وَإِذَا مَآ أُنزِلَتۡ سُورَةٞ نَّظَرَ بَعۡضُهُمۡ إِلَىٰ بَعۡضٍ هَلۡ يَرَىٰكُم مِّنۡ أَحَدٖ ثُمَّ ٱنصَرَفُواْۚ صَرَفَ ٱللَّهُ قُلُوبَهُم بِأَنَّهُمۡ قَوۡمٞ لَّا يَفۡقَهُونَ,

ওয়া ইযা-মাউনঝিলাত ছূরতুন নাজার বা‘দুহুম ইলা-বা‘দিন হাল ইয়ার-কুম মিন আহাদিন ছু ম্মান সারফূ সারফাল্লা-হু কুলূবাহুম বিআন্নাহুম কাওমুল লা-ইয়াফকাহূন।উচ্চারণ

যখন কোন সূরা নাযিল হয়, এরা চোখের ইশারায় একে অন্যকে জিজ্ঞেস করে, তোমাদের কেউ দেখতে পায়নি তো? তারপর চুপে চুপে সরে পড়ে। ১২৬ আল্লাহ তাদের মন বিমুখ করে দিয়েছেন কারণ তারা এমন একদল লোক যাদের বোধশক্তি নেই। ১২৭ তাফহীমুল কুরআন

এবং যখনই কোনও সূরা নাযিল হয়, তখন তারা একে অন্যের দিকে তাকায় (এবং ইশারায় একে অন্যকে বলে), তোমাদেরকে কেউ দেখছে না তো? তারপর তারা (সেখান থেকে) সটকে পড়ে। #%১১২%# আল্লাহ তাদের অন্তর ঘুরিয়ে দিয়েছেন, যেহেতু তারা অনুধাবন করে না।মুফতী তাকী উসমানী

আর যখন কোন সূরা নাযিল করা হয় তখন তারা একে অপরের দিকে তাকাতে থাকে (এবং ইঙ্গিতে বলে) তোমাদেরকে কেহ দেখছেনা তো? অতঃপর তারা চলে যায়; আল্লাহ তাদের অন্তরগুলিকে (আলো থেকে) ফিরিয়ে দিয়েছেন, কারণ তারা হচ্ছে নির্বোধ সমাজ!মুজিবুর রহমান

আর যখনই কোন সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন তারা একে অন্যের দিকে তাকায় যে, কোন মুসলমান তোমাদের দেখছে কি-না-অতঃপর সরে পড়ে। আল্লাহ ওদের অন্তরকে সত্য বিমুখ করে দিয়েছেন! নিশ্চয়ই তারা নির্বোধ সম্প্রদায়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আর যখনই কোন সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন তারা একে অপরের দিকে তাকায় আর ইশারায় জিজ্ঞাসা করে ‘তোমাদেরকে কেউ লক্ষ্য করতেছে কি ?’ তারপর তারা সরে পড়ে। আল্লাহ্ তাদের হৃদয়কে সত্যবিমুখ করেছেন, কারণ তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদের বোধশক্তি নেই। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যখনই কোন সূরা নাযিল করা হয়, তারা একে অপরের দিকে তাকায়। (এবং বলে) ‘তোমাদেরকে কি কেউ দেখছে’? অতঃপর তারা (চুপিসারে) প্রস্থান করে। আল্লাহ তাদের হৃদয়কে সত্যবিমুখ করে দেন। এ কারণে যে, তারা বোধশক্তিহীন কওম।আল-বায়ান

যখনই কোন সূরাহ নাযিল হয় তখনই তারা পরস্পরে চোখ চাওয়া-চাওয়ি করে আর (ইঙ্গিতে জিজ্ঞেস করে) ‘তোমাদেরকে কেউ দেখছে না তো?’’ অতঃপর তারা চুপিসারে সরে পড়ে। আল্লাহ তাদের অন্তরকে (সত্য পথ থেকে) ফিরিয়ে দিয়েছেন, কেননা তারা এমনই এক সম্প্রদায় যারা বুঝে না।তাইসিরুল

আর যখনই কোনো সূরা অবতীর্ণ হয় তাদের কেউ কেউ অন্যের দিকে তাকায় -- "কেউ কি তোমাদের দেখছে?" তারপর তারা সরে পড়ে। আল্লাহ্ তাদের হৃদয়কে সত্যবিমুখ করেছেন যেহেতু তারা নিঃসন্দেহ এমন এক দল যারা বুঝতে চায় না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১২৬

নিয়ম ছিল, কোন সূরা নাযিল হওয়ার সাথে সাথেই নবী (সা.) মুসলমানদের সম্মেলন আহবান করতেন তারপর সাধারণ সভায় ভাষণের আকারে সূরাটি পড়ে শুনাতেন। এ ধরনের মহফিলে ঈমানদাররা পূর্ণ মনোযোগ সহকারে ভাষণ শুনতেন এবং তার মধ্যে ডুবে যেতেন। কিন্তু মুনাফিকদের ওপর এর ভিন্নতর প্রভাব পড়তো। হাযির হওয়ার হুকুম ছিল বলে তার হাযির হয়ে যেতো। তাছাড়া মাহফিলে শরীক না হলে তাদের মুনাফিকী প্রকাশ হয়ে যাবে, একথা মনে করেও তারা সম্মেলনে হাযির হতো। কিন্তু এ ভাষণের ব্যাপারে তাদের মনে কোন আগ্রহ জাগতো না। অত্যন্ত অনীহা ও বিরক্তি সহকারে তারা সেখানে বসে থাকতো। নিজেদের উপস্থিতি গণ্য করাবার পর তাদের চিন্তা হতো, কিভাবে দ্রুত এখান থেকে পালাবে। তাদের এ অবস্থার চিত্র এখানে আঁকা হয়েছে।

১২৭

অর্থাৎ এ নির্বোধরা নিজেরাই নিজেদের স্বার্থ বুঝে না। নিজেদের কল্যাণের ব্যাপারে তারা গাফেল এবং নিজেদের ভালর কথা চিন্তা করে না। তারা যে এ কুরআন ও এ পয়গম্বরের মাধ্যমে কত বড় নিয়ামত লাভ করেছে তার কোন অনুভূতিই তাদের নেই। নিজেদের সংকীর্ণ জগত এবং এর নিতান্ত নিম্ন পর্যায়ের কার্যকলাপের মধ্যে তারা কুয়ার ব্যাঙের মতো ডুবে আছে। যার ফলে যে মহা জ্ঞান ও অতি উন্নত পর্যায়ের পথ নির্দেশনার বদৌলতে তারা আরবের এ মরু প্রান্তরের সংকীর্ণ অন্ধকারাচ্ছান্ন গর্ত থেকে বের হয়ে সমগ্র বিশ্ব মানবতার নেতা ও সর্বাধিনায়কে পরিণত হতে পারে এবং শুধুমাত্র এ নশ্বর দুনিয়াতেই নয় বরং পরবর্তী অনন্তকালীণ অবিনশ্বর জীবনেও চিরন্তন সাফল্য লাভ করতে সক্ষম হয়, সেই জ্ঞান ও শিক্ষার মূল্য ও মর্যাদা তারা বুঝতে পারে না। এ অজ্ঞতা ও নির্বুদ্ধিতার স্বাভাবিক ফলশ্রুতিতে আল্লাহ‌ লাভবান হবার সুযোগ থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করেছেন। যখন কল্যাণ ও সাফল্য এবং শক্তি ও শ্রেষ্ঠত্বের এ সম্পদ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়ে থাকে এবং সৌভাগ্যবানরা দু'হাতে তা লুটতে থাকে তখন এ দুর্ভাগাদের মন অন্য কোন দিকে বাধা পড়ে এবং এ অবসরে কত বড় মহামূল্যবান সম্পদ থেকে যে তারা বঞ্চিত হয়ে গেছে তা তারা ঘুণাক্ষরেও জানতে পারে না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

আসল কথা, আল্লাহ তাআলার কালামের প্রতি তাদের ছিল চরম বিদ্বেষ। তাই তাদের কামনা ও চেষ্টা থাকত, যাতে কখনও তা শোনার অবকাশ না আসে। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মজলিসে যখন নতুন কোন সূরা তিলাওয়াত করতেন, তখন তারা পালানোর চেষ্টা করত। কিন্তু সকলের সম্মুখ দিয়ে উঠে গেলে পাছে তাদের গোমর ফাঁস হয়ে যায়, তাই একে অন্যকে চোখের ইশারায় বলত, এমন কোনও সুযোগ খোঁজ, যখন কোনও মুসলিম তোমাদেরকে দেখছে না আর সেই অবকাশে চুপিসারে উঠে যাও।

তাফসীরে জাকারিয়া

১২৭. আর যখনই কোন সূরা নাযিল হয়, তখন তারা একে অপরের দিকে তাকায় এবং জিজ্ঞেস করে, তোমাদেরকে কেউ লক্ষ্য করছে কি? তারপর তার সরে পড়ে। আল্লাহ তাদের হৃদয়কে সত্যবিমুখ করে দেন; কারণ তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা ভালভাবে বোঝে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১২৭) আর যখন কোন সূরা অবতীর্ণ করা হয়, তখন তারা একে অপরের দিকে তাকাতে থাকে (এবং ইঙ্গিতে বলে); ‘তোমাদেরকে কেউ দেখছে না তো?’ অতঃপর তারা ফিরে যায়;(1) আল্লাহ তাদের অন্তরকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। কারণ, তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদের বোধশক্তি নেই। (2)

(1) অর্থাৎ তাদের উপস্থিতিতে যখন এমন সূরা অবতীর্ণ হয়, যাতে মুনাফিকদের বদমায়েশি ও চক্রান্তের দিকে ইঙ্গিত থাকে, তখন তারা একে অন্যের দিকে তাকাতাকি করে চুপি চুপি কেটে পড়ে, ইঙ্গিতে অথবা মনে মনে বলে, মুসলিমদের কেউ তোমাদেরকে দেখছে না তো?

(2) অর্থাৎ আল্লাহর আয়াত নিয়ে চিন্তা-ভাবনা না করার কারণে আল্লাহ তাআলা তাদের অন্তরকে কল্যাণ ও হিদায়াত-বিমুখ করে দিয়েছেন।