وَمَا يُؤۡمِنُ أَكۡثَرُهُم بِٱللَّهِ إِلَّا وَهُم مُّشۡرِكُونَ

ওয়ামা-ইউ’মিনুআকছারুহুম বিল্লা-হি ইল্লা-ওয়াহুম মুশরিকূন।উচ্চারণ

তাদের বেশীর ভাগ আল্লাহকে মানে কিন্তু তাঁর সাথে অন্যকে শরীক করে। ৭৬ তাফহীমুল কুরআন

তাদের মধ্যে অধিকাংশ লোকই এমন যে, তারা আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখলেও তা এভাবে যে, তাঁর সঙ্গে শরীক করে। #%৬৮%#মুফতী তাকী উসমানী

তাদের অধিকাংশ আল্লাহকে বিশ্বাস করে, কিন্তু তাঁর সাথে শরীক করে।মুজিবুর রহমান

অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তাদের অধিকাংশ আল্লাহে বিশ্বাস করে, কিন্তু তাঁর শরীক করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করে, তবে (ইবাদাতে) শিরক করা অবস্থায়।আল-বায়ান

অধিকাংশ মানুষ আল্লাহতে বিশ্বাস করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে।তাইসিরুল

আর তাদের অধিকাংশই আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস করে না তারা বহুখোদাবাদী না হওয়া পর্যন্ত।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৭৬

ওপরে যে গাফলতির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে এটা আসলে তার স্বাভাবিক ফল। লোকেরা যখন পথের চিহ্ন থেকে চোখ বন্ধ করে নিয়েছে তখনই তারা সোজা পথ থেকে সরে গেছে এবং চারপাশের ঝোপঝাড়ের মধ্যে আটকা পড়ে গেছে। এরপরও খুব কম লোকই এমন রয়েছে, যারা গন্তব্য সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে ফেলেছে এবং আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা ও রিযিকদাতা হিসেবে চূড়ান্তভাবে মেনে নিতে অস্বীকার করেছে। অধিকাংশ লোক যে গোমরাহীতে লিপ্ত রয়েছে তা আল্লাহকে অস্বীকার করার গোমরাহী নয় বরং শিরকের গোমরাহী। অর্থাৎ তারা আল্লাহ‌ নেই একথা বলে না বরং তারা আল্লাহর সত্তা, গুণাবলী, ক্ষমতা, ইখতিয়ার ও অধিকারে অন্যদেরকে কোন না কোনভাবে অংশীদার করার বিভ্রান্তিতে লিপ্ত। পৃথিবী ও আকাশের বিভিন্ন নিদর্শন, যেগুলো সর্বত্র সর্বক্ষণ আল্লাহর একক সার্বভৌম কর্তৃত্বের ঘোষণা দিচ্ছে, সেগুলোতে যদি শিক্ষণীয় দৃষ্টিতে দেখা হতো তাহলে কোনদিন এ বিভ্রান্তির জন্ম হতো না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ মুখে তো সকলেই বলে আল্লাহ তাআলাই সৃষ্টিকর্তা ও সকলের মালিক, তা সত্ত্বেও কেউ প্রতিমা পূজা করে, কেউ বলে তাঁর পুত্র বা কন্যা আছে, কেউ তাকে আত্মা ও দেহধারী সত্তা বলে, কেউ সাধু-যাজকদেরকে ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী মনে করে, তাজিয়া, কবর ইত্যাদির পূজা করে এমন লোকও কম নয়, আরও আছে পীর পূজা ও বুদ্ধির পূজা। এভাবে বিচিত্র সব দেবতা ও তার পূজা-অর্চনা দ্বারা মানুষ খালেস তাওহীদি আকীদাকে কলঙ্কিত করছে। এমন লোক কমই পাওয়া যায়, যারা বিশ্বাস বা কর্মগত এবং স্থূল বা সূক্ষ্ম শিরকে লিপ্ত হয়ে নিজ তাওহীদী বিশ্বাসকে দূষিত করছে না। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সব রকম শিরক থেকে হেফাজত করুন। -অনুবাদক (তাফসীরে উছমানী থেকে)

তাফসীরে জাকারিয়া

১০৬. তাদের বেশীর ভাগই আল্লাহর উপর ঈমান রাখে, তবে তার সাথে (ইবাদতে) শির্ক করা অবস্থায়।(১)

(১) এখানে এমন লোকদের সম্পর্কে বলা হচ্ছে, যারা আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাসী, কিন্তু তার সাথে অন্য বস্তুকে অংশীদার সাব্যস্ত করে। বলা হয়েছেঃ (وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ) অর্থাৎ তাদের মধ্যে যারা আল্লাহর উপর বিশ্বাস করে, তারাও শির্কের সাথে করে। তারা আল্লাহ্ তা'আলাকে রব, জীবনদাতা, মৃত্যুদাতা স্বীকার করে, কিন্তু তা সত্বেও তারা ইবাদাত করার সময় আল্লাহর সাথে অন্যান্যদেরও ইবাদাত করে। (তাবারী; কুরতুবী; বাগভী; ইবন কাসীর; সাদী) তাদের ঈমান হল আল্লাহর প্রভূত্বের উপর, আর তাদের শির্ক হল আল্লাহর ইবাদাতে। এ আয়াতের মধ্যে ঐ সমস্ত নামধারী মুসলিমও অন্তর্ভুক্ত, যারা আল্লাহ্‌র ইবাদতের পাশাপাশি পীর, কবর ইত্যাদির ইবাদাতও করে থাকে।

ইবনে কাসীর বলেনঃ যেসব মুসলিম ঈমান সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রকার শির্কে লিপ্ত রয়েছে, তারাও এ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত। এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আমি তোমাদের জন্য যেসব বিষয়ের আশঙ্কা করি, তন্মধ্যে সবচাইতে বিপজ্জনক হচ্ছে ছোট শির্ক। সাহাবায়ে কেরামের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেনঃ রিয়া (লোক দেখানো ইবাদাত) হচ্ছে ছোট শির্ক। (মুসনাদে আহমাদ ৫/৪২৯) এমনিভাবে অন্য এক হাদীসে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের কসম করাকেও শির্ক বলা হয়েছে। (সহীহ ইবনে হিব্বানঃ ১০/১৯৯, হাদীস নং ৪৩৫৮)

আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে মান্নত করা এবং যবেহ্ করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত। হাদীসে আরও এসেছে, মুশরিকরা তাদের হজের তালবিয়া পাঠের সময় বলত: ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারীকা লাকা, ইল্লা শারীকান হুয়া লাকা তামলিকুহু ওমা মালাক। (অর্থাৎ আমি হাযির আল্লাহ আমি হাযির, আমি হাযির, আপনার কোন শরীক নেই, তবে এমন এক শরীক আছে যার আপনি মালিক, সে আপনার মালিক নয়) এটা বলত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের এ শির্কী তালবিয়া পড়ার সময় যখন তারা (লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারীকা লাকা) পর্যন্ত বলত, তখন তিনি বলতেন যথেষ্ট এতটুকুই বল। (মুসলিম: ১১৮৫) কারণ এর পরের অংশটুকু শির্ক। তারা ঈমানের সাথে শির্ক মিশ্রিত করে ফেলেছে। (ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১০৬) তাদের অধিকাংশই আল্লাহকে বিশ্বাস করে; কিন্তু তাঁর অংশী স্থাপন করে। (1)

(1) এটা সেই বাস্তবতা যার বর্ণনা কুরআন সুস্পষ্টাকারে বিভিন্ন স্থানে করেছে। আর তা এই যে, মুশরিকরা তো স্বীকার করত, আকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা, সবকিছুর মালিক, রুযীদাতা এবং পরিচালক শুধু মহান আল্লাহই। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইবাদতে আল্লাহর সাথে অন্যকেও শরীক করত। আর এইভাবেই অধিকাংশ মানুষই মুশরিক। অর্থাৎ প্রত্যেক যুগে লোকেরা তাওহীদে রবূবিয়্যাত (প্রতিপালকত্বের তাওহীদ)-কে তো মেনে নেয়; কিন্তু তাওহীদে উলূহিয়্যাত (উপাসত্বের তাওহীদ)-কে মানতে প্রস্তুত হয় না। বর্তমান যুগের কবর পূজারীদের শিরকও ঠিক এই ধরণের যে, তারা কবরস্থ ব্যক্তিদেরকে উলূহিয়্যাতের গুণাবলীর অধিকারী মনে করে তাদেরকে সাহায্যের জন্য আহবানও করে এবং ইবাদতের বেশ কিছু অনুষ্ঠানও তাদের উদ্দেশ্যে পালন করে। আল্লাহ আমাদেরকে এত্থেকে বাঁচান। আমীন।