ওয়ামা তাছআলুহুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন হুওয়া ইল্লা-যিকরুল লিল‘আ-লামীন।উচ্চারণ
অথচ তুমি এ খেদমতের বিনিময়ে তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিকও চাচ্ছো না। এটা তো দুনিয়াবাসীদের জন্য সাধারণভাবে একটি নসীহত ছাড়া আর কিছুই নয়। ৭৩ তাফহীমুল কুরআন
অথচ এর বিনিময়ে (অর্থাৎ প্রচার কার্যের বিনিময়ে) তুমি তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাও না। এটা তো নিখিল বিশ্বের সকলের জন্য এক উপদেশ-বার্তা।মুফতী তাকী উসমানী
আর তুমিতো তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক দাবী করছোনা, এটাতো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ছাড়া কিছু নয়।মুজিবুর রহমান
আপনি এর জন্যে তাদের কাছে কোন বিনিময় চান না। এটা তো সারা বিশ্বের জন্যে উপদেশ বৈ নয়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এবং তুমি তাদের নিকট এটার জন্যে কোন পারিশ্রমিক দাবি করছো না। এটা তো বিশ্বজগতের জন্যে উপদেশ ব্যতীত কিছু নয়।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তুমি এর উপর তাদের কাছে কোন প্রতিদান চাও না, এ তো (কুরআন) সমগ্র সৃষ্টির জন্য উপদেশমাত্র।আল-বায়ান
তুমি তার জন্য তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাচ্ছ না, এটা তো বিশ্বজগতের সকলের জন্য উপদেশ মাত্র।তাইসিরুল
আর তুমি এর জন্য তাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইছ না। এ তো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ব্যতীত নয়।মাওলানা জহুরুল হক
৭৩
ওপরের সতর্কীকরণের পর এটি দ্বিতীয় সতর্কীকরণ। তবে ওর তুলনায় এর মধ্যে তিরস্কারের দিকটি কম এবং উপদেশের অংশ বেশী। এ উক্তিটিও বাহ্যত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করে করা হয়েছে কিন্তু আসলে এখানে কাফেরদের সমাবেশকে সম্বোধন করা হয়েছে এবং তাদেরকে একথা বুঝানোই উদ্দেশ্য যে, আল্লাহর বান্দারা! একটু ভেবে দেখো, তোমাদের এ হঠকারিতার এখানে অবকাশ কোথায়? যদি পয়গম্বর নিজের কোন ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের জন্য দাওয়াত ও প্রচারের এ কাজ চালু করে থাকতেন অথবা নিজের জন্য তিনি কিছু চাইতেন তাহলে অবশ্যি তোমাদের জন্য একথা বলার সুযোগ ছিল যে, আমরা এ ধরনের মতলবী লোকের কথা কেন মানবো? কিন্তু তোমরা দেখছো, এ ব্যক্তি নিস্বার্থ, তোমাদের এবং সারা দুনিয়ার মানুষের ভালোর জন্য নসীহত করে যাচ্ছেন এবং এর মধ্যে তার নিজের কোন স্বার্থ লুকিয়ে নেই। কাজেই এ ধরনের হঠকারিতার সাহায্যে এর মোকাবিলা করার পেছনে কি যুক্তি আছে? যে ব্যক্তি সবার ভালোর জন্য নিস্বার্থভাবে একটি কথা বলে, তার বিরুদ্ধে খামাখা জিদ ধরে বসে থাকা কেন? খোলা মনে তার কথা শোনো। ভালো লাগলে মেনে নাও, ভালো না লাগলে মানবে না।
১০৪. আর আপনি তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক দাবি করছেন না। এ (কুরআন) তো সৃষ্টিকুলের জন্য উপদেশ ছাড়া কিছু নয়।
(১০৪) আর তুমি তো তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক দাবী করছ না,(1) এ (কুরআন) তো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ছাড়া কিছু নয়। (2)
(1) যাতে তাদের সংশয় সৃষ্টি হয় যে, নবুঅতের দাবি তো শুধু ধন সঞ্চয় করার বাহানা।
(2) যেন মানুষ এর দ্বারা হিদায়াত গ্রহণ করে এবং নিজ ইহ-পরকাল সাজিয়ে নেয়। এখন বিশ্ববাসী যদি এ থেকে বিমুখ হয় এবং হিদায়াত গ্রহণ না করে, তাহলে ত্রুটি তাদের এবং সেটা তাদের দুর্ভাগ্য। কুরআন তো বাস্তবে বিশ্ববাসীর জন্য হিদায়াত ও নসীহতই নিয়ে এসেছে। (পারস্য কবি বলেন,) ‘চামচিকা যদি দিনের বেলায় না দেখে, তাহলে সূর্যের দোষ কি?