ছু ম্মা ইন্না রব্বাকা লিল্লাযীনা হা-জারূমিম বা‘দি মা-ফুতিনূছু ম্মা জা-হাদূওয়া সাবারূ ইন্না রব্বাকা মিম বা‘দিহা-লাগাফূরুর রহীম।উচ্চারণ
পক্ষান্তরে যাদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, (ঈমান আনার কারণে) যখন তারা নির্যাতিত হয়েছে, তারা বাড়ি-ঘর ত্যাগ করেছে, হিজরত করেছে, আল্লাহর পথে কষ্ট সহ্য করেছে এবং সবর করেছে, ১১১ তাদের জন্য অবশ্যই তোমার রব ক্ষমাশীল ও করুণাময়। তাফহীমুল কুরআন
যারা ফিতনায় আক্রান্ত হওয়ার পর হিজরত করেছে, তারপর জিহাদ করেছে ও সবর অবলম্বন করেছে, তোমার প্রতিপালক এসব বিষয়ের পর অবশ্যই অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। #%৫৮%#মুফতী তাকী উসমানী
(তোমার রবের পথে থেকে) যারা নির্যাতিত হবার পর হিজরাত করে এবং পরে জিহাদ করে এবং ধৈর্য ধারণ করে; তোমার রাব্ব এসব কিছুর পর, তাদের প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।মুজিবুর রহমান
যারা দুঃখ-কষ্ট ভোগের পর দেশত্যাগী হয়েছে অতঃপর জেহাদ করেছে, নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা এসব বিষয়ের পরে অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যারা নির্যাতিত হওয়ার পর হিজরত করে, পরে জিহাদ করে এবং ধৈর্য ধারণ করেন, তোমার প্রতিপালক এই সবের পর, তাদের প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তারপর তোমার রব তাদের জন্য, যারা বিপর্যস্ত হওয়ার পর হিজরত করেছে, অতঃপর জিহাদ করেছে এবং সবর করেছে, এ সবের পর তোমার রব অবশ্যই ক্ষমাশীল, দুয়ালু।আল-বায়ান
অবশ্যই তোমার প্রতিপালক তাদের জন্য যারা নির্যাতিত হওয়ার পর হিজরাত করে, অতঃপর জিহাদ করে, অতঃপর ধৈর্যধারণ করে, এ সবের পর তোমার প্রতিপালক অবশ্যই বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।তাইসিরুল
তারপর তোমার প্রভু নিশ্চয়ই -- যারা হিজরত করে নির্যাতিত হবার পরে, তারপর জিহাদ করে ও অধ্যবসায় চালায় -- নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু এর পরে অবশ্যই পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।মাওলানা জহুরুল হক
১১১
এখানে হাবশার (ইথিয়োপিয়া) মুহাজিরদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
এ আয়াতে ‘ফিতনায় আক্রান্ত হওয়ার’ কথা বলে সেই সকল সাহাবীর প্রতি ইশারা করা হতে পারে, যারা মক্কা মুকাররমায় কাফেরদের পক্ষ থেকে জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। প্রথমে যেহেতু কাফেরদের অশুভ পরিণামের কথা জানানো হয়েছিল, তাই এবার সেই নিপীড়িত মুসলিমদের প্রতিদানের কথাও জানিয়ে দেওয়া হল। কোন কোন মুফাসসির এখানে ফিতনায় আক্রান্ত হওয়ার অর্থ এই করেছেন যে, তারা প্রথমে কুফরীতে লিপ্ত হয় এবং তারপর তাওবা করে নেয়। এ হিসেবে এর সম্পর্ক হবে মুরতাদদের সাথে। অর্থাৎ, পূর্বে যে মুরতাদ (ইসলামত্যাগী)দের সম্পর্কে আলোচনা চলছিল, আলোচনা আবার সে দিকেই ফিরে গেছে। এবার তাদের সম্পর্কে বলা হচ্ছে, এখনও যদি তারা তাওবা করে এবং হিজরত ও জিহাদে শামিল হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাআলা আগের সবকিছু ক্ষমা করে দেবেন।
১১০. তারপর যারা নির্যাতিত হওয়ার পর হিজরত করে, পরে জিহাদ করে এবং ধৈর্য ধারণ করে, নিশ্চয় আপনার রব এ সবের পর, তাদের প্রতি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
(১১০) যারা নির্যাতিত হবার পর হিজরত করে, পরে জিহাদ (ধর্মের জন্য দেশত্যাগ ও যুদ্ধ) করে এবং ধৈর্যধারণ করে; তোমার প্রতিপালক এই সবের পর, তাদের প্রতি অবশ্যই চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।(1)
(1) এখানে মক্কার ঐ সকল মুসলিমদের কথা বলা হয়েছে, যাঁরা ছিলেন দুর্বল এবং ইসলাম গ্রহণ করার জন্য কাফেরদের অত্যাচারের শিকার। অবশেষে তাঁদেরকে হিজরত করার আদেশ দেওয়া হল, আর তাঁরা আত্মীয়-স্বজন, প্রিয় মাতৃভূমি, ধন সম্পদ, ঘর বাড়ি সব কিছু ছেড়ে দিয়ে হাবশা বা মদীনা চলে গেলেন। আবার যখন কাফেরদের সাথে যুদ্ধের অবকাশ এল তখন শৌর্য-বীর্য সহকারে তাঁরা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলেন। তারপর তাঁর রাস্তায় নির্যাতন ও কষ্ট ধৈর্য সহকারে বরণ করে নিলেন। মহান আল্লাহ বলেন, এ সবের পর তোমার প্রতিপালক তাদের প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। অর্থাৎ আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া পাওয়ার জন্য ঈমান ও সৎকর্মের প্রয়োজন। যেমন উক্ত মুহাজিরগণ ঈমান ও সৎকর্মের সুন্দর নমুনা পেশ করলেন, ফলে তাঁরা আল্লাহর ক্ষমা ও দয়ায় পুরস্কৃত হলেন। رضي الله عنهم ورضوا عنه