ওয়া জাআ আহলূল মাদীনাতি ইয়াছতাবশিরূন।উচ্চারণ
ইত্যবসরে নগরবাসীরা মহা উল্লাসে উচ্ছ্বসিত হয়ে লূতের বাড়ি চড়াও হলো। ৩৯ তাফহীমুল কুরআন
নগরবাসীগণ আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে (লূতের কাছে) চলে আসল। #%২৫%#মুফতী তাকী উসমানী
নগরবাসীরা আনন্দোম্মাদ হয়ে উপস্থিত হল।মুজিবুর রহমান
শহরবাসীরা আনন্দ-উল্লাস করতে করতে পৌছল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
নগরবাসিগণ উল্লসিত হয়ে উপস্থিত হল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর শহরের অধিবাসীরা উৎফুল্ল হয়ে হাযির হল।আল-বায়ান
শহরের লোকেরা আনন্দ সহকারে (লূতের ঘরে) উপস্থিত হল।তাইসিরুল
আর শহরের লোকেরা এল উৎফুল্ল হয়ে।মাওলানা জহুরুল হক
৩৯
এ থেকে এ জাতির ব্যভিচারবৃত্তি কোন্ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল তা অনুমান করা যেতে পারে। জনপদের এক ব্যক্তির বাড়িতে কয়েকজন সুশ্রী অতিথি এসেছেন। ব্যাস, আর যায় কোথায় অমনি তার বাড়িতে বিপুল সংখ্যক দুর্বৃত্ত চড়াও হয় এবং তা অতিথিদের কাছে প্রকাশ্যে দাবী জানাতে থাকে যে, তার অতিথিদেরকে দুর্বৃত্তদের হাতে তুলে দিতে হবে, যাতে তারা তাদের সাথে ব্যভিচার করতে পারে। তাদের সারা জনপদে তাদের এসব কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মত কেউ ছিল না। তাদের জাতির নৈতিক চেতনাও খতম হয়ে গিয়েছিল। ফলে লোকেরা প্রকাশ্যে এ ধরনের বাড়াবাড়ি করতে লজ্জাবোধ করতো না। হযরত লূতের (আ) মত পবিত্রাত্মা ও নৈতিকতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের গৃহে যখন বদমায়েশদের এমন নির্লজ্জ হামলা হতে পারে, তখন এ থেকে আন্দাজ করা যেতে পারে যে, এসব জনবসতিতে সাধারণ মানুষদের সাথে কোন্ ধরনের ব্যবহার করা হতো।
তালমুদে এ জাতির যে অবস্থা লিখিত হয়েছে তার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র এখানে তুলে ধরছি। এ থেকে এ জাতিটি নৈতিক অধঃপতনের কোন্ প্রান্ত সীমায় পৌঁছে গিয়েছিল তার কিছুটা বিস্তারিত সংবাদ জানা যাবে। তালমুদে বলা হয়েছেঃ একবার আইলাম এলাকার একজন মুসাফির এ জাতিটির এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। পথে রাত হয়ে গেল। ফলে তাকে বাধ্য হয়ে তাদের সাদুম নগরীতে অবস্থান করতে হলো। তার সাথে ছিল তার নিজের পাথেয়। কারোর কাছে সে অতিথি হবার আবেদন জানালো না। সে একটি গাছের নীচে বসে পড়লো। কিন্তু একজন সাদুমবাসী পীড়াপীড়ি করে তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেল। রাত্রে তাকে নিজের কাছে রাখলো এবং প্রভাত হবার আগেই তার গাধাটি তার জীন ও বাণিজ্যিক মালপত্রসহ লোপাট করে দিল। বিদেশী লোকটি শোরগোল করলো। কিন্তু কেউ তার ফরিয়াদ শুনলো না। বরং জনবসতির লোকেরা তার অন্যান্য মালপত্রও লুট করে নিয়ে তাকে বাইরে বের করে দিল।
একবার হযরত সারা হযরত লূতের পরিবারের খবরাখবর সংগ্রহের জন্য নিজের গোলাম ইলিয়াযিরকে সাদুমে পাঠালেন। ইলিয়াযির নগরীতে প্রবেশ করে দেখলেন, একজন সাদুমী একজন বিদেশীকে মারছে। ইলিয়াযির সাদুমীকে বললো, তোমার লজ্জা হয় না তুমি একজন অসহায় মুসাফিরের সাথে এ ব্যবহার করছো? কিন্তু জবাবে সর্বসমক্ষে ইলিয়াযিরের মাথা ফাটিয়ে দেয়া হলো।
একবার এক গরীব লোক কোথাও থেকে তাদের শহরে এলো। কেউ তাকে খাবার দাবারের জন্য কিছু দিল না। সে ক্ষুধায় অবসন্ন হয়ে এক জায়গায় মাটিতে পড়েছিল। এ অবস্থায় হযরত লুতের (আ) এর মেয়ে তাকে দেখতে পেলেন। তিনি তার কাছে খাবার পৌঁছে দিলেন। এজন্য হযরত লূত (আ) ও তাঁর মেয়েকে কঠোরভাবে নিন্দা করা হলো এবং তাদেরকে এই বলে হুমকি দেয়া হলো যে, এ ধরনের কাজ করতে থাকলে তোমরা আমাদের জনবসতিতে থাকতে পারবে না।
এ ধরনের অসংখ্য ঘটনা বর্ণনা করার পর তালমূদ রচয়িতা লিখছেন, নিজেদের দৈনন্দিন জীবনে এ লোকেরা ছিল বড়ই জালেম, ধোঁকাবাজ এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে অসৎ। কোন মুসাফির তাদের এলাকা নিরাপদে অতিক্রম করতে পারতো না। তাদের লোকালয় থেকে কোন গরীব ব্যক্তি এক টুকরো রুটি সংগ্রহ করতে পারতো না। বহুবার এমন দেখা গেছে বাইরের কোন লোক তাদের এলাকায় প্রবেশ করে অনাহারে মারা গেছে এবং তারা তার গায়ের পোশাক খুলে নিয়ে গিয়ে তার লাশকে উলঙ্গ অবস্থায় দাফন করে দিয়েছে। বাইরের ব্যবসায়ীরা দুর্ভাগ্যক্রমে সেখানে পৌঁছে গেলে সর্বসমক্ষে তাদের মালামাল লুট করে নেয়া হতো এবং তাদের ফরিয়াদের জবাবে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হতো। নিজেদের উপত্যকাকে তারা একটি উদ্যান বানিয়ে রেখেছিল। মাইলের পর মাইলব্যাপী ছিল এ উদ্যান। একমাত্র লূত আলাইহিস সালাম ছাড়া তাদের এসব কাজের প্রতিবাদ করার কেউ ছিল না। এ সমগ্র কাহিনীকে সংক্ষেপ করে কুরআন মজীদে শুধুমাত্র দু’টি বাক্যে প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছেঃ
وَمِنْ قَبْلُ كَانُوا يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ
“তারা আগে থেকেই অনেক খারাপ কাজ করে আসছিল।” (হূদঃ ৭৮)
أَئِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ وَتَقْطَعُونَ السَّبِيلَ وَتَأْتُونَ فِي نَادِيكُمُ الْمُنْكَرَ
“তোমরা পুরুষদের দ্বারা যৌন কামনা পূর্ণ করো, মুসাফিরদের মালপত্র লুটপাট করো এবং নিজেদের মজলিসমূহে প্রকাশ্যে দুষ্কর্ম করো।” (আনকাবুতঃ ২৯)
ফিরিশতাগণ অত্যন্ত সুদর্শন যুবকের বেশে এসেছিলেন। তা শুনে নগরের লোক নিজেদের কু-বাসনা চরিতার্থ করার লক্ষ্যে সোল্লাসে ছুটে আসল, যেমনটা হযরত লূত আলাইহিস সালামের আশঙ্কা ছিল।
৬৭. আর নগরবাসী উল্লসিত হয়ে উপস্থিত হল।
(৬৭) নগরবাসিগণ উল্লাসিত হয়ে উপস্থিত হল। (1)
(1) এক দিকে লূত (আঃ)-এর বাড়িতে জাতির ধ্বংসের ফায়সালা হচ্ছে, আর অন্য দিকে লূত-সম্প্রদায় জানতে পারে যে, লূতের বাড়িতে কিছু সুদর্শন যুবক অতিথি এসেছে। তারা সমকামিতার অভ্যাস দরুন খুব খুশি হলো এবং খুশি খুশি লূত (আঃ)-এর নিকট এসে দাবি করল যে, ঐসব যুবকদেরকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হোক। যাতে তারা তাদের সাথে কুকর্ম করে নিজেদের যৌনক্ষুধা মিটাতে পারে!