ফালাম্মা যাহাবা ‘আন ইবর-হীমার রও‘উ ওয়া জাআতহুল বুশর- ইউজা-দিলুনা-ফী কাওমি লূত।উচ্চারণ
তারপর যখন ইবরাহীমের আশঙ্কা দূর হলো এবং (সন্তানের সুসংবাদে) তাঁর মন খুশীতে ভরে গেলো তখন সে লূতের সম্প্রদায়ের ব্যাপারে আমার সাথে বাদানুবাদ শুরু করলো। ৮৩ তাফহীমুল কুরআন
অতঃপর যখন ইবরাহীমের ভীতি দূর হল এবং সে সুসংবাদ লাভ করল, তখন সে লূতের সম্প্রদায় সম্পর্কে আমার সঙ্গে (আবদারের ভঙ্গিতে) ঝগড়া শুরু করে দিল। #%৫০%#মুফতী তাকী উসমানী
অতঃপর যখন ইবরাহীমের সেই ভয় দূর হয়ে গেল এবং সে সুসংবাদ প্রাপ্ত হল তখন আমার প্রেরিত মালাইকার সাথে লূতের কাওম সম্বন্ধে তর্ক-বিতর্ক (জোর সুপারিশ) করতে শুরু করল।মুজিবুর রহমান
অতঃপর যখন ইব্রাহীম (আঃ) এর আতঙ্ক দূর হল এবং তিনি সুসংবাদ প্রাপ্ত হলেন, তখন তিনি আমার সাথে তর্ক শুরু করলেন কওমে লূত সম্পর্কে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরপর যখন ইব্রাহীমের ভীতি দূরীভূত হল এবং তার নিকট সুসংবাদ এলো তখন সে লূতের সম্প্রদায়ের সম্বন্ধে আমার সঙ্গে বাদানুবাদ করতে লাগল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর যখন ইবরাহীম থেকে ভয় দূর হল এবং তার কাছে সুসংবাদ এল, তখন সে লূতের কওম সম্পর্কে আমার সাথে বাদানুবাদ করতে লাগল।আল-বায়ান
পরে যখন ইবরাহীমের আতঙ্ক দূর হল, আর তার কাছে সুসংবাদ আসল, তখন সে লূত জাতির ব্যাপারে আমার সাথে ঝগড়া করল।তাইসিরুল
তারপর যখন ইব্রাহীমের থেকে ভয় চলে গেল এবং তাঁর কাছে সুসংবাদ এল তখন তিনি আমাদের কাছে কাকুতি-মিনতি শুরু করলেন লূতের লোকদের সম্পর্কে।মাওলানা জহুরুল হক
৮৩
এহেন পরিস্থিতিতে “বাদানুবাদ” শব্দটি আল্লাহর সাথে হযরত ইবরাহীমের গভীর ভালোবাসা ও মান-অভিমানের সম্পর্কের কথা প্রকাশ করে। এ শব্দটি বান্দা ও আল্লাহর মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বিতর্ক জারি থাকার একটি দৃশ্যপট অংকন করে। লূতের সম্প্রদায়ের ওপর থেকে কোন প্রকারে আযাব সরিয়ে দেবার জন্য বান্দা বারবার জোর দিচ্ছে। আর জবাবে আল্লাহ বলছেন, এ সস্প্রদায়টির মধ্যে এখন ন্যায়, কল্যাণ ও সততার কোন অংশই নেই। এর অপরাধসমূহ এমনভাবে সীমা অতিক্রম করেছে যে, একে আর কোন প্রকার সুযোগ দেয়া যেতে পারে না। বান্দা তবুও আবার বলে যাচ্ছেঃ “হে পরওয়ারদিগার! যদি সামান্যতম সদগুণও এর মধ্যে থেকে থাকে, তাহলে একে আরো একটু অবকাশ দিন, হয়তো এ সদগুণ কোন সুফল বয়ে আনবে।” বাইবেলে এ বাদানুবাদের কিছু বিস্তারিত বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে। কিন্তু কুরআনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তার তুলনায় আরো বেশী অর্থবহ ব্যাপকতার অধিকারী। তুলনামূলক অধ্যয়নের জন্য বাইবেল আদি পুস্তকের ১৮ অধ্যায়ের ২৩-৩২ বাক্য দেখুন)
সূরা আরাফ (৭ : ৮০)-এর টীকায় বলা হয়েছে, হযরত লূত আলাইহিস সালাম ছিলেন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের ভাতিজা। ইরাকে থাকতেই তিনি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের প্রতি ঈমান এনেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গেই দেশ থেকে হিজরত করেছিলেন। পরবর্তীকালে আল্লাহ তাআলা তাঁকেও নবুওয়াত দান করেন ও সাদূমবাসীর হিদায়াতের জন্য প্রেরণ করেন। সাদূমবাসী ছিল পৌত্তলিক। তাছাড়া তারা সমকামের মত এক কদর্য কাজেও লিপ্ত ছিল। লূত আলাইহিস সালাম নানাভাবে তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন, কিন্তু তাঁর কোনও কথায় তারা কর্ণপাত করল না। পরিশেষে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে শাস্তিদানের জন্য ফিরিশতা পাঠালেন। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের আশা ছিল তারা হয়ত এক সময় শুধরে যাবে। তাই তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে মিনতি করতে থাকেন যে, এখনই যেন তাদেরকে শাস্তি দেওয়া না হয়। তিনি যেহেতু আল্লাহ তাআলার অতি প্রিয় নবী ছিলেন, তাই তিনি আযাব পিছিয়ে দেওয়ার জন্য যেভাবে আবদারের ভঙ্গিতে বারবার উপরোধ করছিলেন, সেটাকেই এ আয়াতে প্রীতিসম্ভাষণের ধারায় ‘ঝগড়া’ শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে।
৭৪. অতঃপর যখন ইবরাহীমের ভীতি দূরীভূত হল এবং তার কাছে সুসংবাদ আসল তখন তিনি লুতের সম্প্রদায় সম্বন্ধে আমাদের সাথে বাদানুবাদ করতে লাগলেন।(১)
(১) ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ফেরেশতাদের সাথে কি নিয়ে ঝগড়া করলেন তা অবশ্য আয়াতে উল্লেখ করা হয়নি। তবে সূরা আল-আনকাবৃতের ৩১–৩২ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “যখন আমার প্রেরিত ফিরিশতাগণ সুসংবাদসহ ইবরাহীমের কাছে আসল, তারা বলেছিল, আমরা এ জনপদবাসীকে ধ্বংস করব, এর অধিবাসীরা তো যালিম।” ইবরাহীম বললেন, এ জনপদে তো লুত রয়েছে। তারা বলল, সেখানে কারা আছে, তা আমরা ভাল জানি, আমরা তো লূতকে ও তাঁর পরিজনবর্গকে রক্ষা করবই, তাঁর স্ত্রীকে ছাড়া; সে তো পিছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত। এর দ্বারা বুঝা গেল যে, ইবরাহীম আলাইহিস সালামের ঝগড়ার বিষয় ছিল যে, যদি কাওমে লুতকে ধ্বংস করা হয় তবে লুতের কি অবস্থা হবে? সে তো মুমিন, তাকে কিভাবে বাঁচানো যায়? তখন ফেরেশতাগণ ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে আশ্বস্ত করলেন যে, আপনার ঘাবড়াবার কারণ নেই। আমরা তাকে ও ঈমানদারদের রক্ষা করবই।
(৭৪) অতঃপর যখন ইব্রাহীমের সেই ভয় দূর হয়ে গেল এবং সে সুসংবাদ প্রাপ্ত হল, তখন আমার (প্রেরিত ফিরিশতাদের) সাথে লূত-সম্প্রদায় সম্বন্ধে তর্ক-বিতর্ক করতে শুরু করে দিল। (1)
(1) এই তর্ক-বিতর্কের অর্থ হল, ইবরাহীম (আঃ) ফিরিশতাগণকে বললেন যে, আপনারা যে গ্রামকে ধ্বংস করতে যাচ্ছেন, সেখানে লূত বর্তমানে উপস্থিত আছে। এর উত্তরে ফিরিশতাগণ বললেন ‘‘আমরা জানি যে, সেখানে লূত বসবাস করেন। কিন্তু আমরা তাঁর স্ত্রী ছাড়া তাঁকে ও তাঁর বাড়ির লোকদেরকে বাঁচিয়ে নেব।’’ (আনকাবূত ৩২)