2 Answers
জিরা ও জিরা পানি পানের উপকারিতাঃ
ক্যান্সার রোগের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে
জিরায় থাইমল, ডিথাইমোকুইনন, থাইমোহাইড্রোকুইনন নামক অ্যান্টিকারসিনোজেনিক উপাদান এবং ইউজিনল ও লিমনিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। ফলে জিরা পানি কোলন, পাকস্থলী, লিভার এবং ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে খুবই কার্যকর।
হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি
থাইমল এবং এসেনশিয়াল অয়েল লালাগ্রন্থির কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরের হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। খাওয়ার শুরুতে তাই জিরা পানি হতে পারে আপনার হজমের সহায়ক।
কোষ্ঠকাঠিন্যতা দূর করে
আঁশজাতীয় হওয়ায় এরা এনজাইম নিঃসরণের পরিমাণ বাড়িয়ে গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল ট্র্যাক্টের কাজ সবল করে। জিরার গুঁড়া প্রাকৃতিক ল্যাক্সেটিভ হিসেবে খ্যাত। জিরা পানি এতই শক্তিশালী ল্যাক্সেটিভ যে আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এটা পাইলস রোগ নির্মূল করতেও সক্ষম।
হৃদস্পন্দন এবং রক্তচাপের নিয়ন্ত্রণ
প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকায় এরা শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য জিরা পানি অমৃতস্বরূপ। নিয়মিত সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস জিরা পানি পান করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ঠাণ্ডা এবং অ্যাজমা থেকে মুক্তি
অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটোরি, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকায় জিরা পানি ঠাণ্ডা এবং অ্যাজমা রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। পানিতে জিরা এবং সামান্য আদা মিশিয়ে গরম করে অল্প অল্প করে পান করলে ঠাণ্ডা এবং অ্যাজমা থেকে প্রশস্তি পাওয়া যায়।
রক্তশূন্যতা
১০০ গ্রাম জিরাতে ১১.৭ মিলিগ্রাম লৌহ থাকে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধির প্রধান উপাদান এই লৌহ। ফলে নিয়মিত জিরা পানি পান করলে রক্তশূন্যতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
গর্ভবতী মায়েদের জন্য উপকারী
গর্ভবতী মায়েদের গর্ভধারণের সময় ন্যশিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য জাতীয় সমস্যা দেখা যায়। জিরা পানি এই সকল সমস্যার সাথে সাথে সন্তান প্রসবের নিরাপত্তা এবং ল্যাক্টেশনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। গর্ভবতী মায়ের জন্য জিরা মধু বা পানির সাথে মিশিয়ে দিনে অন্তত ২ বার পান করা ভাল।
ইনসোমনিয়া
জিরার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে মেলাটোনিন থাকে। কলার সাথে জিরা খেলে মস্তিস্কে উপকারী ক্যামিকেলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় যার ফলে আপনি ইনসোমনিয়া রোগের হাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন। প্রত্যেক রাতে ঘুমানোর আগে পাকা কলার উপর জিরা গুঁড়া ছিটিয়ে খাবেন।
স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি
জিরাতে রিবোফ্লেভিন, জেক্সাথিন, ভিটামিন বি ৬, নিয়াছিন এবং আরো অনেক মিনারেল থাকে যা আপনার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। আয়ুর্বেদে এমনেশিয়া রোগের চিকিৎসা করতে প্রায়ই জিরা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে হলে জিরা ভাজা চিবিয়ে চিবিয়ে খাওয়া ভাল।
মসলা হিসেবে কালো জিরার চাহিদা অনেক। কালো জিরার বীজ থেকে তেল পাওয়া যায়, যা মানব শরীরের জন্য খুব উপকারি। এতে আছে ফসফেট, লৌহ, ফসফরাস। এছাড়া এতে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধক কেরটিন, বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান এবং অম্ল রোগের প্রতিষেধক।
কালো জিরা গাছের বীজে প্রায় ১০০টি রাসায়নিক যৌগ আছে। এখনে নাম সহ কয়েকটি চিহ্নিত করা হলঃ
রোমান সাম্রাজ্যের মত প্রাচীন সভ্যতাগুলো কালোজিরা কে "সব আরোগ্য" (Panacea) বলা হত যার আক্ষরিক অর্থ "সর্বব্যাধির ঔষধ" (cure all)। রোম এর ঔষধ হিসাবে কালোজিরার ব্যাপক ব্যবহার ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কালো জিরা প্রোটিন, ভিটামিন B1, ভিটামিন B2, ভিটামিন B3, ক্যালসিয়াম ও লৌহ মত পুষ্টি সমৃদ্ধ ওষধি।
কালো জিরা মূল স্বাস্থ্য উপকারিতা গুলোর কিছু নিচে উল্লেখ করা হল:
১। কালোজিরা নিন্ম রক্তচাপকে বৃদ্ধি এবং উচ্চ রক্তচাপকে হ্রাসের মাধ্যমে শরীরে রক্তচাপ এর স্বাভাবিক মাত্রা সুনিশ্চিত করতে সহায়তা করে
২। এটি শ্বসনতন্ত্র, সংবহন এবং ইমিউন সিস্টেম, পেট এবং অন্ত্র, কিডনি এবং এমনকি লিভার সম্পর্কিত রোগের চিকিত্সা করে।
৩। বৃদ্ধি-কালোজিরা মায়েদের বুকের দুধের প্রবাহ এবং স্থায়ীত্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
৪। কালোজিরা ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তের শর্করা কমিয়ে ডায়াবেটিক আয়ত্তে রাখতে সহায়তা করে।
৫। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন- কালোজিরা নিন্ম রক্তচাপকে বৃদ্ধি এবং উচ্চ রক্তচাপকে হ্রাসের মাধ্যমে শরীরে রক্তচাপ এর স্বাভাবিক মাত্রা সুনিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
৬। চুল পড়া বন্ধ করে- কালোজিরা চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছে দিয়ে চুলপড়া বন্ধ করে এবং চুল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
৭। কালোজিরা মস্তিস্কের রক্ত সঞ্চলন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্মরণ শক্তি বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।
৮। শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি-কালোজিরা শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে।
৯। দেহের সাধারণ উন্নতি-নিয়মিত কালোজিরাসেবনে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে সতেজ করে ও সার্বিকভাবে স্বস্থ্যের উন্নতি সাধন করে।
১০। অরুচি, উদরাময়, শরীর ব্যথা, গলা ও দাঁতের ব্যথা, মাইগ্রেন, চুলপড়া, সর্দি, কাশি, হাঁপানি নিরাময়েকালো জিরা সহায়তা করে। ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসাবেকালো জিরা সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
১১। চুলপড়া, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, মাথা ঝিমঝিম করা, মুখশ্রী ও সৌন্দর্য্য রক্ষা, অবসন্নতা-দুর্বলতা, নিষ্ক্রিয়তা ও অলসতা, আহারে অরুচি, মস্তিষ্ক শক্তি তথা স্মরণ শক্তি বাড়াতেও কালো জিরা উপযোগী।
১২। মাথা ব্যথায় কপালে উভয় চিবুকে ও কানের পার্শ্ববর্তী স্থানে দৈনিক ৩/৪ বার কালো জিরা তেল মালিশ করলে উপকার পাওয়া যায়।
১৩। চায়ের সঙ্গে নিয়মিত কালো জিরা মিশিয়ে অথবা এর তেল বা আরক মিশিয়ে পান করলে হৃদরোগে যেমন উপকার হয়, তেমনি মেদ ও বিগলিত হয়।
১৪। জ্বর, কফ, গায়ের ব্যথা দূর করার জন্য কালো জিরা যথেষ্ট উপকারী বন্ধু। এতে রয়েছে ক্ষুধা বাড়ানোর উপাদান। পেটের যাবতীয় রোগ-জীবাণু ও গ্যাস দূর করে ক্ষুধা বাড়ায়।
১৫। কালো জিরায় রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোরিয়াল এজেন্ট, অর্থাৎ শরীরের রোগ-জীবাণু ধ্বংসকারী উপাদান। এ উপাদানের জন্য শরীরে সহজে ঘা, ফোড়া, সংক্রামক রোগ (ছোঁয়াচে রোগ) হয় না।
১৬। দাঁতে ব্যথা হলে কুসুম গরম পানিতে কালো জিরা দিয়ে কুলি করলে ব্যথা কমে; জিহ্বা, তালু, দাঁতের মাড়ির জীবাণু মরে। দেহের কাটা-ছেঁড়া শুকানোর জন্য কাজ করে। কালো জিরা কৃমি দূর করার জন্য কাজ করে।
১৭। মধ্যপ্রাচ্যে প্রচলিত আছে যে, কালো জিরা যৌন ক্ষমতা বাড়ায় এবং পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তি দিতে সহায়তা করে। তবে পুরানো কালো জিরা তেল স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক।-সূত্র: হিউম্যন হেলথ।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy