তিলকা মিন আমবাইল গাইবি নূহীহাইলাইকা মা-কুনতা তা‘লামুহা-আনতা ওয়ালাকাওমুকা মিন কাবলি হা-যা- ফাসবির ইন্নাল ‘আ-কিবাতা লিলমুত্তাকীন।উচ্চারণ
হে মুহাম্মাদ! এসব গায়েবের খবর, যা আমি তোমাকে অহীর মাধ্যমে জানাচ্ছি। এর আগে তুমি এসব জানতে না এবং তোমার কওমও জানতো না। কাজেই সবর করো। মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে শুভ পরিণাম। ৫৩ তাফহীমুল কুরআন
(হে নবী!) এগুলো গায়েবের কিছু বৃত্তান্ত, যা আমি ওহীর মাধ্যমে তোমাকে জানাচ্ছি। এসব বৃত্তান্ত তুমিও ইতঃপূর্বে জানতে না এবং তোমার সম্প্রদায়ও না। সুতরাং ধৈর্য ধারণ কর। শেষ পরিণাম মুত্তাকীদেরই অনুকূলে থাকবে। #%৩৩%#মুফতী তাকী উসমানী
এটা হচ্ছে গাইবি সংবাদসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা আমি তোমার কাছে অহী মারফত পৌঁছে দিচ্ছি। ইতোপূর্বে এটা না তুমি জানতে, আর না তোমার কাওম। অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর; নিশ্চয়ই শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্যই।মুজিবুর রহমান
এটি গায়বের খবর, আমি আপনার প্রতি ওহী প্রেরন করছি। ইতিপূর্বে এটা আপনার এবং আপনার জাতির জানা ছিল না। আপনি ধৈর্য্যধারণ করুন। যারা ভয় করে চলে, তাদের পরিণাম ভাল, সন্দেহ নেই।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘এই সমস্ত অদৃশ্যলোকের সংবাদ আমি তোমাকে ওহী দিয়ে অবহিত করছি, যা এটার পূর্বে তুমি জানতে না এবং তোমার সম্প্রদায়ও জানত না। সুতরাং ধৈর্য ধারণ কর, শুভ পরিণাম মুত্তাকীদেরই জন্যে।’ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এগুলো গায়েবের সংবাদ, আমি তোমাকে ওহীর মাধ্যমে তা জানাচ্ছি। ইতঃপূর্বে তা না তুমি জানতে এবং না তোমার কওম। সুতরাং তুমি সবর কর। নিশ্চয় শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকীদের জন্য।আল-বায়ান
এ সব হল অদৃশ্যের খবর যা তোমাকে ওয়াহী দ্বারা জানিয়ে দিচ্ছি, যা এর পূর্বে না তুমি জানতে, না তোমার জাতির লোকেরা জানত। কাজেই ধৈর্য ধর, শুভ পরিণতি মুত্তাকীদের জন্যই নির্দিষ্ট।তাইসিরুল
এসব হচ্ছে অদৃশ্য সন্বন্ধে সংবাদ যা আমরা তোমার কাছে প্রত্যাদেশ করছি। তুমি এর আগে এ-সব জানতে না -- তুমিও না, তোমার সম্প্রদায়ও না। অতএব অধ্যবসায় অবলন্বন কর। নিঃসন্দেহ শুভপরিণাম ধর্মভীরুদেরই জন্যে।মাওলানা জহুরুল হক
৫৩
অর্থাৎ যেভাবে শেষ পর্যন্ত নূহ ও তাঁর সঙ্গী সাথীরা সাফল্য লাভ করেছিলেন এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছিল ঠিক তেমনি তুমি ও তোমার সাথীরাও সাফল্য লাভ করবে এবং তোমাদেরও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। এটিই আল্লাহর চিরাচরিত রীতি, শুরুতে সত্যের দুশমনরা যতই সফলতার অধিকারী হোক না কেন সবশেষে একমাত্র তারাই সফলকাম হয় যারা আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে চিন্তা ও কর্মের ভুল পথ পরিহার করে হকের উদ্দেশ্যে কাজ করে থাকে। কাজেই এখন যেসব বিপদ-আপদ ও দুঃখ-কষ্টের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যেসব সমস্যা-সংকটের সম্মুখীন তোমাদের হতে হচ্ছে এবং তোমাদের দাওয়াতকে দাবিয়ে দেবার জন্য তোমাদের বিরোধীদের আপাতদৃষ্টে যে সাফল্য দেখা যাচ্ছে, তাতে তোমাদের মন খারাপ করার প্রয়োজন নেই। বরং তোমরা সবর ও হিম্মত সহকারে কাজ করে যাও।
হযরত নূহ আলাইহিস সালামের ঘটনা বর্ণনা করার পর এ আয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে দু’টি সত্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। (এক) এ ঘটনা কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই নয়; বরং কুরাইশ এবং অকিতাবীদের মধ্যে কেউ এর আগে জানত না। আর কিতাবীদের থেকে তাঁর এসব শেখারও কোনও সুযোগ ছিল না। সুতরাং এটা পরিষ্কার যে, কেবল ওহীর মাধ্যমেই তিনি এটা জানতে পেরেছেন। এর দ্বারা তাঁর নবুওয়াত ও রিসালাত সপ্রমাণ হয়। (দুই) নিজ সম্প্রদায়ের পক্ষ হতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে অবিশ্বাস ও উৎপীড়নের সম্মুখীন হতে হয়েছিল, সে ব্যাপারে এ ঘটনার মাধ্যমে তাকে প্রথমত সবরের উপদেশ দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় সান্তনা দেওয়া হয়েছে যে, শুরুর দিকে হযরত নূহ আলাইহিস সালামকে কঠিন-কঠিন পরিস্থিতির মুকাবিলা করতে হলেও শেষ পরিণাম যেমন তাঁরই অনুকূলে থেকেছে, তেমনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরই বিজয় অর্জিত হবে।
৪৯. এসব গায়েবের সংবাদ আমরা আপনাকে ওহী দ্বারা অবহিত করছি, যা এর আগে আপনি জানতেন না এবং আপনার সম্প্রদায়ও জানত না। কাজেই আপনি ধৈর্য ধারণ করুন। নিশ্চয় শুভ পরিণাম মুত্তাকীদেরই জন্য।(১)
(১) অর্থাৎ সমস্ত বিষয়ের কল্যাণকর পরিণাম তো যারা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে, তার ফরযকৃত বিষয়সমূহ আদায় করে, অবাধ্যতা পরিত্যাগ করে তাদেরই জন্য। তারাই আখেরাতে যাবতীয় নে'আমত পেয়ে সফল হবে। দুনিয়াতেও তারা তাদের চাওয়া বিষয়াদি প্রাপ্ত হবে। যেভাবে শেষ পর্যন্ত নূহ ও তাঁর সঙ্গী সাথীরা আল্লাহর নির্দেশ মানার মাধ্যমে ধৈর্য ধারণ করে দুনিয়াতে সফলতা লাভ করেছিলেন এবং ধ্বংস থেকে নাজাত পেয়েছিলেন। আখেরাতে তাদেরকে আল্লাহ যা দিবার দিলেন এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছিলেন। আর যারা মিথ্যারোপ করেছিল তাদেরকে ডুবিয়েছিলেন এবং তাদের সবাইকে ধ্বংস করেছিলেন (তাবারী) ঠিক তেমনি আপনি ও আপনার সাথীরাও সাফল্য লাভ করবেন এবং আপনাদেরও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
(৪৯) এটা হচ্ছে অদৃশ্য সংবাদসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা আমি তোমার কাছে অহী (প্রত্যাদেশ) মারফত পৌঁছিয়ে দিচ্ছি, ইতিপূর্বে এটা না তুমি জানতে, আর না তোমার সম্প্রদায় জানত।(1) সুতরাং তুমি ধৈর্য ধারণ কর। নিশ্চয় শুভ পরিণাম সংযমশীলদের জন্যই। (2)
(1) এ কথা নবী (সাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে এবং তিনি যে ইল্মে গায়ব জানতেন না, তা স্পষ্ট করা হচ্ছে এই বলে যে, এ সব গায়বের খবর, যা আমি তোমাকে অবগত করিয়ে দিচ্ছি। তাছাড়া তুমি ও তোমার সম্প্রদায় এ থেকে বেখবর ছিলে।
(2) অর্থাৎ, তোমার সম্প্রদায় তোমাকে যে মিথ্যাজ্ঞান করছে এবং তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে, তাতে ধৈর্য্য ধারণ কর। কারণ আমি তোমার সাহায্যকারী এবং কল্যাণকর পরিণাম তোমার ও তোমার অনুগামীদের জন্যই রয়েছে; যারা তাকওয়ার মত গুণে গুণান্বিত। عاقبة ইহলৌকিক ও পারলৌকিক শুভ পরিণামকে বলা হয়। এখানে মুত্তাকী, পরহেযগার তথা সংযমশীলদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে। তাদেরকে শুরুতে যতই কষ্ট ভোগ করতে হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত আল্লাহর সাহায্য ও শুভ পরিণামের অধিকারী তারাই হবে। যেমন অন্য স্থানে বলেছেন, (إِنَّا لَنَنْصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُومُ الْأَشْهَادُ) অর্থাৎ, নিশ্চয় আমি আমার রসূলদেরকে ও মু’মিনদেরকে সাহায্য করব পার্থিব জীবনে এবং যেদিন সাক্ষীগণ দন্ডায়মান হবে। (সূরা মু’মিন ৫১) (وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ * إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنْصُورُونَ * وَإِنَّ جُنْدَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ) অর্থাৎ, আমার প্রেরিত বান্দাদের সম্পর্কে আমার এই বাক্য পূর্বেই স্থির হয়েছে যে, অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে এবং আমার বাহিনীই হবে বিজয়ী।’’ (সূরা স্বা-ফফাত ১৭১-১৭৩)