1 Answers
প্রথম কথা, আইনস্টাইনের ঘটনা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আর বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। কিন্তু মিরাজের ঘটনা সম্পূর্ণ সত্য, এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।
আর সন্দেহযুক্ত কোনো থিওরির সাথে ইসলামের ফান্ডামেন্টাল কোনো ঘটনার সাথে তুলনা করার ক্ষেত্রে আমাদের দুবার ভাবা উচিত।
আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুযায়ী স্থির অবস্থান থেকে পরিমাপকৃত সময় গতিশীল অবস্থায় পরিমাপ করা সময়ের তুলনায় বেশি হয়। অর্থাৎ আপনি স্পেসশিপে বসে ঘড়িতে ৩ মিনিট হিসেব করলে পৃথিবীর কোনো পর্যবেক্ষকের নিকট তা ১ মিনিট হতে পারে।
আর আইনস্টাইন মনে করেন আলোর গতি হলো সর্বোচ্চ, সে হিসেবে আপনি যদি এই সর্বোচ্চ গতি অর্জন করতে পারেন তাহলে আপনার তুলনায় পুরো বিশ্ব স্থির হয়ে যাবে।
মহানবী (স.) বোরাক নামক বাহনে করে ভ্রমণ করেছিলেন যা কিনা বিদ্যুৎ গতিতে (আলোর গতি) চলে। আর তিনি মিরাজের সুদীর্ঘ ভ্রমণ শেষ করে যখন ফেরত আসেন তখন দেখতে পান যে যাওয়ার সময় যে পানি দিয়ে অজু করেছিলেন তা এখনো প্রবাহিত হচ্ছে। অর্থাৎ এর মধ্যকার সময়ে পুরো পৃথিবী তার সাপেক্ষে স্থির ছিলো।
এই বিষয়টিই আপেক্ষিক গতি তত্ত্বের সাথে মিলে যায়। যেহেতু মহানবী (স.) আলোর গতিতে ভ্রমণ করেছিলেন সেহেতু তত্ত্বানুযায়ী মহাবিশ্ব তার সাপেক্ষে স্থির হয়ে যায়।
তবে উক্ত গতিতে চললে সময় স্থির হওয়ার সাথে সাথে ভর ও দৈর্ঘ্যের অসম্ভব পরিবর্তন হয়। সে হিসেবে মহানবী (স.) এর আকৃতি পরিবর্তীত হয়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু আমরা এরকমটা ভাবতেই পারিনা। হতে পারে আল্লাহ তার কুদরতে তাকে অবিকৃত রেখেছিলেন।
যাই হোক, এই উত্তর লেখার জন্য অনেক জায়গায় গিয়ে তথ্যসূত্র আর ব্যাখা বিশ্লেষণ জোগাড় করতে হয়েছে। আশা করি আমার ব্যাখ্যায় কোনো ভুল নেই। তবে আবারও বলছি, আইনস্টাইনের থিওরি অনুসারে হোক বা না হোক, আল্লাহর ইচ্ছায় সব সম্ভব। বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ হিসেবে আপনি এতে বিশ্বাস করতে পারেন, তবে মূল বিশ্বাস থাকবে অন্তরে, আল্লাহর প্রতি।
আর তাছাড়া উল্লেখ্য যে মিরাজ মহানবী (স.) এর একটি মুজিযার তালিকায় পড়ে।
বিখ্যাত মনিষী হযরত ইমাম কুরতুবীর (রঃ) মতে যে কোন মুযিযার জন্য উল্লিখিত পাঁচটি শর্তের একটি হলো মুযিযাকে অভ্যাস বিরুদ্ধ (অর্থাৎ প্রাকৃতিক নিয়মের ব্যতিক্রম) হতে হবে।
আপেক্ষিক তত্ত্ব সত্যি হলে তা প্রাকৃতিক নিয়মের মধ্যেই গণ্য করা হবে, সে হিসেবে বলা যায় এই তত্ত্ব মিরাজের সাথে সম্পর্কহীন।
আরও একটি বিষয় রয়েছে, মহানবী (স.) যাত্রাপথে বেশ কয়েক স্থানে থেমেছিলেন। তাহলে ঐসময়টুকুতে কি হয়েছিলো!? অতটা সময়ে পানি গড়ানো, দরজার শিকল নড়া বা কাঁথার ওম বজায় থাকার কথা নয়।
সর্বোপরি, সবকিছুর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব নয় আর আমাদের বুঝা উচিত বিজ্ঞান স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। বহু বিষয় বিজ্ঞান আজও ব্যাখ্যা করতে পারেনি।
-আল্লাহ মহান, তিনি যা ইচ্ছা করতে পারেন।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy