ٱلَّذِينَ عَٰهَدتَّ مِنۡهُمۡ ثُمَّ يَنقُضُونَ عَهۡدَهُمۡ فِي كُلِّ مَرَّةٖ وَهُمۡ لَا يَتَّقُونَ

আল্লাযীনা ‘আ-হাততা মিনহুম ছু ম্মা ইয়ানকু দূ না ‘আহদাহুম ফী কুল্লি মাররতিওঁ ওয়া হুম লা-ইয়াত্তাকূন।উচ্চারণ

(বিশেষ করে) তাদের মধ্য থেকে এমন সব লোক যাদের সাথে তুমি চুক্তি করছো, তারপর তারা প্রত্যেকবার তা ভঙ্গ করে এবং একটুও আল্লাহর ভয় করে না। ৪১ তাফহীমুল কুরআন

(তারা) সেই সকল লোক, যাদের থেকে তুমি প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলে। তা সত্ত্বেও তারা প্রতিবার নিজ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এবং তারা বিন্দুমাত্র ভয়করে না। #%৩৯%#মুফতী তাকী উসমানী

ওদের মধ্যে যাদের সাথে তুমি চুক্তিবদ্ধ হয়েছ তারাও নিকৃষ্ট, তারা প্রতিবারেই কৃত চুক্তি ভঙ্গ করেছে, (চুক্তি ভঙ্গের ব্যাপারে আল্লাহকে কিছুমাত্র) তারা ভয় করেনা।মুজিবুর রহমান

যাদের সাথে তুমি চুক্তি করেছ তাদের মধ্য থেকে অতঃপর প্রতিবার তারা নিজেদের কৃতচুক্তি লংঘন করে এবং ভয় করে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এদের মধ্যে তুমি যাদের সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ, তারা প্রত্যেকবার তাদের চুক্তি ভঙ্গ করে ও তারা সাবধান হয় না; ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাদের থেকে তুমি অঙ্গীকার নিয়েছ, অতঃপর তারা প্রতিবার তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে এবং তারা ভয় করে না।আল-বায়ান

তাদের মধ্যে (বিশেষভাবে নিকৃষ্ট তারা) তুমি যাদের সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হও, অতঃপর তারা সে চুক্তি প্রত্যেকবার ভঙ্গ করে আর তারা (আল্লাহকে) ভয় করে না।তাইসিরুল

ওদের মধ্যে যাদের সঙ্গে তুমি চুক্তি সম্পাদন করো, -- তারপর তারা তাদের চুক্তি প্রত্যেক বারেই ভঙ্গ করে, আর তারা ভয়ভক্তি করে না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪১

এখানে বিশেষভাবে ইহুদীদের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। মদীনা তাইয়েবায় আসার পর নবী ﷺ সর্বপ্রথম তাদের সাথেই সৎ প্রতিবেশী সুলভ জীবন-যাপন ও পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতার চুক্তি করেছিলেন। তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পূর্ণ প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। তাছাড়া ধর্মীয় দিক দিয়েও তিনি ইহুদীদেরকে মুশরিকদের তুলনায় নিজের অনেক কাছের মনে করতেন। প্রত্যেক ব্যাপারেই তিনি মুশরিকদের মোকাবিলায় আহলি কিতাবদের মত ও পথকে অগ্রাধিকার দিতেন। কিন্তু নবী ﷺ নির্ভেজাল তাওহীদ ও সৎ চরিত্র নীতি সংক্রান্ত যেসব কথা প্রচার করে চলছিলেন, বিশ্বাস ও কর্মের গোমরাহীর বিরুদ্ধে যে সমালোচনা করে চলছিলেন এবং সত্য দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য যে প্রচেষ্ঠা ও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছিলেন, ইহুদীদের উলামা ও মাশায়েখ গোষ্ঠী তা একটুও পছন্দ করতো না। এ নতুন আন্দোলন যাতে কোনভাবেই সাফল্য লাভ করতে না পারে সেজন্য তারা অনবরত ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছিল। এ উদ্দেশ্যে তারা মদীনার মুনাফিক মুসলমানদের সাথে মিলে চক্রান্ত করে চলছিল। এ উদ্দেশ্যেই তারা আওস ও খাযরাজ বংশীয় লোকদের যেসব পুরাতন শত্রুতা ইসলাম পূর্বযুগে তাদের মধ্যে খুনাখুনি ও হানাহানির কারণ হতো, সেগুলোকে উৎসাহিত ও উত্তেজিত করতো। এ উদ্দেশ্যেই কুরাইশ ও অন্যান্য ইসলাম বিরোধী গোত্রগুলোর সাথে তাদের গোপন যোগসাজস চলছিল। নবী (সা.) ও তাদের মধ্যে যে মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তা সত্ত্বেও এসব কাজ করে চলছিল। যখন বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হলো, শুরুতে তারা আশা করেছিল, কুরাইশদের প্রথম আঘাতেই এই আন্দোলনের মৃত্যু ঘণ্টা বেজে উঠবে। কিন্তু ফলাফল দেখা গেলো তাদের প্রত্যাশার বিপরীত। এ অবস্থায় তাদের অন্তরে আরো বেশী করে জ্বলে উঠলো হিংসার আগুন। বদরের বিজয় যাতে ইসলামের শক্তিকে একটি স্থায়ী ‘বিপদে’ পরিণত না করে দেয় এআশঙ্কায় তারা নিজেদের বিরোধীতামূলক প্রচেষ্টা আরো বেশী জোরদার করে দিল। এমনকি একজন নেতা কা’ব ইবনে আশরাফ (কুরাইশদের পরাজয়ের খবর শুনে যে ব্যক্তি চিৎকার করে বলে উঠেছিল, আজ যমীনের পেট তার পিঠের চেয়ে আমাদের জন্য অনেক ভাল) নিজে মক্কা গেলো। সেখানে সে উদ্দীপনাময় শোক গীতি গেয়ে কুরাইশদের অন্তরে প্রতিশোধ স্পৃহা জাগিয়ে তুলতে থাকলো। এখানেই তারা ক্ষান্ত হলো না। ইহুদীদের বনী কাইনুকা গোত্র সৎ প্রতিবেশী সুলভ বসবাসের চুক্তি ভঙ্গ করে তাদের জনবসতিতে যেসব মুসলমান মেয়ে কোন কাজে যেতো, তাদেরকে উত্যক্ত ও উৎপীড়ন করতে শুরু করলো। নবী ﷺ যখন তাদের এ অন্যায় কার্যকলাপের জন্য তাদের তিরস্কার করলেন তখন তারা জবাবে হুমকি দিলঃ “আমাদের মক্কার কুরাইশ মনে করো না। আমরা যুদ্ধ করতে ও যুদ্ধ ক্ষেত্রে প্রাণ দিতে জানি। আমাদের মোকাবিলায় যুদ্ধ ক্ষেত্রে নামলে তোমরা টের পাবে, পুরুষ কাকে বলে।”

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এর দ্বারা মদীনার আশেপাশে বসবাসকারী ইয়াহুদীদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চুক্তি হয়েছিল যে, তারা ও মুসলিমগণ পরস্পর শান্তিতে সহাবস্থান করবে। একে অন্যের শত্রুর সহযোগিতা করবে না। কিন্তু ইয়াহুদীরা এ চুক্তি বার বার ভঙ্গ করেছে এবং তারা গোপনে মক্কার কাফেরদের সাথে যোগসাজশে রত থেকেছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৫৬. যাদের থেকে আপনি অঙ্গীকার নিয়েছেন, তারপর তারা প্রত্যেকবার তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে।(১) আর তারা তাকওয়া অবলম্বন করে না।(২)

(১) অর্থাৎ যারা কুফরী, বেঈমানী ও খিয়ানত এ তিনটি বদঅভ্যাসের সমাহার নিজেদের মধ্যে ঘটিয়েছে, তারা কোন অঙ্গীকারের মূল্য দিবে না, কোন কথা রাখবে না। তারা হচ্ছে বিচরণশীল প্রাণীদের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট প্রাণী। তারা গাধা ও কুকুর ইত্যাদির চেয়েও বেশী নিকৃষ্ট। তাদের মধ্যে কল্যাণের আশা করা বৃথা। সুতরাং তাদেরকে সমূলে উৎপাটন করাই শ্ৰেয়। যাতে করে তাদের রোগ অন্যদের মধ্যে প্রসারিত না হয়। (সা’দী) এ আয়াতটি মদীনার ইয়াহুদী বনু-কুরাইযা সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। (তাবারী)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনার ইয়াহুদীদের সাথে এক চুক্তি করেছিলেন। চুক্তির পূর্ণ ভাষ্য ইবন কাসীর এর ‘আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ’ গ্রন্থে এবং ‘সীরাত ইবন হিশাম’ প্রভৃতি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ রয়েছে। বস্তুত এর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এই যে, মদীনার ইয়াহুদীগণ মুসলিমদের বিরুদ্ধে কোন শক্রকে প্রকাশ্য কিংবা গোপন সাহায্য করবে না। কিন্তু তারা এ চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেনি।

(২) অর্থাৎ চুক্তি ভংগের ব্যাপারে সামান্যতম তাকওয়াও দেখায় না। চুক্তি লঙ্ঘনকারী লোকদের যে অশুভ পরিণতি হয়ে থাকে সে ব্যাপারে তারা মোটেই সাবধান হয় না। চুক্তি ভঙ্গ হয় এমন কোন কিছু করতে তারা মোটেই পিছপা হয় না। (ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫৬) ওদের মধ্যে তুমি যাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ, তারা প্রত্যেকবার তাদের চুক্তি ভঙ্গ করে এবং তারা সাবধান হয় না। (1)

(1) এখানে কাফেরদেরই একটা খারাপ অভ্যাস বর্ণনা করা হয়েছে যে, প্রত্যেকবার তারা চুক্তি ভঙ্গ করে এবং তার মন্দ পরিণাম হতে একটুকুও ভয় করে না। কেউ কেউ এ থেকে ইয়াহুদী গোত্র বানু কুরাইযাকে বুঝিয়েছেন। যাদের সাথে রসূল (সাঃ)-এর চুক্তি ছিল যে, তারা কাফেরদের কোন প্রকার মদদ করবে না। কিন্তু তারা সে চুক্তি রক্ষা করেনি।