1 Answers

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির যেমন ভালাে দিক রয়েছে তেমনি এর নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব আলােচনা করা হলাে: চিকিৎসাক্ষেত্রে সিম্যুলেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করে ডাক্তার ও নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মিলিটারি প্রশিক্ষণে ফ্লাইট সিমুলেটর ব্যবহার করে বিমান চালানাে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সৈন্যদের অস্ত্রচালনার জন্য ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়। ফলে সৈন্যদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যায়। কোনাে অবকাঠামাে যেমন: ব্রিজ, ফ্লাইওভার, বিল্ডিং, শপিং কমপ্লেক্স তৈরির পূর্বে আমরা তার সিম্যুলেটেড সফটওয়্যার তৈরি করে বাস্তবের অবস্থা দেখতে পারি। ব্যবসা-বাণিজ্যে তথ্য ও যােগাযােগ ব্যবস্থাকে সহজ করার জন্য ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারকারী কম্পিউটারে সহজ ও সুন্দরভাবে ফাইল সংরক্ষণ করতে পারবে এবং সহজে তা খুঁজে বের করতে পারবে এবং তাকে বাস্তবের ফাইল ড্রয়ার খােলার অনুভূতি প্রদান করবে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে ভিডিও গেমস খেলা যায়, যা বাস্তবের অনুভূতি প্রদান করে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জন্য সিমুলেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করে মানুষের জীবনকে অনেক বেশি বৈজ্ঞানিক ও ঝুঁকিপূর্ণ করবে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারের ফলে মানুষের চিন্তা-চেতনায় ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। ফলে সামাজিক জীবনে এর প্রভাব ফেলবে। যেমন: উন্নত দেশে বড়দিনের উৎসবে উদাহরণস্বরূপ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সম্পর্কিত যন্ত্রপাতি, সফটওয়্যার ও ছায়াছবি প্রদান করা হয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে অবাস্তব সব দৃশ্যকে বাস্তব দৃশ্যে পরিণত করা হচ্ছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে টাইটানিক, সিন্দাবাদ, স্পাইডারম্যান ইত্যাদি বিভিন্ন ছবিতে আশ্চর্যজনক দৃশ্য তৈরি করা হয়। ফলে বিনােদনে এসেছে নতুন মাত্রা। ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ইতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে । ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ব্যবহৃত যন্ত্ৰসমূহ উচ্চমূল্য এবং সফটওয়্যারসমূহ তৈরি করাও জটিল ও ব্যয়বহুল।

5459 views