1 Answers
- সাধারণভাবে রােগের ধরণ এবং রােগীর অবস্থার ওপর গ্লুকোকর্টিকয়েডের মাত্রা নির্ভর করে।
- ওষুধ শুরুর কয়েকদিনের মধ্যে আশানুরূপ ফলাফল না পেলে গ্লুকোকর্টিকয়েড চালিয়ে যাবার প্রয়ােজন নেই।
- দীর্ঘমেয়াদী প্রয়ােজনে সবচেয়ে কম মাত্রায় কার্যকরী পরিমান গ্লুকোকর্টিকয়েড সেব্য।
ট্যাবলেট:
১। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে রােগীর প্রয়ােজন অনুযায়ী প্রতিদিন ১ মি.গ্রা. থেকে ১০ মি.গ্রা. পর্যন্ত সেব্য। শিশুদের ক্ষেত্রে ০.০৩-০.২০ মি.গ্রা./কেজি দৈহিক ওজন হিসেবে প্রতিদিন সেব্য।
২। কোন কোন রােগীর ক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে উচ্চ মাত্রায় ডেক্সামেথাসন সেব্য। পরবর্তীতে প্রয়ােজন অনুযায়ী মাত্রা কমাতে হবে।
৩। ডেক্সামেথাসন সাপ্রেশন টেস্ট: সকাল ১১টায় ১ মি.গ্রা. ডেক্সামেথাসন দেয়া হয় এবং পরদিন সকালে প্লাজমা কর্টিসন পরিমাপ করা হয়।
যে সমস্ত রােগীর ক্ষেত্রে কর্টিসনের পরিমান কমে না, ০.৫ মি.গ্রা. ডেক্সামেথাসন ৬ ঘন্টা পর পর ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত দেয়া হয়। পরবর্তীতে ৪৮ ঘন্টায় ২ মি.গ্রা. করে ৬ ঘন্টা পরপর দেয়া হয়। টেস্টের আগে, টেস্টের সময় এবং পরে ২৪ ঘন্টার প্রস্রাব পরীক্ষা করে ১৭ আলফা-হাইড্রোক্সিকর্টিকয়েডের পরিমাপ করা হয়।
ডেক্সোনেক্স ইঞ্জেকশন: ডেক্সামেথাসন ইঞ্জেকশন ইন্ট্রাভেনাস (আইভি), ইন্ট্রামাস্কুলার (আইএম) অথবা নােকাল ইঞ্জেকশন হিসেবে প্রয়ােগ করা যায়। ডেক্সামেথাসন ইঞ্জেকশন ইনফিউশন ফ্লুইড এর সাথে মিশ্রিত করে অথবা সরাসরি ইনফিউশন লাইনে প্রয়ােগ করা যায়। অধিক মাত্রায় শিরায় প্রয়ােগ করা হলে কয়েক মিনিট ধরে প্রয়ােগ করতে হবে। সাবকিউটেনিয়াস এডিপােস টিস্যুর এ্যাট্রফি প্রতিরােধ করার জন্য ইন্ট্রামাস্কুলার ইঞ্জেকশন গভীর মাংসপেশীতে প্রয়ােগ করতে হবে। যেহেতু গ্লুকোকর্টিকয়েড ইনফেকশন্ এর প্রতি প্রতিরােধকে কমিয়ে দেয়, তাই ইন্ট্রা-আর্টিকুলার ইঞ্জেকশন হিসেবে প্রয়ােগের ক্ষেত্রে জীবাণুমুক্ত অবস্থা বজায় রাখতে হবে। ডেক্সামেথাসন বিভিন্ন ইনফিউশন ফ্লুইডের সাথে মিশ্রিত করা হলে এর কার্যকারিতা কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত অক্ষুন্ন থাকে। ইনফিউশন ফ্লুইড হিসেবে সােডিয়াম ক্লোরাইড ০.৯%, এনহাইড্রাস গ্লুকোজ ৫%, ইনভার্ট সুগার ১০%, সরবিটল ৫%, রিঙ্গার’স সলিউশন, হার্টম্যান’স সলিউশন (রিঙ্গার-ল্যাকটেট) ইত্যাদি ব্যবহার করা যায়। রােগের তীব্রতা এবং রােগীর ওষুধের প্রতি সংবেদনশীলতার উপর নির্ভর করে ডেক্সামেথাসন ইঞ্জেকশন এর মাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে সিস্টেমিক থেরাপি হিসেবে ০.০৫-০.২০ মি.গ্রা./কেজি হারে প্রয়ােগ করতে হবে। জরুরী অবস্থায় (এনাফাইলেকসিস, একিউট সিভিয়ার অ্যাজমা, সেরেব্রাল ইডিমা) অধিক মাত্রায় প্রয়ােগ করতে হবে। প্রাথমিক মাত্রায় ১০-২০ মি.গ্রা. আইভি প্রয়ােগ করতে হবে, তারপর ৬ মি.গ্রা. আইভি অথবা আইএম প্রতি ৬ ঘন্টা অন্তর প্রয়ােগ করতে হবে । পর্যাপ্ত উপশমের পরপরই ব্যবহার মাত্রা ধাপে ধাপে কমিয়ে দিতে হবে। লােকাল থেরাপি-এর ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত মাত্রা সমূহ নির্দেশিত ইন্ট্রা-আর্টিকুলারলিঃ ২-৪ মি.গ্রা. বড় এবং ০.৮-১ মি.গ্রা. ছােট অস্থিসন্ধিতে ইন্ট্রা-বারশালিঃ ২-৪ মি.গ্রা. টেনডন সিথ-এঃ ০.৪-১ মি.গ্রা. এ সকল ক্ষেত্রে ইনজেকশন্ ৩-৫ দিন হতে ২-৩ সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতে পারে।
ডাই-ইউরেটিকস বা কার্ডিয়াক গ্লাইকোসাইডস এর সাথে একত্রে ব্যবহারে হাইপােক্যালেমিয়া হবার ঝুঁকি থাকে।
• অ্যান্টি-ডায়াবেটিক ওষুধের সাথে একত্রে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি অ্যান্টি-ডায়াবেটিক ওষুধের চহিদা বাড়িয়ে দেয়।
• নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি ইনফ্লামেটরী ওষুধের সাথে একত্রে ব্যবহারে পরিপাকতন্ত্রের আলসার হবার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
• গ্লুকোকর্টিয়েড ওরাল এ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট জাতীয় ওষুধের প্রয়ােজনীয়তার পরিবর্তন করতে পারে।
• লিভার এনজাইম জনিত ওষুধ যেমন- রিফামপিসিন, এফেড্রিন, বারবিচুরেটস, ফিনাইটোইন এবং প্রিমিডােন প্রভৃতি ওষুধের সাথে একত্রে ব্যবহারকালে এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
• স্যালিসাইলেটের সাথে দীর্ঘমেয়াদী সেবনের ক্ষেত্রে সাবধানতার সাথে গ্লুকোকর্টিয়েডের মাত্রা কমাতে হবে। কারণ এ সকল ক্ষেত্রে স্যালিসাইলেট বিষক্রিয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
• ম্যাগনেশিয়াম ট্রাইসিলিকেট জাতীয় এন্টাসিড পরিপাকতন্ত্রে গ্লুকোকর্টিয়েডের শােষণকে ব্যহত করে। তাই একত্রে ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুটি ওষুধের মাত্রার মধ্যে যথেষ্ট ব্যবধান রাখতে হবে।
এমাসন ট্যাবলেট সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন এই লিঙ্ক থেকে এমাসন