1 Answers
বিস্তারিত দেখুন ক্যালসিয়াম আয়রন ভিটামিন কেন খাবেনঅনেক কারণেই ডাক্তার ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন ইত্যাদি সাপ্লিমেন্ট খেতে বলেন। অনেকে নিজেরাও কিনে খান উপকার পাওয়ার আশায়। সাপ্লিমেন্ট কেন খেতে হয়, কতটা খেতে হয় জেনে নিন... ভালো থাকতে হলে কোন ধরনের খাবার খাওয়া ভালো? এ প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই বলবেন মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম ইত্যাদি। পুষ্টিবিদরা বলেন, ভিন্ন কথা। তাঁদের মতে, প্রতি দিনের খাবার এমন হওয়া চাই যাতে সব ধরনের উপাদান থাকে। এক কথায় আপনাকে সুষম খাবার বা ব্যালেন্স ডায়েট খেতে হবে। তবে শারীরিক অবস্থা ভেদে এ খাবারের অনুপাতে তারতম্য হতে পারে। একজন গর্ভবতী মায়ের খাবারের ধরন কিংবা একজন অসুস্থ ব্যক্তির খাবারের ধরনের মধ্যে পার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক। বাড়তি এ চাহিদা মেটানোর জন্য তখন কিছু বিশেষ খাবার বা ওষুধের ওপর নির্ভর করতে হয়। আবার অসুখ-বিসুখ হলেও কিছু উপাদানের ঘাটতি মেটাতে বাইরে থেকে ওষুধ দেওয়া হয়। সাপ্লিমেন্ট কী? এক কথায় পরিপূরক খাবার। এটা আপনি খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারেন। আবার ওষুধ আকারেও খেতে পারেন। এসব সাপ্লিমেন্টারি ওষুধ বাজার থেকে কিনে খেতে হবে এমন কথা নেই। সাধারণত যেসব সাপ্লিমেন্ট ডাক্তাররা দিয়ে থাকেন তার মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন ই, ভিটামিন ডি, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি ৬, ভিটামিন বি ১২, ভিটামিন এ, থায়ামিন, রিবোফ্লাবিন, ওমেগা থ্রি, ফলিক এসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যামাইনো এসিড। বিভিন্ন ধরনের খাবারের মধ্যে এসব সাপ্লিমেন্ট প্রাকৃতিকভাবেই থাকে- তবে খাদ্যভ্যাস ভিন্ন হবার কারণে ও সব ধরণের খাবার একই অঞ্চলে সহজলভ্য না হবার কারণে এসব উপাদানের খাটতি পড়তে পারে। ক্যালসিয়াম কেন প্রয়োজন? হাড় শক্ত ও মজবুত করে, রক্তচাপ, হার্টবিট বা হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। দেহের প্রায় সব ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতে জমা থাকে। ক্যালসিয়াম গ্রহণ কম হলে দেহ তখন হাড় থেকে ক্যালসিয়াম তুলে এনে দেহের প্রয়োজনে কাজে লাগায়। ফলে হাড়ে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হওয়ায় হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায়। প্রতিদিন কতটুকু ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা উচিত: ১ থেকে ৩ বছরের শিশুদের দৈনিক ৫০০ মিলিগ্রাম, ৪ থেকে ৮ বছর বয়সে ৮০০ মিলিগ্রাম, ৯ থেকে ১৮ বছর হলে ১৩০০ মিলিগ্রাম, ১৯ থেকে ৫০ বছর বয়স হলে ১০০০ মিলিগ্রাম, ৫২ বছরের ঊর্ধে ১২০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যালসিয়াম খাওয়া উচিত নয়। ক্যালসিয়ামের সবচেয়ে উত্তম যোগানদাতা হলো আপনার প্রতি দিনের খাবার। এ খাবারের মাধ্যমেই প্রায় অর্ধেক চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। অনেক ধরনের খাবার আছে যেগুলোয় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে। যেমন দুধ, দুধ জাতীয় খাবার, ডিম, মাছ ইত্যাদি। তবে যদি খাদ্যের মাধ্যমে এ ঘাটতি পূরণ না হয় সে ক্ষেত্রে আপনাকে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে। ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই সঠিক মাত্রায় ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে হবে। বেশি ক্যালসিয়াম কি ভালো? এমন কোনো প্রমাণ নেই যে বেশি ক্যালসিয়াম খেলে আপনার হাড় মজবুত হবে। নিয়মিতভাবে বেশি ক্যালসিয়াম খেলে আপনার কিডনিতে স্টোন জমতে পারে এবং কিডনির নানা জটিলতায় আক্রান্ত হতে পারেন। তাই প্রতি দিন ২৫০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা কোনো মতেই উচিত নয়। ক্যালসিয়াম কিভাবে গ্রহণ করবেন: অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খাবারের সঙ্গে ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট গ্রহণ করা ভালো। তবে ক্যালসিয়াম সাইট্রেট ট্যাবলেট গ্রহণের ক্ষেত্রে খাবারের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি যেকোনো সময় খাওয়া যায়। আয়রন সাপ্লিমেন্ট: খুব প্রচলিত সাপ্লিমেন্টের মধ্যে আয়রন একটি। গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে আয়রন সাপ্লিমেন্টের বিকল্প নেই। যাঁরা রক্তশূন্যতায় ভুগছেন তাঁরাও নির্ভর করতে পারেন আয়রন সাপ্লিমেন্টের ওপর। এসব ক্ষেত্রে ডাক্তার সাধারণত প্রেসক্রিপশনে সাপ্লিমেন্টগুলো খেতে বলেন। ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট: অনেকে মনে করেন, ভিটামিন খেলেই রুগ্ণ স্বাস্থ্য সবল হয়ে উঠবে, দুর্বল শিশু মোটা হয়ে যাবে। এ জন্য অনেকে বেশি ভিটামিন খেতে চান। অথচ ভিটামিনের সংজ্ঞায় বলা আছে, এটি এমন একটি খাদ্য উপাদান যা পরিমাণে খুবই কম লাগে কিন্তু সুস্বাস্থ্যের জন্য খুবই জরুরি। বেশি ভিটামিন স্বাস্থ্য হানির কারণ হতে পারে। ভিটামিন-ই: ভিটামিন-ই হার্ট-অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। তবে এক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ভিটামিন-ই গ্রহণ আবার মৃত্যু ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। এটা স্বতঃস্ফূর্ত বা আপনা-আপনি রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে, যাঁরা ওয়ারফারিন বা অ্যাসপিরিনজাতীয় ওষুধ খাচ্ছেন তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভিটামিন-ই গ্রহণ মারাত্দক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। ভিটামিন-ডি: মাছ, ডিম, কডলিভার অয়েল ভিটামিন-ডি এর অতি উত্তম উৎস। সূর্যের আলো থেকেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ডি তৈরি হয়। এটি দেহে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। হাড়ক্ষয়, উচ্চ রক্তচাপ এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। ভিটামিন-ডির অভাবে শিশুদের রিকেট্স নামক একটি মারাত্দক রোগ হতে পারে। ভিটামিন-সি: বাজারে অনেক নামেই সাপ্লিমেন্টটি পাওয়া যায়। প্রাকৃতিকভাবে প্রায় সব ধরনের ফলমূল ও সবুজ শাক-সবজিতে ভিটামিন-সি থাকে। এর অভাবে স্কার্ভি নামক জটিল একটি রোগ হয়। হাড় ও মাংস কিংবা রক্তনালী সবার ক্ষেত্রে ভিটামিন-সি উপকারী ভূমিকা রাখে। আয়রন শোষণে সাহায্য করে। ভিটামিন- বি৬: মস্তিস্কের কার্যক্রম সূচারুভাবে সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় নিউরোট্রান্সমিটার তৈরিতে সহায়তা করে। এর অভাবে স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ত্বক ও রক্তকোষের কাজে ব্যাঘাত ঘটে। বি- কমপ্লেক্স হিসেবে এটি বাজারে পাওয়া যায়। ভিটামিন-বি১২: এটিও স্নায়ুকোষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ভিটামিন। এর অভাবে এক ধরনের রক্তশূন্যতা হয়ে থাকে। আসল কথা হলো, এটি বছরের পর বছর দেহে জমা থাকতে পারে। তাই খুব কম ক্ষেত্রে এর ঘাটতি হয়ে থাকে। ভিটামিন-এ: চোখের সঙ্গে ভিটামিন-এ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এর অভাবে চোখের নানা সমস্যা হতে পারে। কলিজা, ডিম, দুধ, লাল শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ পাওয়া যায়। ভিটামিন-এ-র অভাবে রাতকানা রোগ হয়, চিকিৎসা না করলে সেখান থেকে অন্ধত্ব তৈরি হতে পারে। ভিটামিন-বি১ বা থায়ামিন: এটা স্নায়ুতন্ত্রের জন্য খুবই কার্যকরি একটি উপাদান। এর অভাবে বেরিবেরি নামক একটি রোগ হয় যা স্নায়ুতন্ত্র, মাংসপেশী, হার্ট এমনকি পরিপাকতন্ত্র দুর্বল করে দেয়। শিম, বাদাম, চাল ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণ থায়ামিন থাকে। ভিটামিন বি২ বা রিবোফ্লাবিন: মুখে ঘা বা অ্যাপথাস আলসার হলে আমরা বাজার থেকে হলুদ রঙের স্বল্প মূল্যের যে ট্যাবলেট কিনে খাই তাই রিবোফ্লাবিন। কোষের শক্তি তৈরিতে, বিপাক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে রিবোফ্লাবিন সাহায্য করে। গরুর মাংস ও যকৃতে পাওয়া যায়। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড: খুবই কার্যকর একটি সাপ্লিমেন্ট হলো ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। সামুদ্রিক মাছ, মাছের তেলে প্রচুর পরিমাণ ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। এটি রক্তের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। ফলিক এসিড: সবুজ শাক-সবজি, লেটুস, কলা, লেবু, মাশরুম, টমেটো ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণ ফলিক এসিড থাকে। গর্ভাবস্থায় মহিলাদের ভিটামিন এবং ফলিক এসিড খেতে হয়। এ সময় নিয়মিত ফলিক এসিড গ্রহণে শিশুর কিছু জন্মগত ত্রুটি হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। এমনকি যদি গর্ভধারণ করার আগে এসব সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যায় তবে তা আরো ভালো ফল আনে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট : বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন-সি এবং ভিটামিন-ই হলো মূলত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। বিটা ক্যারোটিন চোখের জন্য একটি খুব দরকারি সাপ্লিমেন্ট। ভিটামিন-সি ক্ষতস্থান দ্রুত সারতে সাহায্যে করে। ভিটামিন ক্যান্সার ও হার্টের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। অ্যামাইনো এসিড সাপ্লিমেন্ট: অ্যামাইনো এসিড হলো প্রোটিনের মূল ভিত্তি। আর প্রোটিন হলো দেহের অন্যতম প্রধান উপাদান। যাঁরা অসুস্থতার কারণে ঠিক মতো খেতে পারছেন না তাঁদের জন্য অ্যামাইনো এসিড প্রয়োজনীয় একটি সাপ্লিমেন্ট। আমাদের দেশে সাধারণত স্যালাইনের মতো বোতলে অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy