ক-লূআজি‘তানা-লিতালফিতানা-‘আম্মা-ওয়াজাদনা-‘আলাইহি আ-বাআনা-ওয়াতাকূনা লাকুমাল কিবরিয়াউ ফিল আরদি ওয়া মা-নাহনুলাকুমা-বিমু’মিনীন।উচ্চারণ

তারা জবাবে বললো, “তুমি কি যে পথে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছি সে পথ থেকে আমাদের ফিরিয়ে দিতে এবং যাতে যমীনে তোমাদের দু’জনের প্রাধান্য কায়েম হয়ে যায়, সেজন্য এসেছো? ৭৬ তোমাদের কথা তো আমরা মেনে নিতে প্রস্তুত নই।” তাফহীমুল কুরআন

তারা বলল, তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যই এসেছ যে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে যে রীতি-নীতির উপর পেয়েছি, তুমি আমাদেরকে তা থেকে বিচ্যুত করবে এবং যাতে এ দেশে তোমাদের দু’জনের প্রতিপত্তি কায়েম হয়ে যায় সে জন্য? আমরা তো তোমাদের কথা মানবার নই! #%৪১%#মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলতে লাগলঃ তুমি কি আমাদের নিকট এ জন্য এসেছ যে, আমাদেরকে সরিয়ে দাও সেই তরীকা হতে, যাতে আমরা আমাদের পূর্ব-পুরুষদেরকে পেয়েছি, আর পৃথিবীতে তোমাদের দু’জনের আধিপত্য স্থাপিত হয়ে যায়? আমরা তোমাদের দু’জনকে কখনও মানবনা।মুজিবুর রহমান

তারা বলল, তুমি কি আমাদেরকে সে পথ থেকে ফিরিয়ে দিতে এসেছ যাতে আমরা পেয়েছি আমাদের বাপ-দাদাদেরকে? আর যাতে তোমরা দুইজন এদেশের সর্দারী পেয়ে যেতে পার? আমরা তোমাদেরকে কিছুতেই মানব না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরা বলল, ‘আমরা আমাদের পিতৃপুরুষগণকে যাতে পেয়েছি তুমি কি তা হতে আমাদেরকে বিচ্যুত করার জন্যে আমাদের নিকট এসেছো এবং যাতে দেশে তোমাদের দু’জনের প্রতিপত্তি হয়, এইজন্যে ? আমরা তোমাদের প্রতি বিশ্বাসী নই।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারা বলল, ‘তুমি কি এসেছ আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে যাতে পেয়েছি তা থেকে আমাদেরকে ফেরাতে এবং যেন যমীনে তোমাদের প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়? আর আমরা তো তোমাদের প্রতি বিশ্বাসী নই’।আল-বায়ান

তারা বলল, ‘‘তোমরা কি আমাদেরকে ঐ পথ থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য এসেছ আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে যে পথের উপর পেয়েছি আর এজন্য যে যমীনে তোমাদের দু’জনের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়? আমরা তোমাদের কথা মোটেই মেনে নেব না।’’তাইসিরুল

তারা বলল -- "তুমি কি আমাদের কাছে এসেছ আমাদের বিচ্যুত করতে তা থেকে যার উপরে আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি, আর যেন তোমাদের দুজনেরই প্রতিপত্তি হয় এ দেশে? সুতরাং তোমাদের দুজনের প্রতি আমরা তো বিশ্বাসী হচ্ছি না।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৭৬

বনী ইসরাঈলকে উদ্ধার করা যদি হযরত মূসা (আ) ও হারুনের (আ) মূল দাবী হতো তাহলে ফেরাউন ও তার দরবারের লোকদের এ ধরনেরআশঙ্কা করার কোন প্রয়োজন ছিল না যে, এ দুই মহান ব্যক্তির দাওয়াত ছড়িয়ে পড়লে সারা মিসরের লোকদের ধর্ম বদলে যাবে এবং দেশে তাদের পরিবর্তে এদের দু’জনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। হযরত মূসা (আ) মিসরবাসীকে আল্লাহর বন্দেগীর প্রতি যে আহবান জানাচ্ছিলেন এটিই তো ছিল তাদের আশঙ্কার কারণ। এর ফলে যে মুশরিকী ব্যবস্থার ওপর ফেরাউনের বাদশাহী, তার সরদারদের নেতৃত্ব এবং ধর্মীয় নেতাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত ছিল তা বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। (আরো বেশী জানার জন্য দেখুন সূরা আ'রাফের ৬৬ এবং সূরা মু’মিনের ৪৩ টীকা)।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ, রাজনৈতিক দূরভিসন্ধি চরিতার্থ করার জন্য তোমরা নবুওয়াতকে বাহানা হিসেবে গ্রহণ করেছ (নাউযুবিল্লাহ)। আমরা তোমাদের চাল ধরে ফেলেছি। কাজেই তোমাদের কথায় আমরা বিভ্রান্ত হবার নই। এভাবেই ক্ষমতাদর্পীরা সর্বদা সত্যের কণ্ঠরোধ করার জন্য তার উপর নানা রকম মিথ্যা অভিযোগ ও অপবাদ ছুঁড়ে দেয়। কিন্তু আল্লাহ সত্যকে তার আপন আলোয় উদ্ভাসিত করে অপবাদের অসত্যতা পরিষ্কার করে দেন। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

৭৮. তারা বলল, আমরা আমাদের পিতৃ পুরুষদেরকে যাতে পেয়েছি তুমি কি তা থেকে আমাদেরকে বিচ্যুত করার জন্য আমাদের কাছে এসেছ এবং যাতে যমীনে তোমাদের দুজনের প্রতিপত্তি হয়, এজন্যে? আমরা তোমাদের প্রতি ঈমান আনয়নকারী নই।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭৮) তারা বলল, ‘তুমি কি আমাদের নিকট এই জন্য এসেছ যে, আমাদেরকে সেই পথ হতে ফিরিয়ে দেবে, যাতে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছি, আর পৃথিবীতে তোমাদের দু’জনের আধিপত্য স্থাপিত হবে?(1) আমরা তোমাদের দু’জনকে বিশ্বাস করবার নই।’

(1) এটা অস্বীকারকারীদের অন্য একটি কাটহুজ্জতি; যা তারা প্রমাণাদি পেশ করতে অক্ষম হয়ে প্রয়োগ করে থাকে। প্রথম এই যে, তুমি আমাদেরকে আমাদের বাপ-দাদার পথ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চাচ্ছ। দ্বিতীয় এই যে, ধন-সম্পদ ও কর্তৃত্ব আমাদের হাতে, তা আমাদের নিকট থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তুমি নিজের আয়ত্তে করতে চাচ্ছ। ফলে আমরা কখনই তোমার প্রতি ঈমান আনব না। অর্থাৎ, বাপ-দাদার মতবাদে অটল অন্ধ বিশ্বাস এবং পার্থিব ধন-সম্পদ ও মর্যাদার বাসনা তাদেরকে ঈমান গ্রহণ করা থেকে বিরত রেখেছিল। এর পরবর্তীতে ফিরআউনের বিচক্ষণ যাদুকরদের ডাকা এবং মূসা ও যাদুকরদের মুকাবিলা করার কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। যেমন সূরা আ‘রাফে উল্লেখ হয়েছে এবং সূরা ত্বহাতেও তার বিস্তারিত আলোচনা আসবে ইনশাআল্লাহ।