1 Answers
ই কমার্সে ব্যবস্থাপক এবং ব্যবহারকারীর সুবিধা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে ই কমার্স নামটি সবার পরিচিত। ব্যবসা বলতেই আমরা ই কমার্সে বুঝি। আসলে ই কমার্স আমাদেরকে যে হারে পন্য ক্রয় বিক্রয়ের সুযোগ সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে তাতে ব্যবসার ক্ষেত্রে ই কমার্স নামটিই আগে আসে। যত দিন যাচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তির উপর আমরা ততই নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছি, আমরা এমন এক যুগে আছি যার প্রতিটা ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতা বিদ্যমান। আর এই প্রতিযোগিতায় নিজেদেরকে ঠিকিয়ে রাখতে আমরা সবাই দিন দিন অধিক ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছি। প্রতিটা মিনিট আমাদের জন্য মহামূল্যবান। এমন ব্যস্ততার মাঝে প্রয়োজনীয় পন্য ক্রয় করতে যাওয়ার জন্য অনেকেই অনিচ্ছুক। এই অনিচ্ছা বা বিরক্তি ভাব অনেকটাই কমিয়ে বা পন্য ক্রয় বিক্রয় সহজ করে দিয়েছে ই কমার্স। যার ফলে আমরা ঘরে, অফিসে বসেই প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করতে পারি। ই কমার্সের যেমন সুবিধা অনেক তেমনি কিছু অসুবিধাও আছে। তবে ই কমার্স আনাদেরকে যেসব সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে বা ই কমার্সের ফলে আমরা যেসব সুবিধা উপভোগ করছি তার কাছে এর অসুবিধা গুলো খুব নগন্য। ই কমার্স নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা যেসব সুবিধা গুলো সবার আগে দেখি সেগুলো হল : ♦) লেনদেনের খরচ কম :- প্রাচীন ব্যবসার পদ্ধতির তুলনায় ই কমার্সে লেনদেনের খরচ অনেম কম। এতে ব্যবস্থাপক অল্প খরচে ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে ব্যবসায়ের সার্বিক অবস্থা জানতে পারে। অন্যদিকে ব্যবহারকারী ও ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্টানের পন্য সম্পর্কীয় সব তথ্য জানতে পারে। ♦) পন্য ক্রয় বিক্রয়ের গতিশীলতা বাড়ায় :- ই কমার্স লেনদেন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল পন্য ও সেবার মূল্য প্রদান করা। ই কমার্স ইলেকট্রিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) পদ্ধতির মাধ্যমে কম সময়ে খুব দ্রুততার সাথে আর্থিক লেনদেনের গতি বাড়ায়। এই পদ্ধতিতে ক্রেতা - বিক্রেতা যত দূরত্বেই থাকুক না কেন অল্প সময়ের মধ্যে তারা লেনদেনের কাজ সম্পন্ন করতে পারে। এতে করে লেনদেনের জন্য একদিকে ব্যবসায়ী যেমন লাভবান হয় অন্যদিকে ক্রেতাও লাভবান হয়। ♦) ব্যবসা পরিচালনায় খরচ কম :- ই কমার্স অনলাইন পদ্ধতিতে লেনদেনের কাজ সম্পন্ন করে বিধায় খরচ অনেক কম। এতে করে প্রাচীন ব্যবসার মত অধিক কর্মচারী নিয়োগ দিতে হয়না কারন প্রাচীন পদ্ধতির মত এইখানে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি লিপিবদ্ধ করে রাখতে হয়না। ক্রেতার ক্ষেত্রে প্রতিষ্টানে গিয়ে পন্য দেখে বাছাই করতে হয়না ফলে যাতায়াত খরচ এবং কষ্ট অনেক কম। ♦) বিপননের অধিক সুবিধা :- ই কমার্স পদ্ধতিতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতিষ্টান গুলো অল্প খরচে পন্যের বিজ্ঞাপন দিতে পারে। যার ফলে এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে উদ্যোক্তাগন সারা বিশ্বের কাছে তাদের পন্যের কথা তুলে ধরতে পারে। ক্রেতারা এই ওয়েবসাইট গুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন পন্যের মান জানতে পারে যার ফলে পন্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হচ্ছে। ♦)কম সময়ে পন্য ক্রয় বিক্রয় :- ই কমার্সের ফলে প্রতিষ্টান তাদের পন্য গুলো নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বা ক্রেতাদের কাছে যেতে হয়না। বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই তারা তাদের পন্য ক্রেতাদেরকে দেখাতে পারছে । অন্যদিকে ক্রেতারা যেকোনো সময় যেকোনো জায়গা থেকে পন্য ক্রয় করতে পারছে। এতে করে ক্রেতাকে পন্য ক্রয়ের জন্য নিজে প্রতিষ্টানে আসার প্রয়োজন হচ্ছে না। ঘরে বসেই তারা বিভিন্ন পন্য দেখে অর্ডার করতে পারছে এবং প্রতিষ্টানের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পন্য পেয়ে যাচ্ছে। ♦) কাস্টমার সার্ভিস :- ই কমার্স এর উন্নতির ফলে ক্রেরার সেবার মান অনেক বেড়ে গেছে। লেনদেনের ঝামেলা এবং কম সময়ে পন্য ও সেবা পাওয়ার জন্য সবাই আগ্রহী হচ্ছে এবং বিক্রেতা গন ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পন্য সরবরাহ করতে চেষ্টা করছে যার ফলে তাদের ব্যবসা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং ক্রেতাদের কাছে নির্ভরশীলতা অর্জন করছে। ♦) ইলেকট্রিক পেমেন্ট সিস্টেম :- ইলেকট্রিক পেমেন্ট সিস্টেম কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে টাকা পয়সা লেনদেনের একটি অত্যাধুনিক পদ্ধতি। ই কমার্স ব্যবসায় অল্প খরছে দ্রুত লেনদেন খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসার সাথে সমন্বয় রাখার জন্য দ্রুত এবং নিরাপদ ইলেকট্রিক পেমেন্ট দাবিদার ভুমিকা রেখে চলছে। পন্যের মুল্য পরিশোধ করার জন্য ই কমার্স বিভিন্ন পেমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে : *) ব্যাংকিং এবং আর্থিক লেনদেন : এই ব্যবস্থায় রয়েছে অধিক মাত্রা বা পাইকারি বিক্রি প্রদান যা ব্যাংক থেকে ব্যাংকে অর্থ ট্রান্সফার করে। তাছাড়া আরো আছে স্বল্প মাত্রা বা খুচরা প্রদান এবং বিল পরিশোধের জন্য হোম ব্যাংকিং। *) খুচরা লেনদেন : এই ব্যবস্থায় রয়েছে ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, চার্জ কার্ড। এগুলোর মাধ্যমে সহজেই খুচরা লেনদেনের কাজ করা যায়। এগুলো ছাড়াও ই কমার্স আরো কিছু অনলাইন ভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে। ১) টোকেন ভিত্তিক ইলেকট্রিক পেমেন্ট : এটি একটি প্রযুক্তি নির্ভর পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে লেনদেন করা হয় ইলেকট্রিক টাকা বা চেকের মাধ্যমে। এই পদ্ধতিতে যেগুলোর মাধ্যমে লেনদেন হয় সেগুলো হল *) ইলেকট্রিক ক্যাশ : ইলেকট্রিক ক্যাশ বলতে আমরা ই ক্যাশকে বুঝি। ই ক্যাশ হল কাগজ বা মেটাল ভিত্তিক টাকা পয়সার আধুনিক রুপ। ইন্টারনেটের মাধ্যমে কম সময়ে লেনদেন হয় ই ক্যাশ দিয়ে। *) ইলেকট্রিক চেক : এইখানে মুলত ক্যাশের পরিবর্তে ক্রডিট প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়। এই ক্ষেত্রে চেক লেখার জন্য ক্রেতাকে থার্ড পার্টি একাউন্ট সার্ভারে রেজিস্টশণ করতে হয়। রেজিস্টেশন করার পর ক্রেতা বিক্রেতাকে ইন্টারনেটে ইলেকট্রিক চেক পাঠাতে পারে। *) স্মার্ট বা ডেবিট কার্ড : স্মার্ট কার্ড মূলত ক্রেডিট, ডেবিট বা অন্য যেকোনো কার্ড যা মাইক্রোপ্রসেসর যুক্ত এবং ব্যবহৃত ম্যাগনেটিক কার্ডের তুলনায় অনেম বেশি তথ্য ধারন করতে পারে এমন। এর প্রচলন শুরু হয় আশির দশকের প্রথ দিকে। ♣ ই কমার্স ব্যবসায় অসুবিধা ই কমার্স ব্যবসায় খুব বেশি অসুবিধা লক্ষ্য করা হয়না। যেসব অসুবিধা গুলো এখন পর্যন্ত দেখা যায় তা হল : ১) পন্য ক্রয়ের পর তা ক্রেতার মন মত নাও হতে পারে, তাই কেনার আগে পন্যের মান এবং ওয়েবসাইটে দেওয়া পন্যের ছবি গুলো ভালভাবে দেখে নেওয়া উচিত। ২) পন্য ক্রয়ের বা অর্ডার করার পর সেই পন্য হাতে পেতে অনেক সময় দেরি হতে পারে। ৩) দূরবর্তী ক্রেতা বা বিক্রেতার জন্য ব্যয়বহুল হয়ে যায়। ৪) সঠিক বা পন্যের আসল রুপ দেখতে না পাওয়া।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy