1 Answers

কোমর ব্যথা কেন হয় এবং প্রতিরোধ নিচে দেওয়া হলো,, *সাধারনত আমাদের মেরুদন্ডের নিচের দিকে ব্যথা হলে আমরা এটাকে কোমর ব্যথা বলে থাকি। কোমর ব্যথা অনেক কারনে হয়। তবে মেরুদন্ডের দুই হাড়ের মাঝখান থেকে ডিস্ক বের হয়ে যে কোমর ব্যথা হয়ে থাকে, সেটাকে ডিস্ক প্রলাপস জনিত কোমর ব্যথা বলা হয়৷ অধিকাংশ সময় এই ডিস্ক প্রলাপসের কোমর ব্যথা সায়াটিক নার্ভ দিয়ে পায়ের দিকে চলে যায়৷ যেটাকে সায়াটিকার ব্যথাও বলা হয়। PLID মানে Prolapse Lumbar Intervertebral Disc আর LVDP মানে Lumbar Vertrebral Disc Prolapse. অর্থাৎ আমাদের পিঠ বা কোমর অনেকগুলো ছোট ছোট হাড় নিয়ে গঠিত, যাকে আমরা কশেরুকা বা ভার্টিব্রা বলি। এই ভার্টিব্রাগুলোর মাঝখানে ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক থাকে, যার চারদিকে একধরনের ইলাস্টিকের মত কার্টিলেজ থাকে, এর ভিতরে টুথপেস্ট বা জেল এর মত নরম এক ধরনের পদার্থ থাকে। অনেক সময় বিভিন্ন আঘাতজনিত কারনে জেল এর পদার্থটি ইলাস্টিকের উপর চাপ দেয়, ফলে ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক বের হয়ে এসে নার্ভে চাপ দেয়। কোমরে পায়ে ব্যথা হয়, পা ঝিন ঝিন করে, অবশ অবশ লাগে৷ অনেক সময় এই ব্যথা কোমরে না থেকে সরাসরি পায়ে চলে যায়। অধিকাংশ ডিস্ক প্রলাপ্স L4- L5 বা L5- S1 এ হয়ে থাকে। বয়স জনিত কারণে অনেক সময় অনেকগুলো ভার্টিব্রাল জয়েন্টে এক সাথে ডিস্ক প্রলাপ্স হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে দেখা যায় অনেক রোগীর কোমর বাঁকা হয়ে যেকোনো একদিকে সরে গেছে, এটাকে আমরা Lateral shift বলে থাকি৷ যদি কারো কোমর বাঁকা ( shift) হয়ে যায়। তবে এই বাঁকা কোমর সোজা না হলে অর্থাৎ শিফট কারেকশন না হলে ব্যথা ভাল হবে না। এছাড়া বয়সজনিত কারণে বর্ধিত হাড় বা অস্টিওফাইটস নার্ভে চাপ দেয় এতেও কোমর ব্যথা হতে পারে এবং ব্যথা পায়ে চলে যেতে পারে৷ এছাড়া স্পাইনাল ক্যানেল স্টেনোসিসের জন্য কোমর ও পায়ে এক সাথে ব্যথা হতে পারে। তাই রোগীর সব কথা শুনে বুঝে রোগ নির্নয় করে চিকিৎসা দেওয়া উচিত। অধিকাংশ PLID জনিত কোমর ব্যথা সম্পূর্নভাবে ভাল হয়ে যায়। তাই কোমর ব্যথার রোগীদের বলব, অযথা হতাশার দরকার নেই। সঠিকভাবে চিকিৎসা নিন, সুস্থ থাকুন। এই ব্যথা সম্পুর্ন ভালো হতে সময় লাগে৷ অনেক সময় কিছুটা ব্যথা থেকে যায়৷ যেটাকে আস্তে আস্তে নিজে নিজে সলভ্ করে নিতে হয়৷ কিভাবে এই ধরনের কোমর ব্যথা প্রতিরোধ করবেন: ১। বেশিক্ষন সামনে ঝুকে কাজ করবেন না। ২। ভারী কোন কিছু একা একা নিচ থেকে তুলতে যাবেন না ৩। ধূমপান থেকে দূরে থাকবেন । ৪। নিয়মিত ব্যায়াম করবেন। ব্যথা হলে ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিবেন। ৫। ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখবেন।

6776 views

Related Questions