কোন প্রয়োজন দেখা দিলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অনুমতি নিয়ে যেতেন। কিন্তু মুনাফিকরা ছিল এর সম্পূর্ণ বিপরীত। একে তো তারা এ কাজে অংশ নিতেই অলসতা করত। আর যদি কখনও এসেও পড়ত নানা বাহানায় চলে যেত। অনেক সময় অনুমতি ছাড়াই চুপি চুপি সরে পড়ত। এ আয়াতে তাদের নিন্দা জানানো হয়েছে এবং মুখলিস ও নিষ্ঠাবান মুমিনদের, যারা অনুমতি ছাড়া যেত না, প্রশংসা করা হয়েছে।
৬২. মুমিন তো তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনে এবং রাসূলের সঙ্গে সমষ্টিগত ব্যাপারে একত্র হলে তারা অনুমতি ছাড়া সরে পড়ে না; নিশ্চয় যারা আপনার অনুমতি প্রার্থনা করে তারাই আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের উপর ঈমান রাখে। অতএব তারা তাদের কোন কাজের জন্য আপনার অনুমতি চাইলে তাদের মধ্যে যাদেরকে ইচ্ছে আপনি অনুমতি দেবেন এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
(৬২) তারাই বিশ্বাসী, যারা আল্লাহ এবং তাঁর রসূলে বিশ্বাস করে এবং রসূলের সঙ্গে সমষ্টিগত ব্যাপারে একত্রিত হলে তার অনুমতি ব্যতীত সরে পড়ে না। যারা তোমার অনুমতি প্রার্থনা করে, তারাই আল্লাহ এবং রসূলে বিশ্বাসী।(1) অতএব তারা তাদের কোন কাজে বাইরে যাওয়ার জন্য তোমার অনুমতি চাইলে তাদের মধ্যে যাদেরকে ইচ্ছা তুমি অনুমতি দাও এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু ।
(1) অর্থাৎ, জুমআহ ও ঈদের সম্মেলনে অথবা ভিতর ও বাইরের কোন সমস্যার সমাধানকল্পে আহূত পরামর্শ সভায় ঈমানদাররা উপস্থিত হয়ে থাকে। আর উপস্থিত হতে না পারলে (অথবা প্রয়োজনে সভা ছেড়ে যেতে হলে) অনুমতি গ্রহণ করে। যার বিপরীত অর্থ অন্য শব্দে এই যে, মুনাফিকরা এ সমস্ত সম্মেলনে অংশগ্রহণ করা হতে এবং নবী (সাঃ)-এর কাছে অনুমতি নেওয়া হতে দূরে থাকার চেষ্টা করে।