1 Answers

উপসর্গ’ কথাটির মূল অর্থ ‘উপসৃষ্টি’। এর কাজ হলো নতুন শব্দ গঠন করা। উপসর্গের নিজস্ব কোন অর্থ নেই, তবে এগুলো অন্য শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে থাকে। মনে রাখতে হবে, উপসর্গ সব সময় মূল শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়। যেমন– ‘হার’ একটি শব্দ। এর সাথে উপ, আ, প্র, বি, উপসর্গ যুক্ত হয়ে যথাক্রমে উপহার, আহার, প্রহার, বিহার শব্দ গঠিত হয়েছে। এভাবে উপসর্গের সাহায্যে নতুন নতুন শব্দ গঠন করে বাংলা ভাষার শব্দ সম্ভার সমৃদ্ধি লাভ করেছে। অতএব, কতকগুলো অব্যয় নামবাচক বা কৃদন্ত শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে এবং অর্থের পরিবর্তন সাধন করে, এগুলোকে উপসর্গ বলে। উপসর্গের বৈশিষ্ট্য শব্দ বা ধাতুর আদিতে যা যোগ হয় তাই উপসর্গ। উপসর্গগুলোর নিজস্ব কোন অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অন্য শব্দের আগে যুক্ত হলে এদের অর্থদ্যোতকতা বা নতুন শব্দ সৃষ্টির ক্ষমতা থাকে। উপসর্গগুলোর সঙ্গে কোন বিভক্তি বা প্রত্যয় যুক্ত হয় না বলে এদের রূপের কোন পরিবর্তন হয় না। এ জন্য বাংলা ব্যাকরণে উপসর্গকে অব্যয় বলেও গণ্য করা হয়। উপসর্গের বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো: ১. উপসর্গের নিজস্ব কোন অর্থ নেই। ২. এটা নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠন করে। ৩. এগুলো স্বাধীনভাবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না। ৪. এগুলো শব্দের অর্থের পূর্ণতা দান করে। ৫. এগুলো নামবাচক ও কৃদন্ত পদের পূর্বে বসে। ৬. উপসর্গ শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ, পরিবর্তন বা সংকোচন ঘটায়।

6678 views