ক-লা মূছা-আতাকূলূনা লিলহাক্কিলাম্মা-জাআকুম আছিহরুন হা-যা- ওয়ালা-ইউফলিহুছছা-হিরুন।উচ্চারণ

মুসা বললো, সত্য, যখন তোমাদের সামনে এলো তখন তোমরা তার সম্পর্কে এমন (কথা) বলছো? এ কি যাদু? অথচ যাদুকর সফলকাম হয় না। ৭৫ তাফহীমুল কুরআন

মূসা বলল, সত্য যখন তোমাদের কাছে আসল তখন তোমরা তার সম্পর্কে এরূপ কথা বলছ? এটা কি যাদু? যাদুকরগণ তো কখনও সফলকাম হয় না!মুফতী তাকী উসমানী

মূসা বললঃ তোমরা কি এই যথার্থ প্রমাণ সম্পর্কে এমন কথা বলছ, যখন ওটা তোমাদের নিকট পৌঁছল? এটা কি যাদু? অথচ যাদুকররাতো সফলকাম হয়না!মুজিবুর রহমান

মূসা বলল, সত্যের ব্যাপারে একথা বলছ, তা তোমাদের কাছে পৌঁছার পর? একি যাদু? অথচ যারা যাদুকর, তারা সফল হতে পারে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মূসা বলল, ‘সত্য যখন তোমাদের নিকট এলো তখন তার সম্পর্কে তোমরা এইরূপ বলছো? এটা কি জাদু ? জাদুকরেরা তো সফলকাম হয় না।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা বলল, ‘তোমরা কি সত্যকে এ রকম (যাদু) বলছ, যখন তা তোমাদের কাছে এল? এ কি যাদু? অথচ যাদুকররা সফল হয় না’।আল-বায়ান

মূসা বলল, ‘‘প্রকৃত সত্য সম্পর্কে তোমরা (এ রকম) কথা বলছ যখন তা তোমাদের কাছে এসে গেছে। এটা কি যাদু? যাদুকররা মুক্তি পাবে না।’’তাইসিরুল

মূসা বললেন, "কি তোমরা বলছ সত্য সন্বন্ধে যখন এ তোমাদের কাছে এল? এ কি জাদু? আর জাদুকররা সফলকাম হয় না।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৭৫

এর মানে হচ্ছে আপাতদৃষ্টিতে মুজিযা ও যাদুর মধ্যে যে সাদৃশ্য রয়েছে তার ফলে তোমরা নির্দ্বিধায় তাকে যাদু গণ্য করেছো। কিন্তু মূর্খের দল, তোমরা একটুও ভেবে দেখ না, যাদুকররা কোন ধরনের চরিত্রের অধিকারী হয় এবং তারা কি উদ্দেশ্যে যাদু করে। একজন যাদুকর কি কখনো কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়াই এবং কোন চিন্তা-ভাবনা না করেই বেধড়ক একজন স্বৈরাচারী শাসকের দরবারে আসে, তাকে তার ভ্রষ্টতার জন্য ধমক দেয় ও তিরস্কার করে এবং তার প্রতি আল্লাহর আনুগত্য করার ও আত্মিক পবিত্রতা অর্জন করার আহবান জানায়? তোমাদের কাছে কোন যাদুকর এলে প্রথমে রাজ সম্মুখে নিজের তেলেসমাতি দেখাবার সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য দরবারের পরিষদবর্গের খোশামোদ করতে থাকতো। তারপর দরবারে প্রবেশ করার সৌভাগ্য হলে সাধারণ তোষামোদকারীদের থেকেও বেশী নির্লজ্জতার সাথে অভিবাদন পেশ করতো, চীৎকার করে করে রাজার দীর্ঘায়ু কামনা করতো, তার সৌভাগ্যের জন্য দোয়া করতো এবং বড়ই কাতর কাকুতিমিনতি সহকারে নিবেদন করতো, হে রাজন! আপনার একজন উৎসর্গিত প্রাণ সেবাদাসের কৃতিত্ব কিছুটা দর্শন করুন। আর তার যাদু দেখে নেবার পর সে পুরস্কার লাভের আশায় নিজের হাত পাততো। এ সমগ্র বিষয়বস্তুটি শুধু একটি মাত্র বাক্যের মধ্যে গুটিয়ে নিয়ে বলা হয়েছে, যাদুকর কোন কল্যাণ প্রাপ্ত লোক হয় না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৭৭. মূসা বললেন, সত্য যখন তোমাদের কাছে আসল তখন তা সম্পর্কে তোমরা এরূপ বলছ? এটা কি জাদু? অথচ জাদুকরেরা সফলকাম হয় না।(১)

(১) অর্থাৎ তোমরা এসব গুণাগুণ দেখে অবশ্যই বুঝতে পার যে আসলে এটা কি জাদু নাকি জাদু নয়। তাছাড়া জাদুকররা দুনিয়া ও আখেরাতে কোথাও সফলকাম হয় না। সুতরাং তোমরা দেখো কার পরিণাম কেমন হয়, আর কে-ই বা সফল হয়। পরবর্তীতে তারা ঠিকই সেটা জানতে পেরেছিল এবং প্রত্যেকের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, মূসা আলাইহিস সালামই সফলকাম। তিনি দুনিয়া ও আখেরাতে সবখানেই সফল। (সা’দী) এ সমগ্র বিষয় শুধু একটি বাক্যের মধ্যে গুটিয়ে নিয়ে বলা হয়েছে, “জাদুকর কোন কল্যাণ প্রাপ্ত লোক হয় না।”

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭৭) মূসা বলল, ‘সত্য যখন তোমাদের কাছে পৌঁছল, তখন সে সম্পর্কে তোমরা কি বলছ, এটা কি যাদু? অথচ যাদুকররা তো সফলকাম হয় না।’ (1)

(1) যখন মূসা (আঃ) বললেন, তোমরা একটু চিন্তা করে দেখ, সত্যের দাওয়াত ও সঠিক কথাকে তোমরা যাদু বলছ! এটা কি যাদু হতে পারে? যাদুকর তো কখনো কৃতকার্যই হতে পারে না। অর্থাৎ ইচ্ছা আনুযায়ী চাহিদা পূরণ এবং অবাঞ্ছিত পরিণতি থেকে বাঁচতে সে অকৃতকার্যই থেকে যায়। আর আমি তো আল্লাহর রসূল, আমি আল্লাহর সাহায্য পাই এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাকে মু‘জিযা ও স্পষ্ট নিদর্শন প্রদান করা হয়েছে। যাদু ও যাদুবিদ্যার আমার প্রয়োজনই বা কি আছে? তাছাড়া আল্লাহ তাআলার প্রদর্শিত মু‘জিযার তুলনায় তার মূল্যই বা কতটুকু?