হাল ইয়ানজুরূনা ইল্লা-আইঁয়া’তিয়াহুমুল্লা-হু ফী জুলালিম মিনাল গামা-মি ওয়ালমালাইকাতু ওয়া কুদিয়াল আমরু ওয়া ইলাল্লা-হি তুর জা‘উল উমূর।উচ্চারণ
(এই সমস্ত উপদেশ ও হিদায়াতের পরও যদি লোকেরা সোজা পথে না চলে, তাহলে) তারা কি এখন এই অপেক্ষায় বসে আছে যে, আল্লাহ মেঘমালার ছায়া দিয়ে ফেরেশতাদের বিপুল জমায়েত সঙ্গে নিয়ে নিজেই সামনে এসে যাবেন এবং তখন সবকিছুর মীমাংসা হয়ে যাবে? ২২৮ সমস্ত ব্যাপার তো শেষ পর্যন্ত আল্লাহরই সামনে উপস্থাপিত হবে। তাফহীমুল কুরআন
তারা (কাফিরগণ ঈমান আনার জন্য) কি এছাড়া আর কোনও জিনিসের অপেক্ষা করছে যে, আল্লাহ স্বয়ং মেঘের চাঁদোয়ায় তাদের সামনে এসে উপস্থিত হবেন এবং ফিরিশতাগণও (তাঁর সাথে থাকবে), আর সকল বিষয়ে মীমাংসা করে দেওয়া হবে? #%১৫৫%# অথচ সকল বিষয় শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে।মুফতী তাকী উসমানী
তারা শুধু এই অপেক্ষাই করছে যে, আল্লাহ শুভ্র মেঘমালার ছায়াতলে মালাইকা/ফেরেশতাদেরকে সঙ্গে নিয়ে তাদের নিকট সমাগত হবেন ও সমস্ত কাজের নিস্পত্তি করবেন। এবং আল্লাহরই নিকট সমস্ত কার্য প্রত্যাবর্তিত হয়ে থাকে।মুজিবুর রহমান
তারা কি সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে যে, মেঘের আড়ালে তাদের সামনে আসবেন আল্লাহ ও ফেরেশতাগণ ? আর তাতেই সব মীমাংসা হয়ে যাবে। বস্তুতঃ সবকার্যকলাপই আল্লাহর নিকট গিয়ে পৌঁছবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তারা শুধু এর প্রতীক্ষায় আছে যে, আল্লাহ্ ও ফিরিশতাগণ মেঘের ছায়ায় তাদের নিকট উপস্থিত হবেন, তারপর সব কিছুর মীমাংসা হয়ে যাবে। সমস্ত বিষয় আল্লাহ্ র ই নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তারা কি এরই অপেক্ষা করছে যে, মেঘের ছায়ায় আল্লাহ ও ফেরেশতাগণ তাদের নিকট আগমন করবেন এবং সব বিষয়ের ফয়সালা করে দেয়া হবে। আর আল্লাহর নিকটই সব বিষয় প্রত্যাবর্তিত হবে।আল-বায়ান
এরা কি এজন্য অপেক্ষা করছে যে, মেঘমালার ছত্র লাগিয়ে ফেরেশতাদের সঙ্গে নিয়ে আল্লাহ তাদের কাছে আগমন করবেন, অতঃপর সবকিছুর মীমাংসা হয়ে যাবে? বস্তুতঃ সকল কার্য আল্লাহর নিকটেই ফিরে যায় (চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য)।তাইসিরুল
তারা এছাড়া আর কিসের প্রতীক্ষা করে যে তাদের কাছে আল্লাহ্ আসবেন মেঘের ছায়ায়, আর ফিরিশ্তারাও, আর বিষয়টির নিস্পত্তি হয়ে গেছে? আর আল্লাহ্র কাছেই সব ব্যাপার ফিরে যায়।মাওলানা জহুরুল হক
২২৮
এখানে উল্লেখিত শব্দগুলো যথেষ্ট চিন্তার খোরাক যোগায়। এর ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ দুনিয়ায় মানুষের পরীক্ষা কেবলমাত্র একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে চলছে। সত্যকে না দেখে সে তাকে মানতে প্রস্তুত কি না? আর মেনে নেয়ার পরও তার মধ্যে সত্যকে অমান্য করার ক্ষমতা ও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও স্বেচ্ছায় তার আনুগত্য করার মতো নৈতিক শক্তি তার আছে কি না? কাজেই মহান আল্লাহ নবী প্রেরণ, আসমানী কিতাব অবতরণ এমন কি মুজিযাসমূহের ক্ষেত্রেও বুদ্ধি-বিবেকের পরীক্ষা ও নৈতিক শক্তি যাচাই করার ব্যবস্থা রেখেছেন। কখনো তিনি সত্যকে এমনভাবে আবরণমুক্ত করে দেননি যার ফলে মানুষের পক্ষে তাকে মেনে নেয়া ছাড়া আর কোন উপায়ই থাকেনি। কেননা এরপর তো আর পরীক্ষার কোন অর্থই থাকে না এবং পরীক্ষায় সাফল্য ও ব্যর্থতা অর্থহীন হয়ে পড়ে। তাই এখানে বলা হচ্ছে, সেই সময়ের অপেক্ষায় থেকো না যখন আল্লাহ ও তাঁর রাজ্যের কর্মচারী ফেরেশতাগণ সামনে এসে যাবেন। কারণ তখন তো সমস্ত ব্যাপারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে। ঈমান আনা ও আনুগত্যের শির অবনত করার মূল্য ও মর্যাদা ততক্ষণই দেয়া হবে যতক্ষণ প্রকৃত সত্য মানুষের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হবে না কিন্তু মানুষ শুধুমাত্র যুক্তি-প্রমাণের মাধ্যমে তাকে গ্রহণ করে নিজের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেবে এবং নিছক সত্য উপলব্ধির মাধ্যমে তার আনুগত্য করে নিজের নৈতিক শক্তির প্রমাণ দেবে। অন্যথায় যখন প্রকৃত সত্য সকল প্রকার আবরণ মুক্ত হয়ে সামনে এসে দাঁড়াবে, মানুষ চর্মচক্ষে আল্লাহকে দেখবে, তাঁর মহাপ্রতাপ ও পরাক্রমের সিংহাসনে সমাসীন, সীমাহীন এ বিশ্ব সংসারের বিশাল রাজত্ব তাঁর নির্দেশে পরিচালিত হতে দেখবে, ফেরেশতাদের দেখবে আকাশ ও পৃথিবীর ব্যবস্থাপনায় প্রতি মুহূর্তে সক্রিয় এবং মানুষের এ সত্তাকে আল্লাহর প্রচণ্ড শক্তির বাঁধনে একান্ত অসহায় দেখতে পাবে-এসব কিছু চর্মচক্ষে প্রত্যক্ষ করার পর যদি কেউ ঈমান আনে ও সত্যকে মেনে চলতে উদ্যত হয় তাহলে তার এ ঈমান আনার ও সত্যকে মেনে চলার আকাংখার কোন দামই নেই। সে সময় কোন পাক্কা কাফের ও নিকৃষ্টতম অপরাধীও অস্বীকার ও নাফরমানি করার সাহস করবে না। আবরণ উন্মোচন করার মুহূর্ত আসার আগে ঈমান আনার ও আনুগত্য করার সুযোগ রয়েছে। আর যখন সে মুহূর্তটি এসে যায় তখন আর পরীক্ষাও নেই, সুযোগও নেই। বরং তখন চূড়ান্ত মীমাংসা ও ফায়সালার সময়।
বিভিন্ন কাফির বিশেষত মদীনার ইয়াহুদীগণ এ ধরনের দাবী-দাওয়া পেশ করত যে, আল্লাহ তাআলা নিজে আমাদের দৃষ্টির সামনে এসে আমাদেরকে সরাসরি কেন ঈমান আনার হুকুম দিচ্ছেন না? এ আয়াত তার জবাব দিচ্ছে। জবাবের সারমর্ম এই যে, দুনিয়া মূলত পরীক্ষার জায়গা। এখানে পরীক্ষা নেওয়া হয় যে, মানুষ নিজ বুদ্ধি-বিবেচনা কাজে লাগিয়ে এবং বিশ্ব জগতে ছড়িয়ে থাকা সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলীর আলোকে আল্লাহ তাআলার তাওহীদ ও রাসূলগণের রিসালাতের প্রতি ঈমান আনে কি না। এ কারণেই এ পরীক্ষায় প্রকৃত মূল্য গায়বে ঈমানের। আল্লাহ তাআলাকে যদি সরাসরি দেখা যায়, তবে পরীক্ষা হল কোথায়? আল্লাহ তাআলার নীতি হচ্ছে গায়বের জিনিসমমূহ যদি মানুষ চাক্ষুষ দেখে ফেলে, তখন আর তার ঈমান গ্রহণযোগ্য হয় না। এ কারণেই গায়বী জিনিসসমূহ প্রত্যক্ষ করানো হয় না। তবে যখন এ জগতকে খতম করে শাস্তি ও পুরস্কার দানের সময় এসে যাবে, তখন কোনও কোনও গায়বী জিনিস চাক্ষুষ দেখানো হবে। আয়াতে ‘মীমাংসা করে দেওয়া’এর দ্বারা এটাই বোঝানো হয়েছে।
২১০. তারা কি শুধু এর প্রতীক্ষায় রয়েছে যে, আল্লাহ ও ফেরেশতাগণ মেঘের ছায়ায় তাদের কাছে উপস্থিত হবেন?(১) এবং সবকিছুর মীমাংসা হয়ে যাবে। আর সমস্ত বিষয় আল্লাহর কাছেই প্রত্যাবর্তিত হবে।
(১) আল্লাহ ও ফেরেশতা মেঘের আড়ালে করে তাদের নিকট আগমন করবেন, এমন ঘটনা কেয়ামতের দিন সংঘটিত হবে। হাশরের মাঠে আল্লাহর আগমন সত্য ও সঠিক। এ সম্পর্কে সাহাবী ও তাবেয়ী এবং বুযুর্গানে দ্বীনের রীতি হচ্ছে, বিষয়টিকে সঠিক ও সত্য বলে বিশ্বাস করে নেয়া, কিন্তু কিভাবে তা সংঘটিত হবে, তা আমরা জানি না।
(২১০) তারা কেবল এ প্রতীক্ষায় আছে যে, আল্লাহ মেঘের ছায়ায় ফিরিশতাগণসহ তাদের কাছে উপস্থিত হবেন, অতঃপর সব কিছুর মীমাংসা হয়ে যাবে।(1) আর সব বিষয় আল্লাহরই নিকট প্রত্যাবর্তিত হয়ে থাকে।
(1) এটা হয়তো কিয়ামতের দৃশ্য, যেমন কোন কোন তফসীরের বর্ণনায় এসেছে। (ইবনে কাসীর) অর্থাৎ, এরা কি কিয়ামত কায়েম হওয়ার অপেক্ষা করছে? অথবা এর অর্থ হল, মহান আল্লাহ ফিরিশতাসহ মেঘের আড়ালে তাদের সামনে এসে কোন চূড়ান্ত ফায়সালা করে দেবেন, তবেই তারা ঈমান আনবে। কিন্তু এ রকম ঈমান ফলপ্রসূ হবে না। কাজেই ইসলাম গ্রহণ করার ব্যাপারে বিলম্ব না করে সত্বর তা স্বীকার করে নিয়ে নিজের পরকাল সুন্দর করে নাও।