1 Answers
- রােগীর প্রয়ােজন এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।
- টাইপ ১ ডায়াবেটিক রােগীদের জন্য ইনসুলিনের গড় দৈনিক মাত্রা হলাে ০.৫ এবং ১.০ আইইউ/কেজি-এর মধ্যে।
- অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের জন্য এই মাত্রা হলাে ০.৭-১.০ আইইউ/কেজি কিন্তু আংশিক আরােগ্যলাভের সময় এই মাত্রা আরাে কমিয়ে দিতে হবে। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, যেমন- বয়ঃসন্ধিকাল বা স্থূলতার ক্ষেত্রে দৈনিক ইনসুলিনের চাহিদা অনেক বৃদ্ধি পায়।
- টাইপ ২ ডায়াবেটিক রােগীদের জন্য প্রাথমিক মাত্রা অনেক ক্ষেত্রে কম থাকে, যেমন- দৈনিক ০.৩-০.৬ আইইউ/কেজি।
ব্যবহারবিধি: ইনজেকশন দেয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে শর্করাজাতীয় খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। বাহুর উপরিভাগ, উরু, নিতম্ব বা পেটের চামড়ার নিচে ইনজেকশন প্রয়ােগ করতে হবে। শরীরের অন্যান্য জায়গার চেয়ে পেটের চামড়ার নিচে ইনজেকশন প্রয়ােগ করলে দ্রুত শােষিত হয়। ইনসুলেট আর জরুরী অবস্থায় শুধুমাত্র চিকিত্সক দ্বারা শিরাপথে প্রয়ােগ করা যেতে পারে। তবে ইনসুলেট এন, ইনসুলেট ৩০/৭০ এবং ইনসুলেট ৫০/৫০ কখনাে শিরাপথে প্রয়ােগ করা উচিত নয়।
১. ব্যবহারপূর্ব প্রস্তুতি:
- হাত পরিস্কার করুন।
- ভায়ালটিকে হালকাভাবে ঝাঁকিয়ে বা ঘুরিয়ে নিন যাতে এর ভেতরের উপাদানগুলাে সুষমভাবে মিশ্রিত হয়। ইনসুলিন দৃশ্যত স্বাভাবিক আছে কিনা দেখে নিন।
- নতুন ভায়ালের ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের মুখটি খুলে রাবার প্লাগটি এলকোহল দিয়ে জীবাণুমুক্ত করুন।
- যে মাত্রার ইনসুলিন প্রয়ােগ করতে হবে সে পরিমাণ বাতাস সিরিঞ্জে প্রবেশ করান।
- সিরিঞ্জের উঁচটি ভায়ালের ভেতর ঢুকিয়ে সিরিঞ্জের বাতাস প্রবেশ করান।
- ভায়াল ও সিরিঞ্জ নিম্নমুখী করে ধরে সঠিক মাত্রার ইনসুলিন সিরিঞ্জে টেনে নিন।
- উঁচটি ভায়াল থেকে বের করার আগে সিরিঞ্জে কোন বুদবুদ আছে কিনা দেখে নিন। থাকলে সিরিঞ্জে চাপ দিয়ে বুদবুদ বের করে নিন।
২. ইনজেকশন দেয়ার স্থান:
- ইনজেকশন দেয়ার জন্যে এমন একটি স্থান বেছে নিন। যেখানে চামড়া কিছুটা ঢিলেঢালা, যেমন বাহুর উপরিভাগ, উরু, নিতম্ব বা পেট।
- টিস্যু যাতে নষ্ট না হয় সেজন্যে প্রতিবার ইনজেকশন দেয়ার সময় পূর্ববর্তী ইনজেকশনের স্থান থেকে কমপক্ষে ১ সে.মি. দূরে স্থান বেছে নিন।
৩. ইনজেকশন দেয়ার পদ্ধতি:
- চামড়ার যেখানে ইনজেকশন দিতে হবে সেখানে এলকোহল দিয়ে পরিস্কার করে নিন এবং চামড়ার সাথে ৪৫° কোণে উঁচটি রাখুন।
- চামড়ার ভেতর উঁচটি ঢুকিয়ে ইনসুলিন প্রবেশ করান।
- উঁচটিকে চামড়ার নিচে অন্তত ৬ সেকেন্ড রাখুন যাতে পুরাে মাত্রার ইনসুলিনের প্রবেশ নিশ্চিত হয়।
- উঁচটিকে বের করে চামড়ার ওপর কয়েক সেকেন্ড মৃদু চাপ প্রয়ােগ করুন।
- ইনজেকশনের জায়গাটি ঘষবেন না।
১. খাবার গ্রহণের ১৫ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা পূর্বে সাবকিউটেনিয়াস পথে ব্যবহার করা উচিত। প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রেই ডাক্তারের পরামর্শে ইনসুলিন গ্রহণের সঠিক সময় নির্ধারণ করা উচিত।
২. ব্যবহারের পূর্বে করণীয় সমভাবে মিশ্রণের জন্য ইনসুলিনের জন্য ইনসুলিন ভায়ালটি পরিস্কার হাতে আলতোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন এবং এটি স্বাভাবিক অবস্থায় আছে কিনা লক্ষ্য করুন। নতুন বোতলের ক্ষেত্রে প্লাস্টিক ক্যাপ সরিয়ে রাবার স্টপার জীবাণুমুক্ত করে নিন। প্রয়োজনীয় ইনসুলিনের সমপরিমাণ বাতাস সিরিঞ্জে টেনে নিন এবং ভায়ালে টেনে নেয়া বাতাস গ্রহণ করুন। সিরিঞ্জসহ ভায়ালটি উপর করে ধরুন এবং সিরিঞ্জে সঠিকমাত্রার ইনসুলিন টেনে নিন। সিরিঞ্জে বাতাস আছে কিনা তা লক্ষ্য করুন এবং থাকলে তা বের করে নিন।
৩. ইঞ্জেকশন প্রয়োগের স্থান ইঞ্জেকশান প্রয়োগের জন্য বাহুর উপরিভাগ, উরু, নিতম্ব বা উদর বেছে নেয়া উচিত। কোষ যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেজন্য পূর্ববর্তী স্থান হতে ১ সে.মি দূরে ইঞ্জেকশর প্রয়োগ করা উচিত।
অনেক ওষুধই গ্লুকোজের মেটাবলিজমকে প্রভাবিত করে। একারণে চিকিৎসককে অবশ্যই এব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং রােগী কোন ওষুধ গ্রহণ করে কিনা তা সবসময় জেনে নিতে হবে। যে সব ওষুধ ইনসুলিনের চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে: মুখে খাওয়ার হাইপােগ্লাইসেমিক ওষুধ, মনােঅ্যামিন অক্সিডেজ ইনহিবিটরস, ননসিলেক্টিভ বেটা-ব্লকারস, এনজিওটেনসিন কনভার্টিং এনজাইম ইনহিবিটরস, স্যালিসাইলেট এবং অ্যালকোহল। যে সব ওষুধ ইনসুলিনের চাহিদা বাড়িয়ে দিতে পারে: থায়াজাইড, গ্লুকোকটিকয়েড, থাইরয়েড হরমােন ও বেটা-সিমপ্যাথােমিমেটিক, গ্রোথ হরমােন ও ডানাজোল। বেটা-ব্লকারসমূহ হাইপােগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণগুলাে গােপন করতে পারে এবং হাইপােগ্লাইসেমিয়া থেকে মুক্তি বিলম্বিত করতে পারে। অক্টরিওটাইড/ল্যানরিওটাইড ইনসুলিনের চাহিদা কমাতেও পারে আবার বাড়াতেও পারে। এলকোহল ইনসুলিনের হাইপােগ্লাইসেমিক ক্রিয়া বাড়াতে এবং দীর্ঘমেয়াদী করতে পারে।
ম্যাক্সসুলিন আর এসসি ইনজেকশন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন এই লিঙ্ক থেকে ম্যাক্সসুলিন আর