لَّيۡسَ عَلَى ٱلۡأَعۡمَىٰ حَرَجٞ وَلَا عَلَى ٱلۡأَعۡرَجِ حَرَجٞ وَلَا عَلَى ٱلۡمَرِيضِ حَرَجٞ وَلَا عَلَىٰٓ أَنفُسِكُمۡ أَن تَأۡكُلُواْ مِنۢ بُيُوتِكُمۡ أَوۡ بُيُوتِ ءَابَآئِكُمۡ أَوۡ بُيُوتِ أُمَّهَٰتِكُمۡ أَوۡ بُيُوتِ إِخۡوَٰنِكُمۡ أَوۡ بُيُوتِ أَخَوَٰتِكُمۡ أَوۡ بُيُوتِ أَعۡمَٰمِكُمۡ أَوۡ بُيُوتِ عَمَّـٰتِكُمۡ أَوۡ بُيُوتِ أَخۡوَٰلِكُمۡ أَوۡ بُيُوتِ خَٰلَٰتِكُمۡ أَوۡ مَا مَلَكۡتُم مَّفَاتِحَهُۥٓ أَوۡ صَدِيقِكُمۡۚ لَيۡسَ عَلَيۡكُمۡ جُنَاحٌ أَن تَأۡكُلُواْ جَمِيعًا أَوۡ أَشۡتَاتٗاۚ فَإِذَا دَخَلۡتُم بُيُوتٗا فَسَلِّمُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِكُمۡ تَحِيَّةٗ مِّنۡ عِندِ ٱللَّهِ مُبَٰرَكَةٗ طَيِّبَةٗۚ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمُ ٱلۡأٓيَٰتِ لَعَلَّكُمۡ تَعۡقِلُونَ

লাইছা ‘আলাল আ‘মা-হারজুইঁওয়ালা-‘আলাল আ‘রজি হারজুওঁ ওয়ালা ‘আলাল মারীদি হারজুওঁ ওয়ালা-‘আলা- আনফুছিকুম আন তা’কুলূমিম বুয়ূতিকুম আও বুয়ূতি আ-বাইকুম আও বুয়ূতি উম্মাহা-তিকুম আও বুয়ূতি ইখওয়া-নিকুম আও বুয়ূতি আখাওয়া-তিকুম আও বুয়ূতি আ‘মা-মিকুম আও বুয়ূতি ‘আম্মা-তিকুম আও বুয়ূতি আখওয়া-লিকুম আও বুয়ূতি খা-লাতিকুম আও মা-মালাকতুম মাফা-তিহাহূআও সাদীকিকুম লাইছা ‘আলাইকুম জুনা-হুন আন তা‘কুলূজামী‘আন আও আশতা-তান ফাইযা-দাখাল তুম বূয়ূতান ফাছালিল-মূ‘আলা আনফুছিকুম তাহিইইয়াতাম মিন ‘ইনদিল্লা-হি মুবা-রকাতান তাইয়িবাতান কাযা-লিকা ইউবাইয়িনুল্লা-হু লাকুমুল আ-য়া-তি লা‘আল্লাকুম তা’কিলূন।উচ্চারণ

কোন অন্ধ, খঞ্জ বা রুগ্ন (যদি কারোর গৃহে খেয়ে নেয় তাহলে) কোন ক্ষতি নেই, আর তোমাদের কোন ক্ষতি নেই নিজেদের গৃহে খেলে অথবা নিজেদের বাপ-দাদার গৃহে, নিজেদের মা-নানীর গৃহে, নিজেদের ভাইয়ের গৃহে, নিজেদের বোনের গৃহে, নিজেদের চাচার গৃহে, নিজেদের ফুফুর গৃহে, নিজেদের মামার গৃহে, নিজেদের খালার গৃহে অথবা এমন সব গৃহে যার চাবি তোমাদের হাতে সোপর্দ করে দেয়া হয়েছে কিংবা নিজেদের বন্ধুদের গৃহে। ৯৫ তোমরা এক সাথে খাও বা আলাদা আলাদা, তাতে কোন ক্ষতি নেই। ৯৬ তবে গৃহে প্রবেশ করার সময় তোমরা নিজেদের লোকদের সালাম করো, আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়েছে কল্যাণের দোয়া, বড়ই বরকতপূর্ণ ও পবিত্র। এভাবে আল্লাহ‌ তোমাদের সামনে আয়াত বর্ণনা করেন, আশা করা যায় তোমরা বুঝে শুনে কাজ করবে। তাফহীমুল কুরআন

অন্ধের জন্য গুনাহ নেই, খোড়া ব্যক্তির জন্য গুনাহ নেই, অসুস্থ ব্যক্তির জন্য গুনাহ নেই এবং নেই তোমাদের নিজেদের জন্যও, তোমাদের নিজেদের ঘরে আহার করাতে #%৪৭%# বা তোমাদের বাপ-দাদার ঘরে, তোমাদের মায়েদের ঘরে, তোমাদের ভাইদের ঘরে, #%৪৮%# তোমাদের বোনদের ঘরে, তোমাদের চাচাদের ঘরে, তোমাদের ফুফুদের ঘরে, তোমাদের মামাদের ঘরে, তোমাদের খালাদের ঘরে বা এমন কোন ঘরে যার চাবি তোমাদের কর্তৃত্বাধীন #%৪৯%# কিংবা তোমাদের বন্ধুদের ঘরে। তোমরা একত্রে খাও বা পৃথক-পৃথক তাতেও তোমাদের কোন গুনাহ নেই। যখন তোমরা ঘরে ঢুকবে নিজেদের লোকদেরকে সালাম করবে কারণ এটা সাক্ষাতের জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে প্রদত্ত বরকতপূর্ণ ও পবিত্র দোয়া। এভাবেই আল্লাহ আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা বুঝতে পার। মুফতী তাকী উসমানী

অন্ধের জন্য দোষ নেই, খোঁড়ার জন্য দোষ নেই, আর দোষ নেই রোগীর জন্য এবং তোমাদের নিজেদের জন্যও দোষ নেই আহার করায় নিজেদের গৃহে অথবা তোমাদের পিতাদের গৃহে অথবা তোমাদের মাতাদের গৃহে অথবা তোমাদের ভাইদের গৃহে অথবা তোমাদের বোনদের গৃহে অথবা তোমাদের চাচাদের গৃহে অথবা তোমাদের ফুফুদের গৃহে অথবা তোমাদের মামাদের গৃহে অথবা তোমাদের খালাদের গৃহে অথবা সেই গৃহে যার চাবি রয়েছে তোমাদের কাছে অথবা তোমাদের প্রকৃত বন্ধুদের গৃহে। তোমরা একত্রে আহার কর অথবা পৃথকভাবে আহার কর তাতে তোমাদের জন্য কোনো অপরাধ নেই। তবে যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ করবে তখন তোমরা তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম করবে অভিবাদন স্বরূপ, যা আল্লাহর নিকট হতে কল্যাণময় ও পবিত্র। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নির্দেশ বিশদভাবে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা বুঝতে পার।মুজিবুর রহমান

অন্ধের জন্যে দোষ নেই, খঞ্জের জন্যে দোষ নেই, রোগীর জন্যে দোষ নেই, এবং তোমাদের নিজেদের জন্যেও দোষ নেই যে, তোমরা আহার করবে তোমাদের গৃহে অথবা তোমাদের পিতাদের গৃহে অথবা তোমাদের মাতাদের গৃহে অথবা তোমাদের ভ্রাতাদের গৃহে অথবা তোমাদের ভগিণীদের গৃহে অথবা তোমাদের পিতৃব্যদের গৃহে অথবা তোমাদের ফুফুদের গৃহে অথবা তোমাদের মামাদের গৃহে অথবা তোমাদের খালাদের গৃহে অথবা সেই গৃহে, যার চাবি আছে তোমাদের হাতে অথবা তোমাদের বন্ধুদের গৃহে। তোমরা একত্রে আহার কর অথবা পৃথকভবে আহার কর, তাতে তোমাদের কোন দোষ নেই। অতঃপর যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ কর, তখন তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম বলবে। এটা আল্লাহর কাছ থেকে কল্যাণময় ও পবিত্র দোয়া। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্যে আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ননা করেন, যাতে তোমরা বুঝে নাও।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অন্ধের জন্যে দোষ নাই, খঞ্জের জন্যে দোষ নাই, রুগ্নের জন্যে দোষ নাই এবং তোমাদের নিজেদের জন্যেও দোষ নাই আহার করা তোমাদের গৃহে বা তোমাদের পিতৃগণের গৃহে, মাতৃগণের গৃহে, ভ্রাতৃগণের গৃহে, ভগ্নিগণের গৃহে, পিতৃব্যদের গৃহে, ফুফুদের গৃহে, মাতুলদের গৃহে, খালাদের গৃহে বা সেইসব গৃহে যার চাবির মালিক তোমরা বা তোমাদের বন্ধুদের গৃহে। তোমরা একত্রে আহার কর বা পৃথক পৃথকভাবে আহার কর তাতে তোমাদের জন্যে কোন অপরাধ নেই। তবে যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ করবে তখন তোমরা তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম করবে অভিবাদনস্বরূপ যা আল্লাহ্ র নিকট হতে কল্যাণময় ও পবিত্র। এইভাবে আল্লাহ্ তোমাদের জন্যে তাঁর নির্দেশ বিশদভাবে বিবৃত করেন যাতে তোমরা বুঝতে পার।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অন্ধের জন্য কোন দোষ নেই, পঙ্গুর জন্য কোন দোষ নেই, রোগাক্রান্তের জন্য কোন দোষ নেই এবং তোমাদের নিজদের জন্যও কোন দোষ নেই যে তোমরা খাবে তোমাদের নিজদের ঘরে, অথবা তোমাদের পিতাদের ঘরে, অথবা তোমাদের মায়েদের ঘরে, অথবা তোমাদের ভাইদের ঘরে, অথবা তোমাদের বোনদের ঘরে, অথবা তোমাদের চাচাদের ঘরে, অথবা তোমাদের ফুফুদের ঘরে, অথবা তোমাদের মামাদের ঘরে, অথবা তোমাদের খালাদের ঘরে, অথবা সেসব ঘরে যার চাবি তোমাদের অধিকারে রয়েছে, অথবা তোমাদের বন্ধুদের ঘরে। তোমরা একত্রে খাও অথবা আলাদা আলাদা খাও তাতে কোনও দোষ নেই। তবে তোমরা যখন কোন ঘরে প্রবেশ করবে তখন তোমরা নিজদের উপর সালাম করবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকতপূর্ণ ও পবিত্র অভিবাদনস্বরূপ। এভাবে আল্লাহ তোমাদের উদ্দেশ্যে তাঁর আয়াতসমূহ বর্ণনা করেন যাতে তোমরা বুঝতে পার।আল-বায়ান

অন্ধের জন্য দোষ নেই, খোঁড়ার জন্য দোষ নেই, পীড়িতের জন্য দোষ নেই আর তোমাদের জন্যও দোষ নেই খাদ্য গ্রহণ করতে তোমাদের গৃহে, কিংবা তোমাদের পিতৃগণের গৃহে, কিংবা তোমাদের মাতৃগণের গৃহে, কিংবা তোমাদের ভ্রাতাদের গৃহে, কিংবা তোমাদের বোনেদের গৃহে, কিংবা তোমাদের চাচাদের গৃহে, কিংবা তোমাদের ফুফুদের গৃহে, কিংবা তোমাদের মামাদের গৃহে, কিংবা তোমাদের খালাদের গৃহে, কিংবা ঐ সমস্ত গৃহে, যেগুলোর চাবি রয়েছে তোমাদের হাতে কিংবা তোমাদের বিশ্বস্ত বন্ধুদের গৃহে। তোমরা একত্রে আহার কর কিংবা আলাদা আলাদা তাতে তোমাদের উপর কোন দোষ নেই। যখন তোমরা গৃহে, প্রবেশ করবে তখন তোমরা স্বজনদেরকে সালাম জানাবে যা আল্লাহর দৃষ্টিতে বরকতময় পবিত্র সম্ভাষণ। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য নির্দেশসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা বুঝতে পার।তাইসিরুল

অন্ধের উপরে কোনো দোষ নেই ও খোঁড়ার উপরেও নয়, যদি তোমরা আহার কর তোমাদের বাড়ি থেকে, অথবা তোমাদের পিতাদের বাড়িতে, কিংবা তোমাদের মায়েদের বাড়িতে, নয়ত তোমাদের ভাইদের বাড়িতে, না হয় তোমাদের বোনদের বাড়িতে, কিংবা তোমাদের চাচাদের বাড়িতে, অথবা তোমাদের ফুফুদের বাড়িতে, নয়ত তোমাদের মামাদের বাড়িতে, অথবা তোমাদের খালাদের বাড়িতে, কিংবা সেইসবে যার চাবি তোমাদের দখলে রয়েছে, অথবা তোমাদের বন্ধুদের। তোমাদের উপরে কোনো অপরাধ হবে না যদি তোমরা একসঙ্গে আহার কর অথবা আলাদাভাবে। সুতরাং যখন তোমরা বাড়িঘরে প্রবেশ কর তখন তোমাদের পরস্পরকে সালাম কর আল্লাহ্‌র তরফ থেকে কল্যাণময় পবিত্র সম্ভাষণে। এইভাবেই আল্লাহ্ তোমাদের জন্য বাণীসমূহ সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন যেন তোমরা বুঝতে পার।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৯৫

এ আয়াতটি বুঝতে হলে তিনটি কথা বুঝে নেয়া প্রয়োজন। প্রথমত এ আয়াতটির দু’টি অংশ। প্রথম অংশটি রুগ্ন, খঞ্জ, অন্ধ ও অনুরূপ অন্যান্য অক্ষমদের ব্যাপারে এবং দ্বিতীয় অংশটি সাধারণ লোকদের ব্যাপারে বলা হয়েছে। দ্বিতীয়ত কুরআনের নৈতিক শিক্ষাবলীর মাধ্যমে আরববাসীদের মন-মানসে যে বিরাট বিপ্লব সাধিত হয়েছিল সে কারণে হালাল-হারাম ও জায়েয-নাজায়েযের পার্থক্যের ব্যাপারে তাদের অনুভূতি হয়ে উঠেছিল চরম সংবেদশীল। ইবনে আব্বাসের উক্তি অনুযায়ী আল্লাহ যখন তাদের হুকুম দিলেনঃ لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ (একে অন্যের সম্পদ নাজায়েয পথে খেয়ো না) তখন লোকেরা একে অন্যের বাড়িতে খাবার ব্যাপারেও খুব বেশী সতর্কতা অবলম্বন করতে লাগলো। এমনকি যতক্ষণ গৃহ মালিকের দাওয়াত ও অনুমতি একেবারে আইনগত শর্ত অনুযায়ী না হতো ততক্ষণ তারা মনে করতো কোন আত্মীয় ও বন্ধুর বাড়ীতে খাওয়াও জায়েয নয়। তৃতীয়ত এখানে নিজেদের গৃহে খাবার যে কথা বলা হয়েছে তা অনুমতি দেবার জন্য নয় বরং একথা মনের মধ্যে বসিয়ে দেবার জন্য যে, নিজের আত্মীয় ও বন্ধুর বাড়িতে খাওয়াও ঠিক তেমনি যেমন নিজের বাড়িতে খাওয়া। অন্যথায় একথা সবাই জানে, নিজের বাড়িতে খাবার জন্য কারোর অনুমিত নেবার প্রয়োজন ছিল না। এ তিনটি কথা বুঝে নেয়ার পর আয়াতের এ অর্থ সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, অক্ষম ব্যক্তি নিজের ক্ষুধা নিবারণ করার জন্য প্রত্যেক গৃহে ও প্রত্যেক জায়গায় খেতে পারে। তার অক্ষমতাই সমগ্র সমাজে তার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে দেয়। তাই যেখান থেকেই সে খাবার জিনিস পাবে তা তার জন্য জায়েয হবে। আর সাধারণ লোকের ব্যাপারে বলা হয় যায়, তাদের জন্য তাদের নিজেদের গৃহ এবং যাদের কথা বলা হয়েছে তাদের গৃহ সমান। তার মধ্যে যেখানেই তারা খাক না কেন সেজন্য গৃহস্বামীর যথারীতি অনুমতি পেলে তবে খাবে, অন্যথায় তা অবিশ্বস্ততা ও আত্মসাত বলে গণ্য হবে, এ ধরনের কোন শর্তের প্রয়োজন নেই। লোকেরা যদি তাদের মধ্য থেকে কারোর গৃহে যায়, সেখানে গৃহস্বামী উপস্থিত না থাকে এবং তার স্ত্রী-ছেলেমেয়েরা কিছু খাবার নিয়ে আসে তাহলে তারা নিঃসংকোচে তা খেতে পারে।

যেসব আত্মীয়-পরিজনের নাম এখানে উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে সন্তানদের উল্লেখ এজন্য করা হয়নি যে, সন্তানদের গৃহ নিজেরই গৃহ হয়ে থাকে।

বন্ধুদের ব্যাপারে মনে রাখতে হবে, অন্তরঙ্গ বন্ধুদের কথা বলা হয়েছে, যাদের অনুপস্থিতিতে অতিথি বন্ধুরা যদি তাদের সবকিছু খেয়েও চলে যায় তাহলে তারা নারাজ হওয়া তো দূরের কথা উল্টো আরো খুশিই হবে।

৯৬

প্রাচীন আরবের কোন কোন গোত্রের আচার ও রীতিনীতি এই ছিল যে, তারা প্রত্যেকে নিজের খাবার নিয়ে আলাদা বসে খেতো। তারা সবাই মিলে এক জায়গায় বসে খাওয়াটা খারাপ মনে করতো। যেমন হিন্দুরা আজও এটা খারাপ মনে করে। অন্যদিকে কোন কোন গোত্র আবার একাকী খাওয়া খারাপ মনে করতো। এমন কি সাথে কেউ খেতে না বসলে তারা অভুক্ত থাকতো। এ আয়াতটি এ ধরনের বিধি-নিষেধ খতম করার জন্য নাযিল করা হয়েছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এ আয়াত নাযিলের প্রেক্ষপট এই যে, অন্ধ ও বিকলাঙ্গ শ্রেণীর লোক অনেক সময় অন্যদের সাথে খাবার খেতে সঙ্কোচবোধ করত। তারা ভাবত অন্যরা তাদের সাথে বসে খেতে অস্বস্তি বোধ করে থাকবে। কখনও তাদের এ রকম চিন্তাও হত যে, প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তারা পাছে অন্যদের তুলনায় বেশি জায়গা আটকে ফেলে কিংবা দেখতে না পাওয়ার ফলে অন্যদের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলে। অপরদিকে অনেক সময় সুস্থ ব্যক্তিরাও মনে করত, মাযূর হওয়ার কারণে তারা হয়ত সুস্থদের সাথে একযোগে চলতে পারবে না; হয়ত কম খাবে, নয়ত খাদ্যের পাত্র থেকে অন্যদের মত নিজ অভিরুচি বা নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার তুলে নিতে পারবে না। তাদের এসব অনুভূতির উৎস হল শরীয়তের এমন কিছু বিধান, যাতে অন্যকে কষ্ট দেওয়াকে গুনাহ সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে নিজের কোন আচার-আচরণ অন্যের পক্ষে অপ্রীতিকর না হয়। সেই সঙ্গে আছে যৌথ জিনিসপত্র ব্যবহারেও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ। তো এ আয়াত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আপনজনদের হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে এতটা হিসাবী দৃষ্টির দরকার নেই।

তাফসীরে জাকারিয়া

৬১. অন্ধের জন্য দোষ নেই, খঞ্জের জন্য দোষ নেই, রুগ্নের জন্য দোষ নেই এবং তোমাদের নিজেদের জন্যও দোষ নেই খাওয়া-দাওয়া করা তোমাদের ঘরে অথবা তোমাদের পিতাদের ঘরে, মাতাদের ঘরে, ভাইদের ঘরে, বোনদের ঘরে, চাচা-জেঠাদের ঘরে, ফুফুদের ঘরে, মামাদের ঘরে, খালাদের ঘরে অথবা সেসব ঘরে যেগুলোর চাবির মালিক তোমরা অথবা তোমাদের বন্ধুদের ঘরে। তোমরা একত্রে খাও বা পৃথক পৃথকভাবে খাও তাতে তোমাদের জন্য কোন অপরাধ নেই। তবে যখন তোমরা কোন ঘরে প্রবেশ করবে তখন তোমরা পরস্পরের প্রতি সালাম করবে অভিবাদনস্বরূপ যা আল্লাহর কাছ থেকে কল্যাণময় ও পবিত্ৰ। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বিবৃত করেন যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পার।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬১) অন্ধের জন্য, খঞ্জের জন্য, রুগ্‌ণের জন্য এবং তোমাদের নিজেদের জন্য তোমাদের নিজেদের গৃহে আহার করা দূষণীয় নয়(1) অথবা তোমাদের পিতৃগণের গৃহে, মাতৃগণের গৃহে, ভ্রাতৃগণের গৃহে, ভগিনীগণের গৃহে, পিতৃব্যদের গৃহে, ফুফুদের গৃহে, মাতুলদের গৃহে, খালাদের গৃহে অথবা সে সব গৃহে যার চাবি তোমাদের হাতে আছে অথবা তোমাদের বন্ধুদের গৃহে; (2) তোমরা একত্রে আহার কর অথবা পৃথক পৃথকভাবে আহার কর,(3) তাতে তোমাদের জন্য কোন অপরাধ নেই; তবে যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ করবে, তখন তোমরা তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম বলবে।(4) এ হবে আল্লাহর নিকট হতে কল্যাণময় ও পবিত্র অভিবাদন। এভাবে তোমাদের জন্য নিদর্শনাবলী বিশদভাবে বিবৃত করেন; যাতে তোমরা বুঝতে পার।

(1) এর একটি অর্থ এই বলা হয়েছে যে, জিহাদে যাওয়ার সময় সাহাবা (রাঃ)গণ আয়াতে উল্লিখিত অক্ষম সাহাবাদেরকে নিজেদের ঘরের চাবি দিয়ে যেতেন এবং তাদেরকে তাঁদের ঘরের জিনিস-পত্র খাওয়া-পান করার অনুমতি দিয়ে রাখতেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই সব অক্ষম সাহাবা (রাঃ)গণ মালিকের বিনা উপস্থিতিতে সেখান হতে খাওয়া-পান করা অবৈধ মনে করতেন। আল্লাহ বললেন, উক্ত লোকদের জন্য নিজের আত্মীয়দের ঘর হতে বা যে সব ঘরের চাবি তাদের কাছে রয়েছে, সে সব ঘর হতে পানাহার করতে কোন পাপ বা দোষ নেই। আবার কেউ কেউ এর অর্থ বলেছেন যে, সুস্থ-সক্ষম সাহাবারা অসুস্থ-অক্ষম সাহাবাদের সাথে খেতে এই জন্য অপছন্দ করতেন, কারণ তাঁরা অক্ষমতার কারণে কম খাবেন, আর নিজেরা হয়তো বেশি খেয়ে ফেলবেন, যার ফলে তাঁদের প্রতি অন্যায় ও বে-ইনসাফী না হয়ে যায়। অনুরূপ অক্ষম সাহাবাগণ অন্য সক্ষম লোকদের সাথে খাওয়া এই জন্য পছন্দ করতেন না, যাতে কেউ তাঁদের সাথে খেতে ঘৃণা না করে। আল্লাহ তাআলা উভয় দলকেই পরিষ্কার করে দিলেন যে, এতে কোন পাপ নেই।

(2) এ অনুমতি সত্ত্বেও কিছু উলামাগণ পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, উপরে যে খাবার খাওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা মামুলী ধরনের সাধারণ খাবার, যা খেলে কারো মনে ক্ষতির অনুভূতি হয় না। অবশ্য এমন ভালো জিনিস যা মালিক বিশেষভাবে নিজের জন্য গোপন করে রেখেছে, যাতে তার উপর কারো দৃষ্টি না পড়ে, অনুরূপ জমাকৃত মালপত্র; এ সব খাওয়া ও ব্যবহার করা বৈধ নয়। (আইসারুত্ তাফাসীর) এখানে ‘তোমাদের নিজেদের জন্য তোমাদের নিজেদের গৃহে’ বলতে নিজ সন্তানের গৃহকে বুঝানো হয়েছে। যেহেতু সন্তানের ঘর নিজের ঘর। যেমন, হাদীসে বলা হয়েছে, ‘‘তুমি ও তোমার সম্পদ সবই তোমার পিতার।’’ (ইবনে মাজাহ ২২৯১নং, আহমাদ ২/১৭৯,২০৪, ২১৪) অন্য একটি হাদীসে এসেছে, ‘‘মানুষের সন্তান তারই উপার্জন।’’ (আবু দাউদ ৩৫২৮, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ২১৩৭নং)

(3) এখানে অন্য একটি সংকীর্ণতা দূর করা হয়েছে। কিছু মানুষ একাকী খাওয়া পছন্দ করত না বরং কাউকে নিয়ে খাওয়া জরুরী মনে করত। আল্লাহ বললেন, ‘একসাথে খাও বা একাকী, সবই জায়েয, কোনটাতে পাপ নেই।’ অবশ্য একসঙ্গে খাওয়াতে অধিক বরকত লাভ হয়। যেমন কিছু হাদীস হতে এ কথা জানা যায়। (ইবনে কাসীর)

(4) এই আয়াতে নিজ গৃহে প্রবেশের কিছু আদব বর্ণনা করা হয়েছে। আর তা হল এই যে, প্রবেশের সময় বাড়ির লোকদেরকে সালাম দাও। মানুষ নিজের স্ত্রী-সন্তানদের উপর সালাম করা বোঝা বা অপ্রয়োজনীয় মনে করে। কিন্তু ঈমানদার ব্যক্তির জন্য জরুরী আল্লাহর আদেশ পালন করে সালাম দেওয়া। নিজের স্ত্রী-সন্তানদেরকে শান্তির দু’আ দেওয়া থেকে কেন বঞ্চিত রাখা হবে?