মুছাওওয়ামাতান ‘ইনদা রব্বিকা ওয়ামা-হিয়া মিনাজ্জা-লিমীনা ব্বিা‘ঈদ।উচ্চারণ
যার মধ্য থেকে প্রত্যেকটি পাথর তোমার রবের কাছে চিহ্নিত ছিল। ৯২ আর জালেমদের থেকে এ শাস্তি মোটেই দূরে নয়। ৯৩ তাফহীমুল কুরআন
যা তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে চিহ্নিত ছিল। সে জনপদ (মক্কার এই) জালেমদের থেকে দূরে নয়। #%৫৬%#মুফতী তাকী উসমানী
যা বিশেষ চিহ্নিত করা ছিল তোমার রবের নিকট; আর ঐ জনপদগুলি এই যালিমদের হতে বেশি দূরে নয়।মুজিবুর রহমান
যার প্রতিটি তোমার পালনকর্তার নিকট চিহ্নিত ছিল। আর সেই পাপিষ্ঠদের থেকে খুব দূরেও নয়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যা তোমার প্রতিপালকের নিকট চিহ্নিত ছিল। এটা জালিমদের হতে দূরে নয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যা চিহ্নত ছিল তোমার রবের কাছে। আর তা যালিমদের থেকে দূরে নয়।আল-বায়ান
যে প্রস্তর খন্ডের প্রতিটিই তোমার প্রতিপালকের নিকট চিহ্নিত ছিল। যালিমদের জন্য এ শাস্তি বেশী দূরের ব্যাপার নয়।তাইসিরুল
যা তোমার প্রভুর কাছে চিহ্নিত ছিল। আর তা অন্যায়কারীদের থেকে দূরে নয়।মাওলানা জহুরুল হক
৯২
অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রত্যেকটি পাথরকে কি ধ্বংসাত্মক কাজ করতে হবে এবং কোন্ পাথরটি কোন্ অপরাধীর ওপর পড়বে তা পূর্ব থেকেই নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছিল।
৯৩
অর্থাৎ আজ যারা জুলুমের পথে চলছে তারাও যেন এ আযাবকে নিজেদের থেকে দূরে না মনে করে। লূতের সম্প্রদায়ের ওপর যদি আযাব আসতে পেরে থাকে তাহলে তাদের ওপরও আসতে পারে। লূতের সম্প্রদায় আল্লাহর আযাব ঠেকাতে পারেনি, এরাও পারবে না।
হযরত লূত আলাইহিস সালামের ঘটনা বর্ণনার শেষে এবার আলোচনা-ধারা মক্কা মুকাররমার কাফেরদের দিকে বাঁক নিয়েছে। তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হচ্ছে যে, হযরত লূত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায় যে অঞ্চলে বসবাস করত, তা তোমাদের থেকে বেশি দূরে নয়। বাণিজ্য-ব্যাপদেশে তোমরা যখন শামে সফর কর, সে এলাকা তোমাদের পথেই পড়ে। তোমাদের মধ্যে বুদ্ধির লেশমাত্রও যদি থাকে, তবে তোমাদের উচিত এর থেকে শিক্ষা নেওয়া।
৮৩. যা আপনার রবের কাছে চিহ্নিত ছিল।(১)। আর এটা যালিমদের থেকে দূরে নয়।(২)
(১) উক্ত আযাবের ধরন সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- যখন আযাবের হুকুম কর্যকরী করার সময় হল, তখন আমি তাদের বসতির উপরিভাগকে নীচে করে দিলাম এবং তাদের উপর অবিশ্রান্তভাবে এমন পাথর বর্ষণ করালাম, যার প্রত্যেকটি পাথর চিহ্নিত ছিল। অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রত্যেকটি পাথরকে কি ধ্বংসাত্মক কাজ করতে হবে এবং কোন পাথরটি কোন অপরাধীর উপর পড়বে তা পূর্ব থেকেই নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছিল। (তাবারী; বাগভী; কুরতুবী; ইবন কাসীর)
(২) অর্থাৎ লুত আলাইহিস সালাম এর নাফরমান জাতির পরিণতি বর্ণনা করার পর দুনিয়ার অপরাপর জাতিকে সতর্ক করার জন্য ইরশাদ হয়েছে, পাথর বর্ষণের আযাব বর্তমান কালের যালেমদের থেকেও দূরে নয়। বরং কুরাইশ কাফেরদের জন্য ঘটনাস্থল ও ঘটনাকাল খুবই কাছে এবং অন্যান্য পাপিষ্ঠরাও যেন নিজেদেরকে এহেন আযাব হতে দূরে মনে না করে। আজ যারা যুলুমের পথে চলছে তারাও যেন এ আযাবকে নিজেদের থেকে দূরে না মনে করে। (ইবন কাসীর) লুতের সম্প্রদায়ের উপর যদি আযাব আসতে পেরে থাকে তাহলে তাদের উপরও আসতে পারে। লুতের সম্প্রদায় আল্লাহর আযাব ঠেকাতে পারেনি, এরাও পারবে না। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসে এসেছে, তোমাদের মধ্যে যাদেরকে তোমরা লুতের সম্প্রদায়ের মত কাজ করতে পাবে, তাদের মধ্যে যারা তা করবে এবং যাদের সাথে তা করা হবে তাদের উভয়কে হত্য করবে। (আবু দাউদ: ৪৪৬২)
(৮৩) যা বিশেষরূপে চিহ্নিত করা ছিল তোমার প্রতিপালকের নিকট; আর ঐ (জনপদ)গুলি এই যালেমদের নিকট হতে বেশী দূরে নয়। (1)
(1) এই আয়াতে هي (ঐ) এর লক্ষ্যবস্তু কোন কোন মুফাসসির সেই চিহ্নিত ঝামা পাথর বলেছেন যা তাদের উপর বর্ষণ করা হয়েছিল। পক্ষান্তরে অনেকের নিকট তার লক্ষ্যবস্তু হল, সেই সমস্ত জনপদ যা ধ্বংস করা হয়েছিল; যা শাম ও মদীনার মাঝে অবস্থিত ছিল। আর ‘যালেম’ দ্বারা মক্কার মুশরিক ও অন্যান্য মিথ্যাজ্ঞানকারীদেরকে বুঝানো হয়েছে। উদ্দেশ্য হল, তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা যে, তোমাদের উপরেও সেরূপ আযাব আসতে পারে।