2 Answers
দাঁত সৌন্দর্যের একটি অংশ। সুন্দর দাঁত মানেই সুন্দর হাসি। আর এই সুন্দর দাঁত কে না চায়। কিন্তু আমাদের কিছু বদ অভ্যাসের কারণে সুন্দর দাঁত পরিণত হয় অসুন্দর ও নোংরাতে। মাড়ি থেকে রক্ত পরা থেকে শুরু করে, দাঁত কালচে হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যায় ভুগতে হয়। বেশি পরিমাণে মেলানিন জমে থাকলে মেলানিন হল এক ধরণের উপাদান যা ত্বককে প্রাকৃতিক করে তোলে এবং যা ত্বকের সুরকে গভীর করে। সুতরাং আপনার ত্বক যদি কালো হয় তবে আপনার দাঁত গোলাপী নয়, হালকা কালো হয়। তবে দাঁতে যদি কেবল কয়েকটি কালো দাগ দেখা দেয় তবে আপনার অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে। কারণ এটি স্বাভাবিক রোগ নয়। কিছু ওষুধ ব্যবহার করে গবেষণা পরামর্শ দেয় যে, কিছু ওষুধ যেমন- অ্যান্টি-ডিপ্রেশনস, ম্যালেরিয়ার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিকগুলো দাঁতকে কালো করে দেয়। যদি দাঁতে কালো দাগ দেখতে পান এবং আপনি এরকম কোনো ওষুধ খাচ্ছেন যা আপনার দাঁত কালো করে দিচ্ছে, তবে ডাক্তারকে এ সম্পর্কে বলা উচিত। আর সঠিক পরামর্শ নেয়া উচিত। জিঙ্গিভাইটিসের কারণে দাঁতের একটি বিশেষ রোগ রয়েছে, যাকে অ্যালসারেটিভ জিঙ্গিভাইটিস বলা হয়। এটি এক ধরনের সংক্রমণ, যার কারণে মাড়ির ব্যথা, জ্বর এবং দুর্গন্ধের সমস্যা হতে পারে। এই সংক্রমণের কারণে মাড়ির টিস্যু মারা যেতে পারে। যার কারণে তাদের রঙ কালো হতে পারে। আপনার যদি জিঞ্জিভাইটিসের সমস্যা হয় তবে এটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিত্সা করা খুব জরুরি। অন্যথায় এটি দাঁতকে চিরকালের জন্য কালো করে তুলতে পারে। প্রতিকার ১. প্রতিদিন সকালের নাস্তার পর, এবং রাত্রে ঘুমাবার আগে দাঁত ব্রাশ করুন। দিনে মাত্র একবার দাঁতব্রাশ করলে তা অবশ্যই রাত্রে ঘুমাবার আগে। দেড় থেকে দুমিনিট দাঁত ব্রাশ করা শ্রেয়, এর বেশি বা কম নয়। ২. ফ্লস দিয়ে দাঁতের ফাঁকার মধ্যে জমে থাকা ময়লা পরিস্কার করতে পারেন। যেকোনো মিষ্টি জাতীয় খাবার, চকলেট, চুইংগাম, কেক, ফাস্টফুড খাবার পর অবশ্যই পানি দিয়ে ভালো ভাবে কুলকুচি করবেন। ৩. মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন, তবে টানা ব্যবহার করবেন না, ৪/৫ দিন ব্যবহারের পর আবার ৪/৫ দিন ব্যবহার বাদ দিন। অতিরিক্ত ফ্লুরাইড ব্যবহার করে এমন টুথপেষ্ট লম্বা সময় ব্যবহার করবেন না, এতে আপনার দাঁতে সাদা দাগ পড়াসহ ভেঙে যেতে পারে। ৪. সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাশ করবার নিয়মটি আপনার দাঁতের ডাক্তারের কাছ থেকে ভালোভাবে শিখে নিন। দাঁতে সমস্যা থাকুক চাই না থাকুক, বছরে অন্তত ২/১ বার দন্ত চিকিৎসককে দেখানো উচিত।
দাঁতের এত যত্ন নিই, তবু কেন এতে কালো দাগ পড়ে? এ প্রশ্ন অনেকেরই। দাঁতে কালো দাগের প্রধানতম কারণ দন্তমল বা ডেন্টাল প্ল্যাক। আমরা যা খাই, তার কিছু কণা দাঁতের ফাঁকে বা ওপরে জমে থাকে; পরে এগুলো শক্ত আবরণে পরিণত হয়। একে বলে দন্তমল। এই জমে থাকা খাদ্যকণা, ময়লা ইত্যাদি দাঁতের ওপর ও ফাঁকে কালো দাগ তৈরি করে। এ ছাড়া পান, সুপারি, জর্দা, তামাক বা ধূমপান দাঁতে কালো দাগ তৈরির জন্য দায়ী। দন্তমলের কারণে হয় মাড়ির প্রদাহ ও সংক্রমণ। দন্তক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে, মুখে দুর্গন্ধ হয়। তাই নিয়মিত স্কেলিংয়ের মাধ্যমে দন্তমল দূর করা উচিত। আবার দাঁতে ফাঁক বা ক্ষয় থাকলে ময়লা বা খাদ্যকণা জমে বেশি। তাই ফাঁক পূরণে ডেন্টাল ফিলিং করে নেওয়া উচিত। দাঁতে কালো দাগ যাতে না হয় এবং দন্তমল প্রতিরোধে কিছু পরামর্শ রয়েছে। প্রতিদিন দিনে দুবার নাশতার পর ও নৈশভোজের পর ভালো করে দাঁত ব্রাশ করুন। দাঁত ব্রাশের আগে ডেন্টাল ফ্লস দিয়ে দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাদ্যকণা ও ময়লা বের করে নিন। উন্নত মানের মাউথওয়াশ দিয়ে কুলকুচি করা ভালো। প্রতিদিন কিছু শক্ত ফল, যেমন: আপেল, আমলকী, পেয়ারা, আমড়া ইত্যাদি চিবিয়ে খান। কিছু শাকসবজি, যেমন: শসা, টমেটো, গাজর ইত্যাদি নিয়মিত খান। ধূমপান বাদ দিন, পান, জর্দা, গুল ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন। l দন্ত বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল|