1 Answers
জিহাদে নিহত হওয়া ছাড়াও যাদেরকে শহীদের মর্যাদা দেওয়া হবে- ১- সলাত, যাকাত, সিয়াম, ও তারাবীর সলাত আদায় করা- আমর ইবনু মুবরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুযাআহর এক লোক রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে বললো : আমি সাক্ষ্য দেই যে আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আর আপনি আল্লাহ্র রাসুল। আমি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি, রমযান মাসের সওম পালন করি ও রামাযানের তারাবীহ সালাত আদায় করি এবং যাকাত দেই। এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন : “যে ব্যাক্তি এর উপর মৃত্যু বরন করবে সে সিদ্দীকিগন ও শহীদগণের অন্তর্ভুক্ত।(সহ ীহ আত-তারগীব / হাদিস-৭৪৫) ২- সৎ ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী হওয়া- রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : “সৎ ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী (ক্বিয়ামতের দিন) নবীগণ, সিদ্দীকগন ও শহীদ্গনের সাথে থাকবে।(সহীহ আত-তারগীব / হাদিস-১৭৮২) ৩- রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর প্রত্যেকটা সুন্নাতকে অনুসরণ করা- রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই তোমাদের পিছনে রয়েছে ধৈর্যের যুগ। সে সময়ে যে ব্যক্তি সুন্নাতকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে থাকবে, সে তোমাদের সময়ের ৫০ জন শহীদের নেকী পাবে।(ত্বাবারানী, আল- মুজামুল কাবীর / হাদিস-১০২৪০; নাসিরুদ্দিন আলবানী, সিলসিলাতুল আহাদিস আস সহিহাহ, সহিহুল জামে / হাদিস-২২৩৪) ৪- স্বামীর আনুগত্য করা, তাকে সন্তুষ্ট রাখা- আসমা বিনতে ইয়াযিদ ইবনে আস সাকান (রাঃ) নবী করিম (সাঃ) এর কাছে এলেন এবং বললেন : আমি আমার পিছনে রেখে আসা কিছু নারীর প্রতিনিধি হিসেবে এসেছি, তাদের বক্তব্যই আমার বক্তব্য। তারা সবাই আমার সাথে একমত। আর তা হল আল্লাহ্ আপনাকে নারী-পুরুষ সবার প্রতি রাসুল বানিয়ে পাঠিয়েছেন, আমরা আপনার প্রতি ঈমান এনেছি, আপনার অনুসরণ করেছি। আর আমরা হলাম নারী, পর্দানশীল, ঘরে বসে থাকি। পক্ষান্তরে পুরুষদের জুমার নামায আদায়, জানাযায় অংশগ্রহণ, জেহাদে যাওয়া, ইত্যাদির মাধ্যমে আমাদের উপর প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। তারা যখন জেহাদে বেরোয়, আমরা তাদের সম্পদ হেফাযত করি, তাদের সন্তানদেরকে লালন পালন করি; তাহলে কি আমরা তাদের সাথে সওয়াবে ভাগ পাব? রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর সাহাবাদের প্রতি তাকালেন এবং বললেন, তোমরা কি এমন কোন নারীর কথা শুনেছ, যে তার দীনের ব্যাপারে প্রশ্ন করার বেলায় এই নারীর চেয়ে উত্তম? সাহাবীগন বললেন, না, হে আল্লাহ্র রাসুল ! অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ “যাও হে আসমা, তুমি তোমার পিছনে রেখে আসা মহিলাদেরকে জানিয়ে দাও, স্বামীর জন্য উত্তম স্ত্রী হওয়া, তার সন্তুষ্টি খুজে নেয়া, তার সম্মতি অনুসরণ করা, যেগুলো উল্লেখ করেছ তার সমান” (মুসলিম) ৫- স্ত্রী সন্তান, সম্পদ, জীবন ও স্বীয় দ্বীনের হিফাজতের জন্য নিহত হওয়া- হযরত আবুল আওয়ার সাইদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়ল (আশারাহ মুবাশশিরাহ অর্থাৎ পৃথিবীতে জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত ১০ জন সাহাবীর অন্তর্ভুক্ত) বর্ণনা করেন, আমি রাসুল (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তার ধনমালের হেফাজতের কারণে নিহত হয়েছে সে শহিদ। আর যে ব্যক্তি নিজের জীবনের হেফাজতের কারণে নিহত হয়েছে সেও শহিদ। যে ব্যক্তি স্বীয় দ্বীনের হেফাজতকালে নিহত হয়েছে সেও শহিদ আর যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রী-সন্তানদের হেফাজতকালে নিহত হয়েছে সেও শহিদ। (আবুদাউদ, তিরমিযি- ইমাম তিরমিযি বলেন হাদিসটি হাসান সহিহ)