وَقَالَ ٱلۡمَلَأُ مِن قَوۡمِ فِرۡعَوۡنَ أَتَذَرُ مُوسَىٰ وَقَوۡمَهُۥ لِيُفۡسِدُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَيَذَرَكَ وَءَالِهَتَكَۚ قَالَ سَنُقَتِّلُ أَبۡنَآءَهُمۡ وَنَسۡتَحۡيِۦ نِسَآءَهُمۡ وَإِنَّا فَوۡقَهُمۡ قَٰهِرُونَ

ওয়া ক-লাল মালাউ মিন কাওমি ফির‘আওনা আতাযারু মূছা-ওয়া কাওমাহূলিইউফছিদূ ফিল আরদিওয়া ইয়াযারকা ওয়া আ-লিহাতাকা ক-লা ছানুকাত্তিলুআবনাআহুম ওয়া নাছতাহঈ নিছাআহুম, ওয়া ইন্না-ফাওকাহুম ক-হিরূন।উচ্চারণ

ফেরাউনকে তার জাতির প্রধানরা বললোঃ “তুমি কি মূসা ও তার জাতিকে এমনিই ছেড়ে দেবে যে, তারা দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়াক এবং তোমার ও তোমার মাবুদের বন্দেগী পরিত্যাগ করুক?” ফেরআউন জবাব দিলঃ “আমি তাদের পুত্রদের হত্যা করবো এবং তাদের কন্যাদের জীবিত রাখবো। ৯৩ আমরা তাদের ওপর প্রবল কর্তৃত্বের অধিকারী।” তাফহীমুল কুরআন

ফির‘আউনের কওমের নেতৃবর্গ (ফির‘আউনকে) বলল, আপনি কি মূসা ও তার সম্প্রদায়কে ছেড়ে দিবেন, যাতে তারা (অবাধে) পৃথিবীতে অশান্তি বিস্তার করতে এবং আপনাকে ও আপনার উপাস্যদেরকে বর্জন করতে পারে? #%৬৩%# সে বলল, আমরা তাদের পুত্রদেরকে হত্যা করব এবং তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখব, আর তাদের উপর তো আমাদের পরিপূর্ণ ক্ষমতা আছেই।মুফতী তাকী উসমানী

ফির‘আউন সম্প্রদায়ের সর্দাররা তাকে বললঃ তুমি কি মূসা ও তার সম্প্রদায়কে রাজ্যে অশান্তি ও বিপর্যয় সৃষ্টির জন্য মুক্ত ছেড়ে দিবে এবং তোমাকে ও তোমার দেবতাদেরকে বর্জন করে চলার সুযোগ দিবে? সে বললঃ আমি তাদের সন্তানদের হত্যা করব এবং তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখব, তাদের উপর আমাদের শক্তি ও ক্ষমতা প্রবল ও সুপ্রতিষ্ঠিত রয়েছে।মুজিবুর রহমান

ফেরাউনের সম্প্রদায়ের র্সদাররা বলল, তুমি কি এমনি ছেড়ে দেবে মূসা ও তার সম্প্রদায়কে। দেশময় হৈ-চৈ করার জন্য এবং তোমাকে ও তোমার দেব-দেবীকে বাতিল করে দেবার জন্য। সে বলল, আমি এখনি হত্যা করব তাদের পুত্র সন্তানদিগকে; আর জীবিত রাখব মেয়েদেরকে। বস্তুতঃ আমরা তাদের উপর প্রবল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ফির‘আওন সম্প্রদায়ের প্রধানরা বলল, ‘আপনি কি মূসাকে ও তার সম্প্রদায়কে রাজ্যে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে এবং আপনাকে ও আপনার দেবতাদেরকে বর্জন করতে দিবেন ?’ সে বলল, ‘আমরা তাদের পুত্রদের হত্যা করব আর তাদের নারীদের জীবিত রাখিব আর আমরা তো তাদের ওপর প্রবল।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর ফির‘আউনের কওমের সভাসদগণ বলল, ‘আপনি কি মূসা ও তার কওমকে ছেড়ে দেবেন যাতে তারা যমীনে ফাসাদ করে এবং আপনাকে ও আপনার উপাস্যগুলোকে বর্জন করে?’ সে বলল, ‘আমরা অতিসত্বর তাদের ছেলেদেরকে হত্যা করব আর মেয়েদেরকে জীবিত রাখব। আর নিশ্চয় আমরা তাদের উপর ক্ষমতাবান।’আল-বায়ান

ফির‘আওন গোষ্ঠীর সরদারগণ বলল, ‘আপনি কি মূসা আর তার জাতির লোকেদেরকে যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করার জন্য ছেড়ে দেবেন আর দেবেন আপনাকে আর আপনার মা‘বূদদেরকে বর্জন করতে?’ সে বলল, ‘আমি তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা করব আর তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখব, আমরা তাদের উপর অপ্রতিরোধ্য।’তাইসিরুল

আর ফিরআউনের লোকদের প্রধানরা বললে -- "আপনি কি মূসাকে ও তার লোকদের ছেড়ে দেবেন দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে এবং আপনাকে এবং আপনার দেবতাদের পরিত্যাগ করতে?" সে বললে -- "আমরা তাদের পুত্রদের অবশ্যই হত্যা করবো আর তাদের কন্যাদের বাঁচতে দেবো, আর আমরা আলবৎ তাদের উপরে প্রতাপশালী।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৯৩

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, হযরত মূসা (আ) এর জন্মের পূর্বে দ্বিতীয় রামেসাসের আমলে নির্যাতনের একটা যুগ অতিবাহিত হয়। আর নির্যাতনের দ্বিতীয় যুগটি শুরু হয় হযরত মূসার নবুওয়াত লাভের পর। এ উভয় যুগেই বনী ইসরাঈলদের ছেলেদের হত্যা করা এবং মেয়েদেরকে জীবিত রাখা হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে তাদের বংশধারা বিলুপ্ত করার এবং এ জাতিটিকে অন্যজাতির মধ্যে বিলীন করে দেবার ব্যবস্থা করা হয়। ১৮৯৬ সালে প্রাচীন মিসরের ধ্বংসাবশেষ খনন করার সময় সম্ভবত এ যুগেরই একটি শিলালিপি পাওয়া যায়। তাতে এ মিনফাতাহ ফিরাউন নিজের কৃতিত্ব ও বিজয় ধারা বর্ণনা করার পর লিখেছে, “আর ইসরাঈলকে বিলুপ্ত করে দেয়া হয়েছে। তার বীজও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।”‍‍‍‌ (আরো জানার জন্য পড়ুন সূরা আল মু’মিনূন ২৫ আয়াত)।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অনুমান করা যায়, যে সকল যাদুকর ঈমান এনেছিল ফির‘আউন তাদেরকে শাস্তির হুমকি দিলেও হযরত মূসা আলাইহিস সালামের মুজিযা এবং যাদুকরদের ঈমান ও অবিচলতা দেখে মানসিকভাবে দমে গিয়েছিল। বিশেষত বনী ইসরাঈলের বিপুল সংখ্যক লোক ঈমান আনায় তাৎক্ষণিকভাবে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ও তার অনুসারীদের উপর হাত তোলার সাহস তার হয়নি। সমাবেশ ভেঙ্গে যাওয়ার পর হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর অনুসারীগণ নিজ-নিজ বাড়ি চলে গেল। এ সময়েই ফির‘আউনের অমাত্যবর্গ ওই কথা বলেছিল, যা আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। তাদের কথার সারমর্ম এই যে, আপনি তো ওদেরকে স্বাধীন ছেড়ে দিলেন। এখন দিন-দিন শক্তি সঞ্চয় করে ওরা আপনার জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠবে। ফির‘আউন নিজ অপমান লুকানোর জন্য তাদেরকে উত্তর দিল, আপাতত আমি তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ না করলেও আগামীতে আমি তাদের দেখে নেব। আমি বনী ইসরাঈলকে এক-একজন করে খতম করব। তবে তাদের নারীদেরকে হত্যা করব না। তাদেরকে আমাদের সেবিকা বানাব। সে তার লোকদেরকে এ ব্যাপারেও আশ্বস্ত করল যে, পরিবেশ-পরিস্থিতি তার করায়ত্ত রয়েছে এবং তার কর্ম-কৌশল এমন নিখুঁত যে, কোনও রকম বিপদ সৃষ্টিরও আশঙ্কা নেই। এভাবে বনী ইসরাঈলের পুরুষদেরকে হত্যা করার এক নতুন যুগ শুরু হয়ে গেল। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম এ পরিস্থিতিতে মুমিনদেরকে সবর করতে বললেন এবং আশা দিলেন যে, ইনশাআল্লাহ শুভ পরিণাম তোমাদেরই অনুকূলে থাকবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

১২৭. আর ফিরআউন সম্প্রদায়ের নেতারা বলল, আপনি কি মূসা ও তার সম্প্রদায়কে যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে এবং আপনাকে ও আপনার উপাস্যদেরকে(১) বর্জন করতে দেবেন? সে বলল, শীঘ্রই আমরা তাদের পুত্রদেরকে হত্যা করব এবং তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখব। আর নিশ্চয়ই আমরা তাদের উপর শক্তিধর।(২)

(১) এ কালেমায় দুটি কেরাআত আছে, (এক) وَآلِهَتَكَ অর্থাৎ আপনার মা’বুদদেরকে। তখন এর অর্থ হবেঃ ফিরআউন নিজে ইলাহ হওয়ার দাবী করলেও তার আরও কিছু মা’বুদ ছিল। তার জাতির নেতা শ্রেণীর লোকেরা বলতে লাগল যে, কিভাবে এরা আপনাকে এবং আপনার মা’বুদদের ইবাদত ত্যাগ করার মত দুঃসাহস দেখাতে পারে? (দুই) وإلاهتك অর্থাৎ আপনার ইবাদতকে। তখন এর অর্থ হবেঃ ফিরআউন আর কোন মা’বুদের ইবাদত করত না, বরং তার জাতির নেতা গোছের লোকেরা তাকে এ বলে উস্কাতে লাগল যে, তাদের কেমন সাহস যে, তারা আপনার ইবাদতকে ত্যাগ করতে পারে? (তাবারী; ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)

(২) ফিরআউনের সভাষদ নেতা গোছের লোকেরা ফিরআউনকে বলল যে, তাহলে কি তুমি মূসা এবং তার সম্প্রদায়কে এমনি ছেড়ে দেবে, যাতে তোমাকে এবং তোমার উপাস্যদেরকে পরিহার করে দেশময় দাঙ্গা-ফাসাদ করতে থাকবে? এতে বাধ্য হয়ে ফিরআউন বললঃ তার বিষয়টি আমাদের পক্ষে তেমন চিন্তার বিষয় নয়। আমরা তাদের জন্য এই ব্যবস্থা নেব যে, তাদের মধ্যে কোন পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করলে তাকে হত্যা করব শুধু কন্যা-সন্তানদের বাঁচতে দেব। যার ফলে কিছুকালের মধ্যেই তাদের জাতি পুরুষশূন্য হয়ে পড়বে; থাকবে শুধু নারী আর নারী। আর তারা হবে আমাদের সেবাদাসী। তাছাড়া তাদের উপর তো আমাদের পরিপূর্ণ ক্ষমতা রয়েছেই; যা ইচ্ছা তাই করব। এরা আমাদের কোন ক্ষতিই করতে পারবে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১২৭) ফিরআউন সম্প্রদায়ের প্রধানগণ বলল, ‘আপনি কি মূসাকে ও তার সম্প্রদায়কে রাজ্যে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে(1) এবং আপনাকে ও আপনার দেবতাগণকে বর্জন করতে সুযোগ দেবেন?’ (2) সে বলল, ‘আমরা তাদের পুত্র-সন্তানদেরকে হত্যা করব এবং তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখব। আর আমরা তো তাদের উপর প্রতাপশালী।’ (3)

(1) এটিই হল প্রত্যেক যুগের ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের অভ্যাস যে, তারা আল্লাহর নেক বান্দাদেরকে ফাসাদ সৃষ্টিকারী এবং ঈমান ও তাওহীদের দাওয়াতকে ফাসাদ, অশান্তি বা বিপর্যয় বলে অভিহিত করে। ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়ের প্রধানগণও তাই বলল।

(2) ফিরআউন যদিও রব (প্রভু বা প্রতিপালক) হওয়ার কথা দাবী করত; সে বলত ‘আনা রাব্বুকুমুল আ’লা’ (আমি তোমাদের বড় রব) কিন্তু তাদের অন্য ছোট ছোট দেবতাও ছিল, যাদের মাধ্যমে তারা ফিরআউনের নৈকট্য লাভ করত। অন্য ক্বিরাআত অনুযায়ী وَيَذَرَكَ وَإلَهَتَكَ অর্থাৎ, আপনাকে ও আপনার উপাসনা বর্জন করতে সুযোগ দেবেন?

(3) অর্থাৎ, আমার এই রাজ্য-ব্যবস্থায় এরা বাধা দিতে পারবে না। পুত্র-সন্তানদের হত্যা করার পরিকল্পনা ফিরআউনের লোকের কথায় করা হয়েছিল। এর পূর্বেও যখন মূসার জন্ম হয়নি, তখন জন্মের পর মূসাকে শেষ করার জন্য বানী ইস্রাঈলদের নবজাতক পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা করা হয়েছিল। মহান আল্লাহ শিশু মূসার জন্মের পর তাঁকে বাঁচানোর জন্য এই পরিকল্পনা করলেন যে, মূসাকে স্বয়ং ফিরআউনের রাজপ্রাসাদে পৌঁছে দিয়ে তার তত্ত্বাবধানেই লালিত-পালিত করলেন। فللّه المكر جميعًا