ফালাম্মা- জাহহাঝাহুম বিজাহা-ঝিহিম জা‘আলাছছিক-য়াতা ফী রহলি আখীহি ছু ম্মা আযযানা মুআযযিনুন আইয়াতুহাল ‘ঈরু ইন্নাকুম লাছা-রিকূ ন।উচ্চারণ
যখন ইউসুফ তাদের মালপত্র বোঝাই করাতে লাগলো তখন নিজের ভাইয়ের মালপত্রের মধ্যে নিজের পেয়ালা রেখে দিল। ৫৬ তারপর একজন নকীব চীৎকার করে বললো, “হে যাত্রীদল! তোমরা চোর।” ৫৭ তাফহীমুল কুরআন
অতঃপর ইউসুফ যখন তাদের রসদের ব্যবস্থা করে দিল, তখন পানি পান করার পেয়ালা নিজ (সহোদর) ভাইয়ের মালপত্রের মধ্যে রেখে দিল। তারপর এক ঘোষক চীৎকার করে বলল, ওহে যাত্রীদল! তোমরা নিশ্চয়ই চোর। #%৪৮%#মুফতী তাকী উসমানী
অতঃপর সে যখন তাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিল তখন সে তার (সহোদর) ভাইয়ের মালপত্রের মধ্যে পানপাত্র রেখে দিল, অতঃপর এক ঘোষক উচ্চৈঃস্বরে বললঃ হে যাত্রীদল! তোমরা নিশ্চয়ই চোর।মুজিবুর রহমান
অতঃপর যখন ইউসুফ তাদের রসদপত্র প্রস্তুত করে দিল, তখন পানপাত্র আপন ভাইয়ের রসদের মধ্যে রেখে দিল। অতঃপর একজন ঘোষক ডেকে বললঃ হে কাফেলার লোকজন, তোমরা অবশ্যই চোর।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরপর সে যখন এদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিল, তখন সে তার সহোদরের মালপত্রের মধ্যে পানপাত্র রেখে দিল। এরপর এক আহŸায়ক চিৎকার করে বলল, ‘হে যাত্রীদল! তোমরা নিশ্চয়ই চোর।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর সে যখন তাদেরকে তাদের রসদপত্র প্রস্তুত করে দিল, তখন তার ভাইয়ের মালপত্রে পানপাত্রটি রেখে দিল। তারপর একজন ঘোষক ঘোষণা করল, ‘ওহে কাফেলার লোকজন, নিশ্চয় তোমরা চোর’।আল-বায়ান
অতঃপর ইউসুফ যখন তাদের রসদপত্র প্রস্তুত করে দিল, তখন সে তার সহোদর ভাইয়ের রসদপত্রের ভিতর পান পাত্রটি রেখে দিল। তখন এক ঘোষক ঘোষণা দিল, ‘হে কাফেলার লোক! তোমরা নিশ্চয়ই চোর।’তাইসিরুল
তারপর তিনি যখন তাদের পরিবেশন করলেন তাদের রসদের দ্বারা, তখন তাঁর ভাইয়ের মালপত্রের ভিতরে একটি পানপাত্র কেউ রেখে দিল। তারপর একজন আহবায়ক চিৎকার ক’রে বলল -- "ওহে উট-চালকের দল! তোমরা নিশ্চয়ই চোর।"মাওলানা জহুরুল হক
৫৬
সম্ভবত পেয়ালা রেখে দেবার কাজটা হযরত ইউসুফ (আ) নিজের ভাইয়ের সম্মতি নিয়ে তার জ্ঞাতসারেই করেছিলেন। আগের আয়াতে এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। হযরত ইউসুফ (আ) দীর্ঘকালীন বিচ্ছেদের পর জালেম বৈমাত্রেয় ভাইয়ের হাত থেকে নিজের সহোদর ভাইকে রক্ষা করতে চাচ্ছিলেন। ভাই নিজেও এ জালেমদের সাথে ফিরে না যেতে চেয়ে থাকবেন। কিন্তু হযরত ইউসুফের নিজের পরিচয় প্রকাশ না করে তাকে প্রকাশ্যে আটকে রাখা এবং তার মিসরে থেকে যাওয়া সম্ভব ছিল না। আর এ অবস্থায় এ পরিচয় প্রকাশ করাটা কল্যাণকর ছিল না। তাই বিন ইয়ামীনকে আটকে রাখার জন্য দু’ভাইয়ের মধ্যে এ পরামর্শ হয়ে থাকবে। যদিও এর মধ্যে কিছুক্ষণের জন্য ভাইয়ের অপমান অনিবার্য ছিল, কারণ তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ আনা হচ্ছিল, কিন্তু পরে উভয় ভাই মিলে আসল ব্যাপারটি জনসমক্ষে প্রকাশ করে দিলেই এ কলঙ্কের দাগ অতি সহজেই মুছে ফেলা যেতে পারবে।
৫৭
এ আয়াতে এবং পরবর্তী আয়াতগুলোতে কোথাও এ ধরনের কোন ইশারা পাওয়া যায় না, যা থেকে ধারণা করা যেতে পারে যে, হযরত ইউসুফ (আ) নিজের কর্মচারীদেরকে এ গোপন ব্যাপারটি পূর্বাহ্ণে অবহিত করেছিলেন এবং তাদেরকে যাত্রীদলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনার ব্যাপারটি শিখিয়ে দিয়েছিলেন। ঘটনার যে সরল আকৃতিটি সহজেই চোখে ধরা পড়ে তা হচ্ছে এই যে, পেয়ালাটি হয়তো নীরবে রেখে দেয়া হয়েছিল, পরে সরকারী কর্মচারীরা সেটি খুঁজে না পেলে অনুমান করা হয়েছিল, এটা নিশ্চয় সেই কাফেলার অন্তর্ভুক্ত কোন লোকের কাজ যারা এখানে অবস্থান করেছিল।
এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, তাদের মালপত্রের ভেতর নিজের পক্ষ থেকেই পেয়ালা রেখে দেওয়ার পর এতটা নিশ্চয়তার সাথে তাদেরকে চোর সাব্যস্ত করাটা কিভাবে জায়েয হতে পারে? এ প্রশ্নের বিভিন্ন উত্তর দেওয়া হয়েছে। যেমন কেউ কেউ বলেন, হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম পেয়ালা রেখেছিলেন অতি গোপনে। তারপর কর্মচারীরা যখন সেটি খুঁজে পেল না, তখন তারা নিজেদের তরফ থেকেই তাদেরকে চোর সাব্যস্ত করল। তারা এটা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের হুকুমে করেনি। কিন্তু কুরআন মাজীদ ঘটনাটি এখানে যেভাবে বর্ণনা করেছে, তার পূর্বাপর অবস্থা দৃষ্টে এ সম্ভাবনাটি অত্যন্ত দূরের মনে হয়। কতিপয় মুফাসসিরের অভিমত হল, তাদেরকে চোর সাব্যস্ত করা হয়েছিল অপর একটি ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে। তারা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামকে তাঁর শৈশবে পিতার নিকট থেকে চুরি করেছিল। সে হিসেবেই তাদেরকে চোর বলা হয়েছে। আবার অপর একদল মুফাসসিরের মতে যেহেতু স্বয়ং আল্লাহ তাআলাই ইউসুফ আলাইহিস সালামকে এ কৌশল শিক্ষা দিয়েছিলেন, যেমন সামনে ৭৬ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা নিজেই বলেছেন, ‘এভাবে আমি ইউসুফের জন্য এ কৌশলটি করেছিলাম; তাই যা-কিছু হয়েছিল তা আল্লাহ তাআলার হুকুমেই হয়েছিল। সুতরাং এ নিয়ে প্রশ্নের সুযোগ নেই। এটা সূরা কাহাফে বর্ণিত হযরত খাযির আলাইহিস সালামের ঘটনার মত। তাতে তিনি কয়েকটি কাজ এমন করেছিলেন, যা বাহ্যত শরীয়ত বিরোধী ছিল, কিন্তু তা যেহেতু আল্লাহ তাআলার তাকবীনী (অদৃশ্য রহস্য-জগতীয়) হুকুমে হয়েছিল, তাই জায়েয ছিল। এস্থলেও হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের কাজটিও সে রকমেরই।
৭০. অতঃপর তিনি যখন তাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিল, তখন তিনি তার সহোদরের মালপত্রের মধ্যে পানপাত্র(১) রেখে দিলেন।(২) তারপর এক আহবায়ক চিৎকার করে বলল, হে যাত্রীদল! তোমরা নিশ্চয় চোর।(৩)
(১) কুরআনুল কারীম এ পাত্রটিকে এক জায়গায় السِّقَايَةَ শব্দের দ্বারা এবং অন্যত্র (صُوَاعَ الْمَلِكِ) (সূরা ইউসুফঃ ৭০ ও ৭২) শব্দের দ্বারা ব্যক্ত করেছে। السِّقَايَةَ শব্দের অর্থ পানি পান করার পাত্র এবং صُوَاعَ শব্দটিও এমনি ধরনের পাত্রের অর্থে ব্যবহৃত হয়। (ইবন কাসীর) একে مَلِكٌ তথা বাদশাহর দিকে নির্দেশিত করার ফলে আরো জানা গেল যে, এ পাত্রটি বিশেষ মূল্যবান ও মর্যাদাবান ছিল। এ পাত্রটি যথেষ্ট মূল্যবান ও মর্যাদাবান হওয়া ছাড়াও বাদশাহর সাথে এর বিশেষ সম্পর্কও ছিল। বাদশাহ নিজে তা দ্বারা পান করতেন। (বাগভী)
(২) আলোচ্য আয়াতসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, সহোদর ভাই বিনইয়ামীনকে রেখে দেয়ার জন্য ইউসুফ আলাইহিস সালাম একটি কৌশল ও তদবীর অবলম্বন করলেন। যখন সব ভাইকে নিয়ম মাফিক খাদ্যশস্য দেয়া হল, তখন প্রত্যেক ভাইয়ের খাদ্যশস্য পৃথক পৃথক উটের পিঠে পৃথক পৃথক নামে চাপানো হল। বিনইয়ামীনের খাদ্যশস্য যে উটের পিঠে চাপানো হল, তাতে একটি পাত্র গোপনে রেখে দেয়া হল।
কোন কোন মুফাসসির মনে করেন, সম্ভবত পেয়ালা রেখে দেবার কাজটা ইউসুফ আলাইহিস সালাম নিজের ভাইয়ের সম্মতি নিয়ে তার জ্ঞাতসারেই করেছিলেন। (বাগভী) আগের আয়াতে এদিকে প্রচ্ছন্ন ইংগিত রয়েছে। ইউসুফ আলাইহিস সালাম ভাইকে রক্ষা করতে চাচ্ছিলেন। ভাই নিজেও এ যালেমদের সাথে ফিরে না যেতে চেয়ে থাকবেন। কিন্তু ইউসুফের নিজের পরিচয় প্রকাশ না করে তাকে আটকে রাখা এবং তার মিসরে থেকে যাওয়া সম্ভব ছিল না। আর এ অবস্থায় এ পরিচয় প্রকাশ করাটা কল্যাণকর ছিল না। তাই বিনইয়ামীনকে আটকে রাখার জন্য দু’ভাইয়ের মধ্যে এ পরামর্শ হয়ে থাকবে। যদিও এর মধ্যে কিছুক্ষণের জন্য ভাইয়ের অপমান অনিবার্য ছিল, কারণ তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ আনা হচ্ছিল, কিন্তু পরে উভয় ভাই মিলে আসল ব্যাপারটি জনসমক্ষে প্রকাশ করে দিলেই এ কলংকের দাগ অতি সহজেই মুছে ফেলা যেতে পারবে। (দেখুন, বাগভী)
(৩) অর্থাৎ কিছুক্ষণ পর জনৈক ঘোষক ডেকে বললঃ হে কাফেলার লোকজন তোমরা চোর। এখানে ثم দ্বারা জানা যায় যে, এ ঘোষণা তৎক্ষণাৎ করা হয়নি; বরং কাফেলা রওয়ানা হয়ে যাওয়ার পর করা হয়েছে- যাতে কেউ জালিয়াতির সন্দেহ না করতে পারে। (বাগভী) মোটকথা, ঘোষক ইউসুফ-ভ্রাতাদের কাফেলাকে চোর আখ্যা দিল। তাদের এ ঘোষণার যৌক্তিক কারণ ছিল। কেননা, ঘটনার যে সরল আকৃতিটি সহজেই চোখে ধরা পড়ে তা হচ্ছে এই যে, পেয়ালাটি হয়তো নীরবে রেখে দেয়া হয়েছিল, পরে সরকারী কর্মচারীরা সেটি খুঁজে না পেলে অনুমান করা হয়েছিল, এটা নিশ্চয়ই সেই কাফেলার অন্তর্ভুক্ত কোন লোকের কাজ যারা এখানে অবস্থান করেছিল। সুতরাং কৰ্মচারীরা সেটা না জেনেই তাদেরকে চোর বলেছিল। (ফাতহুল কাদীর)
(৭০) অতঃপর সে (ইউসুফ) যখন তাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিল, তখন সে তার (সহোদর) ভাই-এর মালপত্রের মধ্যে পানপাত্র (সা’) রেখে দিল।(1) অতঃপর এক আহবায়ক চীৎকার করে বলল, ‘হে যাত্রীদল(2) তোমরা নিশ্চয়ই চোর।’ (3)
(1) মুফাসসিরগণ বলেছেন যে, এই سِقَايَة (পানপাত্র)টি স্বর্ণ অথবা রৌপ্যনির্মিত ছিল। পানি পান করা ছাড়া শস্য মাপার কাজও তার দ্বারা নেওয়া হতো। ওটা চুপিসারে বিনয়্যামীনের মালপত্রে রেখে দেওয়া হয়েছিল।
(2) الْعِيْرُ বাস্তবে সেই উট, গাধা অথবা খচ্চরদলকে বলা হয় যাদের উপর শস্য চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, এখানে এর অর্থ হচ্ছে أصْحَابُ الْعِيْرِ অর্থাৎ যাত্রীদল।
(3) চুরির এই দোষারোপ স্বস্থানে বাস্তবিক ছিল। কেননা আহবায়ক সেবক ইউসুফ (আঃ)-এর পরিকল্পিত কৌশল সম্পর্কে অবগত ছিল না। অথবা এর অর্থ এই যে, তোমাদের অবস্থা তো চোরদের মত, যেহেতু রাজার অনুমতি ছাড়াই তাঁর পানপাত্র তোমাদের মালপত্রের ভিতরে রয়েছে।