যা-লিকা মিন আমবাইল গাইবি নূহীহি ইলাইকা ওয়ামা-কুনতা লাদাইহিম ইয আজমা‘উআমরহুম ওয়া হুম ইয়ামকুরূন।উচ্চারণ
হে মুহাম্মাদ! এ কাহিনী অদৃশ্যলোকের খবরের অন্তর্ভুক্ত, যা আমি তোমাকে অহীর মাধ্যমে জানাচ্ছি। নয়তো, তুমি তখন উপস্থিত ছিলে না যখন ইউসুফের ভাইয়েরা একজোট হয়ে যড়যন্ত্র করেছিল। তাফহীমুল কুরআন
(হে নবী!) এসব ঘটনা গায়েবের সংবাদরাজির একটা অংশ, যা ওহীর মাধ্যমে আমি তোমাকে জানাচ্ছি। #%৬৭%# তুমি সেই সময় তাদের (অর্থাৎ ইউসুফের ভাইদের) কাছে উপস্থিত ছিলে না, যখন তারা ষড়যন্ত্র করে নিজেদের সিদ্ধান্ত স্থির করে ফেলেছিল (যে, তারা ইউসুফকে কুয়ায় ফেলে দেবে)।মুফতী তাকী উসমানী
এটা অদৃশ্যলোকের সংবাদ যা তোমাকে আমি অহী দ্বারা অবহিত করছি, ষড়যন্ত্রকালে যখন তারা মতৈক্যে পৌঁছেছিল তখন তুমি তাদের সাথে ছিলেনা।মুজিবুর রহমান
এগুলো অদৃশ্যের খবর, আমি আপনার কাছে প্রেরণ করি। আপনি তাদের কাছে ছিলেন না, যখন তারা স্বীয় কাজ সাব্যস্ত করছিল এবং চক্রান্ত করছিল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এটা অদৃশ্যলোকের সংবাদ যা তোমাকে আমি ওহী দিয়ে অবহিত করছি; ষড়যন্ত্রকালে যখন এরা মতৈক্যে পৌঁছিয়াছিল, তখন তুমি এদের সঙ্গে ছিলে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এগুলো গায়েবের সংবাদ, যা আমি তোমার কাছে ওহী করছি। তুমি তো তাদের নিকট ছিলে না যখন তারা তাদের সিদ্ধান্তে একমত হয়েছিল অথচ তারা ষড়যন্ত্র করছিল।আল-বায়ান
অদৃশ্য জগতের খবর থেকে এটা তোমাকে ওয়াহী করে জানালাম। ষড়যন্ত্র করার সময় যখন তারা তাদের কাজে জোটবদ্ধ হয়েছিল তখন তুমি তো তাদের কাছে ছিলে না।তাইসিরুল
এই হচ্ছে অদৃশ্য ব্যাপারের সংবাদ যা আমরা তোমার কাছে প্রত্যাদেশ করছি। আর তুমি তাদের সঙ্গে ছিলে না যখন তারা তাদের ব্যাপার-স্যাপার গুটাচ্ছিল ও তারা ফন্দি আটঁছিল।মাওলানা জহুরুল হক
সূরার শুরুতে বলা হয়েছিল যে, আল্লাহ তাআলা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনা সম্বলিত এ সূরা নাযিল করেছিলেন কাফেরদের একটা প্রশ্নের উত্তরে। তারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করেছিল, বনী ইসরাঈল মিসরে এসে বসবাস করেছিল কী কারণে? তারা নিশ্চিত ছিল, বনী ইসরাঈলের ইতিহাসের এ অধ্যায় সম্পর্কে তাঁর কিছু জানা নেই। এমন কোনও মাধ্যমও নেই, যা দ্বারা এ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব। তাই তাদের ধারণা ছিল, তিনি এ প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়ে যাবেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁকে ব্যর্থ হতে দিলেন না। তিনি সে ঘটনা বর্ণনার জন্য এই পূর্ণ সূরাটিই নাযিল করে দিলেন। সূরার শেষে এখন ফলাফল বের করা হচ্ছে যে, যেহেতু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এ ঘটনা জানার মত কোন মাধ্যম ছিল না, তাই এর দাবী ছিল যারা তাকে এ প্রশ্নটি করেছিল, তারা তাঁর মুখে ঘটনার এরূপ বিশদ বিবরণ শোনার পর তাঁর নবুওয়াত ও রিসালাতের উপর অবশ্যই ঈমান আনবে। কিন্তু সত্য উদ্ভাসিত হওয়ার পর তা গ্রহণ করে নেওয়া যেহেতু তাদের উদ্দেশ্য ছিল না; বরং এসব প্রশ্ন কেবলই হঠকারিতা ও জেদের বশবর্তীতেই তারা করত, তাই সামনের আয়াতসমূহে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এসব সুস্পষ্ট নিদর্শন চোখে দেখা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনবে না।
১০২. এটা গায়েবের সংবাদ যা আপনাকে আমরা ওহী দ্বারা জানাচ্ছি(১) ষড়যন্ত্রকালে যখন তারা মতৈক্যে পৌছেছিল, তখন আপনি তাদের সাথে ছিলেন না।(২)
(১) বলা হয়েছে, এগুলো গায়েবের সংবাদ, যা আমি আপনাকে ওহীর মাধ্যমে বলি। এ বিষয়বস্তুটি প্রায় এমনি ভাষায় সূরা আলে-ইমরানের ৪৩তম আয়াতে ব্যক্ত হয়েছে। সূরা হুদের ৪৯ তম আয়াতে নূহ আলাইহিস সালাম-এর ঘটনা প্রসঙ্গেও তাই বলা হয়েছে। এসব আয়াত থেকে জানা যায় যে, আল্লাহ তা’আলা ওহীর মাধ্যমে নবীগণকে গায়েবের সংবাদ বলে দেন। বিশেষ করে আমাদের শ্রেষ্ঠতম নবী মুহাম্মাদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এসব গায়েবের সংবাদের বিশেষ অংশ দান করা হয়েছে, যার পরিমাণ পূর্ববতী নবীগণের তুলনায় বেশী। এ কারণে তিনি উম্মতকে এমন অনেক ঘটনা বিস্তারিত অথবা সংক্ষেপে বলে দিয়েছেন, যেগুলো কেয়ামত পর্যন্ত সংঘটিত হবে। ‘কিতাবুল-ফিতান’ শিরোনামে ভবিষ্যতে সংঘটিত হবে এমন বর্ণনা সম্বলিত বহুসংখ্যক ভবিষ্যদ্বাণী হাদীসের গ্রন্থসমূহে মওজুদ রয়েছে। এ সমস্ত গায়েবের জ্ঞান আল্লাহ্ তাঁর রাসূলকে দান করেছেন।
(২) ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর কাহিনী পুরোপুরি বর্ণনা করার পর আলোচ্য আয়াতসমূহে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সম্বোধন করে বলা হয়েছে, এই কাহিনী ঐসব গায়েবী সংবাদের অন্যতম, যেগুলো আমি ওহীর মাধ্যমে আপনাকে বলেছি। আপনি ইউসুফ-ভ্রাতাদের কাছে উপস্থিত ছিলেন না, যখন তারা ইউসুফকে কূপে নিক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং এজন্য কলা-কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছিল। এ বর্ণনার উদ্দেশ্য এই যে, ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর কাহিনীটি পূর্ণ বিবরণসহ ঠিক ঠিক বলে দেয়া আপনার নবুওয়াত, রিসালাত ও ওহীর সুস্পষ্ট প্রমাণ। (ইবন কাসীর) কেননা, কাহিনীটি হাজারো বছর পূর্বেকার। আপনি সেখানে বিদ্যমান ছিলেন না যে, স্বচক্ষে দেখে বিবৃত করবেন এবং আপনি কারো কাছে শিক্ষাও গ্রহণ করেননি যে, ইতিহাস গ্রন্থ পাঠ করে অথবা কারো কাছে শুনে বর্ণনা করবেন। অতএব, আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী ব্যতীত এ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করার দ্বিতীয় কোন পথ নেই।
(১০২) এটা অদৃশ্য লোকের সংবাদ যা তোমাকে আমি অহী দ্বারা অবহিত করছি; ষড়যন্ত্রকালে যখন তারা মতৈক্যে পৌঁছেছিল, তখন তুমি তাদের নিকট ছিলে না। (1)
(1) অর্থাৎ ইউসুফ (আঃ)-এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকালে, যখন তারা তাকে কূপে নিক্ষেপ করে এসেছিল। অথবা উদ্দেশ্য ইয়াকূব (আঃ)-এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকালে, যাতে তারা তাকে এই বলেছিল যে, ইউসুফ (আঃ)-কে নেকড়ে বাঘে খেয়ে নিয়েছে এবং এই হল রক্তরঞ্জিত তার জামা। এই বলে তার সাথে ছলনা করা হয়েছিল। মহান আল্লাহ এ স্থানেও এ বিষয়ের খন্ডন করেছেন যে, নবী কারীম (সাঃ) গায়বের এলেম (অদৃশ্যের জ্ঞান) রাখতেন। তবে এখানে খন্ডন সাধারণ জ্ঞানের নয়, কেননা মহান আল্লাহ তাঁকে অহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন। এ খন্ডন প্রত্যক্ষ দর্শনের, যেহেতু সেই সময়ে তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। অনুরূপ এমন লোকদের সাথেও তাঁর সম্পর্ক ছিল না, যাদের কাছ থেকে তিনি তা শুনতে পারেন। এ তো শুধু আল্লাহই, যিনি তাঁকে এই অদৃশ্য ঘটনার সংবাদ দিয়েছেন, যা এ কথার প্রমাণ বহন করে যে, তিনি আল্লাহর সত্য নবী এবং তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর উপর অহী অবতীর্ণ হয়। মহান আল্লাহ আরো কয়েক স্থানে অনুরূপ অদৃশ্যের জ্ঞানের এবং প্রত্যক্ষ দর্শনের কথা খন্ডন করেছেন। (উদাহরণ স্বরূপ দেখুনঃ সূরা আলে ইমরান ৭ ও ৪৪নং আয়াত, সূরা ক্বস্বাস্ব ৪৫-৪৬নং আয়াত এবং সূরা স্বা-দ ৬৯-৭০নং আয়াত)