1 Answers

স্লিপিং প্যারালাইসিস নামটা আজব শুনালেও এর বাংলা নামটা শুনলে অনেকের কাছেই চেনা লাগবে। সেটি হল বোবায় ধরা।এটি এক ধরনের স্লিপিং ডিসঅর্ডার বা প্যারাসমোনিয়া। কমবেশি সবারই এই সমস্যা আছে। এই সমস্যাটা বয়ঃসন্ধিতে শুরু হয় সাধারণত। যা চলতে থাকে ৩০ বা এর পরও। এটি জীবননাশক কোন সমস্যা নয় কিন্তু এটি বিষন্নতার জন্ম দিতে পারে। স্লিপিং প্যারালাইসিস বলতে সাধারণত বোঝায় ঘুমের একপর্যায়ে শরীর অসার হয়ে যাওয়া বা ঘুমের মাঝে হ্যালুসিনেশন হওয়া। এটা কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এর তিনটি প্রকার আছে। ইনট্রুডার : এটা মূলত হ্যালুসিনেশন পর্যায়। ভিজুয়্যাল, অডিটরি, সেনসরি সব হ্যালুসিনেশনই এই পর্যায়ে হতে পারে। এসময় মনে হয় যে কেউ দরজার নব খুলছে বা পায়ের আওয়াজ শোনা যায় বা অনেকে কিছু দেখতেও পায়। মোটকথা, ভীতিকর কিছুর উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। ইনকিউবিস : এই পর্যায়কেই মূলত বোবায় ধরা নামে অভিহিত করা হয়। এক্ষেত্রে মনে হয় কেউ বুকের উপর বসে আছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বুকে চাপ চাপ লাগে। মৃত্যুর মতো অনুভূতিও হতে পারে। বেশিরভাগ মানুষেরই এই ধাপের সমস্যাটা আছে। ভেস্টিবুলার মোটর : এই ধাপের সমস্যাটা আমার হয় মাঝে মধ্যে কিন্তু এই ধাপটা নিয়েই বেশি জানতে পারলাম না! এটা মূলত স্বপ্নের একটা পর্যায়। এক্ষেত্রে মনে থাকে যে আমি কোথাও থেকে পড়ে যাচ্ছি বা ভাসছি। ডুবে যাওয়া বা আঘাত পাওয়ার মতো অনুভূতিও হয়ে থাকে। এবার আসি এটি কেন হয় তার বর্ননায়। আমরা মোটামুটি সবাই জানি ঘুমের দুটো পর্যায়, রেম ও নন–রেম। আর মানুষ রেম পর্যায়ে স্বপ্ন দেখে থাকে। এর দৈঘ্য খুব কম হয়। এসময় ব্রেনের সাথে শরীরের যোগাযোগ কিছুটা কমে যায়। ঘুমোনোর সময় আমাদের মস্তিষ্ক কথা বলা সহ চলনক্ষমতা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে, যাতে আমরা ঘুমের মাঝে চলতে গিয়ে আঘাত না পাই। কিন্তু এমন স্থিতাবস্থার মাঝেই অনেক সময় আমরা জেগে উঠি। অর্থাৎ কখনো কখনো মস্তিষ্কের চেতন অংশের পুরোটা একত্রে কার্যকর হয় না। তখন অন্য অনুভবশক্তি সচল থাকলেও চলন ও বাকশক্তি ফিরতে একটু সময় নেয়। এর মাঝেই তৈরি হয় সাময়িক পক্ষাঘাত বা বোবায় ধরা। ঘুম ও জাগরণের মধ্যবর্তী এ অবস্থার প্রকরণ হলো দুটি। একটি হতে পারে, যখন আপনি জাগ্রত অবস্থা থেকে ঘুমাচ্ছেন বা ঘুমাবো ঘুমাবো করছেন। অন্যটি হতে পারে যখন আপনি ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জেগে উঠছেন বা উঠবেন। প্রথমটিকে বলা হয় প্রিডরমিটাল স্লিপ প্যারালাইসিস এবং দ্বিতীয়টিকে পোস্টডরমিটাল স্লিপ প্যারালাইসিস বলে। এটি হওয়ার পিছনে জাগতিক তেমন কোন কারণ থাকে না, তারপরও কিছু জিনিস এটি ঘটতে প্রভাব ফেলে। যেমন– ঘুমে অনিয়ম করা। একদম সোজা হয়ে শোওয়া (এটি নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক আছে) পারিবারিক ইতিহাস। ঘুমের ব্যাপারে অনীহা। সারাদিন ঘুম ঘুম ভাবের মধ্যে থাকা বা হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাসে আক্রান্তদের এটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। জেট ল্যাগ, অতিরিক্ত স্ট্রেসের জন্যও এমন হতে পারে। এই কারণগুলো শনাক্ত করার দরকার হয় না, তবে কারো কারো এই প্যারালাইসিস থেকে মারাত্নক সমস্যা যেমন নার্কোলেপসি( দীর্ঘমেয়াদী স্নায়বিক সমস্যা, ঘুমের সার্কেল ভেঙ্গে দেয়), হতাশা, মাইগ্রেন, বাস্তব থেকে হারিয়ে যাওয়া, বিষন্নতা ইত্যাদি হয়ে থাকে। তাদের এটা গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। স্লিপিং প্যারালাইসিস প্রতিকারে তেমন কিছুই করার নেই। ঘুমবিষয়ক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে হালকা লাভ হতে পারে। তবে বেশিরভাগ সমস্যার শিকারই এতে অভ্যস্ত হয়ে যায়।

4198 views

Related Questions