وَمَآ أَكۡثَرُ ٱلنَّاسِ وَلَوۡ حَرَصۡتَ بِمُؤۡمِنِينَ

ওয়ামা আকছারুন্না-ছি ওয়ালাও হারসতা বিমু’মিনীন।উচ্চারণ

কিন্তু তুমি যতই চাওনা কেন অধিকাংশ লোক তা মানবে না। ৭২ তাফহীমুল কুরআন

এতদসত্ত্বেও অধিকাংশ লোক ঈমান আনার নয়, তাতে তোমার অন্তর যতই কামনা করুক না কেন।মুফতী তাকী উসমানী

তুমি যতই চাও না কেন, অধিকাংশ লোকই ঈমান আনার নয়।মুজিবুর রহমান

আপনি যতই চান, অধিকাংশ লোক বিশ্বাসকারী নয়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তুমি যতই চাও না কেন, অধিকাংশ লোকই বিশ্বাস করার নয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তুমি আকাঙ্খা করলেও অধিকাংশ মানুষ মুমিন হবার নয়।আল-বায়ান

তুমি যত প্রবল আগ্রহ ভরেই চাও না কেন, মানুষদের অধিকাংশই ঈমান আনবে না।তাইসিরুল

আর যদিও তুমি একান্তভাবে চাও তথাপি অধিকাংশ লোকেই বিশ্বাসকারী নয়।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৭২

অর্থাৎ এরা এক অদ্ভূত ধরনের হটকারিতার রোগে ভুগছে। তোমার নবুওয়াতের বিষয়টি পরীক্ষা করার জন্য অনেক চিন্তা-ভাবনা ও পরামর্শ করে তারা যে দাবী করেছিল তুমি সঙ্গে সঙ্গেই সবার সামনে তা পূরণ করে দিয়েছো। এখন হয়তো তুমি আশা করছো, এ কুরআন তুমি নিজে রচনা কর না বরং সত্যিই তোমার প্রতি অহীর মাধ্যমে নাযিল হয়, একথা মেনে নিতে তারা আর ইতস্তত করবে না। কিন্তু নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো, এরা এখনো মানবে না এবং নিজেদের অস্বীকৃতির ওপর অবিচল থাকার জন্য আরেকটি বাহানা খুঁজে বের করবে। কেননা, এদের না মানার আসল কারণ এটা নয় যে, তোমার সত্যতার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হবার জন্য এরা কোন যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ চাচ্ছিল এবং তা এরা এখনো পায়নি। বরং এর কারণ শুধুমাত্র একটিই যে, এরা তোমার কথা মেনে নিতে রাজী নয়। তাই এরা আসলেই মেনে নেবার জন্য কোন প্রমাণ খুঁজে ফিরছে না বরং না মানার জন্য বাহানা খুঁজে বেড়াচ্ছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন ভুল ধারণা দূর করা এ বক্তব্যের উদ্দেশ্য নয়। যদিও বাহ্যত তাঁকেই সম্বোধন করা হয়েছে। কিন্তু এর আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে, যে দলকে সম্বোধন করে তাদের সমাবেশে এ ভাষণ দেয়া হচ্ছিল তাদেরকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও অলংকারপূর্ণ বাগধারার মাধ্যমে এ হটকারিতা সম্পর্কে সতর্ক করা। তারা নিজেদের মাহফিলে তাঁকে ডেকে এনেছিল পরীক্ষা করার জন্য। সেখানে তারা অকস্মাৎ দাবী করেছিল, যদি আপনি নবী হয়ে থাকেন তাহলে বলুন বনী ইসরাঈলের মিসর যাবার ঘটনাটা কি ছিল? এর জবাবে তাদেরকে তখনই এবং সেখানেই এ সংক্ষিপ্ত কাহিনী শুনিয়ে দেয়া হয়। আর সর্বশেষে এ ছোট্ট বাক্যটি বলে তাদের সামনে একটি আয়নাও তুলে ধরা হয়েছে যে ওহে হঠকারীর দল! এ আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখে নাও, তোমরা কোন মুখে পরীক্ষা নিতে বসে গিয়েছিলে? বিবেকবান ব্যক্তি তো সত্য প্রমাণ হয়ে গেলে তা মেনে নেয়, এজন্যই সে পরীক্ষা নিয়ে থাকে। কিন্তু তোমরা নিজেদের মনের মতো প্রমাণ পেয়ে গেলেও তা মেনে নাও না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

১০৩. আর আপনি যতই চান না কেন, বেশীর ভাগ লোকই ঈমান গ্রহণকারী নয়।(১)

(১) অর্থাৎ আপনাকে আল্লাহ্ তা'আলা পূর্ববর্তী এ ঘটনাগুলো এজন্যই জানিয়েছেন যাতে এর দ্বারা মানুষের জন্য শিক্ষণীয় উপকরণ থাকে এবং মানুষের দ্বীন ও দুনিয়ার নাজাতের মাধ্যম হয়। তারপরও অনেক মানুষই ঈমান আনে না। এ জন্যই আল্লাহ বলেন যে, আপনার ঐকান্তিক ইচ্ছা যতই থাকুক না কেন অধিকাংশ মানুষই ঈমান আনবে না। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আর যদি আপনি যমীনের অধিকাংশ লোকের কথামত চলেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে।” (সূরা আল-আনআমঃ ১১৬) (ইবন কাসীর) সুতরাং অধিকাংশ মানুষ ঈমান না আনলে আপনার কিছু করার নেই। আপনি চাইলেই কাউকে হিদায়াত দিতে পারবেন না। (কুরতুবী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১০৩) তুমি যতই আগ্রহী হও না কেন, অধিকাংশ লোকই বিশ্বাস করবার নয়। (1)

(1) অর্থাৎ, মহান আল্লাহ পূর্বের ঘটনাবলী সম্বন্ধে অবহিত করছেন, যেন মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করে এবং আল্লাহর পয়গম্বরদের পথ অনুসরণ করে চিরস্থায়ী মুক্তির অধিকারী হয়ে যায়। কিন্তু এ সত্ত্বেও অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনয়ন করে না। কেননা তারা বিগত সম্প্রদায়ের ঘটনা শোনে বটে; কিন্তু শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য নয়, শুধু মনোরঞ্জন ও আনন্দ উপভোগ করার জন্য। তাই তারা ঈমান থেকে বঞ্চিতই থেকে যায়।