কাদিফ তারইনা-‘আলাল্লা-হি কাযিবান ইন ‘উদনা-ফী মিল্লাতিকুম বা‘দা ইযনাজ্জানাল্লাহু মিনহা ওয়ামা-ইয়াকূনুলানা আন্না‘ঊদা ফীহা ইল্লা আইঁ ইয়াশাআল্লা-হু রব্বুনা- ওয়াছি‘আ রব্বুনা-কুল্লা শাইইন ‘ইলমান ‘আলাল্লা-হি তাওয়াক্কালনা- রব্বানাফতাহ বাইনানা -ওয়া বাইনা-কাওমিনা-বিলহাক্কিওয়া আনতা খাইরুল ফা-তিহীন।উচ্চারণ
আমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপকারী বিবেচিত হবো। আমাদের রব আল্লাহ যদি না চান, তাহলে আমাদের পক্ষে সে দিকে ফিরে যাওয়া আর কোনক্রমেই সম্ভব নয়। ৭৩ আমাদের রবের জ্ঞান সমস্ত জিনিসকে ঘিরে আছে। আমরা তাঁরই ওপর নির্ভর করি। হে আমাদের রব! আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে যথাযথভাবে ফায়সালা করে দাও এবং তুমি সবচেয়ে ভাল ফায়সালাকারী।” তাফহীমুল কুরআন
আমরা যদি তোমাদের দীনে ফিরে যাই, যখন আল্লাহ আমাদেরকে তা থেকে মুক্তি দিয়েছেন, তবে তো আমরা আল্লাহর প্রতি অতি বড় মিথ্যারোপ করব। #%৫২%# বস্তুত তাতে ফিরে যাওয়া আমাদের পক্ষে কখনও সম্ভব নয় হাঁ আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ ইচ্ছা করলে (সেটা ভিন্ন কথা)। #%৫৩%# আমাদের প্রতিপালক নিজ জ্ঞান দ্বারা সবকিছু বেষ্টন করে রেখেছেন। আমরা আল্লাহরই প্রতি নির্ভর করেছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ন্যায্যভাবে ফায়সালা করে দিন। আপনিই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ফায়সালাকারী।মুফতী তাকী উসমানী
তোমাদের ধর্মাদর্শ হতে আল্লাহ আমাদেরকে মুক্তি দেয়ার পর আমরা যদি তাতে আবার ফিরে যাই তাহলে নিশ্চিতভাবে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপকারী হব! আমাদের রাব্ব আল্লাহ না চাইলে ওতে আবার ফিরে যাওয়া আমাদের পক্ষে কোন ক্রমেই সম্ভব নয়। সবকিছুই আমাদের রবের জ্ঞানায়ত্ত, আমরা আল্লাহর উপরই নির্ভর করছি। হে আমাদের রাব্ব! আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে সঠিকভাবে ফাইসালা করে দিন, আপনিইতো সর্বোত্তম ফাইসালাকারী।মুজিবুর রহমান
আমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদকারী হয়ে যাব যদি আমরা তোমাদের ধর্মে প্রত্যাবর্তন করি, অথচ তিনি আমাদেরকে এ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। আমাদের কাজ নয় এ ধর্মে প্রত্যাবর্তন করা, কিন্তু আমাদের প্রতি পালক আল্লাহ যদি চান। আমাদের প্রতিপালক প্রত্যেক বস্তুকে স্বীয় জ্ঞান দ্বারা বেষ্টন করে আছেন। আল্লাহর প্রতিই আমরা ভরসা করেছি। হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ফয়সালা করে ছিল যথার্থ ফয়সালা। আপনিই শ্রেষ্টতম ফসলা ফয়সালাকারী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘তোমাদের ধর্মাদর্শ হতে আল্লাহ্ আমাদেরকে উদ্ধার করার পর যদি আমরা এতে ফিরে যাই তবে তো আমরা আল্লাহ্ র প্রতি মিথ্যা আরোপ করব। আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ্ ইচ্ছা না করলে আর ওতে ফিরে যাওয়া আমাদের জন্যে সমীচীন নয়। সবকিছুই আমাদের প্রতিপালকের জ্ঞানায়ত্ত, আমরা আল্লাহ্ র প্রতি নির্ভর করি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ন্যায্যভাবে মীমাংসা করে দাও আর তুমিই শ্রেষ্ঠ মীমাংসাকারী।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আমরা তো আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করলাম যদি আমরা তোমাদের ধর্মে ফিরে যাই- সেই ধর্ম থেকে আল্লাহ আমাদেরকে নাজাত দেয়ার পর। আর আমাদের জন্য উচিত হবে না তাতে ফিরে যাওয়া। তবে আমাদের রব আল্লাহ চাইলে (সেটা ভিন্ন কথা)। আমাদের রব জ্ঞান দ্বারা সব কিছু পরিব্যাপ্ত করে আছেন। আল্লাহরই উপর আমরা তাওয়াক্কুল করি। হে আমাদের রব, আমাদের ও আমাদের কওমের মধ্যে যথার্থ ফয়সালা করে দিন। আর আপনি শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী।আল-বায়ান
আল্লাহ যখন আমাদেরকে তোমাদের ধর্মবিশ্বাস থেকে রক্ষা করেছেন, তখন যদি আমরা তাতে ফিরে যাই, তাহলে তো আমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে ফেলব। আমরা তাতে ফিরে যেতে পারি না আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর ইচ্ছে ব্যতীত। প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে আমাদের প্রতিপালকের জ্ঞান পরিব্যাপ্ত, আমরা আল্লাহরই প্রতি নির্ভর করি। হে আমাদের প্রতিপালক! ‘তুমি আমাদের আর আমাদের জাতির মধ্যে সঠিকভাবে ফায়সালা করে দাও আর তুমি হলে সর্বোত্তম মীমাংসাকারী।’তাইসিরুল
আমরা নিশ্চয়ই আল্লাহ্র বিরুদ্ধে মিথ্যা সৃষ্টি করবো যদি আমরা ফিরে যাই তোমাদের ধর্মমতে তা থেকে আল্লাহ্ আমাদের উদ্ধার করার পরেও, আর এটি আমাদের সমীচীন হবে না যে আমরা ওতে ফিরে যাই, যদি না আমাদের প্রভু আল্লাহ্ ইচ্ছে করেন। আমাদের প্রভু জ্ঞানে সব-কিছুতে ব্যাপকতা রাখেন। আল্লাহ্র উপরেই আমরা নির্ভর করি -- 'আমাদের প্রভু! আমাদের মধ্যে ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ন্যায্যভাবে নিস্পত্তি করে দাও, আর তুমিই নিস্পত্তিকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।মাওলানা জহুরুল হক
৭৩
এ বাক্যটি ঠিক সেই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে যে অর্থে আমরা ইনশাআল্লাহ বলে থাকি এবং যে সম্পর্কে সূরা কাহাফে (আয়াত ২৩-২৪) বলা হয়েছেঃ কোন জিনিস সম্পর্কে দাবী সহকারে একথা বলো না, আমি এমনটি করবো বরং এভাবে বলো, যদি আল্লাহ চান তাহলে আমি এমনটি করবো। কারণ যে মু’মিন আল্লাহর সর্বময় কর্তৃত্ব এবং নিজের দাসত্ব, অধীনতা ও বশ্যতা সম্পর্কে যথাযথ উপলব্ধির অধিকারী হয়, সে কখনো নিজের শক্তির ওপর ভরসা করে এ দাবী করতে পারে না-আমি অমুক কাজটি করেই ছাড়বো অথবা অমুক কাজটি কখনো করবোই না। বরং সে এভাবে বলবে, আমার এ কাজ করার বা না করার ইচ্ছা আছে কিন্তু আমরা এ ইচ্ছা পূর্ণ হওয়া তো আমার মালিকের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে, তিনি তাওফিক দান করলে আমি সফলকাম হবো অন্যথায় ব্যর্থ হয়ে যাবো।
অর্থাৎ তোমাদের ধর্মে ফিরে যাওয়ার অর্থ দাঁড়ায় আমরা তোমাদের ধর্মকে আল্লাহর দেওয়া সত্য ধর্ম বলে স্বীকার করে নেব। অথচ সে ধর্ম সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং তা আদৌ আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে নাযিলকৃত ও তার মনোনীত নয়। এরূপ ধর্মকে সত্যবিশ্বাসে গ্রহণ করে নেওয়া আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলা ও তার প্রতি অপবাদ আরোপ করার নামান্তর। আল্লাহ-প্রেরিত কোন নবী এবং তাঁর দ্বারা হিদায়াতপ্রাপ্ত কোন দলের পক্ষে তা করা আদৌ সম্ভব কি? -অনুবাদক
৮৯. তোমাদের ধর্মাদর্শ থেকে আল্লাহ আমাদেরকে উদ্ধার করার পর যদি আমরা তাতে ফিরে যাই তবে তো আমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করব। আর আমাদের রব আল্লাহ ইচ্ছে না করলে তাতে ফিরে যাওয়া আমাদের জন্য সমীচীন নয়। সবকিছুই আমাদের রবের জ্ঞানের সীমায় রয়েছে, আমরা আল্লাহ্র উপরই নির্ভর করি। হে আমাদের রব! আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ন্যায্যভাবে ফয়সালা করে দিন এবং আপনিই শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী।
(৮৯) তোমাদের ধর্মাদর্শ হতে আল্লাহ আমাদেরকে উদ্ধার করার পর যদি আমরা ওতে ধর্মান্তরিত হই, তাহলে তো আমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করব।(1) আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ ইচ্ছা না করলে আর তাতে ধর্মান্তরিত হওয়া আমাদের কাজ নয়।(2) সব কিছুই আমাদের প্রতিপালকের জ্ঞানায়ত্ত। আমরা আল্লাহর প্রতি নির্ভর করি।(3) হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ন্যায্যভাবে ফায়সালা করে দাও এবং তুমিই শ্রেষ্ঠ ফায়সালাকারী।’ (4)
(1) যদি আমরা পুনর্বার পূর্ব ধর্মে ফিরে যাই, যার থেকে আল্লাহ আমাদের পরিত্রাণ দিয়েছেন, তাহলে এর অর্থ হবে আমরা ঈমান ও তাওহীদের দাওয়াত দিয়ে আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করেছিলাম। যার অর্থ হল, আমরা এ রকম করব, তা কখনই সম্ভব নয়।
(2) তারা নিজেদের সংকল্প প্রকাশ করার পর ব্যাপারটি আল্লাহকে সোপর্দ করে দিল। অর্থাৎ, আমরা নিজের ইচ্ছায় কুফরীর দিকে ফিরে যেতে পারি না, তবে আল্লাহ চাইলে তা আলাদা ব্যাপার। কেউ কেউ বলেন, এটি সুচের ছিদ্রে উট প্রবেশ করার মত; যা অসম্ভব।
(3) তিনি আমাদের ঈমানের উপর দৃঢ় রাখবেন এবং কুফরী ও কাফেরদের মধ্যে অন্তরায় সৃষ্টি করবেন। আমাদের উপর নিজ অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করবেন এবং নিজ আযাব হতে রক্ষা করবেন।
(4) আর আল্লাহ যখন ফায়সালা করে ফেলেন, তখন এমনই হয় যে ঈমানদারদের পরিত্রাণ দিয়ে মিথ্যাজ্ঞানকারী ও অহংকারীদেরকে ধ্বংস করে দেন। এটি ছিল যেন আল্লাহর আযাব অবতীর্ণ হওয়ার দাবী।