قَالَ يَٰقَوۡمِ أَرَءَيۡتُمۡ إِن كُنتُ عَلَىٰ بَيِّنَةٖ مِّن رَّبِّي وَءَاتَىٰنِي رَحۡمَةٗ مِّنۡ عِندِهِۦ فَعُمِّيَتۡ عَلَيۡكُمۡ أَنُلۡزِمُكُمُوهَا وَأَنتُمۡ لَهَا كَٰرِهُونَ

ক-লা ইয়া-কাওমি আরআইতুম ইন কুনতু‘আলা-বাইয়িনাতিম মির রববী ওয়া আ-তা-নী রহমাতাম মিন ‘ইনদিহী ফা‘উম্মিয়াত ‘আলাইকুম আনুলঝিমুকুমূহা-ওয়া আনতুম লাহাক-রিহূন।উচ্চারণ

সে বললো, “হে আমার কওম! একটু ভেবে দেখো, যদি আমি আমার রবের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে থাকি এবং তারপর তিনি আমাকে তাঁর বিশেষ রহমত দান করে থাকেন ৩৪ কিন্তু তা তোমাদের নজরে পড়েনি, তাহলে আমার কাছে এমন কি উপায় আছে যার সাহায্যে তোমরা মানতে না চাইলেও আমি জবরদস্তি তোমাদের ঘাড়ে তা চাপিয়ে দিবো? তাফহীমুল কুরআন

নূহ বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আমাকে একটু বল তো, আমি যদি আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আগত এক উজ্জ্বল হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি বিশেষভাবে নিজের পক্ষ থেকে এক রহমত (অর্থাৎ নবুওয়াত) দান করেন কিন্তু তোমাদের তা উপলব্ধিতে না আসে, তবে কি আমি তোমাদের উপর তা জবরদস্তিমূলকভাবে চাপিয়ে দেব, যখন তোমরা তা অপছন্দ কর?মুফতী তাকী উসমানী

সে বললঃ হে আমার কাওম! আচ্ছা বলত, আমি যদি স্বীয় রবের পক্ষ হতে প্রমাণের উপর (প্রতিষ্ঠিত হয়ে) থাকি এবং তিনি আমাকে নিজ সন্নিধান হতে রাহমাত (নবুওয়াত) দান করেন, অতঃপর ওটা তোমাদের বোধগম্য না হয়, তাহলে কি ঐ বিষয়ে তোমাদের বাধ্য করতে পারি যখন তোমরা ওটা অবজ্ঞা করতে থাক?মুজিবুর রহমান

নূহ (আঃ) বললেন-হে আমার জাতি! দেখ তো আমি যদি আমার পালনকর্তার পক্ষ হতে স্পষ্ট দলীলের উপর থাক, আর তিনি যদি তাঁর পক্ষ হতে আমাকে রহমত দান করে থাকেন, তারপরেও তা তোমাদের চোখে না পড়ে, তাহলে আমি কি উহা তোমাদের উপর তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই চাপিয়ে দিতে পারি ?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমাকে বল, আমি যদি আমার প্রতিপালক প্রেরিত স্পষ্ট নিদর্শনে প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি আমাকে তাঁর নিজ অনুগ্রহ হতে দান করে থাকেন, আর এটা তোমাদের নিকট গোপন রাখা হয়েছে; আমি কি এই বিষয়ে তোমাদেরকে বাধ্য করতে পারি, যখন তোমরা এটা অপছন্দকর ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা কি মনে কর, যদি আমি আমার রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত হই এবং তিনি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে রহমত দিয়ে থাকেন, আর তা তোমাদের কাছে গোপন রাখা হয়, তবে কি আমি তোমাদের উপর তোমাদের অপছন্দ হওয়া সত্ত্বেও তা চাপিয়ে দেব’?আল-বায়ান

সে বলল, ‘‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা চিন্তা-ভাবনা করে দেখ, আমি যদি আমার প্রতিপালকের নিকট হতে প্রাপ্ত সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি আর তিনি তাঁর পক্ষ থেকে আমাকে অনুগ্রহ প্রদান করে থাকেন যা তোমাদের দৃষ্টি থেকে গোপনে রাখা হয়েছে, এমতাবস্থায় তা গ্রহণ করার ব্যাপারে আমি কি তোমাদেরকে বাধ্য করতে পারি যখন তোমরা তা অপছন্দ কর?তাইসিরুল

তিনি বললেন -- "হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কি ভেবে দেখেছ -- আমি যদি আমার প্রভুর কাছ থেকে স্পষ্ট-প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি আমাকে তাঁর তরফ থেকে অনুগ্রহ প্রদান করে থাকেন, অথচ তোমাদের কাছে এটি ঝাপসা হয়ে গেছে, আমরা কি তবে এটিতে তোমাদের বাধ্য করতে পারি যখন তোমরা এর প্রতি বিরূপ?মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৪

আগের রুকু’তে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখ দিয়ে যে কথা উচ্চারিত হয়েছে এখানে তারই পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রথমে আমি বিশ্ব-জাহান ও মানুষের মধ্যে আল্লাহর নিদর্শনাবলী দেখে তাওহীদের মূল তত্ত্বে পৌঁছে গিয়েছিলাম। তারপর আল্লাহ তাঁর নিজের রহমতের (অর্থাৎ অহী) মাধ্যমে আমাকে সরাসরি এ সত্যগুলোর জ্ঞান দান করেছেন। আমার মন ইতিপূর্বেই এগুলোর পক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে আসছিল। এ থেকে এও জানা যায় যে, নবুওয়াত লাভ করার আগেই সকল নবী অনুসন্ধান ও চিন্তা-গবেষণার মাধ্যমে ঈমান বিল গাইব তথা অদৃশ্যে বিশ্বাস লাভ করে থাকেন। তারপর মহান আল্লাহ নবুওয়াতের মর্যাদা দান করার সময় তাঁদেরকে ঈমান বিশ্ শাহাদাত অর্থাৎ প্রত্যক্ষ দর্শন লব্ধ বিশ্বাস দান করে থাকেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

২৮. তিনি বললেন, হে আমার সম্প্রদায় তোমরা আমাকে বল, আমি যদি আমার রব প্রেরিত স্পষ্ট প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি আমাকে তাঁর নিজের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ দান করে থাকেন, অতঃপর সেটা তোমাদের কাছে গোপন রাখা হয়, আমরা কি এ বিষয়ে তোমাদেরকে বাধ্য করতে পারি, যখন তোমরা এটা অপছন্দ কর?

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৮) সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আচ্ছা বল তো, আমি যদি স্বীয় প্রতিপালকের পক্ষ হতে প্রমাণের উপর (প্রতিষ্ঠিত) থাকি এবং তিনি আমাকে নিজ সন্নিধান হতে করুণা (নবুঅত) দান করে থাকেন,(1) অতঃপর ওটা তোমাদের চোখে না পড়ে,(2) তাহলে কি আমি ওটা তোমাদেরকে মেনে নিতে বাধ্য করব, অথচ তোমরা ওটা অপছন্দ কর?(3)

(1) بينة (প্রমাণ) দ্বারা ঈমান ও একীন আর رحمة (করুণা) দ্বারা নবুঅত বুঝানো হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তা নূহ (আঃ)-কে প্রদান করেছিলেন।

(2) অর্থাৎ, তোমরা তা দেখা থেকে অন্ধ হয়ে যাও। সুতরাং না তোমরা তার গুরুত্ব বুঝতে পার, আর না তা মানার জন্য প্রস্ত্তত হও। বরং তা মিথ্যাজ্ঞান করার জন্য ও তাঁর বিরোধিতা করার জন্য সোচ্চার হয়ে ওঠ তাহলে---।

(3) যখন ব্যাপার এই, তখন এই হিদায়াত ও রহমত তোমাদের ভাগে কিভাবে আসতে পারে?