لِّيَجۡعَلَ مَا يُلۡقِي ٱلشَّيۡطَٰنُ فِتۡنَةٗ لِّلَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٞ وَٱلۡقَاسِيَةِ قُلُوبُهُمۡۗ وَإِنَّ ٱلظَّـٰلِمِينَ لَفِي شِقَاقِۭ بَعِيدٖ

লিইয়াজ‘আলা মা-ইউলকিশশাইতা-নুফিতনাতাল লিল্লাযীনা ফী কুলূবিহিম মারদুওঁ ওয়াল ক-ছিয়াতি কুলূবুহুম ওয়া ইন্নাজ্জা-লিমীনা লাফী শিক-কিম বা‘ঈদ।উচ্চারণ

(তিনি এজন্য এমনটি হতে দেন) যাতে শয়তানের নিক্ষিপ্ত অনিষ্টকে পরীক্ষায় পরিণত করেন তাদের জন্য যাদের অন্তরে (মুনাফিকীর) রোগ রয়েছে এবং যাদের হৃদয়বৃত্তি মিথ্যা-কলূষিত--- আসলে এ জালেমরা শত্রুতায় অনেক দূরে পৌঁছে গেছে--- তাফহীমুল কুরআন

তা এজন্য যে, শয়তান যে প্রতিবন্ধ ফেলে, আল্লাহ তাকে যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে এবং যাদের অন্তর শক্ত, তাদের জন্য ফিতনায় পরিণত করেন। #%৩১%# নিশ্চয়ই জালেমগণ বিরোধিতায় বহু দূর পৌঁছে গেছে।মুফতী তাকী উসমানী

এটা এ জন্য যে, শাইতান যা প্রক্ষিপ্ত করে তিনি ওকে পরীক্ষা স্বরূপ করেন তাদের জন্য যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, যাদের হৃদয় পাষাণ। নিশ্চয়ই যালিমরা দুস্তর মতভেদে রয়েছে।মুজিবুর রহমান

এ কারণে যে, শয়তান যা মিশ্রণ করে, তিনি তা পরীক্ষাস্বরূপ করে দেন, তাদের জন্যে, যাদের অন্তরে রোগ আছে এবং যারা পাষাণহৃদয়। গোনাহগাররা দূরবর্তী বিরোধিতায় লিপ্ত আছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এটা এজন্যে যে, শয়তান যা প্রক্ষিপ্ত করে তিনি একে পরীক্ষাস্বরূপ করেন তাদের জন্যে যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে ও যারা পাষাণ হৃদয়। নিশ্চয়ই জালিমরা দুস্তর মতভেদে রয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এটা এজন্য যে, শয়তান যা নিক্ষেপ করে, তা যাতে তিনি তাদের জন্য পরীক্ষার বস্ত্ত বানিয়ে দেন, যাদের অন্তরসমূহে ব্যাধি রয়েছে এবং যাদের হৃদয়সমূহ পাষাণ। আর নিশ্চয় যালিমরা দুস্তর মতভেদে লিপ্ত রয়েছে।আল-বায়ান

(তিনি এটা হতে দেন এজন্য) যাতে তিনি শয়ত্বান যা মিশিয়ে দিয়েছে তা দ্বারা পরীক্ষা করতে পারেন তাদেরকে যাদের অন্তরে (মুনাফিকীর) ব্যাধি আছে, যারা শক্ত হৃদয়ের। অন্যায়কারীরা চরম মতভেদে লিপ্ত আছে।তাইসিরুল

যেন শয়তান যে কুমন্ত্রণা দেয় সেটিকে তিনি করতে পারেন একটি পরীক্ষার বিষয় তাদের জন্য যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, আর যাদের হৃদয় হয়েছে কঠিন। আর অত্যাচারীরা তো নিশ্চয়ই সুদূর প্রসারী বিচ্ছিন্নতায় রয়েছে, --মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

আল্লাহ তাআলা শয়তানকে এরূপ প্রতিবন্ধকতা ও সংশয়-সন্দেহ সৃষ্টি করার সুযোগ কেন দেন, ৫৩ ও ৫৪ আয়াতে তার জবাব দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে যে, এর দ্বারাও উদ্দেশ্য মানুষকে পরীক্ষা করা। এ পরীক্ষায় মুনাফিক ও কাফিরগণ অকৃতকার্য ও মুমিনগণ কৃতকার্য হয়। ‘যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে’ বলে মুনাফিকদের আর ‘যাদের অন্তর শক্ত’ বলে ঘোর কাফিরদের বোঝানো হয়েছে। এ পরীক্ষায় তারা মনের ব্যাধি ও কঠিনত্বের কারণে আরও বেশি সন্দেহ ও অবিশ্বাসের দিকে এগিয়ে যায় আর যারা প্রকৃত জ্ঞানী ও মুমিন, সত্যের প্রতি আরও বেশি আস্থাবান হয় তারা নিজেদের ঈমানকে বলিয়ান করে তোলে। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

৫৩. এটা এ জন্য যে, শয়তান যা প্রক্ষিপ্ত করে তিনি সেটাকে পরীক্ষাস্বরূপ করেন তাদের জন্য যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে আর যারা পাষাণহৃদয়।(১) আর নিশ্চয় যালেমরা দুস্তর বিরোধিতায় লিপ্ত রয়েছে।

(১) অর্থাৎ শয়তানের ফিতনাবাজীকে আল্লাহ লোকদের জন্য পরীক্ষা এবং নকল থেকে আসলকে আলাদা করার একটা মাধ্যমে পরিণত করেছেন। বিকৃত মানসিকতাসম্পন্ন লোকেরা এসব জিনিস থেকে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং এগুলো তাদের জন্য ভ্ৰষ্টতার উপকরণে পরিণত হয়। অন্যদিকে স্বচ্ছ চিন্তার অধিকারী লোকেরা এসব কথা থেকে নবী ও আল্লাহর কিতাবের সত্য হবার দৃঢ় প্রত্যয় লাভ করে এবং তারা অনুভব করতে থাকে যে, এগুলো শয়তানের অনিষ্টকর কার্যকলাপ। এ জিনিসটি তাদেরকে একদম নিশ্চিন্ত করে দেয় যে, এটি নির্ঘাত কল্যাণ ও সত্যের দাওয়াত। যা আল্লাহর জ্ঞানে ও সংরক্ষণে নাযিল হয়েছে, সুতরাং তার সাথে অন্য কিছু মিলে মিশে যাবে না। বরং এটি হচ্ছে এমন প্রাজ্ঞ কিতাব, “বাতিল এতে অনুপ্ৰবেশ করতে পারে না—সামনে থেকেও না, পিছন থেকেও না। এটা প্রজ্ঞাময়, স্বপ্রশংসিতের কাছ থেকে নাযিলকৃত।” (সূরা ফুস্‌সিলাত: ৪২) এভাবে তাদের ঈমান আরও দৃঢ় হয়। তারা বিশ্বাসী এবং অনুগত হয়। তাদের মন এ কুরআনের জন্য বিনয়ী হয়ে যায়। (ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫৩) এটা এ জন্য যে, শয়তান যা প্রক্ষিপ্ত করে, তিনি তা পরীক্ষা স্বরূপ করেন তাদের জন্য যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং যারা পাষাণ-হৃদয়।(1) নিশ্চয় অত্যাচারীরা চরম বিরোধিতায় রয়েছে।

(1) শয়তান এ রকম আচরণ এই জন্য করে থাকে, যাতে মানুষকে পথভ্রষ্ট করতে পারে। আর শয়তানের জালে ঐ সমস্ত মানুষ ফেঁসে থাকে, যাদের অন্তরে আছে কুফরী ও মুনাফিকীর রোগ বা যাদের অন্তর অধিক পাপ করার ফলে পাথরের ন্যায় কঠিন হয়ে পড়ে।