1 Answers
ভাস্কর্য এবং মূর্তি দুটোকে বেশিরভাগ মানুষই এক করে ফেলে। দুটোকে সমার্থক শব্দ মনে হলেও আসলে এই দুটোর মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। আমি সহজ করে এই দুটোর মধ্যে পার্থক্য গুলো তুলে ধরতে চেষ্টা করবো। ভাস্কর্যঃ শহর, বা নগরের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য যখন কোন স্থাপনা তৈরী করা হয় তখন সেটা ভাস্কর্য। উদহারনঃ মক্কা শরিফে প্রবেশ পথে রাস্তার ওপর নির্মিত কুরানের বিশাল ভাস্কর্য। কিংবা স্টাচু অফ লিবার্টি, কিংবা আইফেল টাওয়ার। ভাস্কর্য গুলো মূলত শৈল্পিক, দৃষ্টিনন্দন কিংবা ঐতিহাসিক কোন মোটিভের ওপর নির্ভর করে সৃষ্টি। ধরুন, আপনি যদি মোনালিসার চিত্রকর্মটি অবলোকন করেন আপাতদৃষ্টিতে সেটা আপনার কাছে কিছুই মনে হবে না, মনে মনে হয়তো বলতেই পারেন এটা আবার এতো দামি হয় কেমনে। আসলেই কি তাই? শৈল্পিক দৃষ্টিকোন থেকে দেখুন কি নিঁখুত কারসাজি, যা অন্যসব চিত্রকর্ম থেকে এটাকে আলাদা করেছে এবং পৃথিবীর সবচেয়ে দামি চিত্র হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। আচ্ছা বাদ দিন, কথা বলছি ভাস্কর্য নিয়ে পরে আবার বলবেন চিত্রকর্ম দিয়ে উদহারন দেয়ার মানেটা কি। ভাস্কর্য মূলত কোন ঐতিহাসিক নিদর্শনও হতে পারে, যেমন ধরুন কামাল পাশার ভাস্কর্য, বা আলেকজান্ডার দা গ্রেট এর ভাস্কর্য কিংবা ধরুন আমাদের শেখ মুজিবরের অবয়বের ভাস্কর্য। এগুলো সব ইতিহাসের স্বাক্ষী, এগুলো সবই গর্ব। এগুলোর সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই। মোড়ে মোড়ে যদি দশ বিশটা করেও ভাস্কর্য স্থাপন করা হয় তাতে ধর্মের কি এসে যায় বলতে পারেন? মূর্তিঃ সহজ কথায় ধর্মীয় ব্যপার বিবেচনা করে, পূজা, আর্চনা, ধর্মকর্ম করার উদ্দেশ্যে, পূন্য লাভের আশায় যে সকল ভাস্কর্য বা অবয়ব বা মূর্তি স্থাপন করা হয় সেটাকে মূর্তি বলে। মূর্তি দুই ধরনের হতে পারে, দৃষ্টিনন্দন কিংবা কুদৃষ্টি সম্পন্ন। এসকল মূর্তির সাথে সৌন্দর্যের কোন সম্পর্ক নেই আছে ধর্মের সম্পর্ক। যেমন ধরুন দুর্গাপূজা ও কালিপূজার মূর্তি।