ছু ম্মা ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ইউখঝীহিম ওয়া ইয়াকূলুআইনা শুরকাই ইয়াল্লাযীনা কুনতুম তুশাক্কূনা ফীহিম ক-লাল্লাযীনা ঊতুল ‘ইলমা ইন্নাল খিঝইয়াল ইয়াওমা ওয়াছছূআ ‘আলাল ক-ফিরীন।উচ্চারণ
তারপর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং তাদেরকে বলবেন, “বলো, এখন কোথায় গেলো আমার সেই শরীকরা যাদের জন্য তোমরা (সত্যপন্থীদের সাথে) ঝগড়া করতে?”---যারা ২৩ দুনিয়ায় জ্ঞানের অধিকারী হয়েছিল তারা বলবে, “আজ কাফেরদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা ও দুর্ভাগ্য।” তাফহীমুল কুরআন
তারপর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন, আমার সেই শরীকগণ কোথায়, যাদেরকে নিয়ে তোমরা (মুসলিমদের সাথে) বিতণ্ডা করতে? #%১৭%# যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তারা (সে দিন) বলবে, আজ বড় লাঞ্ছনা ও দুর্দশা চেপেছে সেই কাফেরদের উপরমুফতী তাকী উসমানী
পরে কিয়ামাত দিবসে তিনি তাদের লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেনঃ কোথায় আমার সেই সব শরীক যাদের সম্বন্ধে তোমরা বিতন্ডা করতে? যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছিল তারা বলবেঃ নিশ্চয়ই আজ লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল কাফিরদের জন্য।মুজিবুর রহমান
অতঃপর কেয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেনঃ আমার অংশীদাররা কোথায়, যাদের ব্যাপারে তোমরা খুব হঠকারিতা করতে ? যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়েছিল তারা বলবেঃ নিশ্চয়ই আজকের দিনে লাঞ্ছনা ও দুর্গতি কাফেরদের জন্যে,মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
পরে কিয়ামতের দিন তিনি এদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং তিনি বলবেন, ‘কোথায় আমার সেই সমস্ত শরীক যাদের সম্বন্ধে তোমরা বিতণ্ডা করতে ?’ যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছিল তারা বলবে, ‘আজ লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল কাফিরদের-’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর কিয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন, ‘কোথায় আমার শরীকরা, যাদের ব্যাপারে তোমরা (মুমিনদের) বিরোধীতা করতে’? যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তারা বলবে, ‘নিশ্চয় লাঞ্ছনা ও দুর্গতি আজ কাফিরদের উপর।’আল-বায়ান
অতঃপর ক্বিয়ামাত দিনে তিনি তাদেরকে অপমানিত করবেন আর বলবেন, ‘আমার অংশীদাররা কোথায় যাদের সম্পর্কে তোমরা (ঈমানদারদের সঙ্গে) বাক-বিতন্ডা করতে?’ যাদেরকে (দুনিয়ায়) জ্ঞান দেয়া হয়েছিল তারা বলবে, ‘আজ অপমান আর দুর্ভাগ্য তো কাফিরদের জন্যতাইসিরুল
তারপর কিয়ামতের দিনে তিনি তাদের লাঞ্ছিত করবেন, আর তিনি বলবেন -- "কোথায় রয়েছে আমার অংশীরা যাদের সন্বন্ধে তোমরা বাক্বিতন্ডা করতে?" যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল তারা বলবেন -- "নিঃসন্দেহ আজকের দিনে লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল অবিশ্বাসীদের উপরেই" --মাওলানা জহুরুল হক
২৩
আগের বাক্যটি এবং এ বাক্যটির মাঝখানে একটি সূক্ষ্মতর ফাঁক রয়ে গেছে। শ্রোতা নিজেই সামান্য চিন্তা-ভাবনা করে এ ফাঁকটুকু পূর্ণ করতে পারে। এর বিস্তারিত বিবরণ হচ্ছে, মহান আল্লাহ যখন এ প্রশ্ন করবেন তখন হাশরের ময়দানে চারদিকে গভীর নীরবতা বিরাজ করবে। কাফের ও মুশরিকদের কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে যাবে। তাদের কাছে এ প্রশ্নের কোন জবাব থাকবে না। তাই তারা নির্বাক হয়ে যাবে এবং তত্ব--জ্ঞানীরা পরস্পর এসব কথা বলাবলি করতে থাকবে।
অর্থাৎ তোমাদের বিশ্বাস ছিল তারা তোমাদের পক্ষে সুপারিশ করবে আর এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কও করতে। ঠিক আছে, এখন তাদেরকে ডাক, তারা তোমাদের জন্য সুপারিশ করুক। আল্লাহ তাআলা এ কথা বলবেন, পরিহাস ও তিরস্কারস্বরূপ। -অনুবাদক
২৭. পরে কিয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন(১) এবং তিনি বলবেন, কোথায় আমার সেসব শরীক(২) যাদের সম্বন্ধে তোমরা ঘোর বিতণ্ডা করতে? যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছিল তারা বলবে(৩), আজ লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল কাফিরদের উপর–
(১) তাদের গোপন ষড়যন্ত্রসমূহ ফাঁস করে দিয়ে তাদেরকে লজ্জিত করবেন। অনুরূপ কথা সূরা আত-তারেক এর ৯ নং আয়াতে উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, “যে দিন গোপন তথ্যসমূহ ফাঁস করে দেয়া হবে সেদিন তাদের কোন শক্তি বা সাহায্যকারী থাকবে না”। অথচ তারা দুনিয়াতে এ শক্তি-সামর্থ্য ও সাহায্যকারীর কারণে গর্ব ও অহংকার করে বেড়াত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন প্রত্যেক গাদ্দার তথা বিশ্বাসঘাতকের পিছনের অংশে তার বিশ্বাসঘাতকতার পরিমাণ একটি পতাকা লাগিয়ে দেয়া হবে। তাতে বলা থাকবেঃ এটা অমুকের পুত্র অমুকের গাদ্দারীর প্রমাণপত্ৰ”। (বুখারী: ৩১৮৭; মুসলিম: ১৭৩৬) এভাবে আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক ষড়যন্ত্রকারী, চক্রান্তকারী ও ধোঁকাবাজের যাবতীয় গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়ে তাকে অপমানিত করবেন।
(২) এখানে শরীকদেরকে আল্লাহ তা'আলা তার নিজের দিকে সম্পর্কযুক্ত করার মূল কারণ হচ্ছে ধমকি প্রদান। কারণ, সেদিন আল্লাহ তা'আলার সম্মান, প্রতিপত্তি ও মর্যাদা সবাই সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারবে। আর তখন প্রত্যেকেই বুঝতে পারবে যে, আল্লাহর সাথে যে শরীক নির্ধারণ করেছিলাম তা ছিল বোকামী। (আততাহরীর ওয়াত তানওয়ীর)
(৩) এখানে আল্লাহর দ্বীনের জ্ঞানীদের সম্মানিত করা হয়েছে। যখন কাফেরদের বিরুদ্ধে সমস্ত দলীল-প্রমাণাদি স্থাপন করা শেষ হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর আযাবের বাণী প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে, আর কাফেররা ওজর আপত্তি করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে, তখন জানবে যে, তাদের পালানোর কোন জায়গা নেই। তখন দ্বীনের জ্ঞানীরা এ কথা বলবে। তারা বলবে, আজ লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল কাফিরদের উপর– (ইবন কাসীর) তারা হলো আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানী। যারা দুনিয়াতে হক্ক কথা বলতে কখনো পিছপা হতো না তারা আখেরাতেও হক্ক কথা বলার সুযোগ পাবে। এটা তাদের জন্য বড় সম্মানের বিষয়। (ইবন কাসীর)
(২৭) পরে কিয়ামতের দিনে তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন, ‘কোথায় আমার সে সব অংশী যাদের সম্বন্ধে তোমরা বিতন্ডা করতে?’(1) যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছিল(2) তারা বলবে, ‘নিশ্চয় আজ লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল অবিশ্বাসীদের জন্য।’
(1) এ ছিল পৃথিবীর আযাব। আর কিয়ামতে মহান আল্লাহ এমনভাবে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করবেন যে, তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন, যাদেরকে আমার সাথে শরীক করতে এবং যাদের জন্য তোমরা মু’মিনদের সঙ্গে ঝগড়া করতে, তারা আজ কোথায়?
(2) অর্থাৎ, যাদের দ্বীনী জ্ঞান ছিল, যারা দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, তারা উত্তর দেবে।