قَدۡ مَكَرَ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِمۡ فَأَتَى ٱللَّهُ بُنۡيَٰنَهُم مِّنَ ٱلۡقَوَاعِدِ فَخَرَّ عَلَيۡهِمُ ٱلسَّقۡفُ مِن فَوۡقِهِمۡ وَأَتَىٰهُمُ ٱلۡعَذَابُ مِنۡ حَيۡثُ لَا يَشۡعُرُونَ

কাদ মাকারল্লাযীনা মিন কাবলিহিম ফাআতাল্লা-হুবুনইয়া-নাহুম মিনাল কাওয়া-‘ইদি ফাখারর ‘আলাইহিমুছছাকফুমিন ফাউকিহিম ওয়া আতা-হুমুল ‘আযা-বুমিন হাইছু লাইয়াশ‘উরূন।উচ্চারণ

তাদের আগেও বহু লোক (সত্যকে খাটো করে দেখাবার জন্য) এমনি ধরনের চক্রান্ত করেছিল। তবে দেখে নাও, আল্লাহ তাদের চক্রান্তের ইমারত সমূলে উৎপাটিত করেছেন এবং তার ছাদ ওপর থেকে তাদের মাথার ওপর ধ্বসে পড়ছে এবং এমন দিক থেকে তাদের ওপর আযাব এসেছে যেদিক থেকে তার আসার কোন ধারণাই তাদের ছিল না। তাফহীমুল কুরআন

তাদের পূর্ববর্তী লোকেও চক্রান্ত করেছিল। পরিণামে তারা যে (ষড়যন্ত্রের) ইমারত নির্মাণ করেছিল, আল্লাহ তার ভিত্তিমূল উপড়ে ফেললেন ফলে উপর থেকে ছাদও তাদের উপর ধ্বসে পড়ল। আর এমন স্থান থেকে তাদের উপর আযাব আপতিত হল, যা তারা টের করতেই পারছিল না। #%১৬%#মুফতী তাকী উসমানী

তাদের পূর্ববর্তীরাও চক্রান্ত করেছিল। আল্লাহ তাদের ইমারাতের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছিলেন; ফলে ইমারাতের ছাদ তাদের উপর ধ্বসে পড়ল এবং তাদের প্রতি শাস্তি নেমে এলো এমন দিক হতে যা ছিল তাদের ধারনার বাহির।মুজিবুর রহমান

নিশ্চয় চক্রান্ত করেছে তাদের পূর্ববর্তীরা, অতঃপর আল্লাহ তাদের চক্রান্তের ইমারতের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছিলেন। এরপর উপর থেকে তাদের মাথায় ছাদ ধ্বসে পড়ে গেছে এবং তাদের উপর আযাব এসেছে যেখান থেকে তাদের ধারণা ছিল না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এদের পূর্ববর্তীরাও চক্রান্ত করেছিল; আল্লাহ্ এদের ইমারতের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছিলেন; ফলে ইমারতের ছাদ এদের ওপর ধসে পড়ল এবং এদের প্রতি শাস্তি এলো এমন দিক হতে যা ছিল এদের ধারণার অতীত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাদের পূর্বে যারা ছিল, তারা ষড়যন্ত্র করেছিল, অতঃপর আল্লাহ তাদের দালানের ভীতে আঘাত করেছিলেন, ফলে তাদের উপর থেকে তাদের ছাদ ধ্বসে পড়েছিল। আর তাদের উপর আযাব এসছিল এমনভাবে যে, তারা তা উপলব্ধি করতে পারেনি।আল-বায়ান

তাদের পূর্বে যারা ছিল তারাও চক্রান্ত করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদের ইমারাতকে মূল থেকে উৎপাটিত করেছিলেন আর উপর থেকে ছাদ তাদের উপর ভেঙ্গে পড়ল, আর তাদের প্রতি শাস্তি পতিত হল এমন দিক হতে যা তারা এতটুকু টের পায়নি।তাইসিরুল

তাদের পূর্ববর্তীরাও নিশ্চয়ই চক্রান্ত করেছিল, কিন্তু আল্লাহ্ তাদের ধ্বংস করেছিলেন বুনিয়াদ থেকে, ফলে ছাদ তাদের উপরে ভেঙ্গে পড়েছিল তাদের উপর থেকে, আর তাদের উপরে শাস্তি এসে পড়েছিল এমন দিক থেকে যা তারা জানতে পারে নি।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ মক্কাবাসীদের আগেও বহু জাতি তাদের নবীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল এবং আল্লাহর জ্যোতিকে নিভিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের সাধ্যমত সবকিছুই করেছিল, কিন্তু পরিণামে এমনভাবে তাদের উপর আল্লাহর আযাব এসে পড়েছিল, যা ছিল তাদের ধারণার অতীত। এটাই সর্বকালে আল্লাহ তাআলার নীতি। নবীগণ এবং তাদের যথার্থ অনুসারীগণ যখন দাওয়াতী কার্যক্রমে অবতীর্ণ হন, বাতিল শক্তি তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য আঁটঘাট বেঁধে নেমে পড়ে। তারা থাকে দর্পিত-স্পর্ধিত। নিজেদের শক্তি-সামর্থের উপর অত্যধিক আস্থা থাকার কারণে কোনও রকম বিপর্যয়ের কথা তাদের মনেও আসে না। কিন্তু ওদিকে নিজেদের সক্ষমতার উপর নয়, বরং আল্লাহ তাআলার কুদরতের উপর পূর্ণ আস্থা থাকার কারণে সত্যপন্থীদের পক্ষে আল্লাহ তাআলার সাহায্য থাকে। তাঁর ঘোষণা রয়েছে وَلَيَنْصُرَنَّ اللّٰهُ مَنْ يَّنْصُرُهُ যে আল্লাহর দীনের সাহায্য করে আল্লাহ তাকে অবশ্যই সাহায্য করেন’। (সূরা হজ্জ ২২ : ৪০) সুতরাং একদিকে তিনি তাদেরকে জয়যুক্ত করেন আর অন্যদিকে সত্যের দুশমনদেরকে তাদের কল্পনার বাইরে জেরবার করে দেন। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

২৬. অবশ্যই তাদের পূর্ববর্তীগণ চক্রান্ত করেছিল; অতঃপর আল্লাহ তাদের ইমারতের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছিলেন; ফলে ইমারতের ছাদ তাদের উপর ধ্বসে পড়ল এবং তাদের প্রতি শাস্তি আসল এমনভাবে যে, তারা উপলব্ধি করতে পারেনি।(১)

(১) এ আয়াতে কাদেরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে এ ব্যাপারে আলেমগণ বিভিন্ন মত পোষণ করেছেন। কোন কোন মুফাসসির বলেনঃ এর দ্বারা নমরূদকে বুঝানো হয়েছে। যে নিজেকে ইলাহ বলে দাবী করেছিল এবং আকাশে উঠার জন্য সিড়ি স্থাপন করেছিল। সে সিড়ির মুলোৎপাটিত করা হয়েছিল। তারপর আল্লাহ তাকে সামান্য একটি মশা দিয়ে শাস্তি দিয়েছিলেন। যা তার নাকের ছিদ্র পথে ঢুকে গিয়েছিল। তারপর চারশ’ বছর পর্যন্ত সে এ শাস্তি ভোগ করেছে। তার কাছে ঐ ব্যক্তি বেশী দরদী বলে বিবেচিত হতো যে দুহাতে হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় পেটতো। সে চারশ’ বছর মানুষকে পদানত করে রেখেছিল। তাই আল্লাহ তাকে চারশ’ বছর পর্যন্ত হাতুড়ির পেটা খাইয়েছেন। তারপর আল্লাহ তাকে মৃত্যু দেন। (ইবন কাসীর) কোন কোন মুফাসসির অবশ্য বলেন যে, এ আয়াতের উদ্দেশ্য বুখতনাসর। (ইবন কাসীর) তার সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা ইয়াহুদী ও নাসারাদের গ্রন্থে এসেছে। অবশ্য অধিকাংশ মুফাসসির বলেনঃ এখানে কোন সুনির্দিষ্ট লোক না বুঝিয়ে যারাই আল্লাহর দ্বীন থেকে মানুষকে বিরত রাখার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ও কুটকৌশল অবলম্বন করেছিল তাদের সবার জন্য উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হয়েছে। (ইবন কাসীর) বিভিন্ন সূরায় আল্লাহ তা'আলা এ বিষয়টি বিভিন্ন ভাবে বর্ণনা করেছেন। (দেখুন, সূরা ইবরাহীমঃ ৪৬, সূরা নূহঃ ২২, সূরা সাবাঃ ৩৩)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৬) নিশ্চয় তাদের পূর্ববর্তীগণ চক্রান্ত করেছিল; আল্লাহ তাদের ইমারতের ভিত্তিমূলে আঘাত করলেন; ফলে ইমারতের ছাদ তাদের উপর ধসে পড়ল(1) এবং এমন দিক হতে তাদের উপর শাস্তি এল, যা ছিল তাদের ধারণার বাইরে। (2)

(1) কিছু মুফাসসির ইসরাঈলী বর্ণনার উপর ভিত্তি করে বলেন, এখানে উদ্দেশ্য নমরূদ বা বুখতে নাসর। সে কোনভাবে আকাশে চড়ে আল্লাহর বিরূদ্ধে চক্রান্ত করেছিল। কিন্তু তাতে সে অসফল হয়ে ফিরে আসে। কারো কারো মতে এটি একটি উপমা মাত্র। যার উদ্দেশ্য এ কথা বলা যে, আল্লাহর সাথে কুফরী ও শিরককারীদের আমল ঐভাবেই ধ্বংস হবে, যেভাবে কোন ব্যক্তির ঘরের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়ে এবং ছাদসহ ধসে ভূমিসাৎ হয়ে যায়। কিন্তু সঠিক কথা হল ঐ সকল জাতির পরিণতির দিকে ইঙ্গিত করা, যারা নবীদেরকে মিথ্যার পর মিথ্যা মনে করে। আর শেষ পর্যন্ত আল্লাহর আযাবে তারা তাদের ঘর সহ ধ্বংস হয়ে যায়। যেমন আদ জাতি, লূত-সম্প্রদায় প্রভৃতি।

(2) যেমন অন্যত্র আল্লাহ বলেছেন,{فَأَتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ حَيْثُ لَمْ يَحْتَسِبُوا} "সুতরাং আল্লাহর শাস্তি তাদের উপর এমন এক জায়গা হতে এল, যা ছিল তাদের ধারণার বাইরে।" (সূরা হাশর ২ আয়াত)