2 Answers

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করণীয়ঃ ক) নিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণ -ডায়াবেটিস হলে খাদ্যের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা ডায়াবেটিস হওয়ার আগে যে রকম থাকে পরেও একই থাকে। পুষ্টির চাহিদার কোন তারতম্য হয় না। খাদ্যের নিয়ম মেনে চলার প্রধান উদ্দেশ্য থাকে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা । খ) ব্যায়াম – রোগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ব্যায়াম বা শরীর চর্চার ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম করলে শরীর সু্‌স্থ থাকে,ইনসুলিনের কার্যকারিতা ও নিঃসরণের পরিমাণ বেড়ে যায়। প্রতিদিন অন্তত: ৪৫ মিনিট হাঁটলে শরীর যথেষ্ঠ সু্‌স্থ থাকবে। শারীরিক অসুবিধা থাকলে সাধ্যমত কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। গ) ঔষধ – সকল ডায়াবেটিক রোগীকেই খাদ্য, ব্যায়াম ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে,বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে, এই দুইটি যথাযথভাবে পালন করতে পারলে রোগ নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ইনসুলিন ইনজেকশনের দরকার হয়। টাইপ-২ ডায়বেটিস রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসক শর্করা কমাবার জন্য খাবার বড়ি দিতে পারেন। ঘ) শিক্ষা – ডায়াবেটিস আজীবনের রোগ। সঠিক ব্যবস্থা নিলে এই রোগকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ব্যবস্থাগুলি রোগীকেই নিজ দায়িত্বে মেনে চলতে হবে এবং রোগীর পরিবারের নিকট সদস্যদের সহযোগিতা এ ব্যাপারে অনেক সাহায্য করতে পারে। তাই এ রোগের সুচিকিৎসার জন্য ডায়াবেটিস সর্ম্পকে রোগীর যেমন শিক্ষা প্রয়োজন, তেমনি রোগীর নিকট আত্মীয়দেরও এই রোগ সর্ম্পকে কিছু জ্ঞান থাকা দরকার।

10365 views

ডায়বেটিস বর্তমান সময়ে এক আতঙ্কের নাম । বর্তমানে প্রায় ৬০% মানুষ এই রোগ দ্বারা আক্রান্ত । তবে , এটি নিয়ে তেমন ভয় পাওয়া কিছু নেই । কেননা, এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব ,তবে এর জন্য আপনাকে কিছু নিয়ম ও কিছু খাদ্যঅভ্যাসের এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব নিতে হবে । কেননা, ডায়াবেটিস রোগটা নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য যতটা চিকিৎসার প্রয়োজন তার থেকে বেশি প্রয়োজন খাদ্যঅভ্যাস ও ব্যায়ামের । কারন , শুধু চিকিৎসার মাধমে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয় । তাই এটি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য আপনাকে অবশ্যই নিয়ম অনুসরন করতে হবে ।






ডায়াবেটিস কি ?

ডায়াবেটিস হলো আমাদের যা রক্তে গ্লুকোজ বা চিনির উপস্থিতির মাত্রা বৃদ্ধি করে। খাবার খেয়ে শরীরে গ্লুকোজ হয়। এই গ্লুকোজ কোষগুলিতে ইনসুলিন-মুক্তির হরমোন হিসাবে কাজ করে। এটি অগ্নাশ্যয়ের গ্রন্থি থেকে নিঃসকৃত এক ধরনের হরমোন যা গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন নামের হরমোন নিঃসৃত হয়, যার মাধ্যমে শরীরের কোষগুলো গ্লুকোজ গ্রহণ করতে পারে এবং গ্লুকোজ থেকে আমাদের শরীর শক্তি উৎপাদন করে থাকে।

কলাস্থান অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে পর্যবেক্ষণ করলে, অগ্ন্যাশয়ের একটি রঞ্জিত প্রস্থচ্ছেদ-এ দুই ধরনের প্যারেনকাইমাল কোষ দেখা যায়। হালকা রং-এ রঞ্জিত কোষ গুলো কে বলা হয় "আইলেটস অব ল্যাংগারহ্যান্স"। ডায়াবেটিস দুই ধরনের হয়ে থাকে ,যথা, ১) টাইপ ”এ ”২) টাইপ ”বি” ।

টাইপ এ : এ ধরনের রোগীর দেহে কোন ইনসুলিন তৈরী হয় না ।অর্থাৎ , এদের দেহে বাইরে থেকে কৃত্রিম ইনসুলিন দেওয়া হয় ।

টাইপ বি :এ ধরনের রোগীর দেহে ইনসুলিন বেশি থাকে যা শরীর থেকে বিভিন্ন ভাবে বেরিয়ে যায় ।

রক্তে সুগারের পরিমান কত হলে বুঝবেন যে আপনার ডায়াবেটিস হয়েছে ?

ডায়াবেটিস এর পরিক্ষা ,যদি খালি পেটে করে থাকেন তাহলে এর এর পরিমান ৫ এর নিচে থাকতে হবে । আর যদি ভরা পেটে পরিক্ষা করে থাকেন ,৮ এর নিচে থাকতে হবে ।



আসুন এবার জেনে নেই ডায়বেটিস কেন হয় ?

ডায়বেটিস হওয়ার পেছনে নানা কারন রয়েছে । তবে, এর মধ্যে প্রধান ও উল্লেখযোগ্য কারন হলো , অলসতা বা কোন প্রকার ব্যায়াম ও কায়িক প্ররিশ্রম না করা । আমাদের অগ্নাশয়ের যে বিশেষ গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন নির্গত হয় তা আমাদের কিছু ভুল বা অসর্তকতার জন্য এইসব গ্রন্থি থেকে প্রতিনিয়িত ইনসুলিনের পরিমান বাড়তে বা কমতে থাকে । এছাড়াও যাদের ডায়বেটিস হওয়ার আরও একটি কারন হলো যাদের বংশে ডায়বেটিস হওয়ার ইতিহাস আছে বা পরিবারের কেউ ডায়বেটিস এ আক্রান্ত তাদের এ রোগ হওয়ার সম্ভবনা বেশি ।



ডায়বেটিস এর প্রধান লক্ষনগুলো কি কি ?

ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া ।
ঘন ঘন প্রসাব হওয়া ।
ঘন ঘন পানির পিপাসা লাগা ।
কোন কারন ছাড়ায় শরীরের ওজন কমে যাওয়া ।
শরীরের কোথাও ক্ষত হলে তা শুকাতে দীর্ঘ সময় লাগা ।
শরীর দুর্বল হয়ে পড়া ।
একটু কায়িক প্ররিশ্রম বা একটু হাটলেই হাপিয়ে যাওয়া ।
রক্তে গ্লুক্লোজ এর পরিমান বেড়ে যাওয়া সহ ইত্যাদি লক্ষনগুলো প্রধানত দেয়া দেয় ।

কোন বয়সি মানুষের এ রোগ বেশি হয় ?

ডায়বেটিস সব বয়সি মানুষেরই হতে পারে । এটি কোন বয়সের উপর নির্ভর করে না। কিছু গবেষনায় দেখা যায় যে ১৮-২০ বয়সি ছেলে-মেয়েদেও এ রোগ হয়ে থাকে । তবে , শতকরা বা আক্রান্ত হওয়ার দিক দিয়ে যাদের বয়স ৫০ এর উপরে তাদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশি ও মৃত্যু ঝুকিও বেশি ।

বাদামের পুষ্টিগুন

ডায়াবেটিস এর সাথে কি ওজনের সম্পর্ক রয়েছে

এই রোগের সাথে ওজনের কোন সম্পর্ক নেই এটি সব বয়সি ও সব ওজনের মানুষেরই হয়ে থাক অনেকের ধারনা যে যাদের শরীরের ওজন বেশি বা মোটা তাদেরই মূলত ডায়াবেটিস হয় । এটি ভুল ধারনা । কারন ,এই রোগ হওয়ার জন্য কোন ওজন বেশি বা বয়সের কোন সম্পর্ক নেই ।



ডায়বেটিস প্রতিরোধে কি করবেন ?

আমি আগেই বলেছি ডায়বেটিস প্রতিরোধে যতটা না প্রয়োজন চিকিৎসার ,তার থেকেও বেশি প্রয়োজন আপনার কিছু অভ্যাস ও খাদ্য তালিকাগুলো ঠিক রাখা । কেননা, ডায়বেটিস কখনো চিকিৎসার মাধ্যমে পরোপুরি নিয়ন্ত্রন সম্ভব নয় । তবে, নিয়ন্ত্রনে রাখা যায় ।আর ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য আপনাকে চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু খাদ্য অভ্যাসের পরিবর্তন ও কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে । আসুন জেনে নিই ,

ডায়বেটিস প্রতিরোধে কি কি খাবার খাবেন ?

লাল আটার রুটি বা রুটি ।
দই (চিনি ছাড়া),চিড়া,মুড়ি ।
গাজর (এতে রয়েছে প্রচুর পটাসিয়াম যা সুগার নিয়ন্ত্রনে ভূমিকা রাখে ।
পালং শাক ।
করলা (সবজি)
কি কি খাবার খাবেন না ।
মিষ্টি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার । কারন এধরনের খাবারে সুগারের পরিমান বেশি ।যা ডায়াবেটিস এর জন্য ঝুকিপূর্ন ।
শর্করাজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন । যেমন , সাদা চালের ভাত ,মসুরের ডালসহ ইত্যাদি খাবার ।

আসুন এবার জেনে নিই ডায়বেটিস রোধে কিছু ভাল অভ্যাস ঃ
১। নিয়মিত ব্যায়াম করুন ।
২। নিয়মিত কায়িক প্ররিশ্রম করুন ।
৩। অলস জীবন -যাপন থেকে বেড়িয়ে আসুন ।
৪। শরীরে ঘাম ঝড়বে ,এমন কাজ করুন ।
৫। প্রতিদিন সকালে ওঠে হাটা হাটি করবেন ।
৬। সপ্তাহে কমপক্ষে ২ বার আপনার ডায়বেটিস চেকআপ করবেন ।
আপনার মধ্যে যদি উপরের দেওয়া আভ্যাস ও নিয়মগুলো গড়ে ওঠে । তাহলে অভ্যাস আপনার রোগটি নিয়ন্ত্রনে থাকবে । এবং ধীরে ধীরে ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পাবেন । এছাড়াও ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন খুব সকালে ঘুম থেকে হাটার চেষ্টা করুন । কেননা, প্রতিদিন ব্যায়াম বা হাটার ফলে আমাদের দেহের গ্রন্থিতে ডায়াবেটিস এর জন্য দায়ী ইনসুলিন এর পরিমান বেড়ে যেতে পারে না । তাই নিয়মিত হাটা ,চলা , ব্যায়ামের অভ্যাস করুন ।


10365 views