وَلَا تَحۡسَبَنَّ ٱللَّهَ غَٰفِلًا عَمَّا يَعۡمَلُ ٱلظَّـٰلِمُونَۚ إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمۡ لِيَوۡمٖ تَشۡخَصُ فِيهِ ٱلۡأَبۡصَٰرُ

ওয়ালা-তাহছাবান্নাল্লা-হা গা-ফিলান ‘আম্মা-ইয়া‘মালুজ্জা-লিমূনা ইন্নামাইউআখখিরুহুম লিইয়াওমিন তাশখাসুফীহিল আবসা-র ।উচ্চারণ

এখন এ জালেমরা যা কিছু করছে আল্লাহকে তোমরা তা থেকে গাফেল মনে করো না। আল্লাহ‌ তো তাদেরকে সময় দিচ্ছেন সেই দিন পর্যন্ত যখন তাদের চক্ষু বিস্ফোরিত হয়ে যাবে, তাফহীমুল কুরআন

তুমি কিছুতেই মনে করো না জালিমগণ যা-কিছু করছে আল্লাহ সে সম্পর্কে বেখবর। #%৩৩%# তিনি তো তাদেরকে সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দিচ্ছেন, যে দিন চক্ষুসমূহ থাকবে বিস্ফারিত।মুফতী তাকী উসমানী

তুমি কখনও মনে করনা যে, যালিমরা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন। তবে তিনি সেদিন পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দেন যেদিন তাদের চক্ষু হবে স্থির।মুজিবুর রহমান

জালেমরা যা করে, সে সম্পর্কে আল্লাহকে কখনও বেখবর মনে করো না তাদেরকে তো ঐ দিন পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে রেখেছেন, যেদিন চক্ষুসমূহ বিস্ফোরিত হবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তুমি কখনও মনে কর না যে, জালিমরা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ্ গাফিল, তবে তিনি এদেরকে সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দেন যেদিন তাদের চোখ হবে স্থির। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যালিমরা যা করছে, আল্লাহকে তুমি সে বিষয়ে মোটেই গাফেল মনে করো না, আল্লাহ তো তাদের অবকাশ দিচ্ছেন, ঐ দিন পর্যন্ত যে দিন চোখ পলকহীন তাকিয়ে থাকবে।আল-বায়ান

যালিমরা যা করছে সে ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে কক্ষনো উদাসীন মনে কর না। তিনি তাদেরকে সেদিন পর্যন্ত ঢিল দিচ্ছেন যেদিন ভয়ে আতঙ্কে চক্ষু স্থির হয়ে যাবে।তাইসিরুল

আর তোমরা ভেবো না যে অন্যায়কারীরা যা করে আল্লাহ্ সে-সন্বন্ধে বেখেয়াল। তিনি তাদের শুধু অবকাশ দিচ্ছেন সেইদিন পর্যন্ত যেদিন চোখগুলো হবে পলকহীন স্থির --মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

পূর্বে বলা হয়েছিল, জালেমগণ আল্লাহ তাআলার নি‘আমতের অকৃতজ্ঞতা করে নিজ সম্প্রদায়কে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে। কারও মনে খটকা জাগতে পারত, দুনিয়ায় তো তাদেরকে ক্রমশ উন্নতি লাভ করতেই দেখা যাচ্ছে। এ আয়াতসমূহে তার সমাধান দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ঢিল দিয়ে রেখেছেন। পরিশেষে বিভীষিকাময় এক শাস্তিতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে। তখন তাদের ভীতি-বিহ্বলতার যে অবস্থা হবে তা অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভাষায়, সালংকার বাকশৈলীতে ব্যক্ত করা হয়েছে, যার আবেদন তরজমার মাধ্যমে অন্য কোন ভাষায় প্রতিস্থাপন সম্ভব নয়। যদিও এটাকে সরাসরি মক্কার কাফেরদের পরিণাম হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, কিন্তু এর ভাষা যেহেতু সাধারণ, তাই যে-কোনও জালেম সম্প্রদায়ের খুব বাড়-বাড়ন্ত অবস্থা চোখে পড়বে, তাদের সম্পর্কেই এ আয়াত প্রযোজ্য হবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৪২. আর আপনি কখনো মনে করবেন না যে, যালিমরা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ গাফিল(১), তবে তিনি তাদেরকে সেদিন পর্যন্ত অবকাশ দেন যেদিন তাদের চক্ষু হবে স্থির।(২)

(১) অর্থাৎ কোন অবস্থাতেই তোমরা আল্লাহকে গাফেল মনে করো না। এখানে বাহ্যতঃ প্রত্যেক ঐ ব্যক্তিকে সম্বোধন করা হয়েছে, যাকে তার গাফলতি ও শয়তান এ ধোঁকায় ফেলে রেখেছে। (ফাতহুল কাদীর) পক্ষান্তরে যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সম্বোধন করা হয়, তবে এর উদ্দেশ্য উম্মতের গাফেলদেরকে শোনানো এবং হুশিয়ার করা। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পক্ষ থেকে এরূপ সম্ভাবনাই নেই যে, তিনি আল্লাহ তা'আলাকে পরিস্থিতি সম্পর্কে বেখবর অথবা গাফেল মনে করতে পারেন।

(২) অর্থাৎ কিয়ামতের ভয়াবহ দৃশ্য তাদের সামনে হবে। বিস্ফারিত দৃষ্টিতে তারা তা দেখতে থাকবে যেন তাদের চোখের মনি স্থির হয়ে গেছে, পলক পড়ছে না। ঠায় এক দৃষ্টে তাকিয়ে থাকবে। অন্য আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা তা আরো ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, “অমোঘ প্রতিশ্রুত সময় আসন্ন হলে হঠাৎ কাফিরদের চোখ স্থির হয়ে যাবে, তারা বলবে, হায়, দুর্ভোগ আমাদের! আমরা তো ছিলাম এ বিষয়ে উদাসীন; না, আমরা সীমালংঘনকারীই ছিলাম।” (সূরা আল-আম্বিয়াঃ ৯৭)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪২) তুমি কখনো মনে করো না যে, সীমালংঘনকারীরা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন। আসলে তিনি সেদিন পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দেন, যেদিন সকল চক্ষু স্থির হয়ে যাবে। (1)

(1) অর্থাৎ কিয়ামতের ভয়াবহতার কারণে। যদি মহান আল্লাহ পৃথিবীতে কাউকে বেশি অবকাশ দিয়ে আমরণ তাকে পাকড়াও না করেন, তাহলে কিয়ামতের দিন তাঁর পাকড়াও থেকে তো সে বাঁচতে পারবে না, যে দিন কাফেরদের জন্য এত ভয়ঙ্কর হবে যে, তাদের চক্ষু বিস্ফারিত ও স্থির হয়ে যাবে।