ওয়া লাম্মা-দাখালূ‘আলা-ইঊছুফা আ-ওয়াইলাইহি আখা-হূক-লা ইন্নীআনা আখূকা ফালা-তাবতাইছ বিমা-ক-নূইয়া‘মালূন।উচ্চারণ
তারা ইউসুফের কাছে পৌঁছলে সে তাঁর সহোদর ভাইকে নিজের কাছে আলাদা করে ডেকে নিল এবং তাকে বললো, “আমি তোমার সেই (হারানো) ভাই, এখন আর সেসব আচরণের জন্য দুঃখ করো না যা এরা করে এসেছে।” ৫৫ তাফহীমুল কুরআন
যখন তারা ইউসুফের নিকট উপস্থিত হল, তখন সে তার (সহোদর) ভাই (বিনইয়ামীন)কে নিজের কাছে বিশেষ স্থান দিল। #%৪৭%# (এবং তাকে) বলল, আমি তোমার ভাই। অতএব তারা (অন্য ভাইয়েরা) যা করত তার জন্য দুঃখ করো না।মুফতী তাকী উসমানী
তারা যখন ইউসুফের সামনে হাযির হল তখন ইউসুফ তার (সহোদর) ভাইকে নিজের কাছে রাখল এবং বললঃ আমিই তোমার (সহোদর) ভাই। সুতরাং তারা যা করত সেজন্য দুঃখ করনা।মুজিবুর রহমান
যখন তারা ইউসুফের কাছে উপস্থিত হল, তখন সে আপন ভ্রাতাকে নিজের কাছে রাখল। বললঃ নিশ্চই আমি তোমার সহোদর। অতএব তাদের কৃতকর্মের জন্যে দুঃখ করো না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরা যখন ইউসুফের সামনে উপস্থিত হল, তখন ইউসুফ তার সহোদরকে নিজের কাছে রাখলো এবং বলল, ‘নিশ্চয়ই আমিই তোমার সহোদর, সুতরাং এরা যা করত তার জন্যে দুঃখ কর না।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যখন তারা ইউসুফের নিকট প্রবেশ করল, তখন সে তার ভাইকে নিজের কাছে স্থান দিল এবং বলল, ‘আমি তোমার ভাই, কাজেই ইতঃপূর্বে তারা যা করত, তাতে তুমি দুঃখ পেয়ো না’।আল-বায়ান
যখন তারা ইউসুফের কাছে হাজির হল, তখন সে তার সহোদর ভাইকে নিজের কাছে রাখল। আর বলল, ‘আমিই তোমার ভাই, কাজেই ওরা যা করত তার জন্য দুঃখ করো না।’তাইসিরুল
আর তারা যখন ইউসুফের দরবারে প্রবেশ করল তাঁর ভাইকে তিনি নিজের সঙ্গে রাখলেন, তিনি বললেন -- "আমিই তোমার ভাই, সুতরাং তারা যা করে তাতে দুঃখ করো না।"মাওলানা জহুরুল হক
৫৫
একুশ বাইশ বছরের ব্যবধানে দু’ভাইয়ের পুনর্মিলনের পর যে অবস্থার সৃষ্টি হয়ে থাকবে এ বাক্যে তার সম্পূর্ণ চেহারাটাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। হযরত ইউসূফ (আ) নিজের অবস্থা বর্ণনা করে কোন্ কোন্ অবস্থার মধ্য দিয়ে তিনি আজকের এ মর্যাদায় পৌঁছেছেন তা বলে থাকবেন। বিন ইয়ামীন বর্ণনা করে থাকবেন তাঁর অন্তর্ধানের পর বৈমাত্রেয় ভাইয়েরা তার সাথে কেমনতর দুর্ব্যবহার করেছে। হযরত ইউসুফ (আ) ভাইকে এই বলে সান্ত্বনা দিয়ে থাকবেন, এখন থেকে তুমি আমার কাছেই থাকবে, এ জালেমদের খপ্পরে তোমাকে আর দ্বিতীয়বার পড়তে দেবো না। সম্ভবত এ সময়ই বিন ইয়ামীনকে মিসরে আটকে রাখার জন্য কি ব্যবস্থা অবলম্বন করা হবে এবং প্রয়োজনের খাতিরে এখন তা গোপন রাখতে হবে এ ব্যাপারে আলোচনার পর দু’ভাই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছে যান।
বিভিন্ন রিওয়ায়াতে আছে, হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম একেকটি কক্ষে দু’-দু’জন ভাইকে থাকতে দিয়েছিলেন। এভাবে দশ ভাই পাঁচটি কক্ষে অবস্থান গ্রহণ করল। বাকি থেকে গেল বিনইয়ামীন। হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম বললেন, এই একজন আমার সঙ্গে থাকবে। এভাবে সহোদর ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর একান্তে মিলিত হওয়ার সুযোগ মিলে গেল। তখন তিনি তাকে জানিয়ে দিলেন যে, আমি তোমার আপন ভাই। বিনইয়ামীন বলল, তাহলে আমি আর তাদের সাথে ফিরে যাব না। তার এ অভিপ্রায় পূরণের জন্য হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম যে কৌশল অবলম্বন করেছিলেন, তার বিবরণ সামনে আসছে।
৬৯. আর তারা যখন ইউসুফের নিকট প্রবেশ করল, তখন ইউসুফ তার সহোদরকে নিজের কাছে রাখলেন এবং বললেন, নিশ্চয় আমি তোমার সহোদর, কাজেই তারা যা করত তার জন্য দুঃখ করো না।(১)
(১) অর্থাৎ মিসরে পৌছার পর যখন সব ভাই ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর দরবারে উপস্থিত হল এবং তিনি দেখলেন যে, ওয়াদা অনুযায়ী তারা তার সহোদর ছোট ভাইকেও নিয়ে এসেছে, তখন ইউসুফ আলাইহিস সালাম ছোট ভাই বিনইয়ামীনকে বিশেষভাবে নিজের সাথে রাখলেন। যখন উভয়েই একান্তে গেলেন, তখন ইউসুফ আলাইহিস সালাম সহোদর ভাইয়ের কাছে নিজের পরিচয় প্রকাশ করে বললেনঃ আমিই তোমার সহোদর ভাই ইউসুফ। এখন তোমার কোন চিন্তা নেই। অন্য ভাইগণ এযাবত আমার সাথে যেসব দুর্ব্যবহার করেছে, তজ্জন্যে মনোকষ্টে পতিত হওয়ারও প্রয়োজন নেই। (ইবন কাসীর)
(৬৯) তারা যখন ইউসুফের সামনে হাজির হল, তখন সে তার (সহোদর) ভাইকে নিজের কাছে রাখল এবং বলল, ‘আমিই তোমার (সহোদর) ভাই, সুতরাং তারা যা করত, তার জন্য তুমি দুঃখ করো না।’(1)
(1) কতিপয় মুফাসসিরীন বলেন যে, এক একটি রুমে দু’জন করে ভাইকে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল, এমনিভাবে বিনয়্যামীন যখন একাই অবশিষ্ট রয়ে গেলেন, তখন ইউসুফ (আঃ) তাঁকে একটি পৃথক রুমে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। অতঃপর নির্জনে তাঁর সাথে আলাপ-আলোচনা করলেন এবং পূর্বের ঘটনা উল্লেখ করে বললেন যে, এই ভায়েরা আমার সাথে যে আচরণ করেছে তার জন্য দুঃখ করো না। আর কতিপয় মুফাসসিরীন বলেন যে, বিনয়্যামীনকে আটকানোর জন্য যে ফন্দি বা বাহানা করার ছিল, সে সম্পর্কেও তাঁকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, যাতে তিনি পেরেশান না হন। (ইবনে কাসীর)