কুল ইয়া আইয়ুহান্না-ছুইন কুনতুম ফী শাক্কিম মিন দীনী ফালা-আ‘বুদুল্লাযীনা তা‘বুদূ না মিন দূ নিল্লা-হি ওয়ালা-কিন আ‘বুদুল্লা-হা ল্লাযী ইয়াতাওয়াফফা-কুম ওয়া উমিরতুআন আকূনা মিনাল মু’মিনীন।উচ্চারণ
হে নবী! বলে দাও, ১০৬ "হে লোকেরা! যদি তোমরা এখনো পর্যন্ত আমার দ্বীনের ব্যাপারে কোন সন্দেহের মধ্যে থাকো তাহলে শুনে রাখো, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের বন্দেগী করো আমি তাদের বন্দেগী করি না বরং আমি কেবলমাত্র এমন আল্লাহর বন্দেগী করি যার করতলে রয়েছে তোমাদের মৃত্যু। ১০৭ তাফহীমুল কুরআন
(হে নবী!) তাদেরকে বল, হে মানুষ! তোমরা যদি আমার দীন সম্পর্কে কোনও সন্দেহে থাক, তবে (শুনে রাখ) তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদত কর আমি তাদের ইবাদত করি না; বরং আমি আল্লাহর ইবাদত করি, যিনি তোমাদের প্রাণ সংহার করেন। #%৫৪%# আর আমাকে হুকুম দেওয়া হয়েছে, আমি যেন মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত থাকি।মুফতী তাকী উসমানী
বলে দাওঃ হে লোকসকল! যদি তোমরা আমার দীন সম্বন্ধে সন্দিহান হও তাহলে আমি সেই মা‘বূদদের ইবাদাত করিনা, আল্লাহকে ছেড়ে তোমরা যাদের ইবাদাত কর; কিন্তু আমি সেই আল্লাহর ইবাদাত করি যিনি তোমাদের তোমাদের মৃত্যু ঘটান, আর আমাকে এই আদেশ করা হয়েছে যে, আমি যেন ঈমান আনয়নকারীদের দলভুক্ত থাকি।মুজিবুর রহমান
বলে দাও-হে মানবকুল, তোমরা যদি আমার দ্বীনের ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে থাক, তবে (জেনো) আমি তাদের এবাদত করি না যাদের এবাদত তোমরা কর আল্লাহ ব্যতীত। কিন্তু আমি এবাদত করি আল্লাহ ত’য়ালার, যিনি তুলে নেন তোমাদেরকে। আর আমার প্রতি নির্দেশ হয়েছে যাতে আমি ঈমানদারদের অন্তর্ভুক্ত থাকি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
বল, ‘হে মানুষ! তোমরা যদি আমার দীনের প্রতি সংশয়যুক্ত হও তবে জেনে রাখ, তোমরা আল্লাহ্ ব্যতীত যাদের ‘ইবাদত কর আমি এদের ‘ইবাদত করি না। পরন্তু আমি ‘ইবাদত করি আল্লাহ্ র যিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটান এবং আমি মু’মিনদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্যে আদিষ্ট হয়েছি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বল, ‘হে মানুষ, তোমরা যদি আমার দীনের ব্যাপারে সন্দেহে থাক, তবে আল্লাহ ছাড়া তোমরা যার ইবাদাত কর আমি তার ইবাদাত করি না, বরং আমি ইবাদাত করি আল্লাহর, যিনি তোমাদের মৃত্যু দেন। আর আমি আদিষ্ট হয়েছি মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার’।আল-বায়ান
বল, ‘‘হে মানুষ! আমার দ্বীন সম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে তাহলে জেনে রেখ, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যার ‘ইবাদাত কর, আমি তাদের ‘ইবাদাত করি না, বরং আমি আল্লাহর ‘ইবাদাত করি যিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটান, আর আমি আদিষ্ট হয়েছি মু’মিনদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য।তাইসিরুল
বলো -- "ওহে মানবগোষ্ঠি! তোমরা যদি আমার ধর্ম সন্বন্ধে সন্দেহের মধ্যে থাক তবে আমি তাদের উপাসনা করি না আল্লাহ্ ব্যতীত যাদের তোমরা উপাসনা কর, আমি কিন্তু আল্লাহ্র উপাসনা করি যিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন। আর আমি আদিষ্ট হয়েছি যে আমি মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হব।"মাওলানা জহুরুল হক
১০৬
যে বক্তব্য দিয়ে ভাষণ শুরু করা হয়েছিল। এখন আবার তারই মাধ্যমে ভাষণ শেষ করা হচ্ছে। তুলনামূলক পাঠের জন্য প্রথম রুকুর আলোচনার ওপর আর একবার নজর বুলিয়ে নিন।
১০৭
মূল আয়াতে يَتَوَفَّاكُمْ(ইয়াতাওয়াফ্ফাকুম) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর শাব্দিক অনুবাদ হচ্ছে "যিনি তোমাদের মৃত্যু দান করেন।" কিন্তু এ শাব্দিক অনুবাদ থেকে আসল মর্মবাণীর প্রকাশ হয় না। এ উক্তির মর্মবাণী হচ্ছে এই যে, "তোমাদের প্রাণ যে সত্তার করতলগত, যিনি তোমাদের ওপর এমনই পূর্ণাঙ্গ শাসন কর্তৃত্বের অধিকারী যে, যতক্ষণ তিনি ইচ্ছা করেন ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা জীবনী শক্তি লাভ করতে পারো এবং তার ইশারা হবার সাথে সাথেই তোমাদের নিজেদের প্রাণ সেই প্রাণ স্রষ্টার হাতে সোর্পদ করে দিতে হয়, আমি কেবলমাত্র সেই সত্তারই উপাসনা, বন্দেগী ও দাসত্ব এবং আনুগত্য করার ও হুকুম মেনে চলার কথা বলি।" এখানে আরো একটি কথা বুঝে নিতে হবে। মক্কার মুশরিকরা একথা মানতো এবং আজো সকল শ্রেণীর মুশরিকরা একথা স্বীকার করে যে, মৃত্যু একমাত্র আল্লাহ রব্বুল আলামীনের ইখতিয়ারাধীন। এর ওপর অন্য কারো নিয়ন্ত্রণ নেই। এমনকি এ মুশরিকরা যেসব মনীষীকে আল্লাহর গুণাবলী ও ক্ষমতায় শরীক করে তাদের কেউই যে তাদের মৃত্যুর সময় পিছিয়ে দিতে পারেনি, তাদের ব্যাপারে একথাও তারা স্বীকার করে। কাজেই বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য আল্লাহর অসংখ্য গুণাবলির মধ্য থেকে অন্য কোন গুণের কথা বর্ণনা করার পরিবর্তে এ বিশেষ গুণটি যে, "যিনি তোমাদের মৃত্যু দান করেন" এখানে বর্ণনা করার জন্য এ উদ্দেশ্যে নির্বাচন করা হয়েছে যে, নিজের দৃষ্টিভঙ্গি বর্ণনা করার সাথে সাথে তার সঠিক হওয়ার যুক্তিও এর মাধ্যমে এসে যাবে। অর্থাৎ সবাইকে বাদ দিয়ে আমি একমাত্র তার বন্দেগী করি এ জন্য যে, জীবন ও মৃত্যুর ওপর একমাত্র তারই কর্তৃত্ব রয়েছে। আর তার ছাড়া অন্যের বন্দেগী করবোই বা কেন, তারা তো অন্য কারোর জীবন-মৃত্যু তো দূরের কথা খোদ তাদের নিজেদেরই জীবন-মৃত্যুর ওপর কোন কর্তৃত্ব রাখে না। তাছাড়া আলঙ্কারিক মাধুর্যকে ও এখানে এভাবে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছিয়ে দেয়া হয়েছে যে, "তিনি আমাকে মৃত্যু দান করবেন" না বলে বলা হয়েছে, "তিনি তোমাদের মৃত্যু দান করেন।" এভাবে একটি বাক্যের সাহায্যে মূল বক্তব্য বিষয়, বক্তব্যের স্বপক্ষের যুক্তি এবং বক্তব্যের প্রতি আহবান তিনটিই সম্পন্ন করা হয়েছে। যদি বলা হতো, "আমি এমন সত্তার বন্দেগী করি যিনি আমাকে মৃত্যু দান করবেন" তাহলে এর অর্থ কেবল এতটুকুই হতো যে, "আমার তার বন্দেগী করা উচিত"। তবে এখন যে কথা বলা হয়েছে যে, "আমি এমন এক সত্তার বন্দেগী করি যিনি তোমাদের মৃত্যু দান করেন",- এর অর্থ হবে, শুধু আমারই নয় তোমাদেরও তার বন্দেগী করা উচিত আর তোমরা তাকে বাদ দিয়ে অন্যদের বন্দেগী করে ভুল করে যাচ্ছো।
অর্থাৎ আমি আল্লাহর ইবাদত এজন্য করি যে, প্রাণ সংহারসহ সব রকম উপকার ও অপকার করার ক্ষমতা কেবল তাঁরই আছে। কাজেই যে দীন সেই আল্লাহর ইবাদত করতে শেখায় তার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সন্দেহ করা উচিত নয়। বরং তোমাদের নিজেদের সম্পর্কেই তোমাদের সন্দিহান থাকা উচিত, যেহেতু তা তোমাদেরকে এমন দেব-দেবীর পূজা-অর্চনায় লিপ্ত করছে, যাদের কোনো উপকার-অপকার করার ক্ষমতা নেই। আর তা নেই বলেই আমি তাদের ইবাদত করি না। -অনুবাদক
১০৪. বলুন, হে মানুষ! তোমরা যদি আমার দ্বীনের প্রতি সংশয়যুক্ত হও তবে জেনে রাখ, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদত কর আমি তাদের ইবাদত করি না। বরং আমি ইবাদাত করি আল্লাহর যিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটান এবং আমি মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি,
(১০৪) তুমি বলে দাও,(1) ‘হে লোক সকল! যদি তোমরা আমার দ্বীন সম্বন্ধে সন্দিহান হও, তাহলে আল্লাহকে ছেড়ে তোমরা যাদের উপাসনা কর, আমি তাদের উপাসনা করি না।(2) বরং আমি তাঁর উপাসনা করি, যিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটান।(3) আর আমাকে এই আদেশ করা হয়েছে যে, আমি যেন বিশ্বাসীদের দলভুক্ত হই।’
(1) এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা শেষ নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে আদেশ করছেন যে, তুমি সকল মানুষকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দাও যে, তোমার তরীকা এবং মুশরিকদের তরীকা এক নয়, এক অপর থেকে ভিন্ন।
(2) অর্থাৎ, যদি তোমরা আমার দ্বীন সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ কর, যাতে একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত হয় এবং এটাই সত্য দ্বীন, অন্য কোন দ্বীন নয়, তাহলে মনে রেখো যে, আমি তোমাদের সেই (বাতিল) উপাস্যদের কখনই ও কোন অবস্থাতেই উপাসনা করব না, যাদের উপাসনা তোমরা কর।
(3) অর্থাৎ, জীবন ও মৃত্যু তাঁরই হাতে। ফলে তিনি যখন ইচ্ছা তোমাদেরকে ধ্বংস করতে পারেন। কারণ মানুষের প্রাণ তাঁরই হাতে আছে।