2 Answers
আয়াতঃ আর অবশ্যই মূসা তোমাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে এসেছে। অতঃপর তোমরা তার পরে বাছুরকে (উপাস্যরূপে) গ্রহণ করলে। আর তোমরা তো যালিম।
ব্যাখ্যাঃ এ আয়াতে ‘সুস্পষ্ট প্রমাণ' কি তা ব্যাখ্যা করে বলা হয় নি। অন্য আয়াতে সেটা এসেছে। যেমন, বলা হয়েছে, “ তারপর আমি তাদেরকে তুফান, পঙ্গপাল, উকুন, ভেক ও রক্ত দ্বারা ক্লিষ্ট করি। এগুলো স্পষ্ট নিদর্শন; কিন্তু তারা অহংকারীই রয়ে গেল, আর তারা ছিল এক অপরাধী সম্প্রদায়" [সূরা আল-আরাফ: ১৩৩]
হযরত মূসা (আঃ) হতে তো তারা বড় বড় মু'জেযা প্রকাশ পেতে দেখেছে, যেমন তুফান, ফড়িং, উকুন, ব্যাঙ, রক্ত ইত্যাদি তার বদ দু'আর কারণে প্রকাশ পেয়েছে। তাছাড়া লাঠির সাপ হওয়া, হাত উজ্জ্বল চন্দ্রের ন্যায় হওয়া, মেঘের ছায়া করা, মান্না ও সালওয়া' অবতারিত হওয়া এবং পাথর হতে নদী প্রবাহিত হওয়া ইত্যাদি বড় বড় অলৌকিক ঘটনাবলী-যা হযরত মুসার (আঃ) নুবুওয়াতের ও আল্লাহর একত্ববাদের জ্বলন্ত প্রমাণ ছিল এবং ওগুলো তারা স্বচক্ষে দেখেছিল। অথচ হযরত মূসার (আঃ) তূর পাহাড়ে গমনের পরই তারা বাছুরকে তাদের উপাস্য বানিয়ে নেয়। তা হলে তাওরাতের উপর ও স্বয়ং হযরত মূসার (আঃ) উপর তাদের ঈমান থাকলে কোথায়?
এসব অসৎ ও অপরাধমূলক কার্যের ফলে তারা কি অনাচারী ও অত্যাচারীরূপে প্রমাণিত হচ্ছে না? (আরবি) হতে ভাবার্থ হচ্ছে হযরত মূসার (আঃ) তুর পাহাড়ে যাওয়ার পর।' যেমন অন্যত্র রয়েছেঃ মূসার (আঃ) ভূরে যাওয়ার পর তার সম্প্রদায় বাছুরকে তাদের মা'বুদ বানিয়ে নিয়েছিল এবং ঐ গো পূজার কারণে তারা তাদের নফসের উপর স্পষ্ট জুলুম করেছিল।
এরপর ৯২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- وَلَقَدْ جَاءَكُمْ مُوسَى بِالْبَيِّنَاتِ ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَنْتُمْ ظَالِمُونَ (92) “নিশ্চয় মূসা তোমাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণসহ এসেছে৷ কিন্তু তোমরা তার অনুপস্থিতিতে বাছুর পূজা শুরু করেছিলে। সত্যিই তোমরা ছিলে বড় অত্যাচারী।” (২:৯২) ইহুদীরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করার পেছনে যে যুক্তি এনেছিল তাহলো, মহানবী (সাঃ) আরব, আর অন্যদিকে হযরত মূসা ছিলেন বনী ইসরাইল৷ কিন্তু হযরত মূসা তাদের জন্য মোজেযাসহ আসার পর যখন তুর পাহাড়ে গেলেন, তখন বনী ইসরাইল জাতি বাছুর পূজার দিকে ঝুঁকে পড়ল৷ হযরত মূসা(আঃ) এর দীর্ঘ দিনের শ্রম এক নিমিষে পানি হয়ে গেল৷ এভাবে ইহুদীরা জুলুম করেছিল তাদের নবীর প্রতি৷