وَكَأَيِّن مِّنۡ ءَايَةٖ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ يَمُرُّونَ عَلَيۡهَا وَهُمۡ عَنۡهَا مُعۡرِضُونَ

ওয়া কাআইয়িম মিন আ-য়াতিন ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ইয়ামুররূনা ‘আলাইহাওয়াহুম ‘আনহা-মু‘রিদূ ন।উচ্চারণ

আকাশসমুহে ৭৪ ও পৃথিবীতে কত নিদর্শন রয়েছে, যেগুলো তারা অতিক্রম করে যায় কিন্তু সেদিকে একটুও দৃষ্টিপাত করে না। ৭৫ তাফহীমুল কুরআন

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে কত নিদর্শন রয়েছে, যার উপর দিয়ে তাদের বিচরণ হয়, কিন্তু তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।মুফতী তাকী উসমানী

আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে অনেক নিদর্শন রয়েছে, তারা এ সমস্ত প্রত্যক্ষ করে, কিন্তু তারা এ সবের প্রতি উদাসীন।মুজিবুর রহমান

অনেক নিদর্শন রয়েছে নভোমন্ডলে ও ভু-মন্ডলে যেগুলোর উপর দিয়ে তারা পথ অতিক্রম করে এবং তারা এসবের দিকে মনোনিবেশ করে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে অনেক নিদর্শন রয়েছে; তারা এই সমস্ত প্রত্যক্ষ করে, কিন্তু তারা এই সকলের প্রতি উদাসীন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আসমানসমূহ ও যমীনে কত নিদর্শন রয়েছে, যা তারা অতিক্রম করে চলে যায়, অথচ সেগুলো থেকে তারা বিমুখ।আল-বায়ান

আসমানে আর যমীনে বহু নিদর্শন আছে যেগুলোর উপর দিয়ে তারা (প্রতিনিয়ত) অতিক্রম করে কিন্তু এসব কিছু থেকে তারা অবজ্ঞা করছে।তাইসিরুল

আর মহাকাশমন্ডলে ও পৃথিবীতে কত না নিদর্শন রয়েছে যার পাশ দিয়ে তারা যাতায়ত করে, তথাপি তারা এ-সবের প্রতি উদাসীন!মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৭৪

ওপরের এগারটি রুকূ’তে হযরত ইউসুফের (আ) কাহিনী শেষ হয়েছে। যদি নিছক গল্প বলা আল্লাহর অহীর উদ্দেশ্য হতো তাহলে ভাষণ এখানেই শেষ হয়ে যেতো। কিন্তু এখানে তো কোন উদ্দেশ্য সামনে রেখেই গল্প বলা হয়। এ উদ্দেশ্য প্রচার করার যে কোন সুযোগেরই সদ্ব্যবহার করতে মোটেই ইতস্তত করা হয় না। এখন যেহেতু লোকেরা নিজেরাই নবীকে ডেকে এনেছিল এবং গল্প শোনার জন্য কান খাড়া করেছিল, তাই তাদের ফরমায়েশী কথা শেষ হতেই নিজের উদ্দেশ্যমূলক কয়েকটি বাক্যও বলে দেয়া হলো। অতি সংক্ষেপে এ কয়েকটি বাক্যে উপদেশ ও দাওয়াতের সমস্ত বিষয়বস্তু একত্র করে দেয়া হয়েছে।

৭৫

লোকদেরকে তাদের গাফলতি সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়াই এর উদ্দেশ্য। পৃথিবী ও আকাশের প্রত্যেকটি জিনিস নিছক একটি জিনিসই নয় বরং সত্যের প্রতি ইঙ্গিতকারী একটি নিদর্শনও। যারা এ জিনিসগুলোকে শুধুমাত্র একটি জিনিস হিসেবে দেখে তারা মানুষের মতো নয় বরং পশুর মতো দেখে। পানিকে পানি, গাছকে গাছ এবং পাহাড়কে পাহাড় তো পশুরাও দেখে থাকে এবং নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রত্যেকটি পশু এগুলোর ব্যবহার ক্ষেত্রও জানে। কিন্তু মানুষকে যে উদ্দেশ্যে ইন্দ্রিয়ানুভূতি সহকারে চিন্তা-ভাবনা করার জন্য মস্তিষ্ক দান করা হয়েছে তা শুধু এজন্য নয় যে, মানুষ সেগুলো দেখবে এবং সেগুলোর ব্যবহার ক্ষেত্র জানবে বরং মানুষ সত্য অনুসন্ধান করবে এবং এ নিদর্শনগুলোর সাহায্যে তাকে চিনে নেবে, এটিই হচ্ছে এর মূল উদ্দেশ্য। এ ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ গাফলতির মধ্যে পড়ে আছে। আর এ গাফলতিই তাদেরকে গোমরাহীতে নিক্ষেপ করেছে। যদি মনের দুয়ারে এ তালা না লাগিয়ে নেয়া হতো, তাহলে নবীদের কথা বুঝা এবং তাঁদের নেতৃত্ব থেকে ফায়দা হাসিল করা লোকদের জন্য এত কঠিন হতো না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

১০৫. আর আসমান ও যমীনে অনেক নিদর্শন রয়েছে; তারা এ সবকিছু দেখে, কিন্তু তারা এসবের প্রতি উদাসীন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১০৫) আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে কত নিদর্শন রয়েছে যা তারা প্রত্যক্ষ করে; কিন্তু তারা এই সকলের প্রতি উদাসীন। (1)

(1) নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং উভয়ের মধ্যে অসংখ্য বস্তুর অস্তিত¸ এ কথার প্রমাণ বহন করে যে, একজন সৃষ্টিকর্তা ও স্রষ্টা আছেন, যিনি উক্ত বস্তুসমূহকে অস্তিত¸ দান করেছেন এবং একজন পরিচালক আছেন, যিনি এসব এমনভাবে পরিচালনা করছেন যে, আদিকাল থেকে এই নিয়ম-শৃঙ্খলা সুচারুরূপে চালু আছে; অথচ এদের মধ্যে পারস্পরিক কোন সংঘর্ষ নেই। কিন্তু মানুষ এসব কিছু দেখার পরও এমনিই উপেক্ষা ও অতিক্রম করে চলে যায়, না তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে, আর না এ সবের মাধ্যমে নিজ প্রতিপালককে চেনে।