Md. Imran Hossain

Md. Imran Hossain

EducationBarta

About Md. Imran Hossain

Experience and Highlight
Lives in Pabna 2021–present
Male
Single
Islam
Work Experiences
Skills
Language
Bangla And English
Trainings
Education
Social Profile
প্রশ্ন-উত্তর সমূহ 474 বার দেখা হয়েছে এই মাসে 151 বার
6 টি প্রশ্ন দেখা হয়েছে 118 বার
7 টি উত্তর দেখা হয়েছে 356 বার
0 টি ব্লগ
0 টি মন্তব্য
টাইমলাইন

আপনার নিকটস্থ ইউনিয়ন পরিষদ অথবা উপজেলা  নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন।

অ্যাসাইনমেন্ট? ?

Md. Imran Hossain
EducationBarta
Sep 7, 02:08 PM

কার্য বিভাজনঃ এই নীতির মূল কথা হচ্ছে , সংগঠনের কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ করে। প্রতিটি কাজের দায়িত্ব কর্মদক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এক একজন বিশেষজ্ঞ কর্মীর ওপর অর্পণ করতে হবে। এটাকে শ্রম বিভাজনের নীতিও বলে। এ নীতি অনুযায়ী প্রত্যেক কর্মীকে একই কাজ নিয়মিত করতে হয়। ফলে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পীয় , কাজে ফাঁকি রােধ হয় , তত্ত্বাবধান ও জবাবদিহিতা সহজ হয় এবং বিশেষজ্ঞতা তৈরি হয়।


কর্তৃত্ব ও দায়িত্বঃ এ নীতি অনুযায়ী দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব এমনভাবে বন্টন করতে হবে যাতে এ দুয়ের মধ্যে সুসামঞ্জস্য নিশ্চিত হয়। কেননা , দায়িত্ব অনুযায়ী কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা না থাকলে দায়িত্ব পালন আদৌ সম্ভব নয়। আবার দায়িত্বের তুলনায় কর্তৃত্ব বেশি বা কম হলে বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম দেখা দেবে। তাই দায়িত্ব ও কর্তৃত্বের ভারসাম্য রক্ষা অপরিহার্য। 


নিয়মানুবর্তিতা Discipline: শুধু ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নয় , সকল ক্ষেত্রেই এ নীতি প্রযােজ্য। অন্যথায় উত্তম সাজে। আশী করা যায় না। হেনরি ফেয়ল তাই ব্যবস্থাপনার সকল স্তরে নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখার জন্য উপয় কালের গুরুত্বারােপ করেছেন । তার মতে , প্রতিষ্ঠানে যােগ্যতাসম্পন্ন বস থাকবে এবং নির্দিষ্টনিময়নীতি থাকবে । অধস্তন বলতে প্রতি অনুগত থাকবে , নিয়মনীতি মেনে চলবে এবং অপরকে তা মেনে চলতে অনুপ্রাণিত করবে। তাহলেই নিয়মানুবর্তিতা বজায় থাকবে। 


আদেশের ঐক্যঃ এ নীতির মূল কথা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানে নিয়ােজিত কর্মরি আদেশদাতা হবেন । একজন মাত্র ব্যক্তি । অর্থাৎ একজন কর্মীর একাধিক ঊেধ্বর্তন থাকতে পারবে না । এ প্রসঙ্গে Weihrich and some বলেন "Unity of command means that employees should receive orders from one superior only" যদি একই ব্যক্তি একসাথে একাধিক উর্ধ্বতনের নিকট হতে আদেশপ্রাপ্ত হন তাহলে তার পক্ষে কারাে আদেশই পালন , করা সম্ভব হবে না। কারণ একই সাথে একাধিক ঊর্ধ্বতনের আদেশ পরস্পর বিরােধী বা ভিন্নমুখী হতে পারে এক্ষেত্রে। একজন কর্মী কার আদেশ পালন করবে আর কারটা করবে না তা নিয়ে সমস্যায় পড়বে । তাই সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে। কার্যসম্পাদনের লক্ষ্যে আদেশদানের ক্ষেত্রে ঐক্যনীতি অনুসরণ করা অপরিহার্য। 


নির্দেশনার ঐক্যঃ এ নীতির মূল কথা হলাে প্রতিষ্ঠানের সকল নির্দেশনা হবে এক লক্ষ্য ও পরিকল্পনাকেন্দ্রিক । অর্থাৎ একটা সামগ্রিক উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি মাথায় রেখে তার আলােকে প্রতিষ্ঠানে প্রয়ােজনীয় নির্দেশনা দিতে হবে , যাতে নির্দেশনাগুলাের মধ্যে মিল বা ঐক্য থাকে। আর সমগ্র পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব একজন ব্যক্তির ওপরই ন্যস্ত থাকবে। কোনাে অবস্থাতেই পরস্পর বিরােধী আদেশ - নির্দেশ জারি করা যাবে না। 


সাধারণ স্বার্থেঃ  এ নীতির মূল কথা হচ্ছে । সংগঠনের সাধারণ স্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। কেননা সংগঠনের স্বার্থ রক্ষিত হলেই মালিক, শ্রমিক কর্মী , জনগণ তথা সর্বসাধারণের স্বার্থ রক্ষিত হবে । তাই কোনাে একজনের স্বার্থ কখনই প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ বা লক্ষ্যের। ওপরে স্থান দেয়া উচিত ।


পারিশ্রমিকঃ কোনাে শ্রমিকের প্রদত্ত শ্রমের আর্থিক মূল্যই হচ্ছে পারিশ্রমিক । শ্রমিকের প্রদত্ত শ্রমের । উপযুক্ত পারিশ্রমিক প্রদান করা ব্যবস্থাপনার অন্যতম নীতি। প্রতিষ্ঠানে নিয়ােজিত শ্রমিক - কর্মীর কাজের ধরন , পরিমাণ , মেধা , কর্মদক্ষতা , অভিজ্ঞতা , জীবনযাত্রার মান ইত্যাদি বিবেচনাপূর্বক উপযুক্ত বা ন্যায্য বেতন ও অন্যান্য সুযোগ - সুবিধা প্রদানের নীতিকেই পারিশ্রমিকের নীতি বলে। 


কেন্দ্রীকরণঃ কেন্দ্রীকরণ বলতে কর্তৃত্বের বন্টন বা মাত্রা নির্ধারণকে বুঝায় । অর্থাৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব ব্যবস্থাপনা স্তরের কোন পর্যায়ে কী পরিমাণ থাকবে তা নির্ধারণ করাকেই কেন্দ্রীকরণ বলে । এ নীতি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা উচ্চ ব্যবস্থাপনার হাতে কেন্দ্রীভূত রেখে কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অধস্তন কর্মকর্তাদের মাঝে বণ্টন বা বিকেন্দ্রীভূত করতে হবে। উল্লেখ্য , কেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অধস্তন কর্মীদের কর্মস্পৃহা ও ভূমিকা হ্রাস করে এবং বিকেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কর্মীদের দায়িত্ববােধ জাগ্রত করে। 


আরােহণী শিকল বা জোড়া - মইঃ এ নীতি অনুযায়ী ব্যবস্থাপনাকে এমনভাবে নকশা করতে বা সাজাতে হবে যাতে করে ব্যবস্থাপনা উচস্তর হতে নিম্নস্তরে ধাপে ধাপে অবস্থান করে এবং প্রতিটি ধাপের সাথে সুসম্পর্ক বজায় থাকে। এতে করে আদেশ - নির্দেশ বা সিদ্ধান্তসমূহ সাংগঠনিক কাঠামাে অনুসরণ করে উচ্চস্তরের নির্বাহী হতে পর্যায়ক্রমে নিম্নস্তরের নির্বাহীর নিকট পৌছাবে এবং তথ্য - উপাত্ত , পরামর্শ , অভাব - অভিযােগ একইভাবে নিম্নস্তরের নির্বাহী হতে উচ্চস্তরের নির্বাহীর নিকট পৌঁছাবে। 


শৃঙ্খলাঃ প্রতিষ্ঠানে যােগ্য ব্যক্তিকে যােগ্য হানে এবং প্রতিটি বস্তু বা উপকরণকে সঠিক স্থানে স্থাপন করার - নামই হচ্ছে সুখলা। এ নীতি অনুযায়ী প্রত্যেক কর্মচারীর জন্য কর্ম ও কর্মস্থল সুনির্দিষ্ট থাকতে হবে এবং সেই সাথে প্রতিটি বঙও যথাস্থানে স্থাপন করতে হবে। এতে করে প্রতিষ্ঠানে উত্তম কর্ম - পরিবেশ বজায় থাকবে এবং অপব্যয় ও অপচয় হ্রাস পাবে। 


সাম্যতা নিরপেক্ষতাঃ সাম্যতা বলতে সকলের প্রতি সমান আচরণকে বুঝায়। এ নীতি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানে নিয়ােজিত সকল কর্মীকে সমান দৃষ্টিতে দেখতে হবে। অর্থাৎ রাগ বা অনুরাগের বশবর্তী না হয়ে পক্ষপাতহীনভাবে কর্মীদের যােগ্যতা ও কর্মদক্ষতা অনুসারে ক্ষমতা ও দায়িত্ব অর্পণ , কাজের যথার্থ মূল্যায়ন , যথাসময়ে ন্যায্য মজুরি প্রদান , প্রাপ্য সুযােগ - সুবিধা প্রদান করতে হবে এবং সকলের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। এতে কর্মীদের মনােবল , আনুগত্য ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পাবে। 


 চাকরির স্থায়িত্বঃ এ নীতি অনুযায়ী কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব বিধান করা হলে তারা নিশ্চিন্তে ও নির্বিঘ্নে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে মনােনিবেশ করবে এবং উদ্দেশ্যার্জনে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে , প্রতিষ্ঠান ও নিজের স্বার্থকে এক ও অভিন্ন বলে মনে করতে সক্ষম হবে। পক্ষান্তরে যখন - তখন কর্মী ছাঁটাই , পদাবনতি , বদলি ইত্যাদির ভয় কর্মীদের কর্মস্পৃহাকে অবদমিত করে রাখে। তাই ব্যবস্থাপনার উচিত চাকরির স্থায়িত্ব বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। 


উদ্যোগঃ নতুন কিছু উদ্ভাবন বা আবিষ্কারের জন্য স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বাধীন প্রচেষ্টার সামর্থ্য বা শক্তিকে উদ্যোগ বলে। এ নীতি অনুযায়ী ব্যবস্থাপনার উচিত কর্মীদের উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরি করা। স্বাধীন ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ কর্মীদের উদ্যোগী করে তােলে এবং উদ্দীপনা শক্তিকে বৃদ্ধি করে। ফলে তারা পরিকল্পনা। বাবায়নে স্বাধীন চিলা করার সুযােগ পায় এবং নতুন নতুন কর্ম - উপায় উদ্ভাবনে সচেষ্ট হয়। 


একতই বল বা দলীয় চেতনাঃ এ নীতির মূল কথা হচ্ছে কমাদের মধ্যে। লায় চেতনী বা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রবণতা জাগ্রত করা । অর্থাৎ দলবদ্ধভাবে কাজ করলে অসাধ্য সাধন করা যায় - এ ধারণা সকলের মধ্যে দিতে হবে এবং সকল ব্যক্তি , বিভাগ ও উপবিভাগকে নিয়ে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে । তাহলে কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সমঝােতা ও সহযােগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ সামষ্টিক স্বাথ হিসেবে গণ্য হবে ইত্যাদি। 

অ্যাসাইনমেন্ট? ?

Md. Imran Hossain
EducationBarta
Sep 7, 01:52 PM

একজন আদর্শ ব্যবস্থাপকের দক্ষতা নির্ভর করে ব্যবস্থাপনার নীতিগুলোর সঠিক প্রয়োগের উপর- কথাটির যথার্থতা মূল্যায়ন? 

আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ধারণা জাতিসংঘ সামাজিক উন্নয়ন কমিশনের ৫৭তম অধিবেশনে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, ‘মানবিক উন্নয়ন সূচকে টেকসই ক্রমোন্নতিসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আর্থ সামাজিক বলতে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ও সামাজিক জীবন এর মাঝে সম্পর্ককে বুঝায়। আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হচ্ছে জিডিপি, জীবনমান, শিক্ষার হার এবং শ্রমিকের স্তরের উন্নতি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একজন ব্যক্তি তার জীবনে বেঁচে থাকার জন্য যেসব কার্যাবলিতে লিপ্ত হয়, সেসব উপাদানই হলাে আর্থ–সামাজিক উন্নয়ন। সমবায় সমিতির ধারণা উদাহরণসহ ব্যাখ্যা সমবায় সমিতির অর্থ সম্মিলিত প্রচেষ্টা । নিজেদের অর্থনৈতিক কল্যাণ অর্জনের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে সহজ অর্থে সমবায় বলে । প্রকৃত অর্থে একই শ্রেণির কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের আর্থিক কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যে স্বেচ্ছায় সংঘবদ্ধ হয়ে সম অধিকারের ভিত্তিতে সমবায় আইনের আওতায় যে ব্যবসায় সংগঠন গড়ে তােলে তাকে সমবায় সংগঠন বলা হয়ে থাকে । সকলের তরে সকলে , একতাই বল , স্বাবলম্বনই শ্রেষ্ঠ অবলম্বন ইত্যাদি হলাে এর মূলমন্ত্র । হেনরি কালভার্ট বলেছেন , “ সমবায় হলাে এমন একটি সংগঠন যার ফলে সমবায় ভিত্তিতে অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি স্বেচ্ছাকৃতভাবে একত্রিত হয় । 

উপরােক্ত আলােচনা হতে আমরা সমবায় সমিতির নিম্নোক্ত ধারণা পাই -

১। সমবায় সমাজের কম বিত্ত সম্পন্ন মানুষের সংগঠন।

২। সমশ্রেণী বা সমপেশার কতিপয় ব্যক্তি এরূপ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে ।

 ৩। এর উদ্দেশ্য হলাে সদস্যদের অর্থনৈতিক কল্যান সাধন করা ।

৪। সমবায় আইনের আওতায় এরূপ প্রতিষ্ঠান গঠন ও পরিচালনা করা হয় । পরিশেষে বলা হয় , পারস্পরিক অর্থনৈতিক কল্যাণের লক্ষ্যে একই এলাকার সমশ্রেণীভুক্ত সমমনা কিছু ব্যক্তি সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় যে গণতান্ত্রিক রীতি সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠান গড়ে তােলে তাকে সমবায় সমিতি বলে। বাংলাদেশে বর্তমানে ২০০১ সালের সমবায় আইন ও ২০০৪ সালের সমবায় সমিতির বিধিমালার আওতায় এরূপ সমিতি গঠন ও পরিচালনা করা হয় । সমবায় সমিতির প্রকারভেদ ব্যাখ্যা বিত্তহীন বা নিম্নবিত্ত সম্পন্ন হলো সমবায় সমিতি । এ বিত্তহীন মানুষগণ জীবিকা অর্জনের জন্য বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে। তাই তাদের অভাবও বিভিন্ন রকমের । এর বিভিন্ন অভাব পূরনের লক্ষ্যে সৃষ্টি হয়েছে নানা ধরনের সমবায় সমিতি । 

নিম্নে আর্থ – সামাজিক উন্নয়নকে প্রভাবিত করে, সমবায় সমিতির এমন ৪ টি প্রকারভেদ সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা হলোঃ  

১। ক্রয় সমবায় সমিতিঃ কোন এলাকার কুটির শিল্পের মালিকগণ বা ক্ষুদ্র পুঁজির সমজাতীয় ব্যবসায়ীগণ তাদের প্রয়ােজনীয় কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণাদি এক সাথে অধিক পরিমানে ক্রয়ের সুবিধা অর্জনের জন্য যে সমিতি গঠন করে তাকে ক্রয় সমবায় সমিতি বলে । এরূপ সমিতির সদস্যগণ সরাসরি উৎপাদক বা তার প্রতিনিধি কিংবা পাইকারদের কাছ থেকে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে উপকরণাদি ক্রয়ের সুবিধা ভােগ করে । 

২। বিক্রয় সমবায় সমিতিঃ একই ধরনের পণ্য উৎপাদনে নিয়ােজিত কোন এলাকার স্বল্প পুঁজির উৎপাদকগণ বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অধিক সুবিধা ভােগের জন্য যে সমিতি গঠন করে তাকে বিক্রয় সমবায় সমিতি বলে । এরূপ সমিতি গঠনের ফলে সমবায় মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম থেকে রক্ষা পায় এবং নিজেরা সুবিধাজনক মূল্যে পণ্য বিক্রয় করতে পারে তাছাড়া এ সমিতি উৎপাদক সদস্যদের মধ্যে প্রতিযােগিতা হ্রাস করে । 

৩। সমবায় ঋণদান সমিতিঃ সমাজের নিম্নবিত্ত সম্পন্ন মানুষ প্রয়ােজনে যেন সহজ শর্তে ঋণ গ্রহণ করতে পারে এজন্য যে সমবায় সমিতি গঠন করা হয় তাকে সমবায় ঋণদান সমিতি বলে । সাধারণত কৃষক , ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মালিক বা স্বল্প আয়ের সমপেশার লােকজন এরূপ সমিতি গঠন করে । এরূপ সমিতির মাধ্যমে মহাজন ও ঋণদাতার হাত হতে সদস্যদের রক্ষা করা যায় ।

৪। গৃহ নির্মান সমবায় সমিতিঃ সমিতির সদস্যদের আবাসিক সমস্যা সমাধানের জন্য জমি ক্রয় ও তাতে বাড়ি নির্মান করে সদস্যদের মধ্যে বণ্টনের জন্য যে সমিতি গঠন করা হয় তাকে গৃহ নির্মান সমবায় সমিতি বলে । বর্তমান শহরকেন্দ্রিক জীবনে চরম আবাসিক সংকট দূরীকরনে এ সমিতি তৈরি করা হয় । এক্ষেত্রে সমিতি বাড়ী নির্মান করে নির্দিষ্ট মূল্যে ও কিস্তিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মূল্য পরিশােধের শর্তে তা সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করে থাকে। 

বাংলাদেশে সমবায় ব্যবসায়ের সমস্যা ও সম্ভাবনা যুক্তিসহ ব্যাখ্যাঃ বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষই বিত্তহীন ও স্বল্পবিত্ত সম্পন্ন । এ সকল মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সমবায়ই উপযুক্ত সংগঠন । কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বিত্তহীন মানুষগণ সমবায়ের মাধ্যমে সফলতা লাভ করতে পারেনি । যে সকল সমস্যার কারণে বাংলাদেশে সমবায় সমিতি বিকশিত হতে পারেনি তা নিম্নে তুলে ধরা হলােঃ

১। শিক্ষার অভাবঃ বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই অশিক্ষিত বা কম শিক্ষিত । ফলে সমবায় সমিতি কি এবং এর মাধ্যমে কি সফলতা অর্জন করা যায় তা তারা জানে না । এ জন্যই বাংলাদেশে সমবায় বিকশিত হচ্ছে না । 

২। মূলধনের অভাবঃ সমাজের বিত্তহীন বা স্বল্পবিত্ত সম্পন্ন মানুষেরা সমবায় গঠন করে । কিন্তু এদের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে সমবায় গঠনের জন্য প্রয়ােজনীয় মূলধন সরবরাহ করতে পারে না । ফলে দেশে ব্যাপকহারে সমবায় সমিতি গড়ে উঠছে না । 

৩। আইনগত জটিলতাঃ সমবায় সমিতি গঠন করতে ২০০১ সালের সমবায় আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হয় । কিন্তু বাংলাদেশের কম শিক্ষিত বিত্তহীন মানুষের পক্ষে সমবায় আইন যথাযথভাবে পালন করে সমবায় সমিতি গঠন করা খুবই কষ্টকর । 

৪। অদক্ষ ব্যবস্থাপনাঃ বাংলাদেশের সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনায় যারা থাকে তারা প্রায়ই অশিক্ষিত ও অদক্ষ হয় । ফলে তারা সফলভাবে সমবায় পরিচালনা করতে পারে না । বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সমবায় সমিতির গুরুত্ব বিশ্লেষণ। 

৫। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিঃ সমিতির সদস্যদের মধ্যে অনেক সময়ই দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি দেখা যায় । বিশেষ করে যারা পরিচালনার দায়িত্বে থাকে তাদের মধ্যে এটি বেশী লক্ষ্য করা যায় । যেমন- “ মিল্ক ভিটায় ১০ মাসে ১০ কোটি টাকা অনিয়ম । ( সূত্র : প্রথম আলাে এপ্রিল ২৩ , ২০১৩ ) । এটিও সমবায় বিকাশের অন্তরায় । ৬. ঐক্য ও সহযােগিতার অভাব : সমবায় সমিতি গঠন ও সফলতার মূলে রয়েছে ঐক্য ও সহযােগিতা । কিন্তু বাংলাদেশের জনগনের মধ্যে এ ঐক্য ও সহযােগিতা লক্ষ্য করা যায় না । ফলে বাংলাদেশে সমবায় আন্দোলন সফল হচ্ছে না । ৭. প্রশিক্ষণের অভাব : দরিদ্র জনগােষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তােলার জন্যও সমবায় সমিতি গঠন করা হয় । তবে বাংলাদেশ সমবায় সমিতি গঠন করে সদস্যদের র কার্যদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নেই। ৮. সরকারি সহযােগিতার অভাব : দেশে সমবায় সমিতি গঠন করে বিত্তহীন মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে সরকারি সহযােগিতা একান্ত অপরিহার্য । সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহযােগিতা না পেলে তা সমবায় বিকাশের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় । বাংলাদেশের সমবায় সমস্যা দূরীকরণের উপায় : স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশে দরিদ্র ও বিত্তহীন মানুষের অর্থনৈতিক কল্যাণের জন্য যে সকল সমবায় সমিতি গঠন করা হয় নানাবিধ সমস্যার কারনে আজও তা সফলতার মুখ দেখেনি । বাংলাদেশে সমবায় সমিতির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাসমূহ দূরীকরণের জন্য নিয়ে কতিপয় উপায় বা পন্থা বর্ণনা করা হলাে । ১. বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ : বাস্তবতা বিবেচনা করে দেশের সমবায় সমিতিসমূহের জন্য একটি পরিকল্পনা প্রণীত হওয়া উচিত । এতে জাতীয় , কেন্দ্রীয় ও প্রাথমিক সমিতিসমূহ কোথায় , কিভাবে , কতটুকু অবদান রাখবে তা নির্ণীত হওয়া আবশ্যক । ২. প্রশিক্ষণ কর্মসূচী জোরদার : সমবায় সমিতিসমূহের কাজ জোরদার করার জন্য সকল পর্যায়ে ব্যাপক ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচী গ্রহণ করা প্রয়ােজন । এজন্য সরকারের পক্ষ হতে ও প্রয়ােজনে বেসরকারি সাহায্য সংগঠন গুলাের পক্ষ হতে সমবায়ীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া দরকার । ৩. ব্যাপক প্রচারনা : সমবায় সম্বন্ধে জাতীয় প্রচার মাধ্যমসমূহে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করা প্রয়ােজন । আদর্শ সমবায় প্রতিষ্ঠান ও সমবায়ীদের জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার । ফলে তাদের দেখে বা তাদের কথা শুনে সমবায়ী ও জনগণ উৎসাহিত হয়। ৪. শিক্ষাক্রমে সমবায় বিষয় অন্তর্ভূক্তকরণ : সমবায়ের গুরুত্ব ও শিক্ষাকে জনসমক্ষে ব্যাপকভাবে তুলে ধরার জন্য প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও সম্ভব হলে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাক্রমে তা অন্তর্ভূক্ত করা প্রয়ােজন । বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সমবায় সমিতির গুরুত্ব বিশ্লেষণ। ৫. নির্বাহীদের প্রণােদনা দান : নির্বাহীদের কার্য সন্তুষ্টি ও তৎপরতার ওপর সমবায়ের সাফল্য নির্ভর করে । তাই নির্বাহীদের জন্য প্রয়ােজনীয় প্রণােদনার ব্যবস্থা থাকা উচিত । ৬. দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি রােধ : সমবায় সমিতিসমূহকে কেন্দ্র করে যে দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত । এজন্য সমবায়ে উন্নত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রবর্তন জরুরী । ৭. সমবায় বিভাগের উন্নয়ন: সরকারের সমরা বিভাগ সমবায় আন্দোলনের উন্নয়নে নেতৃত্ব দানে উপযােগী একটি প্রতিষ্ঠান । কিন্তু এই বিভাগে যে আমলাতান্ত্রিকতা বিদ্যমান তা দিয়ে আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয় । তাই এক্ষেত্রে সমবায়ের আদর্শে উদ্বুদ্ধ লােকদের বসানাে উচিত । ৮. সরকারি সহযােগিতা বৃদ্ধি : বাংলাদেশে সমবায় আন্দোলনের উন্নয়নে যে পরিমান অর্থ ব্যয় হয় , অন্যান্য কর্মকান্ডে ব্যয়িত অর্থের তুলনায় তা নেহায়েতই কম । তাই সকল ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক ও অনার্থিক সহযােগিতা আরাে বৃদ্ধি করা প্রয়ােজন ।

বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে সমবায় সমিতির গুরুত্ব বিশ্লেষণ?

মানুষ মানুষের উপর নির্ভরশীল, এ সত্যকে মেনেই বিশ্বাসের সৃষ্টি। সাধারণত, আমরা কেউ নিজের ভাল কাজের তালিকা তৈরি করিনা বা প্রয়োজন হয়না। কারণ ছোটবেলা হতেই আমরা বড়দের কাছ থেকে এগুলো শিখি এবং অনেকটা নিত্যদিনের কাজের বাইরে থাকে বিষয়গুলো। অনেকে এ কাজগুলো নিয়মিত করে থাকেন, অনেকে ব্যস্ততার কারণে করে উঠতে পারেন না। যদিও ভাল কাজকে তালিকায় সীমাবদ্ধ করা যায়না তারপরেও মানুষের জন্য কল্যাণকর এমন দশটি কাজের তালিকা হলোঃ

১। রাস্তার উপর পড়ে থাকা এক টুকরা আবর্জনা তুলুন এবং পাশের ট্র্যাশ/ নিরাপদ দূরত্বে ফেলুন। 

২। অফিস, ব্যাংক, লিফট বা একটি ট্রেনে- বাসে অন্য কারোর জন্য দরজা খোলা রাখা। কাউকে বাসে উঠতে সাহায্য করা। 

৩। অন্য কোন ব্যক্তিকে আপনার সীট দিন (বিশেষ করে মহিলা, বৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং physically- challenged যারা আছেন)। যে কৃতজ্ঞতাবোধ আপনি তার মুখে দেখবেন তা নিশ্চিত আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। 

৪।কেউ কোনো ঠিকানা জানতে চাইলে তাকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করুন। 

৫। বন্ধু, পরিবার বা সহকর্মী; তারা কোথাও বের হলে তাদের জন্য পরিবহন ঠিক করা বা তাদের গন্তব্যস্থলে পৌছাতে সাহায্য করতে পারেন। 

৬। যেকোনো charity বক্সে কিছু টাকা রাখতে চেষ্টা করুন এবং রাস্তায় ভিক্ষুকদের সাহায্য করুন। 

৭। কোনো কাজে লাইনে দাড়িয়ে থাকলে কেউ যদি খুব ব্যস্ত থাকে বা খুব জরুরী তাহলে তাকে আপনার সামনে জায়গা করে দিন। 

৮। বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখতে আপনার পরিবারকে সহায়তা করুন। 

৯। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে পারেন। কোনো রান্নার কাজে বা মসজিদে বা কোনো এতিমখানায়, এমনকি কোনো শিশুকে বিনা পারিশ্রমিকে কিছু শিখাতে পারেন। 

১০। অসহায়দের নানা ধরনের সহযোগিতা করার মত মনোভাব আপনার মাঝে থাকতে হবে। আপনার মন কতটা উদার তা নির্ভর করবে অসহায়দের পাশে আপনি কতটা থাকতে পারছেন। শুধু একা একা ভালো থেকে ভালো মানুষ হয়ে ওঠা যায় না। সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে হয়। মূলত যে অন্যের মঙ্গল ও কল্যাণের জন্য প্রয়োজনে ত্যাগ স্বীকার করে, সে-ই প্রকৃত সুখী। সুখ প্রতিটি মানুষেরই একান্ত কাম্য। দুঃখ পরিহারের চেষ্টার মধ্য দিয়ে চলে মানুষের সুখ লাভের কর্মতৎপরতা। মূলত জগতে যারা কেবল সুখ খোঁজে তারা জীবনে দুঃখ-যন্ত্রণা সয়ে, সব সংকট মোকাবিলা করে জীবনসংগ্রামে সফলতার মাধ্যমে অর্জন করে সুখ। অন্যের কল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিই প্রকৃত সুখ লাভ করে থাকে। কেননা আমাদের এই পৃথিবীতে আগমনই হয়েছে পরের কল্যাণের জন্য।

মানুষের জন্য কল্যাণকর এমন দশটি কাজের তালিকা লিপিবদ্ধ করো? 

নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগপত্র কিভাবে লিখতে হয়? 

১৯৭১ সালে।