ওয়ামা-তানকিমুমিন্না ইল্লাআন আ-মান্না-বিআ-য়া-তি রব্বিনা-লাম্মা-জাআতনা- রব্বানা-আফরিগ ‘আলাইনা-সাবরওঁ ওয়াতাওয়াফফানা-মুছলিমীন।উচ্চারণ
তুমি যে ব্যাপারে আমাদের ওপর প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছো, তা এছাড়া আর কিছুই নয় যে, আমাদের রবের নিদর্শসমূহ যখন আমাদের সামনে এসেছে তখন আমরা তা মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব! আমাদের সবর দান করো এবং তোমার আনুগত্য থাকা অবস্থায় আমাদের দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নাও।” ৯২ তাফহীমুল কুরআন
তুমি কি রুষ্ট হচ্ছ কেবল আমাদের এ কাজের দরুণই যে, যখন আমাদের কাছে আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী এসে গেল তখন আমরা তাতে ঈমান এনেছি? হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উপর সবর ঢেলে দাও এবং (তোমার) তাবেদাররূপে আমাদের মৃত্যু দান কর।মুফতী তাকী উসমানী
তুমি আমাদের মধ্যে এছাড়া কোনই দোষ পাচ্ছনা যে, আমাদের কাছে যখন আমাদের রবের নিদর্শনাবলী এসে গেল তখন আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের রাব্ব! আমাদেরকে ধৈর্য দান করুন এবং মুসলিম রূপে আমাদের মৃত্যু দান করুন!মুজিবুর রহমান
বস্তুতঃ আমাদের সাথে তোমার শত্রুতা তো এ কারণেই যে, আমরা ঈমান এনেছি আমাদের পরওয়ারদেগারের নিদর্শনসমূহের প্রতি যখন তা আমাদের নিকট পৌঁছেছে। হে আমাদের পরওয়ারদেগার আমাদের জন্য ধৈর্য্যের দ্বার খুলে দাও এবং আমাদেরকে মুসলমান হিসাবে মৃত্যু দান কর।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘তুমি তো আমাদেরকে শাস্তি দিচ্ছো শুধু এজন্যে যে, আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শনে ঈমান এনেছি যখন তা আমাদের নিকট এসেছে। হে আমাদের প্রতিপালক ! আমাদেরকে ধৈর্য দান কর আর মুসলমানরূপে আমাদেরকে মৃত্যু দাও।’ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তুমি আমাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করছ শুধু এ কারণে যে, আমরা আমাদের রবের আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান এনেছি, যখন তা আমাদের কাছে এসেছে। হে আমাদের রব, আমাদেরকে পরিপূর্ণ ধৈর্য দান করুন এবং মুসলিম হিসাবে আমাদেরকে মৃত্যু দান করুন।’আল-বায়ান
তুমি আমাদের উপর প্রতিশোধ নিচ্ছ শুধু এ কারণে যে, আমাদের কাছে যখন আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শন এসেছে তখন আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ধৈর্য ও দৃঢ়তা অবলম্বনের গুণে অভিষিক্ত কর আর মুসলমান হিসেবে আমাদের মৃত্যু দান কর।তাইসিরুল
আর তুমি আমাদের উপরে প্রতিহিংসা নিচ্ছ না শুধু এজন্য ছাড়া যে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি আমাদের প্রভুর নির্দেশাবলীতে যখন সে-সব আমাদের কাছে এসেছিল। 'আমাদের প্রভু! আমাদের উপরে ধৈর্য বর্ষণ করো, আর আমাদের মৃত্যু ঘটাও মুসলিমরূপে।মাওলানা জহুরুল হক
৯২
পরিস্থিতি পাল্টে যেতে দেখে ফেরাউন তার শেষ চালটি চাললো। সে এই সমগ্র ব্যাপারটিকে হযরত মূসা (আ) ও যাদুকরদের ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করলো, তারপর যাদুকরদেরকে শারীরিক নির্যাতন ও হত্যার হুমকি দিয়ে তাদের থেকে নিজের এ দোষারোপের স্বীকৃতি আদায় করার চেষ্টা করলো। কিন্তু এবারে এ চালটিরও উল্টো ফল হলো। যাদুকররা নিজেদেরকে সব রকমের শাস্তির জন্য পেশ করে একথা প্রমাণ করে দিল যে, মূসা (আ) কে সত্য বলে স্বীকার করা ও তাঁর ওপর তাদের ঈমান আনাটা কোন ষড়যন্ত্রের নয় বরং সত্যের অকুণ্ঠ স্বীকৃতির ফল। কাজেই তখন সত্য ও ইনসাফের যে প্রহসন সে সৃষ্টি করতে চাচ্ছিল, তা পরিহার করে সোজাসুজি জুলুম ও নির্যাতনের পথে এগিয়ে আসা ছাড়া তার আর কোন গত্যন্তর ছিল না।
এ প্রসঙ্গে এ বিষয়টিও বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য যে, মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ঈমানের স্ফুলিংগ যাদুকরদের চরিত্রে কি বিরাট পরিবর্তন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিল! মাত্র কিছুক্ষণ আগেই এ যাদুকরদের কী দাপট ছিল! নিজেদের পৈতৃক ধর্মের সাহায্যার্থে তারা নিজ নিজ গৃহ থেকে বের হয়ে এসেছিল। তারা ফেরাউনকে জিজ্ঞেস করছিল, আমরা যদি মূসার আক্রমণ থেকে নিজেদের ধর্মকে রক্ষা করতে পারি তাহলে সরকার আমাদের পুরস্কৃত করবে তো? আর এখন ঈমানের নিয়ামত লাভ করার পর তাদেরই সত্যপ্রীতি, সত্যনিষ্ঠা ও দৃঢ়তা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে, মাত্র কিছুক্ষণ আগে যে বাদশাহর সামনে তারা লোভীর মত দু'হাত পেতে দিয়েছিল, এখন তার প্রতাপ প্রতিপত্তি ও দর্পকে নির্ভয়ে পদাঘাত করতে লাগলো। সে যে ভয়াবহ শাস্তি দেবার হুমকি দিচ্ছিল তা বরদাশত করার জন্য তারা তৈরী হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যে সত্যের দরজা তাদের সামনে উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল প্রাণের বিনিময়েও তাকে পরিত্যাগ করতে তারা প্রস্তুত ছিল না।
১২৬. আর তুমি তো আমাদেরকে শাস্তি দিচ্ছ শুধু এ জন্যে যে, আমরা আমাদের রবের নিদর্শনে ঈমান এনেছি যখন তা আমাদের কাছে এসেছে। হে আমাদের রব! আমাদেরকে পরিপূর্ণ ধৈর্য দান করুন এবং মুসলিমরূপে আমাদেরকে মৃত্যু দিন।
(১২৬) তুমি তো আমাদের উপর দোষারোপ করছ শুধু এ জন্য যে, আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শনসমূহ যখন আমাদের নিকট এসেছে, তখন আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি।(1) হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ধৈর্য দান কর(2) এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)রূপে আমাদের মৃত্যু ঘটাও।’ (3)
(1) তোমার নিকট আমাদের এটিই দোষ, যার কারণে তুমি আমাদের উপর অসন্তুষ্ট আর আমাদের শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর হয়েছ। যদিও এটা কোন দোষ নয়; বরং এটি একটি সদগুণ যে, যখন সত্য আমাদের সামনে প্রকাশ হয়ে গেছে, তখন তার পরিবর্তে পার্থিব সকল স্বার্থকে ত্যাগ করে সত্যকে গ্রহণ করেছি। অতঃপর তারা ফিরআউনের সাথে কথা শেষ করে মহান আল্লাহকে সম্বোধন করে তাঁর দরবারে দু’আ করতে লাগল।
(2) যাতে আমরা তোমার এই শত্রুর শাস্তিকে সহ্য করে নিতে পারি এবং হক ও ঈমানের উপর সুদৃঢ় থাকতে পারি।
(3) এই পার্থিব পরীক্ষায় যেন আমরা ঈমানকে হাত ছাড়া না করি বা অন্য কোন ফিতনায় না পড়ি।