وَمَآ أَرۡسَلۡنَا مِن قَبۡلِكَ مِن رَّسُولٖ وَلَا نَبِيٍّ إِلَّآ إِذَا تَمَنَّىٰٓ أَلۡقَى ٱلشَّيۡطَٰنُ فِيٓ أُمۡنِيَّتِهِۦ فَيَنسَخُ ٱللَّهُ مَا يُلۡقِي ٱلشَّيۡطَٰنُ ثُمَّ يُحۡكِمُ ٱللَّهُ ءَايَٰتِهِۦۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٞ

ওয়ামাআরছালনা-মিন কাবলিকা মির রছূলিওঁ ওয়ালা-নাবিইয়িন ইল্লাইযা-তামান্না আলকাশ শাইতা-নুফীউমনিইইয়াতিহী ফাইয়ানছাখুল্লা-হু মা-ইউলকিশশাইতা-নু ছু ম্মা ইউহকিমুল্লা-হু আ-য়া-তিহী ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হাকীম।উচ্চারণ

আর হে মুহাম্মাদ! তোমার পূর্বে আমি এমন কোন রসূল ও নবী পাঠাইনি ৯৬ (যার সাথে এমন ঘটনা ঘটেনি যে) যখন সে তামান্না করেছে। ৯৭ শয়তান তার তামান্নায় বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। ৯৮ এভাবে শয়তান যা কিছু বিঘ্ন সৃষ্টি করে আল্লাহ‌ তা দূর করে দেন এবং নিজের আয়াতসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন, ৯৯ আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়। ১০০ তাফহীমুল কুরআন

(হে নবী!) তোমার পূর্বে যখনই আমি কোন রাসূল বা নবী পাঠিয়েছি, তার ক্ষেত্রে অবশ্যই এ ঘটনা ঘটেছে যে, যখন সে (আল্লাহর বাণী) পড়েছে শয়তান তার পড়ার সঙ্গে-সঙ্গে (কাফেরদের অন্তরে) কোন প্রতিবন্ধ ফেলে দিয়েছে। অতঃপর শয়তান যে প্রতিবন্ধ ফেলে আল্লাহ তা অপসারণ করেন তারপর নিজ আয়াতসমূহ সুদৃঢ় করে দেন। #%৩০%# বস্তুত আল্লাহ প্রভূত জ্ঞান ও প্রভূত হিকমতের মালিক।মুফতী তাকী উসমানী

আমি তোমার পূর্বে যে সব রাসূল কিংবা নাবী প্রেরণ করেছি তাদের কেহ যখনই কিছু আকাংখা করেছে তখনই শাইতান তার আকাংখায় কিছু প্রক্ষিপ্ত করেছে। কিন্তু শাইতান যা প্রক্ষিপ্ত করে আল্লাহ তা বিদূরিত করেন; অতঃপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।মুজিবুর রহমান

আমি আপনার পূর্বে যে সমস্ত রাসূল ও নবী প্রেরণ করেছি, তারা যখনই কিছু কল্পনা করেছে, তখনই শয়তান তাদের কল্পনায় কিছু মিশ্রণ করে দিয়েছে। অতঃপর আল্লাহ দূর করে দেন শয়তান যা মিশ্রণ করে। এরপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সু-প্রতিষ্ঠিত করেন এবং আল্লাহ জ্ঞানময়, প্রজ্ঞাময়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তোমার পূর্বে যে সমস্ত রাসূল কিংবা নবী প্রেরণ করেছি তাদের কেউ যখনই কিছু আকাক্সক্ষা করেছে, তখনই শয়তান তার আকাক্সক্ষায় কিছু প্রক্ষিপ্ত করেছে, কিন্তু শয়তান যা প্রক্ষিপ্ত করে আল্লাহ্ তা বিদূরিত করেন। এরপর আল্লাহ্ তাঁর আয়াতসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন এবং আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময় ; ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আমি তোমার পূর্বে যে রাসূল কিংবা নবী পাঠিয়েছি, সে যখনই (ওহীকৃত বাণী) পাঠ করেছে, শয়তান তার পাঠে (কিছু) নিক্ষেপ করেছে। কিন্তু শয়তান যা নিক্ষেপ করে আল্লাহ তা মুছে দেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সুদৃঢ় করে দেন। আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, অতি প্রজ্ঞাময়।আল-বায়ান

আমি তোমার পূর্বে যে সব রসূল কিংবা নবী পাঠিয়েছি তাদের কেউ যখনই কোন আকাঙ্ক্ষা করেছে তখনই শয়ত্বান তার আকাঙ্ক্ষায় (প্রতিবন্ধকতা, সন্দেহ-সংশয়) নিক্ষেপ করেছে, কিন্তু শয়ত্বান যা নিক্ষেপ করে আল্লাহ তা মুছে দেন, অতঃপর আল্লাহ তাঁর নিদর্শনসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। কারণ আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্বশ্রেষ্ঠ হিকমতওয়ালা।তাইসিরুল

আর তোমার আগে আমরা কোনো রসূল পাঠাই নি আর কোনো নবীও নয় এ ভিন্ন যে যখনি তিনি আকাঙ্খা করেছেন তখন শয়তান তাঁর আকাঙ্খা সম্পর্কে কুমন্ত্রণা দিয়েছে। কিন্তু আল্লাহ্ বাতিল করে দেন শয়তান যেসব কুমন্ত্রণা দেয়, তখন আল্লাহ্ তাঁর নির্দেশাবলী প্রতিষ্ঠিত করেন। আর আল্লাহ্ সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৯৬

রসূল ও নবীর মধ্যে পার্থক্যের ব্যাপারটির ব্যাখ্যা সূরা মারয়ামের ৩০ টীকায় আলোচিত হয়েছে।

৯৭

মূল শব্দটি হচ্ছে, تَمَنَّى (তামান্না)। আরবী ভাষায় এ শব্দটি দু’টি অর্থে ব্যবহৃত হয়। একটি অর্থ হচ্ছে কোন জিনিসের আশা-আকাংখা করা। দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে তেলাওয়াত অর্থাৎ কিছু পাঠ করা।

৯৮

“তামান্না” শব্দটি যদি প্রথম অর্থ গ্রহণ করা হয় তাহলে এর অর্থ হবে, শয়তানও তার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হবার পথে বাধার সৃষ্টি করে। আর দ্বিতীয় অর্থে গ্রহণ করলে এর অর্থ হবে, যখনই তিনি লোকদেরকে আল্লাহর বাণী শুনিয়েছেন তখনই শয়তান সে সম্পর্কে লোকদের মনে নানা সন্দেহ-সংশয় ও আপত্তি সৃষ্টি করে দিয়েছে, সেগুলোর অদ্ভূত অদ্ভূত অর্থ তাদের সামনে তুলে ধরেছে এবং একমাত্র সঠিক অর্থটি ছাড়া বাকি সব ধরনের উল্টা-পাল্টা অর্থ লোকদেরকে বুঝিয়েছে।

৯৯

প্রথম অর্থটির দৃষ্টিতে এর তাৎপর্য হবে এই যে, আল্লাহ শয়তানের বিঘ্ন সৃষ্টি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত নবীর তামান্না তথা আশা-আকাঙ্ক্ষা (আর নবীর আশা-আকাংখা এছাড়া আর কি হতে পারে যে, তাঁর প্রচেষ্টা ফলবতী এবং মিশন বাস্তবায়িত হবে) পূর্ণ করেন এবং নিজের আয়াতকে (অর্থাৎ নবীর সাথে অঙ্গীকার করেছিলেন) পাকাপোক্ত ও মজবুত অঙ্গীকারে পরিণত করেন। দ্বিতীয় অর্থটির দৃষ্টিতে এর তৎপর্য হবে, শয়তানের ঢুকানো সন্দেহ-সংশয় ও আপত্তি আল্লাহ দূর করে দেন এবং এক একটি আয়াত সম্পর্কে সে লোকদের মনে যেসব জটিলতা সৃষ্টি করে পরবর্তী কোন অধিকতর সুস্পষ্ট আয়াতের মাধ্যমে সেগুলো পরিষ্কার করে দেয়া হয়।

১০০

অর্থাৎ তিনি জানেন শয়তান কোথায় কি বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে এবং তার কি প্রভাব পড়েছে। তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা শয়তানী ফিতনার প্রতিবিধান করে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সান্তনা দেওয়া হচ্ছে যে, আপনার বিরুদ্ধবাদীদের পক্ষ থেকে যেসব সংশয় প্রকাশ করা হচ্ছে তা নতুন কোন বিষয় নয়। পূর্ব যুগের নবীদের ক্ষেত্রেও এরূপই ঘটেছে। তারা যখন মানুষকে আল্লাহ তাআলার কালাম পড়ে শোনাতেন, তখন শয়তান কাফেরদের অন্তরে নানা রকম সংশয় সন্দেহ সৃষ্টি করত, যে কারণে তারা ঈমান আনত না। কিন্তু তাদের সৃষ্ট সংশয়-সন্দেহ যেহেতু ভিত্তিহীন হত, তাই আল্লাহ তাআলা খাঁটি মুমিনদের অন্তরে তার কোন আছর বাকি থাকতে দিতেন না; বরং তা সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দিতেন। এ আয়াতের আরেক তরজমাও করা সম্ভব। তা এ রকম, ‘আমি তোমার আগে যে-সকল রাসূল বা নবী পাঠিয়েছি তাদের ক্ষেত্রেও এ রকমই ঘটেছে যে, তাদের কেউ যখন কোন আকাঙ্ক্ষা করেছে, তখন শয়তান তার আকাঙ্ক্ষায় বিপত্তি সৃষ্টি করত, কিন্তু আল্লাহ তাআলা শয়তানের সৃষ্ট বিপত্তি অপসারণ করে নিজ আয়াতসমূহকে আরও দৃঢ় করতেন। এ তরজমা অনুযায়ী ব্যাখ্যা হবে এ রকম, আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম নিজ সম্প্রদায়ের ইসলামের জন্য কোন বিষয়ের আকাঙ্ক্ষা করলে প্রথম দিকে শয়তান তাদের সে আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথে বাধা সৃষ্টি করত, কিন্তু আল্লাহ তাআলা তার সে বাধা দূর করে নিজ আয়াতসমূহ অধিকতর মজবুত করে দিতেন এবং নবীগণকে সাহায্য করার সুসংবাদ শোনাতেন। তবে শয়তানের সৃষ্ট বাধা কাফেরদের পক্ষে, যাদের অন্তরে সংশয়-সন্দেহের ব্যাধি ছিল, ফিতনার কারণ হয়ে দাঁড়াত। তারা তাকে নবীগণের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে পেশ করত।

তাফসীরে জাকারিয়া

৫২. আর আমরা আপনার পূর্বে যে রাসূল কিংবা নবী প্রেরণ করেছি(১), তাদের কেউ যখনই (ওহীর কিছু) তিলাওয়াত করেছে(২), তখনই শয়তান তাদের তিলাওয়াতে (কিছু) নিক্ষেপ করেছে, কিন্তু শয়তান যা নিক্ষেপ করে আল্লাহ তা বিদূরিত করেন।(৩) তারপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন এবং আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

(১) এ থেকে জানা যায় যে, রাসূল ও নবী এক নয়; পৃথক পৃথক অর্থ রাখে। তবে এ পার্থক্য নির্ধারণে আলেমগণের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছেঃ

(এক) রাসূল বলা হয়- যার কাছে ওহী পাঠানো হয়েছে এবং প্রচারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে আর নবী বলা হয়- যার কাছে ওহী পাঠানো হয়েছে কিন্তু প্রচারের নির্দেশ দেয়া হয়নি।

(দুই) রাসূল হলেন যাকে নতুন শরীআত দিয়ে পাঠানো হয়েছে এবং সংস্কারক হিসেবে পাঠানো হয়েছে।

(তিন) রাসূল হলেন যাকে দ্বীনের বিরোধী জাতির কাছে পাঠানো হয়েছে, আর নবী হলেন যাকে দ্বীনের স্বপক্ষীয় জাতির কাছে পাঠানো হয়েছে।
তবে সবচেয়ে প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত হল- রাসূল হলেনঃ যাকে দ্বীন-বিরোধী জাতি অর্থাৎ কাফের সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি মানুষকে তার কাছে যে শরীআত আছে সে শরীআতের দিকে আহবান করবেন। তাকে সে জাতির কেউ কেউ মিথ্যা প্ৰতিপন্ন করবে এবং তার সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হবে। তিনি প্রচার ও ভীতি প্রদর্শনের জন্য নির্দেশিত হবেন। কখনো কখনো তার সাথে কিতাব থাকবে। আর এটাই স্বাভাবিক, আবার কখনো কখনো রাসূলের সাথে কিতাব থাকবে না।

কখনো তার শরীআত হবে সম্পূর্ণ নতুন, আবার কখনো তার শরীআত হবে পূর্ববর্তী শরীআতের পরিপূরক হিসেবে। অর্থাৎ সেখানে বাড়তি বা কমতি থাকবে। আর নবী হলেনঃ যার কাছে ওহী প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি মুমিন সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরিত হবেন। পূর্ব শরীআত অনুযায়ী হুকুম দেবেন। পূর্ব শরীআতকে পূনর্জীবিত করবেন এবং সেদিকে মানুষকে আহবান করবেন। তাকে প্রচার ও ভীতি প্রদর্শনের নির্দেশও দেয়া হবে। তার জন্য নতুন কিতাব থাকাও অসম্ভব নয়। (এ ব্যাপারে বিস্তারিত দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, আন-নুবুওয়াত: ২/৭১৮; ইবনুল কাইয়্যেম, তরীকুল হিজরাতাইন, ৩৪৯; ইবন আবিল ইযয, শারহুত তাহাতীয়্যা: ১৫৮; ড. উমর সুলাইমান আল-আশকার, আর-রুসুল ওয়ার রিসালাত: ১৪–১৫)

(২) মূল শব্দটি হচ্ছে, تمنى (তামান্না)। আরবী ভাষায় এ শব্দটি দু'টি অর্থে ব্যবহৃত হয়। একটি অর্থ হচ্ছে কোন জিনিসের আশা-আকাংখা করা। (ফাতহুল কাদীর) দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে তিলাওয়াত অৰ্থাৎ কিছু পাঠ করা। তবে আয়াতে تمنى শব্দের অর্থ قرأ অর্থাৎ আবৃত্তি করে এবং أمينة শব্দের অর্থ قراءة অর্থাৎ আবৃত্তি করা। (কুরতুবী; ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর) আরবী অভিধানে এ অর্থ প্রসিদ্ধ ও সুবিদিত। আয়াতের অর্থ হল, আল্লাহ্ তা'আলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পূর্বে যখনই কোন নবী বা রাসূল পাঠিয়েছেন, তিনি যখন মানুষকে উপদেশ দেয়ার জন্য আদেশ-নিষেধ প্রদান করতেন, তখনি সেখানে শয়তান মানুষের কানে তার ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তমূলক এমন কথাবার্তা প্রবিষ্ট করত যা নবীর কথা ও পড়ার সম্পূর্ণ বিপরীত বিষয়।

আর আল্লাহ যেহেতু নবী-রাসূলদেরকে উম্মতের জন্য প্রচার করা বিষয়সমূহ এবং তাঁর ওহীর হেফাযত ও সম্পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করেছেন, সেহেতু তিনি শয়তানের সে সমস্ত কারসাজি ও ষড়যন্ত্রকে স্থায়িত্ব দেন না; বরং অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দেন। ফলে এভাবেই আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর আয়াতসমূহের হেফাযত করে থাকেন। মূলতঃ আল্লাহ প্রবল পরাক্রান্ত মহাশক্তিধর। তিনি একদিকে তাঁর সুনির্দিষ্ট হেকমত ও প্রজ্ঞার কারণে শয়তানের পক্ষ থেকে তা হতে দেন অপরদিকে তার শক্তিতে তাঁর ওহীর হেফাযত করেন। যাতে করে যাদের অন্তরে রোগ রয়েছে এবং কঠোর হৃদয়ের অধিকারী মানুষদের মনে শয়তানের এ বাক্যগুলো ফেৎনা সৃষ্টি করতে পারে। এর বিপরীতে যাদের কাছে রয়েছে ইলম বা জ্ঞান, তারা এ দু'য়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে এবং শয়তানের প্রক্ষিপ্ত বিষয় ত্যাগ করে একমাত্র আল্লাহর আয়াতসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে। বরং এতে তাদের অন্তরে ঈমান বর্ধিত হয় এবং তারা আল্লাহর জন্য বিনম্র ও বিনয়ী হয়ে পড়ে। (বাগভী; কুরতুবী; ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর; সা’দী থেকে সংক্ষেপিত)

(৩) অর্থাৎ তিনি জানেন শয়তান কোথায় কি বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে এবং তার কি প্রভাব পড়েছে। তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা শয়তানী ফিতনার প্রতিবিধান করে থাকে। তিনি শয়তানী চক্রান্তকে কখনো সফল হতে দেন না। প্রক্ষিপ্ত অংশ বাতিল করে দেন। (দেখুন, ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫২) আমি তোমার পূর্বে যে সব রসূল কিংবা নবী প্রেরণ করেছি তাদের কেউ যখনই আকাঙ্ক্ষা করেছে, তখনই শয়তান তার আকাঙ্ক্ষায় কিছু প্রক্ষিপ্ত করেছে। কিন্তু শয়তান যা প্রক্ষিপ্ত করে, আল্লাহ তা বিদূরিত করেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সুদৃঢ় করেন।(1) আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

(1) تَمَنى শব্দের একটি অর্থ আকাঙ্ক্ষা করেছে বা অন্তরে কল্পনা করেছে। দ্বিতীয় অর্থঃ পড়েছে বা আবৃত্তি করেছে। এই হিসাবে أُمنِية এর অর্থ হবে আকাঙ্ক্ষা, কল্পনা বা পাঠ। প্রথম অর্থ অনুযায়ী এর তাৎপর্য হবে, তার আকাঙ্ক্ষায় শয়তান বাধা সৃষ্টি করল; যাতে তা পূর্ণ না হয়। আর রসূল ও নবীদের আকাঙ্ক্ষা এটাই হয় যে, বেশি সংখ্যক মানুষ ঈমান আনয়ন করুক। কিন্তু শয়তান বাধা সৃষ্টি করে বেশি সংখ্যক মানুষকে ঈমান গ্রহণ করা হতে দূরে রাখতে চায়। দ্বিতীয় অর্থ অনুযায়ী এর তাৎপর্য দাঁড়াবে যে, যখনই আল্লাহর রসূল ও নবীগণ অহীলব্ধ কথা পড়ে শুনান, তখনই শয়তান উক্ত অহীর কথার সাথে নিজের কিছু কথা মিলিয়ে দিতে চেষ্টা করে বা লোকেদের মনে সংশয় সৃষ্টি করে। মহান আল্লাহ শয়তানের সমস্ত বাধা দূর করে অথবা তেলাঅতে তার কিছু মিলিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টাকে অকৃতকার্য করে অথবা শয়তানের প্রক্ষিপ্ত সন্দেহ ও সংশয় নিরসন করে নিজের কথা বা আয়াতকে সুদৃঢ় করেন। এর মাধ্যমে রসূল (সাঃ)-কে সান্ত্বনা দেওয়া হচ্ছে যে, এই শ্রেণীর কর্মকান্ড শয়তান শুধুমাত্র তোমার সাথেই করেনি; বরং তোমার পূর্ববর্তী সকল নবীদের সাথেই করেছে। সুতরাং তুমি কিছুমাত্র বিচলিত হবে না। শয়তানের ঐ সমস্ত চক্রান্ত ও দুরভিসন্ধি হতে যেমন আমি পূর্বের নবীদেরকে রক্ষা করেছি, তেমনি তুমিও সুরক্ষিত থাকবে এবং শয়তানের অনিচ্ছা সত্ত্বেও মহান আল্লাহ নিজের বাণীকে পাকাপোক্ত ও সুদৃঢ় করবেন। কোন কোন মুফাসসির এখানে غرانيق এর কেচ্ছা উল্লেখ করেন; কিন্তু সত্যানুসন্ধানী উলামাগণের নিকট তার কোন অস্তিত্ব নেই। আর সেই কারণে তা এখানে উল্লেখ করার কোন প্রয়োজন নেই।