وَٱضۡمُمۡ يَدَكَ إِلَىٰ جَنَاحِكَ تَخۡرُجۡ بَيۡضَآءَ مِنۡ غَيۡرِ سُوٓءٍ ءَايَةً أُخۡرَىٰ

ওয়াদমুম ইয়াদাকা ইলা-জানা-হিকা তাখরুজ বাইদায়া মিন গাইরি ছূইন আ-য়াতান উখর-।উচ্চারণ

আর তোমার হাতটি একটু বগলের মধ্যে রাখো, তা কোন প্রকার ক্লেশ ছাড়াই উজ্জ্বল হয়ে বের হয়ে আসবে, ১৩ এটা দ্বিতীয় নিদর্শন। তাফহীমুল কুরআন

আর তোমার হাত নিজ বগলে রাখ। তা কোনরূপ রোগ ছাড়া শুভ্র উজ্জ্বল হয়ে বের হবে। এটা হবে (তোমার নবুওয়াতের) আরেক নিদর্শন।মুফতী তাকী উসমানী

এবং তুমি হাত বগলে রাখ, ওটি বের হয়ে আসবে নির্মল উজ্জ্বল হয়ে অপর এক নিদর্শন স্বরূপ।মুজিবুর রহমান

তোমার হাত বগলে রাখ, তা বের হয়ে আসবে নির্মল উজ্জ্বল হয়ে অন্য এক নিদর্শন রূপে; কোন দোষ ছাড়াই।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘এবং তোমার হাত তোমার বগলে রাখ, এটা বের হয়ে আসবে নির্মল উজ্জ্বল হয়ে অপর এক নিদর্শনস্বরূপ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আর তোমার হাত তোমার বগলের সাথে মিলাও, তাহলে তা উজ্জ্বল হয়ে বেরিয়ে আসবে কোনরূপ ত্রুটি ছাড়া; আরেকটি নিদর্শনরূপে’।আল-বায়ান

আর তোমার হাত বগলে দিয়ে টান, তা ক্ষতিকর নয় এমন শুভ্রোজ্জ্বল হয়ে বের হয়ে আসবে- অন্য আরেকটি নিদর্শন হিসেবে।তাইসিরুল

আর তোমার হাত তোমার বগলের মধ্যে চেপে ধর, তা সাদা হয়ে বেরিয়ে আসবে কোনো দোষত্রুটি ছাড়া, -- এ আরেকটি নিদর্শন।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৩

অর্থাৎ সূর্যের আলোর মতো আলো হবে কিন্তু এর ফলে তোমার কোন কষ্ট হবে না। বাইবেলে সাদা হাতের ভিন্ন একটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং সেখান থেকে আমাদের তাফসীরগুলোতেও এর প্রচলন হয়ে গেছে। সেটা হচ্ছে এই যে, হযরত মূসা যখন বগলে হাত রেখে বাইরে বের করলেন তখন দেখা গেলো পুরো হাতটাই কুষ্ঠরোগীর হাতের মতো সাদা হয়ে গেছে। তারপর আবার যখন তা বগলে রাখলেন তখন আবার আগের মতো হয়ে গেছে। এ মুজিযাটির এ ব্যাখ্যাই তালমুদেও বর্ণিত হয়েছে এবং এর গূঢ় তত্ত্ব বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে, ফেরাউনের কুষ্ঠরোগ ছিল এবং এ রোগ সে লুকিয়ে রেখেছিল। আহ তার সামনে এ মুজিযা পেশ করে তাকে দেখানো হয়েছে যে, দেখো মুহূর্তের মধ্যে কুষ্ঠ রোগ সৃষ্টি করে মুহূর্তের মধ্যেই তা নিরাময় করা যায়। কিন্তু প্রথমত ভারসাম্যপূর্ণ রুচিশীলতা কোন নবীকে কুষ্ঠরোগের মুজিযা দিয়ে এক বাদশাহর দরবারে পাঠানোর ব্যাপারটিই গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। দ্বিতীয়ত ফেরাউনের যদি অপ্রকাশ্য কুষ্ঠরোগ থেকে থাকে তাহলে কুষ্ঠরোগীর সাদা হাত শুধুমাত্র তার একার জন্য মুজিযা হতে পারে, তার সভাসদদের ওপর এ মুজিযার কী প্রভাব পড়বে” কাজেই সঠিক কথা এটাই, যা আমরা উপরে বর্ণনা করেছি। অর্থাৎ তাঁর হাত সূর্যালোকের মতে আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠতো এবং চোখ সেদিকে তাকিয়ে থাকতে পারতো না। প্রথম যুগের মুফাসসিরদের অনেকেই এ অর্থ গ্রহণ করেছেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ, বগল থেকে যখন হাত বের করবে, তা শুভ্রতায় ঝলমল করবে। আর সে শুভ্রতা শ্বেতী বা অন্য কোন রোগের কারণে নয়। বরং তা হবে তোমার নবুওয়াত প্রাপ্তির এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

তাফসীরে জাকারিয়া

২২. এবং আপনার হাত আপনার বগলের(১) সাথে মিলিত করুন, তা আরেক নিদর্শনস্বরূপ নির্মল উজ্জ্বল হয়ে বের হবে।

(১) মূলে ব্যবহৃত হয়েছে جناح শব্দটি। جناح আসলে জন্তুর পাখাকে বলা হয়। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে তার বাজু বা পার্শ্বদেশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। পাখা বা ডানা এজন্য বলা হয়েছে কারণ, এটি তার জন্য ডানার স্থান। (ফাতহুল কাদীর) এটি এখানে উদ্দেশ্য নিজের বাহু অর্থাৎ বগলের নীচে হাত রেখে যখন বের করবে, তখন তা চাঁদের আলোর ন্যায় ঝলমল করতে থাকবে। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে এর এরূপ তাফসীরই বর্ণিত আছে। (কুরতুবী; ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২২) এবং তুমি তোমার হাত বগলে রাখো, এটা বের হয়ে আসবে দোষমুক্ত(1) উজ্জ্বল হয়ে অপর এক নিদর্শন স্বরূপ।

(1) ‘দোষমুক্ত’-এর অর্থ, হাতের এই ভাবে শুভ্র ও উজ্জ্বল হয়ে বের হওয়াটা কোন রোগের কারণে নয়, যেমন কুষ্ঠরোগীদের চামড়া সাদা হয়ে থাকে। বরং এটি দ্বিতীয় মু’জিযা যা আমি তোমাকে দান করেছি। যেমন অন্য এক জায়গায় এই দুই মু’জিযার কথা একত্রে বর্ণনা করে বলেন,{فَذَانِكَ بُرْهَانَانِ مِن رَّبِّكَ إِلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ} অর্থাৎ, এ দুটি ফিরআউন ও তার পারিষদবর্গের জন্য তোমার প্রতিপালক-প্রদত্ত প্রমাণ। (সূরা কাসাস ৩২)