আওয়ালা-ইয়ারওনা আন্নাহুম ইউফতানূনা ফী কুল্লি ‘আমিম মাররতান আও মাররতাইনি ছু ম্মা লা-ইয়াতূবূনা ওয়ালা-হুম ইয়াযযাক্কারূন।উচ্চারণ
এরা কি দেখে না, প্রতি বছর এদেরকে দুএকটি পরীক্ষার মুখোমুখি করা হয়? ১২৫ কিন্তু এরপরও এরা তাওবাও করে না কোন শিক্ষাও গ্রহণ করে না। তাফহীমুল কুরআন
তারা কি লক্ষ্য করে না, প্রতি বছর তারা দু’-একবার পরীক্ষার সম্মুখীন হয়? #%১১১%# তথাপি তারা তাওবা করে না এবং তারা উপদেশও গ্রহণ করে না।মুফতী তাকী উসমানী
আর তারা কি লক্ষ্য করেনা যে, তারা প্রতি বছর একবার অথবা দু’বার কোন না কোন বিপদে পতিত হয়? তবুও তারা তাওবাহ করেনা, আর না তারা উপদেশ গ্রহণ করে।মুজিবুর রহমান
তারা কি লক্ষ্য করে না, প্রতি বছর তারা দু’একবার বিপর্যস্ত হচ্ছে, অথচ, তারা এরপরও তওবা করে না কিংবা উপদেশ গ্রহণ করে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তারা কি দেখে না যে, ‘তাদেরকে প্রতি বৎসর একবার বা দুইবার বিপর্যস্ত করা হয় ?’ এর পরও তারা তওবা করে না আর উপদেশ গ্রহণ করে না, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তারা কি দেখে না যে, তারা প্রতি বছর এক বার কিংবা দু’বার বিপদগ্রস্ত হয় ? এর পরও তারা তাওবা করে না এবং উপদেশ গ্রহণ করে না।আল-বায়ান
তারা কি দেখে না যে, প্রতি বছরই তাদেরকে একবার বা দু’বার পরীক্ষায় ফেলা হয়; তারপরেও তারা তাওবাও করে না, আর শিক্ষাও গ্রহণ করে না।তাইসিরুল
তারা কি দেখে না যে প্রতি বছর একবার বা দুবার করে অবশ্যই তাদের পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে? তবুও তারা ফেরে না বা মনও দেয় না।মাওলানা জহুরুল হক
১২৫
অর্থাৎ এমন কোন বছর অতিবাহিত হয় না যখন তাদের ঈমানের দাবী এক দুবার পরীক্ষার সম্মুখীন হয় না এবং এভাবে তার অন্তঃসারশূন্যতা প্রকাশ হয়ে যায় না। কখনো কুরআনে এমন কোন হুকুম আসে যার মাধ্যমে তাদের ইচ্ছা ও প্রবৃত্তির আশা আকাংখার ওপর কোন নতুন বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়। কখনো দ্বীনের এমন কোন দাবী সামনে এসে যায় যার ফলে তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়। কখনো এমন কোন আভ্যন্তরীণ, সংকট সৃষ্টি হয় যার মাধ্যমে তারা নিজেদের পার্থিব সম্পর্ক এবং নিজেদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও গোত্রীয় স্বার্থের মোকাবিলায় আল্লাহর ও তার রসূলের দ্বীনকে কি পরিমাণ ভালবাসে তার পরীক্ষা করাই উদ্দেশ্য হয়। কখনো এমন কোন যুদ্ধ সংঘটিত হয় যার মাধ্যমে তারা যে দ্বীনের ওপর ঈমান আনার দাবী করছে তার জন্য ধন, প্রাণ, সময় ও শ্রম ব্যয় করতে তারা কতটুকু আগ্রহী তার পরীক্ষা হয়ে যায়। এ ধরনের সকল অবস্থায় কেবল তাদের মিথ্যা অঙ্গীকারের মধ্যে যে মুনাফিকীর আবর্জনা চাপা পড়ে আছে তা শুধু উন্মুক্ত হয়ে সামনে চলে আসে না বরং যখন তারা ঈমানদের দাবী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে পালাতে থাকে তখন তাদের ভেতরের ময়লা আবর্জনা আগের চাইতে আরো বেশী বেড়ে যায়।
মুনাফিকদের উপর প্রতি বছরই কোনও না কোনও বিপদ আসত। কখনও তাদের আকাঙ্ক্ষা ও পরিকল্পনার বিপরীতে মুসলিমদের বিজয় অর্জিত হত, কখনও তাদের নিজেদের কোনও গোমর ফাঁস হয়ে যেত, কখনও রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হত এবং কখনও অভাব-অনটনের শিকার হত। আল্লাহ তাআলা বলেন, এসব বিপদই তাদেরকে সতর্ক করার জন্য যথেষ্ট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোনও কিছু থেকেই তারা শিক্ষা নেয় না।
১২৬. তারা কি দেখে না যে, তাদেরকে প্রতি বছর একবার বা দু’বার বিপর্যন্ত করা হয়?(১) এর পরও তারা তাওবাহ করে না এবং উপদেশ গ্রহণ করে না।
(১) এখানে মুনাফিকদের সতর্ক করা হয়েছে যে, তাদের কপটতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ প্রভৃতি অপরাধের পরিণতিতে প্রতিবছরই তারা কখনো একবার, কখনো দু’বার নানা ধরনের বিপদে বা পরীক্ষায় নিপতিত হয়। মুজাহিদ বলেন, তারা দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুধায় পতিত হয়। (আত-তাফসীরুস সহীহ) অথবা রোগ-শোকে। হাসান বসরী বলেন, রাসূলের সাথে যুদ্ধ ও জিহাদে অংশগ্রহণের মাধ্যমে (কুরতুবী) তাছাড়া কখনো তাদের কাফের মিত্ররা পরাজিত হয়, কখনো তাদের গোপন অভিসন্ধি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ফলে তারা দিবানিশি মর্মপীড়া ভোগ করে। (বাগভী)
(১২৬) আর তারা কি লক্ষ্য করে না যে, তারা প্রতি বছর একবার বা দু’বার কোন না কোন বিপদে পতিত হয়ে থাকে? (1) তবুও তারা তওবা করে না এবং উপদেশ গ্রহণও করে না।
(1) يُفْتَنُوْنَ এর অর্থ ‘পরীক্ষা করা হয়’ বিপদ বা দুর্যোগে ফেলা হয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি ইত্যাদি। (কিন্তু এই অর্থ বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।) অথবা বিপদ বলতে শারীরিক অসুস্থতা ও কষ্ট অথবা যুদ্ধে শরীক হওয়ার সময় যে পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয় তা বুঝানো হয়েছে। পূর্বাপর বাক্য অনুযায়ী এই অর্থই অধিক সঠিক হবে।