1 Answers
তাবেয়ী (আরবী تابعى ) শব্দটি ইসলামী পরিভাষার ব্যবহৃত আরবী শব্দ । তাবেয়ী দ্বারা রাসুল এর সঙ্গী অর্থাৎ সাহাবাদের সাথে দেখা পাওয়া ঈমানদার ব্যক্তিদের বুঝানো হয় । তাবেয়ীদের মধ্যে অনেক জ্ঞানী ব্যক্তি রয়েছেন যারা ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছেন । সংজ্ঞা তাবেয়ী বা তাবিঈ ঐ ব্যক্তিকে বলা যাবে যিনি ঈমান গ্রহণ অবস্থায় কোন সাহাবাকে দেখেছেন,তার সাথে কথা বলেছেন বা তার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং ঈমান অবস্থায় মৃত্যু বরন করেছেন । যারা সাহাবীদের পরের প্রজন্মের ব্যক্তি তাদেরকে তাবেয়ী বলা হয়েছে। তারা মুহাম্মাদের পরবর্তী বা সমসাময়ীক যুগের লোক ছিলেন তবে তাঁর সাথে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত ছিলেন না বরং কোন সাহাবীর সাথে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত ছিলেন,জানতেন। আর যারা তাবিঈগণের কারো সাথে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত ছিলেন, জানতেন তারাই হলেন তাবিঈ তাবিঈন বা দ্বিতীয় পর্যায়ের লোক। হাদীসশাস্ত্রে কোন হাদিসের মূল বর্ননাকারী প্রাথমিক যুগের সাহাবী, না একজন গন্যমান্য প্রসিদ্ধ তাবিঈ তার উপরই হাদীসটির গুরুত্ব নির্ভর করে। একারণেই প্রশিদ্ধ (মাশ্হূর) শ্রেণীর হাদীস বলতে বোঝায় সেই হাদীস, যা সূত্র সনদ পরম্পরায় প্রাথমিক যুগের একজন তাবিঈ পর্যন্ত গিয়েছে দ্বিতীয় যুগের কয়েকজন তাবিঈ এবং তাহাদের পরবর্তীগণ কর্তৃক বর্ণিত ও হস্তান্তরিত হয়েছে। কুরআন পাঠ সম্পর্কিত বা অন্যান্য ধর্মীয় বিষয়ক হাদীসসমূহের জন্যও বর্ণনাকারী পরম্পরা রয়েছে। হাসান আল-বাস্রী ছিলেন প্রাথমিক যুগের একজন বিখ্যাত তাবিঈ। ইসলামের বিভিন্ন মনিষী তাবেয়ীর সংজ্ঞা এভাবে উপস্থাপন করেছেনঃ ১। উলুমুল হাদিস এর পরিভাষায়- তাবেয়ী হচ্ছেন: যিনি সাহাবীর সাক্ষাত পেয়েছেন তিনি তাবেয়ী। বিশুদ্ধ মতানুযায়ী, এর জন্য দীর্ঘদিনের সঙ্গ শর্ত নয়। অতএব, যিনি সাহাবীর সাক্ষাত পেয়েছেন এবং ঈমানের সাথে মৃত্যুবরণ করেছেন তিনিই তাবেয়ী। তাবেয়ীর মধ্যে উত্তমতার স্তরভেদ রয়েছে। ২। হাফেয ইবনে হাজার ‘নুখবাতুল ফিকার’ (৪/৭২৪) গ্রন্থে বলেন: তাবেয়ী হচ্ছেন- যিনি সাহাবীর সাক্ষাত পেয়েছেন। ৩। ইবনে কাছির বলেন: খতিব আল-বাগদাদী বলেন: তাবেয়ী হচ্ছেন যিনি রাসুল নবুয়তের পরে জন্ম গ্রহণ করেছেন এবং তার সাহাবীর দেখা পেয়েছেন । ৪। হাকেমের বক্তব্যের দাবী হচ্ছে- যিনি সাহাবীর সাক্ষাত পেয়েছেন তাকে তাবেয়ী বলা যাবে। সাহাবীর থেকে শিক্ষা লাভ না করে থাকে ।