وَقَالَ ٱلۡمَلَأُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِن قَوۡمِهِۦ لَئِنِ ٱتَّبَعۡتُمۡ شُعَيۡبًا إِنَّكُمۡ إِذٗا لَّخَٰسِرُونَ

ওয়া ক-লাল মালাউল্লাযীনা কাফারূমিন কাওমিহী লাইনিততাবা‘তুম শু‘আইবান ইন্নাকুম ইযাল লাখা-ছিরূন।উচ্চারণ

তার সম্প্রদায়ের প্রধানরা, যারা তার কথা মেনে নিতে অস্বীকার করেছিল, পরস্পরকে বললোঃ “যদি তোমরা শো'আইবের আনুগত্য মেনে নাও, তাহলে ধ্বংস হয়ে যাবে।” ৭৪ তাফহীমুল কুরআন

তার সম্প্রদায়ের সর্দারগণ যারা কুফরকেই ধরে রেখেছিল, (সম্প্রদায়ের সাধারণ লোকদেরকে) বলল, তোমরা যদি শুআইবের অনুসরণ কর, তবে (মনে রেখ), তোমরা তখন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।মুফতী তাকী উসমানী

আর তাদের সম্প্রদায়ের কাফির সর্দাররা বললঃ তোমরা যদি শু‘আইবকে অনুসরণ কর তাহলে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।মুজিবুর রহমান

তার সম্প্রদায়ের কাফের সর্দাররা বললঃ যদি তোমরা শোয়ায়েবের অনুসরণ কর, তবে নিশ্চিতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তার সম্প্রদায়ের অবিশ্বাসী প্রধানরা বলল, ‘তোমরা যদি শু‘আয়বকে অনুসরণ কর তবে তোমরা তো ক্ষতিগ্রস্ত হবেই।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তার কওম থেকে যে নেতৃবৃন্দ কুফরী করেছিল তারা বলল, ‘যদি তোমরা শু‘আইবকে অনুসরণ কর তাহলে নিশ্চয় তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’আল-বায়ান

তার জাতির যারা কুফরী করেছিল সেই প্রধানগণ বলল, ‘তোমরা যদি শু‘আয়বের কথা মেনে নাও তাহলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।’তাইসিরুল

আর তাঁর লোকদের মধ্যের যারা অবিশ্বাস করেছিল তাদের প্রধানরা বললে -- "যদি তোমরা শোআইবকে অনুসরণ কর তবে তোমরা আলবৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৭৪

এ ছোট বাক্যটির ওপর ভাসা ভাসা দৃষ্টি বুলিয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত নয়। এটি থমকে দাঁড়িয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার একটি স্থান। মাদ্ইয়ানের সরদাররা ও নেতারা আসলে যে কথা বলছিল এবং নিজের জাতিকেও বিশ্বাস করাতে চাইছিল তা এই যে, শো'আইব যে সততা ও ঈমানদারীর দাওয়াত দিচ্ছেন এবং মানুষকে নৈতিকতা ও বিশ্বস্ততার যেসব স্বতন্ত্র মূলনীতির অনুসারী করতে চাচ্ছেন, সেগুলো মেনে নিলে আমরা ধ্বংস হয়ে যাবো। আমরা যদি পূর্ণ সততার সাথে ব্যবসা করতে থাকি এবং কোন প্রকার প্রতারণার আশ্রয় না নিয়ে ঈমানদারীর সাথে পন্য বেচাকেনা করতে থাকি তাহলে আমাদের ব্যবসা কেমন করে চলবে? আমরা দুনিয়ার দু’টি সবচেয়ে বড় বানিজ্যিক সড়কের সন্ধিস্থলে বাস করি এবং মিসর ও ইরাকের মতো দু’টি বিশাল সুসভ্য ও উন্নত রাষ্ট্রের সীমান্তে আমাদের জনপদ গড়ে উঠেছে। এমতাবস্থায় আমরা যদি বাণিজ্যিক কাফেলার মালপত্র ছিনতাই করা বন্ধ করে দিয়ে শান্তিপ্রিয় হয়ে যাই তাহলে বর্তমান ভৌগলিক অবস্থানের কারণে আমরা এতদিন যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সুযোগ সুবিধা লাভ করে আসছিলাম তা একদম বন্ধ হয়ে যাবে এবং আশেপাশের বিভিন্ন জাতির ওপর আমাদের যে প্রতাপ ও আধিপত্য কায়েম আছে তাও খতম হয়ে যাবে। এ ব্যাপারটি কেবল শো'আইব সম্প্রাদায়ের প্রধানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রত্যেক যুগের পথভ্রষ্ট লোকেরা সত্য, ন্যায়, সততা ও বিশ্বস্ততার নীতি অবলম্বন করার মধ্যে এমনি ধরনের বিপদেরআশঙ্কা করেছে। প্রত্যেক যুগের নৈরাজ্যবাদীরা একথাই চিন্তা করেছে যে, ব্যবসায়-বাণিজ্য, রাজনীতি এবং অন্যান্য পার্থিব বিষয়াবলী মিথ্যা, বেঈমানী ও দুর্নীতি ছাড়া চলতে পারে না। প্রত্যেক জায়গায় সত্যের দাওয়াতের মোকাবিলায় যেসব বড় বড় অজুহাত পেশ করা হয়েছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে এই যে, যদি দুনিয়ার প্রচলিত পথ থেকে সরে গিয়ে এ দাওয়াতের অনুসরণ করা হয় তাহলে সমগ্র জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৯০. আর তার সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে যারা কুফরী করেছিল তারা বলল, তোমরা যদি শু'আইবকে অনুসরণ কর, তবে নিশ্চয় তোমরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৯০) আর তার সম্প্রদায়ের অবিশ্বাসী (নেতা)গণ বলল, ‘তোমরা যদি শুআইবকে অনুসরণ কর, তাহলে অবশ্যই তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ (1)

(1) নিজ পিতৃপুরুষদের ধর্ম ছেড়ে দেওয়া ও মাপে-ওজনে কম-বেশি না করা, এটি ছিল তাদের নিকট ক্ষতিকর জিনিস; যদিও এই দুয়ের মধ্যেই ছিল তাদের লাভ। কিন্তু দুনিয়ার লোকের চোখে নগদ লাভই সব কিছু, যা ওজনে কম-বেশি করার মাধ্যমে তারা পাচ্ছিল, তারা ঈমানদারদের মত আখেরাতের লাভের জন্য তা কেন ছেড়ে দেবে?