قِيلَ يَٰنُوحُ ٱهۡبِطۡ بِسَلَٰمٖ مِّنَّا وَبَرَكَٰتٍ عَلَيۡكَ وَعَلَىٰٓ أُمَمٖ مِّمَّن مَّعَكَۚ وَأُمَمٞ سَنُمَتِّعُهُمۡ ثُمَّ يَمَسُّهُم مِّنَّا عَذَابٌ أَلِيمٞ

কীলা ইয়া-নূহুহবিতবিছালা-মিম মিন্না-ওয়া বারক-তিন ‘আলাইকা ওয়া ‘আলাউমামিম মিম্মাম মা‘আকা ওয়া উমামুন ছানুমাত্তি‘উহুম ছু ম্মা ইয়ামাছছুহুম মিন্না‘আযা-বুন আলীম।উচ্চারণ

হুকুম হলো, “হে নূহ! নেমে যাও, ৫২ আমার পক্ষ থেকে শান্তি ও বরকত তোমার ওপর এবং তোমার সাথে যেসব সম্প্রদায় আছে তাদের ওপর। আবার কিছু সম্প্রদায় এমনও আছে যাদেরকে আমি কিছুকাল জীবন উপকরণ দান করবো তারপর আমার পক্ষ থেকে তাদেরকে স্পর্শ করবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” তাফহীমুল কুরআন

বলা হল, হে নূহ! এবার (নৌকা থেকে) নেমে যাও আমার পক্ষ হতে সেই শান্তি ও বরকতসহ, যা তোমার জন্যও এবং তোমার সঙ্গে যে ‘সম্প্রদায়সমূহ’ আছে তাদের জন্যও। আর কিছু সম্প্রদায় এমন রয়েছে, যাদেরকে আমি (দুনিয়ায়) জীবন উপভোগ করতে দেব, তারপর আমার পক্ষ হতে তাদেরকে এক যন্ত্রণাময় শাস্তি স্পর্শ করবে। #%৩২%#মুফতী তাকী উসমানী

বলা হলঃ হে নূহ! অবতরণ কর, আমার পক্ষ হতে সালাম ও বারাকাতসমূহ নিয়ে, যা তোমার উপর নাযিল করা হবে এবং সেই দলসমূহের উপর যারা তোমার সাথে রয়েছে; আর অনেক দল এরূপও হবে যাদেরকে আমি কিছুকাল (দুনিয়ার) সুখ স্বাচ্ছন্দ্য দান করব, অতঃপর তাদের উপর পতিত হবে আমার পক্ষ হতে কঠিন শাস্তি।মুজিবুর রহমান

হুকুম হল-হে নূহ (আঃ)! আমার পক্ষ হতে নিরাপত্তা এবং আপনার নিজের ও সঙ্গীয় সম্প্রদায়গুলির উপর বরকত সহকারে অবতরণ করুণ। আর অন্যান্য যেসব সম্প্রদায় রয়েছে আমি তাদের কেও উপকৃত হতে দেব। অতঃপর তাদের উপর আমার দরুন আযাব আপতিত হবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বলা হল, ‘হে নূহ্ ! অবতরণ কর আমার পক্ষ হতে শান্তি ও কল্যাণসহ এবং তোমার প্রতি ও যে সমস্ত সম্প্রদায় তোমার সঙ্গে আছে তাদের প্রতি ; অপর সম্প্রদায়সমূহকে আমি জীবন উপভোগ করতে দিব, পরে আমা হতে মর্মন্তুদ শাস্তি এদেরকে স্পর্শ করবে; ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বলা হল, ‘হে নূহ, তোমার ও তোমার সাথে যে উম্মত রয়েছে তাদের উপর আমার পক্ষ থেকে শান্তি ও বরকতসহ অবতরণ কর। আর আরো অনেক উম্মতকে আমি জীবন উপভোগ করতে দেব, তারপর আমার পক্ষ থেকে তাদেরকে স্পর্শ করবে যন্ত্রণাদায়ক আযাব’।আল-বায়ান

বলা হল, ‘হে নূহ! তুমি নেমে পড়, আমার পক্ষ হতে শান্তি ও বরকত তোমার প্রতি আর তোমার সঙ্গীদের মধ্যে অনেক দলের প্রতি, আর এ ছাড়া অন্য লোকেদের আমি জীবন উপভোগ করতে দেব, (কিন্তু) পরে আমার নিকট হতে মর্মান্তিক ‘আযাব তাদেরকে স্পর্শ করবে।’তাইসিরুল

বলা হল -- "হে নূহ! অবতরণ কর আমাদের থেকে শান্তির সাথে, আর তোমার উপরে ও তোমার সাথে যারা রয়েছে তাদের সম্প্রদায়ের উপরে আশীর্বাদ নিয়ে। আর এমন জাতিরাও হবে যাদের আমরা অচিরেই জীবনোপকরণ দেব, তারপর আমাদের থেকে মর্মন্তুদ শাস্তি তাদের স্পর্শ করবে।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫২

অর্থাৎ যে পাহাড়ের ওপর নৌকা থেমেছিল তার ওপর থেকে নেমে যাও।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

হযরত নূহ আলাইহিস সালামের সঙ্গীদের জন্য শান্তি ও বরকতের যে ওয়াদা করা হয়েছে, তাতে ‘সম্প্রদায়সমূহ’ শব্দ ব্যবহার করে ইশারা করা হয়েছে যে, এখন যদিও তারা অল্পসংখ্যক, কিন্তু তাদের বংশে বহু সম্প্রদায় জন্ম নেবে এবং তারা সত্য দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। তাই শান্তি ও বরকতে তারাও অংশীদার থাকবে। তবে শেষে বলা হয়েছে, তাদের বংশে এমন কিছু সম্প্রদায়ও জন্ম নেবে, যারা সত্য দীনের উপর কায়েম থাকবে না। ফলে দুনিয়ায় তো তাদেরকে কিছু কালের জন্য জীবন উপভোগের সুযোগ দেওয়া হবে, কিন্তু কুফরের কারণে তাদের শেষ পরিণাম শুভ হবে না। হয়ত দুনিয়াতেও এবং আখেরাতে তো অবশ্যই তাদেরকে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৪৮. বলা হল, হে নূহ! অবতরণ করুন আমাদের পক্ষ থেকে শান্তি ও কল্যাণসহ এবং আপনার প্রতি ও যে সব সম্প্রদায় আপনার সাথে রয়েছে তাদের প্রতি; আর কিছু সম্প্রদায় রয়েছে আমরা তাদেরকে জীবন উপভোগ করতে দেব, পরে আমাদের পক্ষ থেকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে স্পর্শ করবে;(১)

(১) এখানে আদ জাতি এবং তাদের কাছে হুদ আলাইহিস সালামের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তারা কিছু দিন দুনিয়ার নে'আমত ভোগ করার পর আবার অবাধ্যতার কারণে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হয়েছিল। অনুরূপভাবে পরবর্তী প্রত্যেক নবী ও তাদের জাতি যেমন সালেহ ও সামূদ জাতিও এ আয়াতে উল্লেখিত সম্প্রদায় বলে বুঝানো হয়েছে। মোটকথা, নূহ আলাইহিস সালামের সন্তানগণ যেহেতু পরবর্তী যাবতীয় সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষ তাই পরবর্তী সময়ে যারাই শির্ক ও অন্যায় করেছে এবং তাদের কাছে প্রেরিত নবীদের বিরোধিতা করে আল্লাহর শাস্তির হকদার হয়েছে, তাদের সবাইকে এ আয়াতে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। (তাবারী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪৮) বলা হল, ‘হে নূহ! অবতরণ কর(1) আমার পক্ষ হতে শান্তিসহ এবং তোমার ও তোমার সাথে যে জাতিসকল(2) রয়েছে তাদের প্রতি কল্যাণসমূহ নিয়ে। আর অনেক জাতি এরূপও হবে যাদেরকে আমি কিছুকাল (দুনিয়ার) সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দান করব। তারপর তাদেরকে স্পর্শ করবে আমার পক্ষ হতে কঠিন শাস্তি।(3)

(1) এই অবতরণ কিশতী থেকে ছিল অথবা সেই পর্বত থেকে ছিল, যেখানে কিশতী গিয়ে থেমেছিল।

(2) এর উদ্দেশ্য হয় সেই জাতি হবে, যারা নূহ (আঃ)-এর কিশতীতে সওয়ার ছিল, নতুবা ভবিষ্যতে আগমনকারী সেই জাতি উদ্দেশ্য, যারা পরবর্তীতে তাঁদের বংশ থেকে জন্ম নেবে। পরবর্তী বাক্যের পরিপ্রেক্ষিতে এই দ্বিতীয় অর্থই অধিক সঠিক।

(3) এরা সেই (অবিশ্বাসী) জাতি, যারা কিশ্তীতে পরিত্রাণপ্রাপ্তদের বংশ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত আসতে থাকবে। উদ্দেশ্য হল যে, সেই কাফেরদেরকে পার্থিব জীবন যাত্রার জন্য আমি ভোগ-সম্ভার অবশ্যই দেব। কিন্তু শেষে তারা কঠিন শাস্তি ভোগ করবে।